📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বাইআত ভাঙার অনুমতি দিতেন না

📄 বাইআত ভাঙার অনুমতি দিতেন না


ইসলাম ও হিজরতের বাইআতের পর তা ভেঙে ফেলতে চাইলে তাতে রাজি হতেন না।

জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক বেদুইন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো এবং ইসলামের ওপর বাইআত হলো। অতঃপর মদিনার জ্বরে সে আক্রান্ত হলো। তাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সে বলল, "হে মুহাম্মাদ, আমার বাইআত প্রত্যাহার করে নিন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকৃতি জানালেন।

কিন্তু সে বেদুইন আবারও এসে বলল, "আমার বাইআত প্রত্যাহার করে নিন।"

তিনি অস্বীকৃতি জানালেন।

সে বেদুইন আবার এসে বলল, "আমার বাইআত প্রত্যাহার করে নিন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবারও অস্বীকৃতি জানালেন।

অতঃপর সে বেদুইন মদিনা থেকে বেরিয়ে গেল।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

إِنَّمَا المَدِينَةُ كَالكِيرِ، تَنْفِي خَبَثَهَا، وَيَنْصَعُ طِيبُهَا

“মদিনা হচ্ছে হাপরের মতো। কদর্য দূর করে স্বচ্ছতাকে স্পষ্ট করে তোলে।”৩৫৬

আলিমগণ বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইআত প্রত্যাহার না করার কারণ হচ্ছে, ইসলাম ত্যাগ করা জায়িজ নেই। আর কেউ যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে থাকার উদ্দেশ্যে হিজরত করে, তার জন্য হিজরত ত্যাগ করে নিজের দেশে বা অন্য কোথাও যাওয়ার বৈধতা নেই। আর এ বেদুইন লোকটা হিজরত করেছিল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে থাকার ওপর বাইআত হয়েছিল। '৩৫৭

(মদিনা হাপরের মতো): অর্থাৎ মাটি দ্বারা তৈরিকৃত কামারের হাপরের মতো। কেউ কেউ হাদিসের শব্দ 'কির' থেকে আগুনে ফুঁক দেওয়ার ভিস্তি বুঝেছেন। এ অর্থ ধরলে শব্দটা الكور মূলধাতু থেকে গঠিত হবে।৩৫৮

(কদর্য দূর করে): অর্থাৎ রুপা, তামা ইত্যাদিতে যে ময়লা লেগে থাকে, হাপর তা দূর করে দেয়। এ বাক্যের মর্মার্থ হচ্ছে, মদিনা এমন ব্যক্তিকে তাড়িয়ে দেয়, যার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।

(স্বচ্ছতাকে স্পষ্ট করে তোলে) অর্থাৎ ময়লা থেকে পরিষ্কার ও শুদ্ধ করে ভালো অংশটা রাখে। এর মর্মার্থ হচ্ছে, যার মাঝে ইমানের পরিশুদ্ধতা নেই, মদিনা তাকে বের করে দেয়। ফলে পরিশুদ্ধ ইমানের অধিকারীরাই মদিনাতে বাকি থাকে। ৩৫৯

ইবনে মুনির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মদিনা থেকে বের হয়ে যাওয়া নিন্দনীয়। তাই হাদিসের ওপর এ আপত্তি উত্থাপিত হয় যে, পরবর্তী সময়ে অনেক সাহাবি মদিনা থেকে বের হয়ে অন্য দেশে গিয়ে বাস করেছেন। সাহাবিদের পর অনেক গুণী ব্যক্তিও একইভাবে মদিনা ছেড়ে ভিন্ন জায়গায় গিয়ে বাস করেছেন। তাহলে তারা কি এ নিন্দার অন্তর্ভুক্ত?

আপত্তির জবাব: নিন্দিত সেই ব্যক্তি, যে মদিনাকে অপছন্দ করে মদিনা থেকে বেরিয়ে যায়। যেমনটি হাদিসে উল্লেখিত বেদুইন লোকটি করেছিল। অন্যথায়, যারা উত্তম উদ্দেশ্যে বেরিয়েছেন; যেমন কেউ ইলম প্রসারের উদ্দেশ্যে, কেউ মুশরিকদের দেশ বিজয়ের উদ্দেশ্যে, কেউ সীমান্তে পাহারা দেওয়ার অভিপ্রায়ে, কেউ শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার মানসে মদিনা থেকে বের হয়েছিল-এরা কেউই হাদিসে বর্ণিত নিন্দার পাত্র নন; বরং তারা তো মদিনার শ্রেষ্ঠজন ও শ্রেষ্ঠ অধিবাসী। '৩৬০

