📄 মেরুদণ্ড ও পাঁজরের মধ্য থেকে নির্গত তরল পদার্থের ফোঁটা
فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ - خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ - يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ
"সুতরাং মানুষ ভেবে দেখুক কী থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে বের হয়ে আসা পানি থেকে। তা বের হয় পুরুষের যৌন স্থান ও স্ত্রীর যৌন স্থানের সম্মিলনের (পরিণতিতে)। -সূরা আত-তারিকঃ ৫-৭
অনেকেই এই আয়াতের অর্থ 'যা বের হয় মেরুদণ্ড ও বক্ষের অস্থিসমূহের মধ্য হতে' হিসেবে করেছেন। তবে এই অর্থটি যতটা না অনুবাদ তার চেয়ে বেশি ব্যাখ্যা বলেই মনে হয়। জন্মপূর্ববর্তী অবস্থায় বিকাশের সময়, পুরুষ ও স্ত্রীর জননেন্দ্রিয়গুলো যেমন, অণ্ডকোষ ও ডিম্বাশয় কিডনির নিকটে মেরুদণ্ড স্তম্ভ এবং একাদশ ও দ্বাদশ পাঁজরের (বুকের ও পার্শ্বদেশের অস্থি বা হাড়) হাড়ের মাঝে বিকশিত হওয়া শুরু করে। পরবর্তীতে এগুলো নীচে নেমে আসে, স্ত্রীর ডিম্বাশয় মেরুদণ্ডের নীচে ও নিতম্বের মধ্যকার অস্থিকাঠামোর মধ্যে এসে থেমে যায়, পক্ষান্তরে, পুরুষের অণ্ডকোষ নালী দিয়ে অণ্ডকোষের থলিতে নেমে আসার ধারাবাহিকতা জন্মের পূর্ব পর্যন্ত বজায় থাকে। এমনকি বয়ঃপ্রাপ্ত অবস্থায় জনেন্দ্রীয় নীচে নেমে আসার পরেও মেরুদণ্ড ও বক্ষপাঁজরের মাঝে অবস্থিত উদর সংক্রান্ত বড় ধমনি (হৃৎপিণ্ডের বাম দিক থেকে রক্তবহনকারী প্রধান ধমনী) থেকে এ অঙ্গগুলো উদ্দীপনা ও রক্ত সরবরাহ গ্রহণ করে। এমনকি রসজাতীয় পদার্থ বহনকারী নালী এবং শিরাগুলো একই এলাকার স্থানে মিলিত হয়।
📄 অতি সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ (নুতফাহ)
পবিত্র কুরআন কমপক্ষে ১১ স্থানে মানুষকে 'নুতফাহ' থেকে সৃষ্টি করার কথা বলে, যার অর্থ অতি সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ অথবা কোন কাপের নীচের তলায় অবশিষ্ট কয়েক ফোঁটা তরল পদার্থ। এ বিষয়টি কুরআনের সূরা মু'মিনূনঃ ১৩ নং আয়াতসহ আরও অনেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে যে, ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার জন্য গড়ে তিন মিলিয়ন শুক্রকীটের মধ্য থেকে মাত্র একটি শুক্রকীট প্রয়োজন। এটির আরেক অর্থ হচ্ছে, নিষিক্তকরণের জন্য শুধুমাত্র নির্গত শুক্রকীটের ১/৩ মিলিয়ন ভাগ অথবা ০.০০০০৩% দরকার।
একই ধরণের বর্ণনা কুরআনের সূরা নাহল: ৪, সূরা কাহফঃ ৩৭, সূরা ফাতিরঃ ১১, সূরা ইয়াসীনঃ ৭৭, সূরা মুমিনঃ ৬৭, সূরা নাজমা ৪৬, সূরা কিয়ামাহঃ ৩৭, সূরা দাহর: ২ এবং সূরা আবাসাঃ ১৯ নং আয়াতেও উল্লেখিত হয়েছে।
📄 তরল পদার্থের নির্যাস (সুলালাহ)
ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِن سُلَالَةٍ مِّن مَّاءٍ مَّهِينٍ
"অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন, তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।" -সূরা সাজদাহ : ৮
আরবী শব্দ سُلَالَة 'সুলালাহ' মানে তরল পদার্থের নির্যাস বা অবিভক্ত কোন বস্তুর সর্বোত্তম অংশ।
আমরা এখন জানতে পেরেছি যে, পুরুষের দেহে উৎপন্ন কয়েক মিলিয়ন শুক্রাণু থেকে ডিম্বাণুতে প্রবেশকারী একটি মাত্র শুক্রাণুই নিষিক্তকরণের জন্য প্রয়োজন হয়। কয়েক মিলিয়ন থেকে ঐ একটি মাত্র শুক্রাণুকেই কুরআনে 'সুলালাহ' বলা হয়েছে। আমরা বর্তমানে এটাও জানতে পেরেছি যে, নারীদেহে উৎপন্ন দশ হাজারের অধিক ডিম্বাণু থেকে একটি মাত্র ডিম্বাণুই নিষিক্ত হয়। দশ হাজার ডিম্বাণু থেকে ঐ একটি ডিম্বাণুকে কুরআনে 'সুলালাহ' বলা হয়েছে। তরল পদার্থ থেকে সুষমভাবে বের করে আনার অর্থেও 'সুলালাহ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তরল পদার্থ দ্বারা জননকোষ ধারণকারী নারী ও পুরুষের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সংক্রান্ত তরল পদার্থকে বুঝায়। ডিম্বাণু উভয়কে নিষিক্তকরণের প্রক্রিয়ায় সুষমভাবে তাদের নিজস্ব পরিমণ্ডল থেকে বের করে আনা হয়।
📄 মিশ্রিত তরল পদার্থ (নুতফাতুন আমশা-জ)
নীচের আয়াতটির দিকে লক্ষ্য করা যাক:
إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن نُّطْfَةٍ أَمْشَاجٍ
"আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে।” (আদ-দাহরঃ ২
আরবী শব্দ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ (নুতফাতুন আমশাজ)-এর অর্থ হচ্ছে, মিশ্রিত তরল পদার্থ। কুরআনের অনেক তাফসীরকারকের মতে, মিশ্রিত তরল পদার্থ বলতে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ জাতীয় ধারক বা তরল পদার্থকে বোঝায়। নারী ও পুরুষের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু মিশ্রিত হওয়ার পরেও ভ্রূণ নুতফা আকারে অবস্থান করে। মিশ্রিত তরল পদার্থ বলতে শুক্রাণুজাতীয় তরলকেও বুঝানো হতে পারে যা বিভিন্ন লালাগ্রন্থির নিঃসৃত রস হতে আসে। সেহেতু, نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ (নুতফাতুন আমশাজ)- এর অর্থ দাঁড়ায়, নারী ও পুরুষের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু এবং এগুলোর চতুর্পার্শ্বের তরল পদার্থের কিছু অংশ।