📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৭৬. নিজের যা পছন্দ অপরের জন্য তাই পছন্দ করা

📄 ৭৬. নিজের যা পছন্দ অপরের জন্য তাই পছন্দ করা


ঈমানের শাখা-৭৬. নিজের যা পছন্দ অপরের জন্য তাই পছন্দ করা
নিজের জন্য যা পছন্দ অপরের জন্য তাই পছন্দ করা এবং যে জিনিস নিজের অপছন্দ অপরের জন্য তা অপছন্দ করা, এমনকি কারও যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য কষ্টদায়ক কোনো বস্তু রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়াও ঈমানের অন্যতম অংশ।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন-
الْإِيْمَانُ بِضُعٌ وَسَبْعُوْنَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ.
অর্থ: ঈমানের ষাটটি কিংবা সত্তরটি শাখা রয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হচ্ছে 'আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই'- এ কথার স্বীকৃতি দেয়া আর সর্বনিম্ন স্তরের শাখা হচ্ছে-রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। লজ্জাও ঈমানের অংশ। (সহীহ বুখারী; সহীহ মুসলিম, হাদীস-১৬২)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন-
لَا يُؤْمِنُ أَحَدَكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ.
অর্থ: তোমরা ততক্ষণ মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ তোমার জন্য যা পছন্দ করো তোমার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ না করবে। (সহীহ বুখারী)
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন- بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ لا عَلَى إِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ .
অর্থ : আমরা নামায প্রতিষ্ঠা করবো, যাকাত আদায় করবো এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করবো এই শর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেছি। (সহীহ বুখারী হাদীস-২৭১৫; সহীহ মুসলিম)
ভালোবাসো যাহা তোমার জন্য তাহা অপরের জন্য মন্দ যাহা তোমার নিকটে তাহা অপরের জন্য।

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৭৭. পরস্পর সংশোধন

📄 ৭৭. পরস্পর সংশোধন


ঈমানের শাখা- ৭৭. পরস্পর সংশোধন আল্লাহ তাআলা বলেন-
লَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَّجُوهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا.
অর্থ: লোকদের গোপন শলাপরামর্শে কোনো কল্যাণ থাকে না, তবে কেউ যদি কাউকে দান খয়রাতের উপদেশ দেয় কিংবা কোনো ভালো কাজের জন্য অথবা লোকদের পরস্পরের কাজকর্ম সংশোধনের নিমিত্তে কাউকে কিছু বলা হয় তা অবশ্যই ভালো কথা। আল্লাহর সন্তোষ লাভের জন্য যে এরূপ করবে আমরা তাকে খুব বড় প্রতিফল দেবো। (আন নিসা-আঃ ১১৪) আরেক জায়গায় বলা হয়েছে-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ. অর্থ : মুমিনগণ তো পরস্পরের ভাই। অতএব তোমার ভাইদের পারস্পরিক সম্পর্ক যথাযথভাবে পূর্ণগঠিত করে দাও। (হুজুরাত-আ: ১০) উম্মু কুলসুম বিনতে উকবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি-
لَيْسَ الْكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَنْدِي خَيْرًا أَوْ يَقُولُ خَيْرًا.
অর্থ: 'পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কেউ যদি অসত্য কথাও (সহীহ বুখারী হাদীস-২৬৯২; সহীহ মুসলিম) বলে তবে সে মিথ্যাবাদী নয়। তিনি আরও বলেন, আমি কোনো বিষয়ে তাকে মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনিনি শুধু তিনটি ক্ষেত্রে ছাড়া- ১. যুদ্ধের সময়, ২. পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এবং ৩. স্ত্রীর মনোরঞ্জনের (কিংবা অভিমান ভাঙার) জন্য। (বুখারী; সহীহ মুসলিম)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00