📘 Biggan zakir naik > 📄 নির্দিষ্ট সময় পরে সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে

📄 নির্দিষ্ট সময় পরে সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে


সৌরজগতকে নিয়ে সূর্য যে নির্দিষ্ট লক্ষে চলছে, তা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্তৃক সুনিশ্চিতভাবে আবিষ্কৃত সত্য। এটিকে 'সৌর শৃঙ্গ' বলা হয়। আসলে সৌরজগত মহাশূন্যে যে দিকে ধাবিত হয়, সে দিকটির অবস্থান যথার্থ ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। আসলে সৌরজগত হারকিউলিসের কক্ষপথে অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে যাচ্ছে যার অবস্থান বর্তমানে খুব জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য।
পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘুরতে যে সময় লাগে, একই সময়ে চন্দ্র তার নিজস্ব কক্ষপথের চতুর্দিকে একবার চক্রাকারে আবর্তন করে। চন্দ্রের একটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে সাড়ে ২৯ দিন সময় লাগে।
কুরআনের আয়াত সমূহের বৈজ্ঞানিক বিশুদ্ধতায় কেউ বিস্মিত না হয়ে পারেন না। আমাদের কী প্রশ্নটির ব্যাপারে ভাবা উচিত নয় "কুরআনের জ্ঞানের উৎস কী?"
সূর্যের আলো হচ্ছে এর পৃষ্ঠের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফল যা পাঁচ বিলিয়ন বছর ধরে চলবে। কিন্তু ভবিষ্যতে এক সময়ে এর বিলুপ্তি ঘটবে যখন সূর্য ভূপৃষ্ঠের অন্যান্য সকল প্রাণীর অস্তিত্বের বিলুপ্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ হয়ে যাবে। সূর্যের অস্তিত্বের অস্থায়িত্ব সম্পর্কে কুরআন বলেঃ
وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ
"সূর্য আবর্তন করে, তার নির্দিষ্ট অবস্থানে। এটা, পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ।” -সূরা ইয়াসীন: ৩৮
এখানে ব্যবহৃত আরবী শব্দ হচ্ছে, مُسْتَقَرّ (মুস্তাকার), যার অর্থ 'একটি নির্দিষ্ট স্থান' বা 'একটি নির্দিষ্ট সময়'। এভাবে কুরআন বলে যে, সূর্য একটা নির্দিষ্ট স্থানের দিকে আবর্তন করছে যা পূর্বনির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে এর অর্থ এই যে, এটির বিলুপ্তি ঘটবে অথবা নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।

📘 Biggan zakir naik > 📄 জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশ্ব সৃষ্টি "বিগ ব্যাঙ'

📄 জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশ্ব সৃষ্টি "বিগ ব্যাঙ'


বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে জ্যোতির্বিদগণ কর্তৃক প্রদত্ত যে ব্যাখ্যাটি ব্যাপকভাবে গ্রহণকৃত তা 'বিগ ব্যাঙ' তত্ত্ব হিসেবে সুপরিচিত। যুগযুগ ধরে নভোচারী ও জ্যোতির্বিদগণ কর্তৃক সংগৃহীত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণমূলক তথ্যের মাধ্যমে এ ধারণাটি সমর্থিত হয়েছে। 'বিগ ব্যাঙ' (মহা বিস্ফোরণ) তত্ত্ব মতে আদিতে পুরো বিশ্বটি একটা বড় পিণ্ড (রাতের আকাশে আলোর অস্পষ্ট ছোপের মতো দেখতে অতি দূরের নক্ষত্রপুঞ্জ আদি নীহারিকা) আকারে ছিল। তারপর সেখানে একটা মহা বিস্ফোরণ ঘটে (দ্বিতীয়ত পর্যায়ের বিচ্ছিন্নতা) যার ফলে ছায়াপথ (মহাকাশে নক্ষত্রপুঞ্জ বা নীহারিকাসৃষ্ট সুদীর্ঘ জ্যোতির্ময় বেষ্টনী বা Galaxy) তৈরি হয়। এগুলো পরবর্তীতে গ্রহ, তারা, সূর্য, চাঁদ, ইত্যাদিতে পরিণত হয়। বিশ্বের উৎপত্তি ছিল এক অনন্য ঘটনা এবং অলৌকিক ভাবে ইহা ঘটার সম্ভাবনা নেই। বিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে কুরআনে আয়াত রয়েছে-
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا
"কাফেররা কী দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল (সৃষ্টির একটা অংশ হিসেবে) অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম।” (আম্বিয়া: ৩০)
কুরআনের আয়াত ও 'বিগ ব্যাঙ' এর মধ্যে বিস্ময়কর সাদৃশ্যতা সত্যিই কিছুতেই উপেক্ষণীয় নয়। ১৪০০ বছর পূর্বে আরবের মরুভূমিতে নাযিলকৃত একটা গ্রন্থ কীভাবে এই জ্ঞানগর্ভ বৈজ্ঞানিক সত্য ধারণ করতে পারে?

