📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 কুরআন তিলাওয়াত সর্বোত্তম জিকির

📄 কুরআন তিলাওয়াত সর্বোত্তম জিকির


অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা। কুরআন হলো উত্তম জিকির। কেননা, কুরআন সরাসরি আল্লাহর বাণী। যে ব্যক্তি কুরআন পড়ছে সে যেন আল্লাহর সাথে কথোপকথন করছে। কুরআন মানবজাতির মুক্তি ও হেদায়েতের পরশপাথর। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে হৃদয়-মন আলোকিত হয়। অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْأُتْرُجَّةِ؛ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبُ, وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ؛ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ لَا رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْو, وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ؛ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ لَيْسَ لَهَا رِيحُ وَطَعْمُهَا مر.
'মুমিন যে কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত হলো, জাম্বির (এক ধরনের টকজাতীয় ফল) ফলের ন্যায়। তার ঘ্রাণ ও স্বাদ উভয়টি উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত হলো খেজুরের ন্যায়। যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। ওই মুনাফিক যে কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত হলো রায়হানার (পুদিনাজাতীয় এক প্রকার গুল্ম) ন্যায়। যার ঘ্রাণ উত্তম কিন্তু স্বাদে তিক্ত। ঐ মুনাফিক যে কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত হলো, হানজালার (তরমুজের মতো মাটিতে ফলানো অবস্থায় উৎপন্ন হয় এমন একজাতীয় ফল) ন্যায়, যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং তার মিষ্টতাও নেই-তিক্ত। ³⁵

টিকাঃ
৩৫. সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 আমিও কি ভালোবাসি তাকে

📄 আমিও কি ভালোবাসি তাকে


আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উল্লিখিত আয়াতে যাদের কথা বলেছেন আমরা কি তাদের মধ্যে শামিল রয়েছি? আমরা কি নিজেদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কর্তৃক বর্ণিত বিশেষ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত আছি? আসুন আমরা নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখি, আমরা সেইসব প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কি না? আমাদের অন্তর কি ভীত ও প্রকম্পিত হয় যখন আল্লাহর আলোচনা আমাদের সামনে করা হয়? আমাদের সামনে যখন কুরআনুল কারিমের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন আমাদের ঈমান কি বৃদ্ধি পায়? আমাদের অন্তরে কি আল্লাহর ভালোবাসা পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান? আমরা দাবি করি-আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালাকে আমরা ভালোবাসি কিন্তু সে দাবির স্বপক্ষে আমাদের কোনো শক্তিশালী প্রমাণ আছে কি? হে আল্লাহ! আপনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন যাদের অন্তর হয় ভীত ও প্রকম্পিত। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন যাদের সামনে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হলে ঈমান বৃদ্ধি পায়। হে আল্লাহ! আমাদের দোয়াকে আপনি কবুল করে নিন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা কেবল আপনাকেই ভালোবাসি। আমাদের হৃদয় উজাড় ভালোবাসাকে শুধুমাত্র আপনার জন্য কবুল করে নিন। আমাদের হৃদয়কে আপনার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে দিন।

