📄 মু’জিজা : ১৫৫: বিপর্যয়কারী ভূমিকম্প
যখন পৃথিবী প্রকম্পিত হবে (চূড়ান্ত) প্রচণ্ড কম্পনে। (যিলযাল, ৯৯ : ০১)
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। (হজ্জ, ২২ : ০১)
কুরআন মাজিদ আরও কিছু আয়াতে বলে, পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে একটি প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পের মাধ্যমে। যার ফলে পৃথিবীর উপরিভাগের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা মাধ্যাকর্ষণশক্তির জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের একটি প্রলয়ংকারী ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাখ্যা দিতে পারি এবং তার অনুমানও করতে পারি। এটি সর্বজনস্বীকৃত বিষয় যে, সময় ও উচ্চতার সামান্য ব্যবধানের কারণে মাধ্যাকর্ষণশক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ওপরে উঠার সঙ্গে সঙ্গে সময়ও কিছুটা দ্রুততার সঙ্গে অতিক্রান্ত হতে থাকে। সময়ের এই ব্যবধান চাই তা যত সূক্ষ্মই হোক না কেন, আণবিক ঘড়ির সহায়তায় পরিমাপ করা যায়। যখন অবশেষে এই মহাবিশ্ব সংকোচনের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, জ্যোতির্বস্তুবিদদের মতে, আগে হোক কিংবা পরে, একটা ঘটনা সংঘটিত হবে। সময়ের আবর্তনও উল্টে যাবে। তা মাধ্যাকর্ষণশক্তিকে একটি বিপরীত অবস্থায় নিয়ে যাবে। ফলে ভূপৃষ্ঠের সকল বস্তু লন্ডভন্ড হয়ে যাবে, এমন একটি ভূমিকম্প সৃষ্টির মাধ্যমে, যা ইতঃপূর্বে দৃষ্টিগোচর হয় নি। এটি পৃথিবীপৃষ্ঠের সবকিছুকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিবে, যেমনটি কুরআন মাজিদে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।
📄 মু’জিজা : ১৫৬: পর্বতমালাার অন্তর্ধান
যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে—একটি ফুঁক। আর জমিন ও পর্বতমালাকে সরিয়ে নেয়া হবে এবং মাত্র একটি আঘাতে এগুলি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। (আলহাক্কাহ, ৬৯ : ১৩-১৪)
আর তারা তোমাকে পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। বল, ‘আমার রব এগুলিকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন। তারপর তিনি তাকে (পৃথিবীকে) মসৃণ সমতলভূমি করে দিবেন। তাতে তুমি কোনো বক্রতা ও উচ্চতা দেখবে না। (ত্বা-হা, ২০ : ১০৫-১০৭)
মাধ্যাকর্ষণশক্তি পর্বতমালাকে বর্তমানে পৃথিবীপৃষ্ঠের সঙ্গে ধারণ করে আছে এবং সেগুলিকে বর্তমান রূপ দান করেছে। এক সময় মাধ্যাকর্ষণশক্তি পরিবর্তিত হয়ে যাবে। এটি অবশ্যম্ভাবী যে, পর্বতগুলি তাদের স্বরূপ হারিয়ে ফেলবে এবং বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, শেষ বিচারের দিনে মাধ্যাকর্ষণশক্তির রূপান্তরিত অবস্থা আক্ষরিক অর্থে ভূপৃষ্ঠের সবকিছুকে বিদীর্ণ করে দিবে। ভূমি ও পর্বতমালা হঠাৎ করেই ওপরের দিকে অপসারিত হবে এবং একটি মাত্র আঘাতে নিচে নেমে আসবে। পর্বতসমূহ তখন ধুলিকণায় পরিণত হবে এবং অদৃশ্য হয়ে যাবে। এই ঘটনা দু’টিই কুরআন মাজিদের আয়াতে পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। সকল প্রশংসা ও মহিমা জ্ঞানময় আল্লাহ তাআলার জন্য। কুরআন মাজিদ যা চৌদ্দশ বছর পূর্বে বর্ণনা করেছে, বিজ্ঞানীরা এখন তারই ভবিষ্যৎবাণী করছেন।
📄 মু’জিজা : ১৫৭: ভূ-গর্ভ শূন্য হয়ে যাওয়া
আর যখন জমিনকে সম্প্রসারিত করা হবে। আর তার মধ্যে যা রয়েছে তা নিক্ষেপ করবে এবং খালি হয়ে যাবে। (ইনশিকাক, ৮৪ : ০৩-০৪)
যখন প্রচণ্ড কম্পনে জমিন প্রকম্পিত হবে। আর জমিন তার বোঝা বের করে দেবে। আর মানুষ বলবে, ‘এর কী হল?’ সেদিন জমিন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। (যিলযাল, ৯৯ : ০১-০৪)
এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন মাধ্যাকর্ষণশক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উল্টে যাবে। যেমনটি ইতঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, জ্যোতির্বস্তুবিদরা বিশ্বাস করেন, মাধ্যাকর্ষণশক্তির এমন একটি পরিবর্তন আসা সুনিশ্চিত, তা কিছু আগে হোক বা পরে। মাধ্যাকর্ষণশক্তির এই পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী তার অভ্যন্তরস্থ সকল বস্তু বাইরে নিক্ষেপ করে বহির্দিকে সম্প্রসারিত হবে। এটি যেমনটি কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে, পৃথিবীকে তার অভ্যন্তরস্থ অংশকে খালি করে দেয়ার দিকে পরিচালিত করবে। যখন পৃথিবী তার উদরকে খালি করে দেবে, তখন তা তাঁর মধ্যে দাফনকৃত সব বস্তুকেই বাইরে নিক্ষেপ করবে। এটা হবে কবর থেকে মৃতদের পুনরুত্থান, যেমনটি কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে।
📄 মু’জিজা : ১৫৮: কবর থেকে মৃতদেহর উত্থান
সেদিন আমি আসমানসমূহকে গুটিয়ে নেব, যেভাবে গুটিয়ে রাখা হয় লিখিত দলিল-পত্রাদি। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব। (আম্বিয়া, ২১ : ১০৪)
লিখিত কাগজ গুটানোর মত করে আসমানসমূহকে গুটানোর বিষয়টি হবে বিচার দিবসে সময়ের সংকোচনের প্রভাব। প্রকৃতিতে সকল বস্তুই পশ্চাত দিকে আবর্তিত হবে, একটি বইয়ের পৃষ্ঠাগুলি পশ্চাত দিকে গুটিয়ে যাওয়ার মত করে। অধিকন্তু সময়ের চক্রাবর্তের ফলে মানুষেরা তাদের কবর থেকে উত্থিত হবে এবং পুনরুজ্জীবন লাভ করবে। সম্ভবত এটিই আয়াতে উল্লিখিত সৃষ্টির পুনরাবৃত্তি।