📘 Biggan zakir naik > 📄 ছায়াপথ সৃষ্টির পূর্বে প্রাথমিক গ্যাস

📄 ছায়াপথ সৃষ্টির পূর্বে প্রাথমিক গ্যাস


বিজ্ঞানীরা একমত যে, বিশ্বে ছায়াপথ সৃষ্টির পূর্বে আকাশ সম্পর্কীয় বস্তুগুলি প্রাথমিকভাবে গ্যাস জাতীয় পদার্থের আকারে ছিল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ছায়াপথ তৈরির পূর্বে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস পদার্থ অথবা মেঘ বিদ্যমান ছিল। আকাশ সম্পর্কীয় আদি পদার্থ বর্ণনা করতে 'ধোঁয়া' শব্দটি গ্যাসের চেয়ে বেশি উপযুক্ত। কুরআনের আয়াতে ব্যবহৃত 'দুখান' শব্দটি দ্বারা বিশ্বের এই অবস্থাকেই বুঝায় যার অর্থ ধোঁয়া।
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেন-
ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ
"তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধূম্রপুঞ্জ, তারপর তিনি তাকে এবং পৃথিবীকে বললেন, তোমরা আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। তারপর তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় এলাম।" -সূরা ফুসসিলাত: ১১
তাছাড়া 'বিগ ব্যাঙ' এর স্বাভাবিক পরিণতি হল এই ঘটনা এবং নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পূর্বে এটি কারও কাছেই পরিচিত ছিল না। তাহলে, তখন এই জ্ঞানের উৎস কী হতে পারত?

📘 Biggan zakir naik > 📄 আন্তর্নাক্ষত্রিক বস্তুর অস্তিত্ব

📄 আন্তর্নাক্ষত্রিক বস্তুর অস্তিত্ব


পূর্বে মহাকাশের জ্যোতির্বিজ্ঞান পদ্ধতির সুসংগঠিত ধারণার বাইরের স্থানকে শূন্য মনে করা হত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে এ আন্তর্নাক্ষত্রিক মহাশূন্যে বস্তুর সেতুর অস্তিত্বের সন্ধান পায়।
আদি-নীহারিকার অন্তঃস্থিত বস্তু সমূহের ঘনীভূত হওয়া এবং পরিণতিতে সেসব বিভক্ত হয়ে খণ্ড-বিখণ্ড হওয়াটাই ছিল বিশ্বসৃষ্টির মৌল প্রক্রিয়ার সূচনা পর্ব। এসব খণ্ডই পরে ছায়াপথের আদিতে পরিণত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে ছায়াপথের এই খন্ডগুলো আবারও খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে মহাকাশের অসংখ্য নক্ষত্র সৃষ্টি করে। এসব নক্ষত্র টুকরা টুকরা হয়ে পরবর্তী বস্তু অর্থাৎ গ্রহসমূহ সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রতিবারের এই সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় প্রতিটি মূল বস্তুতে কিছু না কিছু অবশিষ্টাংশ থাকে, সেগুলোকে বলা হয় 'ধ্বংসাবশেষ'। আর এগুলোর সঠিক বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে, 'আন্তর্নাক্ষত্রিক ছায়াপথ বস্তু'। এসব আন্তর্নাক্ষত্রিক বস্তু বিভিন্নভাবে পরিচিতি পায়, যেমন কিছু 'অবশিষ্ট' নীহারিকা রয়েছে, যেসব নীহারিকার মধ্যে অন্যান্য নক্ষত্র থেকে প্রাপ্ত আলোর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞান বিশারদদের ভাষায়, এসব নীহারিকা সম্ভবত 'ধূলি' অথবা 'ধোঁয়ার' দ্বারা পরিগঠিত। এছাড়াও এমন নীহারিকা রয়েছে, যেসব নীহারিকা অন্ধকারাচ্ছন্ন অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত কম ঘনীভূত। এসব নীহারিকায় আন্তর্নাক্ষত্রিক এমন সব বস্তু যা আকারে তেমন বৃহৎ নয়। তবুও তাদের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ফটোম্যাট্রিক গণনায় তাদের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এক প্রক্রিয়ায় এ ধরণের বস্তুর দ্বারা বিভিন্ন ছায়াপথের মধ্যে যে 'সেতু' গঠিত রয়েছে, সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই। এসব বস্তু তথা গ্যাস খুবই তরলিত আকারে বিদ্যমান। আমরা জানি যে, একটি ছায়াপথ থেকে আরেকটি ছায়াপথের দুরত্বকে প্লাজমা বলা হয়, যা সমান সংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন ও ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট সম্পূর্ণ আয়নিত গ্যাস দিয়ে গঠিত। প্লাজমাকে অনেক সময় বস্তুর চতুর্থ অবস্থাও বলা হয় (অন্য পরিচিত তিনটি অবস্থা হচ্ছে-কঠিন, তরল এবং গ্যাস)। কুরআনে এই আন্তর্নাক্ষত্রিক বস্তুর উপস্থিতি সম্পর্কে বলেছে
الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا
"তিনিই সে সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশ, ও জমিন এবং যা এর মধ্যে আছে তা।" -সূরা আল-ফুরকান: ৫৯
তারপরও যদি কেউ বলে যে আন্তর্নাক্ষত্রিক ছায়াপথবর্তী বস্তুর উপস্থিতি ১৪০০ বছর আগেই জানা গিয়েছিল, তাহলে তা সবার জন্য হাস্যকর ব্যাপার ছাড়া কিছুই নয়!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00