📘 Biggan zakir naik > 📄 কুরআন ও বৈজ্ঞানিক সত্য

📄 কুরআন ও বৈজ্ঞানিক সত্য


কুরআনে বৈজ্ঞানিক সত্যগুলোর উপস্থিতিকে সমকালীনতা হিসেবে অভিহিত করা সাধারণ জ্ঞান ও সত্যিকার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গীর বিরোধী।
প্রকৃতপক্ষে কুরআনের আয়াতের বৈজ্ঞানিক যথার্থতা কুরআনের উন্মুক্ত ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করে।
سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ ۗ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ
আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব দূর দিগন্তে (অর্থাৎ দূর পর্যন্ত ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত হবে) আর তাদের নিজেদের মধ্যেও (অর্থাৎ কাফিররা নতজানু হয়ে ইসলাম কবুল করবে) যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ কুরআন সত্য। এটা কী যথেষ্ট নয় যে, তোমার প্রতিপালক সব কিছুরই সাক্ষী। -হামীম সিজদাহঃ ৫৩
আয়াতটির মাধ্যমে কুরআন সকল মানুষকে এ বিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে ভাবতে বলেঃ
"নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে, নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানী লোকদের জন্যে।"
কুরআনের বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য প্রমাণ এটি যে আল্লাহর ওহী তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। ১৪০০ বছর পূর্বে কোন মানুষের দ্বারা এরূপ নিগূঢ় বৈজ্ঞানিক সত্য সম্বলিত বই রচনা সম্ভব ছিল না।
কুরআন অবশ্য বিজ্ঞানের কোন গ্রন্থ নয়, বরং নিদর্শন গ্রন্থ। এ নিদর্শনগুলো মানুষকে পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব ও প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বাস করার উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে শেখায়। কুরআন সত্যিকারভাবে সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও রক্ষক আল্লাহর বাণী। এতে আল্লাহর একত্ববাদের বাণী রয়েছে যা আদম, মূছা, ঈসা ও মুহাম্মদ (সা.) সহ সকল নবী ও রাসূল প্রচার করেছিলেন ও যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য দৃঢ়ভাবে সকলকে আহ্বান করেছিলেন।
'কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান' বিষয়ে বিস্তারিত বহু বৃহৎ গ্রন্থ লেখা হয়েছে এবং এ নিয়ে আরও অনেক গবেষণা চলছে। ইনশাআল্লাহ, এই গবেষণা মানবজাতিকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর আরও সন্নিকটে আসতে সাহায্য করবে। এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটিতে শুধুমাত্র কুরআনের বৈজ্ঞানিক সত্যগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য, আমি বিষয়টিতে পূর্ণ গবেষণা করতে পেরেছি বলে দাবী করি না।
কুরআনে উল্লিখিত একটিমাত্র বৈজ্ঞানিক নিদর্শনের শক্তির কারণে প্রফেসর তেজাসেন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কুরআন যে আসমানী গ্রন্থ তা নিশ্চিত হতে প্রমাণস্বরূপ কারো প্রয়োজন হতে পারে ১০ টি নিদর্শন, আবার কারো ১০০ টি নিদর্শন। আবার কেউ ১০০০ নিদর্শন দেখার পরও সত্য (ইসলাম) গ্রহণ করবেনা। নীচের আয়াতে কুরআন এ ধরণের বন্ধ মানসিকতার নিন্দা করে:
صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ
"তারা বধির, বোবা ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।"-বাকারাহঃ ১৮
ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কুরআন একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আলহামদুলিল্লাহ, সম্পূর্ণ অজ্ঞতার ভিত্তিতে আধুনিক মানুষের তৈরি বিভিন্ন মতবাদের চেয়ে কুরআনের জীবনব্যবস্থা অনেক বেশি উন্নত। সৃষ্টিকর্তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভাল পথনির্দেশনা আর কে প্রদান করতে পারে?।
আমি দো'আ করি, আল্লাহ যেন এ সামান্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন, আমি তাঁর কাছে ক্ষমা ও হিদায়াত প্রার্থনা করি। (আমীন)
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়া আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইহি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00