📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 নবী ও রাসূল

📄 নবী ও রাসূল


আল্লাহর মনোনীত এসকল মানুষকে ইসলামের পরিভাষায় নবী বা রাসূল বলা হয়। পবিত্র কুরআনে ও হাদীসে বিভিন্ন স্থানে এই দুইটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তবে এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে কুরআন বা হাদীসে সুস্পষ্ট কিছু বলা হয় নি। 'নবী' (النبي) শব্দটি 'নূন, বা ও হামযা' তিন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত আরবী (نباً) ক্রিয়ামূল থেকে গৃহীত। 'নাবা' (النب) অর্থ সংবাদ, খবর ইত্যাদি। ক্রিয়া হিসেবে আন্বাআ (أنبأ) ও নাব্বাআ (نبأ) অর্থ সংবাদ প্রদান, বলা বা জানানো। শব্দটির শেষ অক্ষর হামযা। এজন্য 'আন-নাবিইউ' (النبي) শব্দটি মূলে ছিল 'আন-নাবী-উ (النبيء)। অত্যধিক ব্যবহারের ফলে হামযাটি পরিবর্তিত হয়ে ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়েছে। 'আন-নাবিইউ' শব্দটির অর্থ সংবাদদাতা। আরবীতে 'নূন', 'বা' ও 'ওয়াও' তিন বর্ণের সমন্বয়ে আরেকটি শব্দ রয়েছে, যার অর্থ উচ্চ হওয়া। কোনো কোনো ভাষাবিদ মত প্রকাশ করেছেন যে, 'নবী' শব্দটি এই ধাতু থেকে গৃহীত। সেক্ষেত্রে শব্দটির অর্থ হয় 'সুউচ্চ, 'উচ্চীকৃত' বা 'মর্যাদাময়'। তবে কুরআন কারীমের বিভিন্ন ব্যবহার ও কুরআনের বিভিন্ন কিরাআতের আলোকে স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষদেরকে 'সংবাদ' প্রদানের অর্থেই 'নবী' বলা হয়। আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, রাসূল (الرسول) শব্দটির আভিধানিক অর্থ প্রেরিত, দূত ইত্যাদি। আরবী 'আরসালা' (أرسل) অর্থ প্রেরণ করা। অন্যের পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ, তথ্য বা বাণী নিয়ে যিনি আগমন করেন তাকে রাসূল বলা হয়। ধর্মীয় পরিভাষায় নবী অর্থ যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী বা প্রত্যাদেশের মাধ্যমে প্রাপ্ত কল্যাণ অকল্যাণ, শুভ-অশুভ বিভিন্ন কর্মের পথ ও পরিণতি সম্পর্কে সকল সংবাদ মানুষকে জানান, পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি সম্পর্কে মানুষদেরক সংবাদ দান করেন। আর (রাসূল) যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহীর মাধ্যমে, প্রাপ্ত বার্তা বা শিক্ষা আল্লাহর প্রেরিত দূত হিসেবে মানুষদের কাছে পৌঁছে দেন। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, অর্থের দিক থেকে দুইটি শব্দই প্রায়ই সমার্থক। ব্যবহারের দিক থেকেও শব্দ দুটি প্রায়ই সমার্থক। সকল নবী রাসূলই আল্লাহর মনোনীত মানুষ যাদেরকে আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে তাঁর বাণী শিক্ষা দান করেছেন, যে শিক্ষা সাধারণ কোনো মানুষ মানবীয় জ্ঞান বা কোনো সাধনা প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করতে পারেনা। শব্দদ্বয়ের মধ্যে শরীয়তের পরিভাষায় কোনো পার্থক্য আছে কি না সে বিষয়ে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। মতভেদের কারণ এ বিষয়ে কুরআন কারীমের বা হাদীস শরীফে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এজন্য আলিমগণ কুরআন ও হাদীসের প্রাসঙ্গিক নির্দেশনার আলোকে ইজতিহাদ করেছেন। কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন যে, উভয় পরিভাষার মধ্যে ব্যবহারিক কোনো পার্থক্য নেই। কাজেই সকল নবীই রাসূল এবং সকল রাসূলই নবী। অধিকাংশ আলিম মতপ্রকাশ করেছেন যে, শব্দদুটির মধ্যে পারিভাষিক ও ব্যবহারিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁরা আরো একমত প্রকাশ করেছেন যে, রিসালাত (الرسالة) বা রাসূলের দায়িত্বর চেয়ে নুবুওয়াত (النبوة) বা নবীর দায়িত্ব সাধারণতর। এ জন্য সকল রাসূলই নবী, কিন্তু সকল নবীই রাসূল নন। যে কোনো ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে দীন বা শরীয়ত বিষয়ক কোনো নির্দেশনা লাভ করেন তিনিই নবী। আর রাসূল অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব লাভ করেন। রাসূলের অতিরিক্ত দায়িত্বের প্রকৃতি ও স্বরূপ নির্ধারণে তাঁরা খুটিনাটি মতভেদ করেছেন। এ বিষয়ে ইবনু আবিল ইয্য হানাফী বলেন:
