📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ১৫২: নক্ষত্রের পতন

📄 মু’জিজা : ১৫২: নক্ষত্রের পতন


(তখন তোমরা কী করবে) যখন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে, অতঃপর তা রক্তিম গোলাপের ন্যায় লাল চামড়ার মত হবে। (রহমান, ৫৫ : ৩৭)

‘নাসা’ সম্প্রতি আসমানসমূহের একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ছবি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী ব্যক্তিগণ ‘নাসা’ থেকে এই ছবিটি সংগ্রহ করতে পারেন। এর নামকরণ করা হয়েছে Cats Eye Nebula (বিড়াল চক্ষু নীহারিকা)। নাসা এই চিত্রটি ধারণ করে ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ তারিখে। এর অফিসিয়াল সংকেত হল ‘NGC 6543’। এই ছবিটি দেখতে লাল গোলাপের পাপড়ির মত। এই আয়াতে কুরআন মাজিদ বলে, এমন একদিন আসবে যখন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। এবং তা গোলাপের মত লাল বস্তুতে পরিণত হবে। নাসা’র মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলেন, এই চিত্রটি একটি নক্ষত্রের মুত্যু ও ধ্বংসের চিত্র প্রদর্শন কিংবা প্রতিনিধিত্ব করে যা আসমানে সংঘটিত হয়েছে তিন হাজার আলোক বর্ষের দূরত্বে। কুরআন মাজিদ কিভাবে আজ থেকে শত শত বছর পূর্বে একথা বলতে পারল যে, যখন মহাবিশ্বে একটি নক্ষত্র সশব্দে বিদীর্ণ হবে, যা দেখতে একটি গোলাপের লাল পাপড়ির মত দেখাবে- তা সর্বজ্ঞাতা, জ্ঞানময় প্রভু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতরণ ব্যতিরেকে হতে পারে না।
তাঁর সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে যে, মহাবিশ্ব নিয়ত সম্প্রসারণশীল অবস্থায় রয়েছে। একদল বিজ্ঞানী অসংখ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা পোষণ করেন যে, এই সম্প্রসারণ একদিন থেমে যাবে এবং সংকোচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। মহাবিশ্ব তখন একটি বেলুনের মত সংকুচিত হবে এবং কুঁচকে যাবে। সকল গ্রহ-উপগ্রহ যা বর্তমানে মহাকাশে পরস্পর বহুদূরে এবং ইতস্তত বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে সেগুলি খুব নিকটে চলে আসবে একটি বেলুনের উপরিভাগের বিন্দুসমূহের মত করে। যেহেতু সংকোচন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, ফলে গ্রহ-উপগ্রহের বিভিন্ন দল পরস্পর সংযুক্ত হয়ে যাবে এবং একটির সঙ্গে আরেকটির ধাক্কা লেগে সশব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আরও অধিক লাল গোলাপী চিহ্নের সৃষ্টি করবে। শেষের দিকে পুরো মহাবিশ্বই লাল গোলাপের পাপড়ির মত দেখাবে। (আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন) এটি হতে পারে কিয়ামত দিবস এবং পৃথিবীর সমাপ্তি। তবে এই আয়াতে মহাকাশে নক্ষত্রের বিস্ফোরণ ও মৃত্যু’র একটি স্বচ্ছ বৈজ্ঞানিক উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে এবং তেমনিভাবে কিয়ামতের দিবসে এই পৃথিবীর পরিসমাপ্তির বিষয়টিও পরিষ্কার হয়েছে। আরও উল্লেখ্য যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশে অসংখ্য লাল গোলাপী চিহ্নের প্রমাণ পেয়েছেন, এসব কিছু পূর্বেকার নক্ষত্রসমূহের মৃত্যুর কথাই ব্যক্ত করে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ১৫৩: কিয়ামত দিবসের সুনির্দিষ্ট সময়

📄 মু’জিজা : ১৫৩: কিয়ামত দিবসের সুনির্দিষ্ট সময়


তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে, ‘তা কখন ঘটবে?’ তুমি বল, ‘এর জ্ঞান তো রয়েছে আমার রবের নিকট। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। (আরাফ, ০৭ : ১৮৭)
কিয়ামত নিকটবর্তী। আল্লাহ ছাড়া কেহ তা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়। (নাজম, ৫৩ : ৫৭-৫৮)

