📄 পাহাড় পর্বতগুলো পেরেক সদৃশ
কুরআনের আয়াতে হুবহু একই বর্ণনা রয়েছেঃ
أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهَادًا وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا
"আমি কী ভূমিকে বিছানা করিনি, এবং পর্বতমালাকে পেরেক?" -সূরা নাবা ৬-৭
এখানে ব্যবহৃত আরবী শব্দ أَوْتَاد (আওতাদ)-এর অর্থ হচ্ছে পেরেক (যা দড়ি বা রজ্জুকে ভূমির সঙ্গে নির্দিষ্ট করে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়); এগুলো ভূতাত্ত্বিক ভাঁজের গভীর ভিত্তি যা উপর থেকে নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত। 'Earth' হচ্ছে সারাবিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিষয়ে ব্যবহৃত প্রাথমিক রেফারেন্স বই। এই বইয়ের অন্যতম লেখক ফ্রাঙ্ক প্রেস যিনি ১২ বছর যাবত আমেরিকার Academy of Sciences'- এর প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এই বইয়ে তিনি বর্ণনা দেন যে, পাহাড়-পর্বতসমূহ পেরেকাকৃতি এবং এগুলো অবিভক্ত বস্তুর এক ক্ষুদ্র অংশমাত্র যার মূল ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে নীচ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিস্তৃত। ড. প্রেসের মতে, পৃথিবীর কঠিন উপরিতলকে (crust) সুস্থিত অবস্থায় রাখতে পাহাড়-পর্বতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পৃথিবীকে কাঁপা থেকে রক্ষা করতে পাহাড়-পর্বতের ভূমিকার কথা কুরআনও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে:
وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ
"আমি পৃথিবীতে ভারি বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।" -সূরা আম্বিয়া: ৩১
কুরআনে বর্ণনাসমূহ আধুনিক ভূ-তাত্ত্বিক উপাত্তের সাথে নির্ভুলভাবে ঐক্যমত পোষণ করে।
📄 সমুদ্র সম্পদ ও সমুদ্র প্রযুক্তি বিষয়ক বিজ্ঞান
মিষ্টি পানি ও লবণাক্ত পানির মধ্যেকার প্রতিবন্ধক
مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ - بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَّا يَبْغِيَانِ
"তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরাল, যা তারা কখনো অতিক্রম করতে পারে না। "সূরা আর-রাহমানঃ ১৯-২০
আরবী ভাষায় بَرْزَخ (বারযাখ) শব্দটির অর্থ হচ্ছে 'একটি প্রতিবন্ধক' বা 'বিভাজন'। এই বিভাজন কোন শারীরিক বিভাজন নয়। আরবী শব্দ مَرَجَ (মারজা)-এর আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে যে-তারা উভয়ই একত্রে মিশে একাকার হয়ে যায়'। প্রথম যুগের, কুরআনের তাফসীরকারকরা দুরকমের পানির দুইটি বিপরীত অর্থের ব্যাখ্যা করতে অসমর্থ ছিলেন; উদাহরণস্বরূপ- তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধক থাকা সত্ত্বেও তারা একত্রে মিশে একাকার হয়ে যায় অথচ একই সময়ে উভয়ের মাঝে রয়েছে প্রতিবন্ধক। বর্তমানে বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, দুটি ভিন্ন সমুদ্র একত্রে মিলিত হলে সেখানে উভয়ের মধ্যে একটি প্রতিবন্ধক থাকে। এই প্রতিবন্ধক দুটি সমুদ্রকে বিভক্ত করে, ফলে প্রত্যেক সমুদ্রের নিজস্ব তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং ঘনত্ব বজায় থাকে। 'সমুদ্র সম্পদ ও সমুদ্র প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের এই আয়াতটি ব্যাখ্যা করার এখনই তুলনামূলক সুবর্ণ সুযোগ। দুটি সমুদ্রের মাঝে অদৃশ্য ঢালু পানির প্রতিবন্ধক রয়েছে যার মধ্য দিয়ে এক সমুদ্রের পানি অন্য সমুদ্রে প্রবেশ করে।
কিন্তু যখন এক সমুদ্র থেকে পানি অন্য সমুদ্রে প্রবেশ করে তখন সে সমুদ্রটি তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং অন্য সমুদ্রের সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়। এভাবে এই প্রতিবন্ধকটি দু'ধরণের পানির মধ্যে পরিবর্তনমূলক একীভূতকারী বন্ধনী হিসেবে কাজ করে।
এই বিষয়টি সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا
"তিনিই দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন।” -সূরা আন-নামলঃ ৬১