টিকাঃ
৩৫৬. সহিহুল বুখারি: ১৮৮৩, সহিহু মুসলিম: ১৩৮৩।
৩৫৭. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৯/১৫৬।
৩৫৮. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/২১৭।
৩৫৯. তুহফাতুল আহওয়াজি: ১০/২৮৯।
৩৬০. ফাতহুল বারি: ১৩/২০০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিনা অনুমতিতে অন্যের ঘরে দৃষ্টি দিলে ধমক দিতেন

📄 বিনা অনুমতিতে অন্যের ঘরে দৃষ্টি দিলে ধমক দিতেন


আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক বেদুইন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরোজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে দেখছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে ফেললে লোহা বা কাঠের দণ্ড চাইলেন সে লোকের চোখ ফুঁড়ে দেওয়ার জন্য। বেদুইন লোকটা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেল, তখন নিজের চোখ সরিয়ে নিল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "যদি তুমি এভাবে তাকিয়েই থাকতে, তাহলে আমি তোমার চোখ ফুঁড়ে দিতাম।"৩৬১

সাহল বিন সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো একটা কক্ষের ছিদ্র গলিয়ে এক লোক ভেতরে উঁকি দিচ্ছিল। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিরুনি হাতে মাথা আঁচড়াচ্ছিলেন।'

সে লোকের কাণ্ড শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তখন যদি আমি জানতে পারতাম, তবে চিরুনি দিয়ে তোমার চোখ ফুঁড়ে দিতাম। চোখের কারণেই তো অনুমতির বিধান দেওয়া হয়েছে।"৩৬২

নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অনুমতি নেওয়া শরিয়তের নির্দেশ। যাতে হারাম কিছু বা কোনো গাইরে মাহরাম মহিলার ওপর দৃষ্টি না পড়ে। তাই কারও ঘরের দরোজার ফুঁটো বা অন্য কোনো জায়গা দিয়ে ভেতরে উঁকি দেওয়া জায়িজ নেই।'

এই হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, উঁকিঝুঁকি দেওয়া ব্যক্তির চোখ লক্ষ্য করে হালকা কিছু নিক্ষেপ করা জায়িজ। ওই ঘরে গাইরে মাহরাম মহিলা না থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি উঁকি দেওয়া ব্যক্তির চোখে হালকা কিছু নিক্ষেপ করে এবং এতে তার চোখ ফুঁড়ে যায়, তবুও এতে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। '৩৬৩

টিকাঃ
৩৬১. সুনানুন নাসায়ি: ৪৮৫৮।
৩৬২. সহিহুল বুখারি ৫৯২৪, সহিহু মুসলিম: ২১৫৬।
৩৬৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/১৩৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অসুস্থ বেদুইনকে দেখতে যেতেন

📄 অসুস্থ বেদুইনকে দেখতে যেতেন


বেদুইনদের কেউ অসুস্থ হলে তিনি দেখতে যেতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন।

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুইন রোগীকে দেখতে গেলেন। সাধারণত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো রোগীকে দেখতে গেলে বলতেন:

لَا بَأْسَ، طَهُورُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

“দুশ্চিন্তার কারণ নেই। এই অসুখ তোমাকে গুনাহ থেকে পবিত্র করে তুলবে ইনশাআল্লাহ।”

এবারও তা-ই বললেন। তখন বেদুইন লোকটি বললেন:

طَهُورُ؟ كَلَّا ، بَلْ هِيَ حُتَّى تَفُورُ، أَوْ تَفُورُ، عَلَى شَيْءٍ كَبِيرٍ

'আপনি অসুখকে গুনাহ থেকে পবিত্রকারী বলছেন! তা কক্ষনো নয়; বরং এ তো এমন জ্বর, যা বয়োবৃদ্ধের ওপর টগবগ করে ফুটছে বা জ্বলছে।'

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে তা-ই হোক।"৩৬৪

অন্য বর্ণনায় আছে, পরদিন সন্ধ্যাবেলা সে লোকটি মৃত্যুবরণ করলেন। ৩৬৫

(এই জ্বর তোমাকে গুনাহ থেকে পবিত্র করে তুলবে ইনশাআল্লাহ): নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে 'ইনশাআল্লাহ' বলেছেন। কারণ, তার এ কথাটা জুমলায়ে খাবারিয়‍্যাহ (বিবৃতিমূলক বাক্য)। জুমলায়ে দুআইয়্যাহ (প্রার্থনামূলক বাক্য) নয়। কারণ, দোয়ার সময় দৃঢ় হয়ে দোয়া করতে হয়। সে ক্ষেত্রে 'ইচ্ছা করা'-জাতীয় কোনো শব্দ থাকে না।