মহাবিশ্ব বর্তমানে সম্প্রসারণশীল অবস্থায় আছে। কেহ জানে না কিংবা ধারণা করতে পারে না কখন এই সম্প্রসারণ ও বিস্তৃতি বন্ধ হবে এবং সংকোচন শুরু হবে। এর অর্থ হল, কেহ কখনো ভবিষ্যৎবাণী করতে পারবে না কিংবা জানতে পারবে না, কিয়ামত দিবস কখন শুরু হবে। কেবল সৃষ্টিকর্তা ও এই মহাবিশ্বের প্রভু আল্লাহ তাআলাই এই মহাবিশ্বের সংকোচনের সময় সম্পর্কে জানেন এবং কিয়ামত দিবসের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অবহিত আছেন। এটি মানবজাতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ যা কুরআন মাজিদ এই আয়াতে ঘোষণা করেছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ১৫৪: কবরে অবস্থানের সময়কাল

📄 মু’জিজা : ১৫৪: কবরে অবস্থানের সময়কাল


আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্র করবেন। যেন তারা দিবসের মুহূর্তকালমাত্র অবস্থান করেছে (কবরের মধ্যে)। (ইউনুস, ১০ : ৪৬)
আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে সেদিন অপরাধীরা কসম করে বলবে যে, তারা (কবরে) মুহূর্তকালের বেশি অবস্থান করে নি। এভাবেই তারা সত্যবিমুখ থেকেছে। (রূম, ৩০ : ৫৫-৫৬)

কুরআন মাজিদ জীবনকে চৈতন্য এবং মৃত্যুকে নিদ্রা বলে ব্যক্ত করেছে। মৃত্যু যখন আমাদেরকে একবার গ্রাস করে, তখন কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থান পর্যন্ত আমাদের কোনো সময়-জ্ঞান থাকবে না। এ থেকে বুঝা যায়, যখন মানুষ কবর থেকে উত্থিত হবে তখন তাদের কবরে অবস্থানের সময়কাল সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকবে না। যদিও তারা সেখানে শত শত বছর অবস্থান করবে, তথাপি তারা চিন্তা করবে, তারা সেখানে এক ঘন্টা কিংবা সেরকম কিছু সময় অবস্থান করেছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ১৫৫: বিপর্যয়কারী ভূমিকম্প

📄 মু’জিজা : ১৫৫: বিপর্যয়কারী ভূমিকম্প


যখন পৃথিবী প্রকম্পিত হবে (চূড়ান্ত) প্রচণ্ড কম্পনে। (যিলযাল, ৯৯ : ০১)
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। (হজ্জ, ২২ : ০১)

কুরআন মাজিদ আরও কিছু আয়াতে বলে, পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে একটি প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পের মাধ্যমে। যার ফলে পৃথিবীর উপরিভাগের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা মাধ্যাকর্ষণশক্তির জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের একটি প্রলয়ংকারী ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাখ্যা দিতে পারি এবং তার অনুমানও করতে পারি। এটি সর্বজনস্বীকৃত বিষয় যে, সময় ও উচ্চতার সামান্য ব্যবধানের কারণে মাধ্যাকর্ষণশক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ওপরে উঠার সঙ্গে সঙ্গে সময়ও কিছুটা দ্রুততার সঙ্গে অতিক্রান্ত হতে থাকে। সময়ের এই ব্যবধান চাই তা যত সূক্ষ্মই হোক না কেন, আণবিক ঘড়ির সহায়তায় পরিমাপ করা যায়। যখন অবশেষে এই মহাবিশ্ব সংকোচনের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, জ্যোতির্বস্তুবিদদের মতে, আগে হোক কিংবা পরে, একটা ঘটনা সংঘটিত হবে। সময়ের আবর্তনও উল্টে যাবে। তা মাধ্যাকর্ষণশক্তিকে একটি বিপরীত অবস্থায় নিয়ে যাবে। ফলে ভূপৃষ্ঠের সকল বস্তু লন্ডভন্ড হয়ে যাবে, এমন একটি ভূমিকম্প সৃষ্টির মাধ্যমে, যা ইতঃপূর্বে দৃষ্টিগোচর হয় নি। এটি পৃথিবীপৃষ্ঠের সবকিছুকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিবে, যেমনটি কুরআন মাজিদে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00