এই প্রতিবন্ধক জিব্রাল্টারে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থলসহ আরও কয়েক জায়গায় দেখা যায়। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কেইপ পয়েন্টে ও কেইপ পেনিনসুলায় একটি সাদা প্রতিবন্ধক পরিষ্কারভাবে দেখা যেতে পারে, যেখানে আটলান্টিক মহাসাগর ভারত মহাসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।
কিন্তু কুরআন যখন মিষ্টি পানি ও লবণাক্ত পানির মধ্যে বিভক্তকারীর সম্পর্কে কথা বলে, তখন ঐ প্রতিবন্ধকের সাথে একটি নিবৃত্তিকর বিভাজনের বিদ্যমানতাও বলে।
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে-
وَهُوَ الَّذِي مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ هَٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ وَهَٰذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًا وَحِجْرًا مَّحْجُورًا
"তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট, তৃষ্ণা নিবারক ও একটি লোনা, বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল" -সূরা আল-ফুরক্বান: ৫৩
আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, নদীর মোহনায় যেখানে স্বাদু (মিঠা) পানি ও লবণাক্ত পানি মিলিত হয়, সে অবস্থাটি যেখানে দুটি লবণাক্ত পানির সমুদ্র মিলিত হয় তা থেকে কিছুটা ভিন্ন হয়। নদীর মোহনায় যা মিঠা পানিকে লবনাক্ত পানি থেকে পৃথক করে তা হচ্ছে দুই ধরণের পানিকে বিচ্ছিন্নভাবে ঘনত্ব পৃথককারী একটি স্থান। এ বিভাজন স্থানে এক প্রকার লবণাক্ততা আছে যা মিঠা ও লবণাক্ত উভয় থেকেই ভিন্ন।
মিশরের নীলনদ যেখানে ভূমধ্যসাগরের সাথে মিলিত হয় সে স্থানসহ আরও অনেক স্থানে এধরণের বিভাজনের দৃশ্য দেখা যায়।
কুরআনে উল্লেখিত এই বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো আমেরিকার 'University of Colorado'- এর ভূতত্ত্ব বিদ্যার প্রফেসর ও বিখ্যাত সমুদ্র বিজ্ঞানী ড. উইলিয়াম হেইয়ের দ্বারাও দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত।
📄 পাহাড়-পর্বত দৃঢ়ভাবে প্রোথিত
পৃথিবীর উপরিভাগ বহুসংখ্যক দৃঢ় প্লেটে বিভক্ত যার ঘনত্ব প্রায় ১০০ কি. মি.। অ্যাসথেনোস্ফিয়ার নামে অংশত গলিত মণ্ডলে এই প্লেটগুলো ভাসমান। প্লেটগুলোর সীমানায় পাহাড়-পর্বত গঠিত হয়। পৃথিবীর কঠিন উপরিতল সমুদ্রের ৫ কি. মি. নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং বৃহৎ পাহাড়-পর্বতের প্রায় ৮০ কি. মি. নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সুদৃঢ় ভিত্তির উপর পাহাড়-পর্বত দৃঢ়, নিশ্চল রয়েছে। তাছাড়া পবিত্র কুরআনে পাহাড়-পর্বতের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে:
وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا
"তিনি পাহাড়-পর্বতকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।" -সূরা আন-নাযি'আতঃ ৩২
একই রকম বর্ণনা কুরআনের অন্যান্য আয়াতেও রয়েছে।
"তারা কী লক্ষ্য করে না পাহাড়ের দিকে যে, তা কিভাবে স্থাপন করা হয়েছে?" -সূরা আল-গাশিয়াহঃ ১৯
"তিনি পৃথিবীতে পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যাতে এটি তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে।" -সূরা লুকমানঃ ১০
"এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে না পড়ে।" -সূরা নাহল: ১৫
এভাবেই পাহাড়-পর্বতের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত তথ্যসমূহ ভূতত্ত্ব বিদ্যার সাম্প্রতিক আবিষ্কারের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।
📄 সমুদ্রের গভীরে অন্ধকার
প্রফেসর দুর্গা রাও, বিশ্ববিখ্যাত অভিজ্ঞ সামুদ্রিক ভূতত্ত্ববিদ এবং জেদ্দার 'King Abdul Aziz University'-এর প্রফেসর তাঁকে নীচের আয়াতের উপর মন্তব্য করতে বলা হয়েছিল:
أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُّجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ سَحَابٌ ۚ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا ۗ وَمَن لَّمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِن نُّورٍ
"অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন সে তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতি নেই।" -সূরা আন-নূর ৪০
প্রফেসর রাও বলেন, সমুদ্রের গভীরে অন্ধকার সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা অতিসম্প্রতি আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিশ্চিত হতে পেরেছে। কোন কিছুর সাহায্য ব্যাতিরেকে মানুষ ২০ মিটার থেকে ৩০ মিটারের অধিক পানির নীচে মানুষ ডুব দিতে পারে না এবং মহাসাগরীয় অঞ্চলসমূহের ২০০ মিটারের অধিক পানির নীচে বাঁচতে পারে না। এই আয়াতটি সকল সমুদ্রের দিকে নির্দেশ করে না, কারণ সব সমুদ্রের পুঞ্জীভূত অন্ধকারের স্তর নেই। আয়াতটি শুধুমাত্র গভীর সমুদ্র সম্পর্কে বলা হয়েছে, "এক বিশাল গভীর সমুদ্রের অন্ধকার"। দুটি কারণের স্বাভাবিক ফল হচ্ছে একটি গভীর সমুদ্রের এই স্তরবিশিষ্ট অন্ধকার:
১. রংধনুতে সাতটি রংয়ের সমন্বিত একটি আলোক রশ্মি দৃশ্যমান হয়। রংগুলো হল-বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল (বেনীআসহকলা)। আলোক রশ্মিটি পানিকে ভেদ করার সময় প্রতিসরণ (রশ্মি বাঁকিয়ে যাওয়ার নাম প্রতিসরণ) ঘটে। উপরিভাগের ১০ মিটার থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত পানি প্রায় লাল রং শোষণ করে নেয়। সে কারণে কোন ডুবুরি পানির ২৫ মিটার নীচুতে আহত হলে সে তার রক্তের লাল রং দেখতে পায় না, কেননা ঐ গভীরতায় লাল রং পৌঁছে না। একইভাবে কমলা রং ৩০ মিটার থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে, হলুদ রং ৫০ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে, সবুজ রং ১০০ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে এবং সবশেষে আসমানি রং ২০০ মিটার এবং বেগুনী ও নীল রং ২০০ মিটারের অধিক দূরত্ব অতিক্রমের পর শোষিত হয়। বিভিন্ন স্তরে রংগুলোর ক্রমাগত শোষিত হবার ফলে ক্রমশ সমুদ্র অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় অর্থাৎ আলোর স্তর অন্ধকারে পরিণত হয়। পানির ১০০০ মিটার গভীরতার নীচে সম্পূর্ণ অন্ধকার।
২. সূর্যের রশ্মি মেঘ দ্বারা শোষিত হয়ে বিক্ষিপ্ত আলোতে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে মেঘের নীচে অন্ধকারের একটি স্তর তৈরি করে। যা অন্ধকারের প্রথম স্তর। যখন আলোক রশ্মি সমুদ্রের উপরিভাগে পৌঁছে তখন তা পৃষ্ঠভাগের ঢেউয়ের সাথে প্রতিফলিত হয়ে এটিকে আলোকিত করে তোলে। সেহেতু ঢেউগুলোই আলোকে প্রতিফলিত করে এবং অন্ধকারের সৃষ্টি করে। অপ্রতিফলিত আলো সমুদ্রের গভীরতায় প্রবেশ করে। তাই সমুদ্রের দুটি অংশ রয়েছে। এর উপরিভাগ আলোয় ও উষ্ণায়িত এবং গভীরতায় অন্ধকার। ঢেউয়ের কারণে সমুদ্রের গভীর অংশ থেকে উপরিভাগ ভিন্ন।
অভ্যন্তরীণ ঢেউয়ের মধ্যে সাগর ও মহাসাগরের গভীর পানি অন্তর্ভুক্ত কারণ গভীর সমুদ্রের পানির ঘনত্ব তার উপরিভাগের পানির চেয়ে বেশি। অভ্যন্তরীণ ঢেউয়ের নীচ থেকেই অন্ধকার শুরু হয়। এমনকি গভীরসাগরে গভীরে বসবাসকারী মাছও কিছু দেখতে পায় না, নিজেদের শরীরের আলোই তাদের আলোর একমাত্র উৎস।
কুরআন এ বিষয়টি যথাযথভাবে বর্ণনা করে
"অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রে গভীর অন্ধকারের মত, যাকে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ উদ্বেলিত করে।"
অপরকথায়, এ ঢেউগুলোর উপর বিভিন্ন রকমের ঢেউ রয়েছে, যেমন- মহাসাগরের উপরে যা পাওয়া যায়। কুরআনের আয়াতটি বলতে থাকে, "যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার।”
মেঘগুলো একের উপর এক প্রতিবন্ধক যা পরবর্তীতে বিভিন্ন স্তরে রংয়ের শোষণের মাধ্যমে গভীর অন্ধকারের সৃষ্টি করে।
পরিশেষে প্রফেসর দুর্গা রাও এই বলেন যে, "১৪০০ বছর পূর্বে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এ বিষয়টি এত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা সম্ভবপর নয়। তাই তথ্যগুলো অবশ্যই কোন অলৌকিক উৎস থেকে প্রাপ্ত।".