এ জন্যই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়ার সময় 'হে আল্লাহ আপনি ইচ্ছে করলে আমাকে ক্ষমা করে দিন, ইচ্ছে করলে আমার ওপর দয়া করুন' এমন করে বলতে নিষেধ করেছেন। ৩৬৬

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে হাদিসে বলেছেন, এ রকম করে বলবে না। কেননা, আল্লাহকে বাধ্য করবে-এমন কেউ নেই যে, যদি তিনি চান, তবে তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদি তিনি চান তোমাকে ক্ষমা করবেন না, তোমার প্রতি দয়া করবেন না। কারণ 'তুমি চাইলে' কথাটি তাকেই বলা হয়, যাকে বাধ্যকারী কেউ আছে অথবা যার চেয়ে বড় দানবীর অন্য কেউ আছে। তাই যখন তুমি আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন 'আপনি চাইলে' এমন করে বলবে না।

অন্যদিকে এ হাদিসের মাঝে রোগীর উদ্দেশে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, )،لا بأس طَهُورُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ( । এখানে বাক্যটি বিবৃতিমূলক। আশাবাদ অর্থে এসেছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন যে, সামনে রোগীর কোনো কষ্ট হবে না। এরপর 'ইনশাআল্লাহ' বলেছেন। কারণ, রোগীর কষ্ট হওয়া না-হওয়া আল্লাহর ইচ্ছাধীন। ৩৬৭

فَنَعَمْ إِذَا-এ বাক্যের 'ফা' অক্ষর উহ্য একটি কথার জামিন। সে উহ্য কথাটি হচ্ছে, 'তুমি যদি সুস্থতা না-ই চাও, তবে তোমার ধারণা অনুযায়ী তা-ই হোক।'

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* অসুস্থ কাউকে দেখতে গেলে )لَا بَأْسَ، طَهُورُ إِنْ شَاءَ اللهُ( বলা উচিত।
* শাসক তার শাসিতদের মধ্যে একদম গ্রাম্য লোককেও তার রোগশয্যায় দেখতে যেতে পারেন। একইভাবে আলিম ব্যক্তি মূর্খ লোককে দেখতে যেতে পারেন, যাতে তাকে তার জন্য উপকারী বিষয় শিক্ষা দিতে পারেন এবং সবর করার প্রতি উৎসাহিত করতে পারেন। কারণ, তা না হলে আল্লাহর তাকদিরের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাঁর ক্রোধের শিকার হতে পারে সে।
* অসুস্থ ব্যক্তির উচিত, কেউ উপদেশ দিলে তা উত্তমরূপে গ্রহণ করা এবং উপদেশদাতাকে উত্তম ভাষায় প্রত্যুত্তর করা। ৩৬৮

টিকাঃ
৩৬৪. সহিহুল বুখারি: ৩৬১৬।
৩৬৫. তাবারানি: ৭২১৩।
৩৬৬. সহিহুল বুخারি: ৬৩৩৯, সহিহু মুসলিম: ২৬৭৯।
৩৬৭. শারহু রিয়াজিস সালিহিন: ৪/৪৮৪।
৩৬৮. ফাতহুল বারি: ১০/১১৯, শারহু রিয়াজিস সালিহিন ৪/৪৮৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইন সাহাবিদের সঙ্গে হাদিয়া বিনিময় করতেন

📄 বেদুইন সাহাবিদের সঙ্গে হাদিয়া বিনিময় করতেন


আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'বেদুইন এক লোকের নাম ছিল জাহির। গ্রাম থেকে সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য হাদিয়া আনত। গ্রামে ফিরে যাওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাকে হাদিয়া দিয়ে সজ্জিত করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, )إِنَّ زَاهِرًا بَادِيَتُنَا، وَنَحْنُ حَاضِرُوهُ( "জাহির গ্রামে আমাদের প্রতিনিধি, আর আমরা শহরে তার প্রতিনিধি।"

লোকটি দেখতে কুৎসিত ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনেক ভালোবাসতেন। একদিন সে বাজারে তার পণ্য বিক্রি করছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপিচুপি পেছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। সে টেরও পেল না তার পেছনে কে। তাই বলে উঠল, "কে? আমাকে ছাড়ো!"