وَقَدْ ذَكَرُوا فُرُوقًا بَيْنَ النَّبِيِّ وَالرَّسُولِ، وَأَحْسَنُهَا أَنَّ مَنْ نَبَّأَهُ اللَّهُ بِخَبَرِ السَّمَاءِ، إِنْ أَمَرَهُ أَنْ يُبَلِّغَ غَيْرَهُ فَهُوَ نَبِيٌّ رَسُولٌ ، وَإِنْ لَمْ يَأْمُرْهُ أَنْ يُبَلِّغَ غَيْرَهُ فَهُوَ نَبِيٌّ وَلَيْسَ بِرَسُولٍ. "নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সবচেয়ে সুন্দর মত যে, যাকে আল্লাহ আসমানী সংবাদ প্রদান করেন যদি তাকে আল্লাহ সেই সংবাদ অন্যকে প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করেন তবে তিনি নবী ও রাসূল। আর যদি তাকে এরূপ প্রচারের দায়িত্ব না দেওয়া হয় তবে তিনি নবী মাত্র, রাসূল নন।"
মোল্লা আলী কারী বলেন:
الرَّسُولُ مَنْ أُمِرَ بِالتبليغِ، وَالنَّبِيُّ مَنْ أُوحِيَ إِلَيْهِ، أَعَمُّ مِنْ أَنْ يُؤْمَرَ بِالتبليغِ أَمْ لَا . قَالَ الْقَاضِي عِيَاضٌ: وَالصَّحِيحُ الَّذِي عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ أَنَّ كُلَّ رَسُولٍ نَبِيٌّ مِنْ غَيْرِ عَكْسٍ. وَهُوَ أَقْرَبُ مِنْ نَقْلِ غَيْرِهِ الإِجْمَاعَ عَلَيْهِ، لِنَقْلِ غَيْرِ وَاحِدٍ الْخِلَافَ فِيهِ، فَقِيلَ: النَّبِيُّ مُخْتَصٌّ بِمَنْ لَا يُؤْمَرُ ، وَقِيلَ هُمَا مُتَرَادِفَانِ وَاخْتَارَهُ ابْنُ الْهُمَامِ، وَالأَظْهَرُ أَنَّهُمَا مُتَغَايِرَانِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ الْآيَةَ "যাকে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি রাসূল। আর যাকে ওহী দেওয়া হয়েছে তিনিই নবী, তাকে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হোক বা না হোক। কাযি ইয়ায বলেন: অধিকাংশ আলিম একমত যে, সকল রাসূলই নবী, তবে সকল নবী রাসূল নন। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, আলিমগণ এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কাযি ইয়াযের বর্ণনাটিই সঠিক, অর্থাৎ এ বিষয়ে সকল আলিম একমত পোষণ করেন নি, বরং অধিকাংশ আলিম একমত পোষণ করেছেন। কারণ একাধিক আলিম এ বিষয়ে মতভেদ উল্লেখ করেছেন। কেউ বলেছেন, যাকে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয় নি তাঁকেই শুধু নবী বলা হয়। কেউ বলেছেন: নবী ও রাসূল দুটি একার্থবোধক শব্দ; উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইবনুল হুমাম এই মতটি গ্রহণ করেছেন। সঠিকতর মত যে, উভয় শব্দের মধ্যে পার্থক্য আছে। কারণ
মহান আল্লাহ বলেছেন: আমি আপনার পূর্বে যে কোনো রাসূল অথবা যে কোনো নবী পাঠিয়েছি...।"
এভাবে আমরা দেখছি যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী প্রাপ্ত প্রত্যেক মানুষকেই নবী বলা হয়। যদি কোনো ওহী প্রাপ্ত মানুষকে আল্লাহর নতুন বিধানাবলী দান করে তা প্রচারের নির্দেশ দান করেন তাহলে তাঁকে রাসূল বলা হয়। আর যদি তাঁকে শুধু ওহীর মাধ্যমে, আল্লাহর বাণী দান করা হয়, নতুন কোনো বিধান প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া না হয় তাহলে তিনি রাসূল নন, কেবলমাত্র নবী বলে আখ্যায়িত হন, যেমন ইহুদীদের মধ্যে আল্লাহ অনেক নবী প্রেরণ করেছেন, যাঁদেরকে নতুন কোনো বিধানাবলী দান করেন নি তাঁরা পূর্ববর্তী রাসূল মুসা (আ)-এর শরীয়ত অনুসারে তাঁদের জাতিকে পরিচালিত করতেন। আসমানী দায়িত্ব লাভের প্রথম পর্যায় নবীর দায়িত্ব লাভ এবং চূড়ান্ত পর্যায় রাসূলের দয়িত্ব লাভ।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 আল্লাহর অপার করুণা