টিকাঃ
৩৬. ইমাম শাফেই ও অন্যান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মতে ঈমানে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। তাদের দলিল হলো, কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন টেক্সটের বাহ্যিক শব্দ। সে-সমস্ত আয়াত ও হাদিসে স্পষ্টতই ঈমানের ব্যাপারে হ্রাস-বৃদ্ধি ইত্যাদি শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মত হলো, ঈমানের মাঝে কমবেশি হয় না। তার মতে ঈমান হচ্ছে কতিপয় অত্যাবশ্যকীয় বিষয় সত্যায়ন ও স্বীকার করার নাম। ইমাম আবু হানিফা রহ. ঈমান কমবেশি হয় না বলেন, তার ব্যাখ্যা হলো, ঈমান যে মৌলিক ন্যূনতম কতিপয় বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপনের নাম, এর কম কিছুতেই হতে পারবে না। পক্ষান্তরে বেশিরও প্রয়োজন নেই। যে সকল আয়াত-হাদিসে ঈমান কমবেশি হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মূল ঈমানের মাঝে কমবেশি হওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং সৎকাজ করলে, কুরআন তিলাওয়াত করলে, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ইত্যাদি মেনে চললে ঈমান শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হবে। আল্লাহর নিকট প্রিয় হবে। ঈমান অটুট, অবিচল থাকবে। পক্ষান্তরে এর বিপরীত হলে, ঈমান দুর্বল হবে। মুমিন হিসেবে আল্লাহর নিকট তার সম্মান মর্যাদা কম হবে। মৌলিক ঈমানের মাঝে ত্রুটি হবে না। যারা বলেন ঈমানের মাঝে কম-বেশি হয় না, তাদের উদ্দেশ্য হলো, মুতলাকুল ঈমান (ন্যূনতম ঈমান, আমল অন্তর্ভুক্ত নয়)-মুমিন হওয়ার জন্য ন্যূনতম যে পরিমাণ ঈমান জরুরি সেখানে কোনো কম-বেশি হয় না। পক্ষান্তরে যারা বলেন, ঈমানের মাঝে কম-বেশি হয়, তাদের উদ্দেশ্য হলো, ঈমান মুতলাক (ঈমান ও সঙ্গে আমল অন্তর্ভুক্ত) এ কম-বেশি হয়। যত অধিক আমল করবে, আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করবে ঈমান তাদের তত পূর্ণতা পাবে। যেমন, এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যখন কোনো ব্যক্তি ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না। যখন কোনো মুমিন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না।' এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে তখন পূর্ণ মুমিন থাকে না। মন্দ আমলের কারণে তার ঈমান তখন হ্রাস পায়। সুতরাং এ মতানৈক্য নিছক শাব্দিক, পারিভাষিক নয়। অনুবাদক।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 বন্দি হও আনুগত্যের শৃঙ্খলে

📄 বন্দি হও আনুগত্যের শৃঙ্খলে


বান্দা আল্লাহকে ভালোবাসার প্রমাণ ও নিদর্শন হলো, আল্লাহ তায়ালা যে- সমস্ত কাজের আদেশ করেছেন সেগুলো পালন করা এবং যে-সমস্ত কাজ নিষেধ করেছেন সেগুলো থেকে বিরত থাকা। সকলপ্রকার গোনাহ ছেড়ে দেওয়া। অন্যায় ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা অসন্তুষ্ট হন এমন সকল কাজ পরিহার করা। জেনে রাখো, এগুলো আল্লাহর হক। যে ব্যক্তি আল্লাহর হক যথাযথ আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা সে বান্দার প্রতি তার হক আদায় করবেন। বান্দার কর্তব্য হলো, আল্লাহ তায়ালার সমস্ত আদেশ পালন করা এবং নিষেধ থেকে বেঁচে থাকা। বান্দা যদি তার কর্তব্য পরিপূর্ণ পালন করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার প্রতি তার কর্তব্য পালন করবেন।

বুখারি শরিফে হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত রয়েছে,

بينما كنت أسير مع النبي صلى الله عليه وسلم، إذ قال : يا معاذ بن جبل ! قلت: لبيك وسعديك يا رسول الله قال: أتدري ما حق الله على العباد؟ قلت: الله ورسوله أعلم، قال: حق الله على العباد: أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئاً، ثم سار ساعة، ثم قال: يا معاذ بن جبل ! قلت: لبيك وسعديك يا رسول الله قال: أتدري ما حق العباد على الله إن هم فعلوا؟ - أي: أتدري ما حقهم على الله إن هم عبدوه ولم يشركوا به شيئاً؟- قلت: الله ورسوله أعلم، قال: حقهم عليه ألا يعذبه