এরপর পেছনে ফিরে দেখে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন নিজের পিঠকে সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বুকের সাথে আরও বেশি লাগিয়ে দিল। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, "এ গোলামটি কে কিনবে?"৩৬৯

সে বলল, "আমাকে বিক্রি করে তেমন দাম পাবেন না আপনি, হে আল্লাহর রাসুল। কারণ, আমি অচলপণ্য।"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কিন্তু আল্লাহর কাছে তুমি অচলপণ্য নও।" অথবা বললেন, "কিন্তু আল্লাহর কাছে বহু মূল্যবান তুমি।"৩৭০

بَادِيتُنَا-অর্থাৎ আমাদের গ্রামবাসী। অথবা সে আমাদের গ্রামের ফল-ফসলাদি হাদিয়া দেয়, তাই যেন সে আমাদের গ্রামের মতো। অথবা সে আমাদের গ্রাম্য পণ্যের দরকার হলে নিয়ে আসে, যদ্দরুন আমাদের আর গ্রামে যেতে হয় না; তাই সে আমাদের গ্রামের প্রতিনিধি।

وَنَحْنُ حَاضِرُوهُ -অর্থাৎ শহর থেকে তার যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তাকে সেগুলো প্রস্তুত করে দিই। অথবা গ্রাম থেকে সে শহরে কেবল আমাদের দেখার জন্যই আসে। ৩৭১

وَكَانَ رَجُلًا دَمِيمًا অর্থাৎ দেখতে কুৎসিত, কিন্তু মনোরম চরিত্রের।

হাদিস থেকে শিক্ষা

মানুষের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যই আসল সৌন্দর্য। বাইরের রূপটা মন্দ হলেও ভেতরের মানুষটা ভালো হওয়াই কাম্য। এ জন্যই হাদিসে এসেছে-

إِنَّ اللَّهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ

'আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদ দেখেন না; তিনি দেখেন তোমাদের অন্তর ও আমল। '৩৭২

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক বেদুইন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি পূর্ণবয়স্ক উট হাদিয়া দিল। বিনিময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ছয়টি পূর্ণবয়স্কা উটনী দিলেন। কিন্তু বেদুইন লোকটা এতেও সন্তুষ্ট হতে পারল না। ৩৭৩

তার নারাজ হওয়ার কথা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন। তিনি তখন আল্লাহর প্রশংসা করে লোকদের উদ্দেশে বললেন, "অনেক বেদুইন আমাকে হাদিয়া দেয়। এমনই একজন আমাকে হাদিয়া দিলে আমিও বিনিময়ে তাকে আমার কাছে যতটুকু ছিল, ততটুকু হাদিয়া দিলাম। কিন্তু সে আমার ওপর সন্তুষ্ট হতে পারল না। তাই আমি নিয়ত করেছি, আজ থেকে কুরাইশ, আনসার, সাকাফি ও দাওসি ছাড়া অন্য কারও হাদিয়া গ্রহণ করব না।"৩৭৪

তুরিবিশতি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'যারা হাদিয়া দিয়ে বেশি বিনিময় চায়, তাদের হাদিয়া গ্রহণ করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করতেন। হাদিয়া গ্রহণের সুযোগ উল্লিখিত শ্রেণির লোকদের জন্য রেখেছেন। কারণ, তাদের আত্মিক ধনাঢ্যতা, উচ্চ মনোবল এবং বিনিময় নেওয়ার প্রতি অনীহার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন। '৩৭৫

টিকাঃ
৩৬৯. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কৌতুক করে বলেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য কথায় কৌতুক করতেন। যেহেতু প্রতিটা মানুষ আল্লাহর গোলাম। তাই সে বেদুইন স্বাধীন হলেও তাকে গোলাম বলতে অসুবিধে ছিল না।
৩৭০. মুসনাদু আহমাদ: ১২২৩৭।
৩৭১. ফাইজুল কাদির: ২/৪৫২।
৩৭২. সহিহু মুসলিম: ২৫৬৪।
৩৭৩. বেদুইন লোকটার অসন্তুষ্টির কারণ ছিল, সে আশা করছিল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আরও বেশি বিনিময় দেবেন। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদারতার বিষয়ে সে পূর্বে শুনেছিল। -তুহফাতুল আহওয়াজি: ১০/৩০৮।
৩৭৪. সুনানুত তিরমিজি: ৩৯৪৫, সুনানু আবি দাউদ: ৩৪৩৭।
৩৭৫. তুহফাতুল আহওয়াজি: ১০/৩০৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00