📄 আল্লাহর অপার করুণা


মহান স্রষ্টা আল্লাহ মানবজাতিকে তাঁর অপার করুশা সিক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর এই প্রিয় ও সম্মানিত সৃষ্টিকে দায়িত্ব দিয়েছেন এ পৃথিবীকে সুন্দর বসবাসযোগ্য করার। এই দায়িত্বের সাথে সংগতি সম্পন্ন বিভিন্ন গুণাবলি তাদেরকে দান করেছেন। তাদেরকে তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির মধ্যে সম্মান দান করেছেন, দান করেছেন বিবেক ও উন্নত জ্ঞান। মানুষের অন্তরে দিয়েছেন শুভ, মঙ্গল ও কল্যাণময় কমের প্রতি আকর্ষণ ও অশুভ- অকল্যাণের প্রতি বিরক্তি। তাকে দিয়েছেন লোভ, ক্রোধ, হিংসা, ভালবাসা, আত্মপ্রেম ইত্যাদি মৌলিক মানবীয় শক্তি বা গুণাবলি, যে সকল গুণের সঠিক প্রয়োগ মানুষকে তার মানবীয় পূর্ণতার শিখরে উঠায়। আবার এ সকল গুণ বা স্বভাবজাত শক্তির ভুল প্রয়োগ মানুষকে মানবেতর জীবের চেয়েও নিকৃষ্ট প্রাণীতে পরিণত করে। তাই সৃষ্টি জগতে মানুষের সম্মানের সাথে সাথে তার দায়িত্ব অপরীসিম। আর এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মধ্যেই রয়েছে মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ, উন্নতি ও সমৃদ্ধি এবং পারলৌকিক মুক্তি ও শান্তি। মানুষের প্রতি মহান স্রষ্টার করুণা অসীম। তিনি তাকে তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও গুণাবলী দান করা
ছাড়াও তাকে কল্যাণ ও মঙ্গলের পথ প্রদর্শনের জন্য তিনি যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন মানুষকে বেছে নিয়ে তাঁদের কাছে ওহী বা প্রত্যাদেশের মাধ্যমে মানুষের সঠিক পথের সন্ধান দান করেছেন।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 রাসূলগণের প্রতি ঈমান