‘আমি একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পথ চলছিলাম। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে মুয়াজ ইবনে জাবাল! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি উপস্থিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই অধিক ভালো জানেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো, আল্লাহর ইবাদত করা এবং তার সাথে কাউকে শরিক না করা। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মুয়াজ ইবনে জাবাল! বান্দা যদি তার হক আদায় করে তাহলে বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী তা জানো? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি বান্দাগণ আল্লাহর হক আদায় করে তাহলে আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক হলো, আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না।'³⁷

পক্ষান্তরে, যদি আল্লাহর হক আদায় না করে, তার প্রতি ঈমান না আনে, সৎকর্ম না করে তাহলে তাদের পরিণতি কেমন হবে সে সম্পর্কে ইরশাদ করেন,

وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ - أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا بَيَانًا وَهُمْ نَائِمُونَ . أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ - أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
'আর যদি গ্রামবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা অবিশ্বাস করেছে। তাই আমি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করেছি। অতএব, গ্রামগুলোর অধিবাসীরা কি রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের উপর আমার শাস্তির আগমন থেকে নিরাপদ বোধ করেছিল? অথবা গ্রামগুলোর অধিবাসীরা কি সকালবেলায় খেলাধুলায় রত অবস্থায় তাদের ওপর আমার শাস্তির আগমন থেকে নিরাপদ বোধ করেছিল? তারা কি আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে নিরাপদ বোধ করেছিল? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা ছাড়া কেউ আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে নিরাপদ বোধ করে না।'³⁸

আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবাসার দাবি হলো, তিনি যে-সমস্ত কাজ পছন্দ করেন সে সমস্ত কাজ আগ্রহ উদ্দীপনার সাথে করা। ওই সমস্ত কাজ করার অর্থই মূলত আল্লাহকে ভালোবাসা। আল্লাহ তায়ালা চান, বান্দা যেনো গোনাহ ছেড়ে দেয়। সুতরাং, বান্দার গোনাহ ছেড়ে দেওয়া আল্লাহকে ভালোবাসার নিদর্শন। আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন, বান্দা যেন তার আনুগত্য করে। সুতরাং, বান্দা যদি সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্য করে তাহলে এটিই হবে আল্লাহকে ভালোবাসার নিদর্শন। এর নামই ভালোবাসা। ভালোবাসা মুখে বলার কোনো বিষয় নয়। ভালোবাসা হলো, কাজে পরিণত করার নাম। নিছক দাবির মাধ্যমে ভালোবাসা প্রমাণিত হয় না। ভালোবাসা প্রমাণিত হয় কাজের মাধ্যমে।

জেনে রাখো, সর্বোত্তম আনুগত্য হলো, আল্লাহর আনুগত্য করা। সর্বোত্তম বর্জন হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বর্জন করা। আর এটাই হলো সর্বোত্তম ভালোবাসা। বান্দা যে আল্লাহকে ভালোবাসে বলে দাবি করে, তার যথার্থতা প্রমাণিত হয় আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা ভালোবাসা এবং যা ঘৃণা করেন তা বর্জন করার মাধ্যমে। যারা আল্লাহর আনুগত্য করে, তার আদেশ নিষেধ মেনে চলে আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় প্রদান করবেন।

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا
'যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে বেহেশতের বাগ-বাগিচা। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কখনো সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করবে না।'³⁹

وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
'এ তো সেই জান্নাত তোমাদের যার উত্তরাধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের জন্য।' ⁴⁰

টিকাঃ
৩৭. সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
৩৮. সুরা আরাফ: ৯৬-৯৯।
৩৯. সুরা কাহফ: ১০৭-১০৮।
৪০. সুরা যুখরুফ: ৭২।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 আনুগত্যের প্রতিদান

📄 আনুগত্যের প্রতিদান


হে আল্লাহর বান্দা! তুমি নিজেকে আল্লাহর প্রেমিক বলে দাবি করো, কিন্তু তুমি তার আনুগত্য করো না, তার নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকো না তাহলে তোমার ভালোবাসা প্রকৃত ভালোবাসা নয়। তুমি দাবি করো ভালোবাসার, অথচ কাজ করো তার বিপরীত। তোমার কথা ও কাজে কোনো প্রকার মিল নেই। মুখে ভালোবাসার দাবি যে কেউ করতে পারে। যে কেউ বলতে পারে আমি ভালোবাসি অমুককে। হ্যাঁ, তোমার ভালোবাসা তখনই প্রকৃত ভালোবাসা বলে গণ্য হবে যদি তুমি তোমার ভালোবাসাকে আমলে পরিণত করতে পারো। সুতরাং, তুমি যদি সত্যিই আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবাসো তাহলে তার আনুগত্য করো। তিনি যেসব কাজের আদেশ করেছেন তা পালন করো এবং যেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন সেসব থেকে বিরত থাকো। আল্লাহর আনুগত্যের পুরস্কার এবং অবাধ্যতার পরিণাম কী হবে সে সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে,

أُوْلَئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةٌ وَسَلَامًا خَالِدِينَ فِيهَا حَسُنَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا • قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلَا دُعَاؤُكُمْ فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ يَكُونُ لِزَامًا
'তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল। তাদেও সেখানে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আশ্রয়স্থল ও বসতি হিসেবে তা কতই-না উৎকৃষ্ট! (হে নবী) আপনি বলুন, তোমরা আমার প্রতিপালককে না ডাকলে তার কিছুই আসে যায় না। তোমরা অস্বীকার করেছ, ফলে অচিরেই তোমাদের ওপর নেমে আসবে অপরিহার্য শাস্তি। ⁴¹

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ بِإِيمَانِهِمْ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ * دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
'যারা মুমিন ও সৎকর্মপরায়ণ তাদের প্রতিপালক তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথপ্রদর্শন করবেন। জান্নাতে তাদের তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ। সেখানে তাদের ধ্বনি হবে, হে আল্লাহ আপনি মহান, পবিত্র! এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম, এবং তাদের শেষ ধ্বনি হবে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। ⁴²

قَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ * وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ قَالَ أَلَيْسَ هَذَا بِالْحَقِّ قَالُوا بَلَى وَرَبِّنَا قَالَ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ * قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يَا حَسْرَتَنَا عَلَى مَا فَرَّطْنَا فِيهَ وَهُمْ يَحْمِلُونَ أَوْزَارَهُمْ عَلَى ظُهُورِهِمْ أَلَّا سَاءَ مَا يَزِرُونَ * وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَلَلدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلا تَعْقِلُونَ . قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ
'তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন। আমরা কখনো পুনরুত্থিত হবো না। তুমি যদি দেখতে পেতে তাদের যখন তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং তিনি বলবেন, এটি কি প্রকৃত সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই সত্য। তিনি বলবেন, তবে তোমরা যে কুফরি করতে তার জন্য এখন শাস্তি ভোগ করো।

যারা আল্লাহর সম্মুখীন হওয়াকে মিথ্যা বলেছে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি অকস্মাৎ তাদের নিকট যখন কিয়ামত উপস্থিত হবে তখন তারা বলবে, হায়! আমরা যে তাকে অবহেলা করেছি তার জন্য আক্ষেপ। তারা তাদের পিঠে নিজেদের পাপ বহন করবে। তারা যা বহন করবে তা অতি নিকৃষ্ট। পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত আর কিছু নয়। তারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের আবাসই শ্রেয়। তোমরা কি তা অনুধাবন করো না? আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা তোমাকে নিশ্চিত কষ্ট দেয়। কিন্তু তারা তো তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে না। বরং যারা জালেম তারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে। ⁴³

টিকাঃ
৪১. সুরা ফুরকান: ৭৫-৭৭।
৪২. সুরা ইউনুস: ৯-১০।
৪৩. সুরা আনআম: ২৮-৩৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00