📄 রাসূলগণের প্রতি ঈমান


তৃতীয় অধ্যায়ের শুরুতে আমরা উল্লেখ করেছি যে, ইসলামী ঈমান বা ধর্ম-বিশ্বাসের অন্যতম বিষয় আল্লাহর রাসূলগণে বিশ্বাস করা। মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নুবুওয়াত ও রিসালাতের বিষয়ে বিশ্বাস আমরা তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করেছি। এখানে আমরা আল্লাহর মনোনীত নবী রাসূলগণের প্রতি ইসলামী বিশ্বাসের অবশিষ্ট দিকগুলি উল্লেখ করব।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 নবী রাসূলগণের সংখ্যা

📄 নবী রাসূলগণের সংখ্যা


কুরআনের বর্ণনা অনুসারে আমরা জানতে পারি যে, মহান আল্লাহ সকল যুগে সকল সমাজেই নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তিনি বলেন:
وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ "প্রত্যেক জাতিতেই সর্তককারী প্রেরণ করা হয়েছে।" অন্য আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে:
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ رَسُولٌ فَإِذَا جَاءَ رَسُولُهُمْ قُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ "প্রত্যেক জাতির জন্য রয়েছে একজন রাসূল, আর যখন কোনো জাতির রাসূল তাদের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছেন তখন তাদের মধ্যে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে ফয়সালা দান করা হয়েছে, এবং তাদেরকে জুলুম করা হয়নি।" এসকল সতর্ককারী নবী-রাসূলের বিস্তারিত বিবরণ মহান আল্লাহ জানান নি। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে:
وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ "অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি যাদের কথা ইতোপূর্বে আপনাকে বলেছি এবং অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি যাদের কথা আমি আপনাকে বলি নি।" অন্য আয়াতে বলা হয়েছে:
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ مِنْهُمْ مَنْ قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ "আপনার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি, যাদের মধ্যে কারো কথা আপনার কাছে বিবৃত করেছি, আর কারো কারো কথা আপনার কাছে বিবৃত করিনি।"
নবী-রাসূলদের সংখ্যার বিষয়ে কোনো প্রসিদ্ধ গ্রন্থে কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। মুসনাদ আহমদ, মুসনাদ আবী ইয়ালা মাওসিলী, সহীহ ইবন হিব্বান ইত্যাদি গ্রন্থে বিভিন্ন সনদে সংকলিত কয়েকটি হাদীসে এ বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। কোনো কোনো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবীগণের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার। অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে নবীগণের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার। অন্য হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবীগণের সংখ্যা এক হাজার বা তার বেশি ছিল। একাধিক হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলগণের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন বা ৩১৫ জন। এ সকল হাদীসের অধিকাংশই দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের নামে জালিয়াতি গ্রন্থে এ সকল হাদীসের সনদের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সামগ্রিক বিচারে একাধিক সনদের কারণে কোনো কোনো মুহাদ্দিস হাদীসগুলিকে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেছেন। আল্লাহই ভাল জানেন।
যেহেতু এ বিষয়ক সংখ্যাগুলি খাবারু ওয়াহিদ পর্যায়ের হাদীস এবং বিশেষত এগুলির সনদে দুর্বলতা রয়েছে, সেহেতু এ বিষয়ে সুনিশ্চিত কিছু না বলাই উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন মুহাক্কিক আলিমগণ। মোল্লা আলী কারী বলেন: “বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ -কে নবীগণের সংখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন: ১ লক্ষ ২৪ হাজার। কোনো কোনো বর্ণনায়: ২ লক্ষ ২৪ হাজার। তবে তাঁদের বিষয়ে কোনো সংখ্যা নির্ধারণ না করাই উত্তম।"
তিনি আরো বলেন: "উত্তম এই যে, নবীগণের সংখ্যা নির্ধারিত সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা; কারন 'খাবারুল ওয়াহিদ' পর্যায়ের হাদীসের উপরে আকীদার বিষয়ে নির্ভর করা যায় না। বরং জরুরী এই যে, আল্লাহ যেভাবে বলেছেন সেভাবে সাধারণভাবে নবী-রাসূলগণের উপর ঈমান আনা ... ফিরিশতাগণেল সংখ্যা, কিতাবসমূহের সংখ্যা, নবীগণের সংখ্যা, রাসূলগণের সংখ্যা ইত্যাদি
বিষয়ে মনোনিবেশ না করা।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00