📄 মু’জিজা নং- ১৪৩: কুরআন মাজিদের সন্দেহের একটি ছায়া খুঁজে দেখাও
এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের (যারা আল্লাহর প্রতি তাদের করণীয়সমূহ সম্পর্কে সচেতন তাদের) জন্য হেদায়াত। (বাকারা, ০২ : ০২)
আর আমি আমার বান্দার ওপর (কুরআন মাজিদ) বিভিন্ন সময়ে যা নাজিল করেছি যদি তোমরা সে সম্পর্কে সন্দেহে থাক তবে তোমরা তার মত একটি ‘সুরা’ নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীসমূহকে ডাক; যদি তোমরা (তোমাদের সন্দেহের ক্ষেত্রে) সত্যবাদী হও। (বাকারা, ০২ : ২৩)
এই কুরআন তো এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেহ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি যা (যে ওহি) তার সামনে, তার সত্যায়ন এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে। (ইউনুস, ১০ : ৩৭)
এ কিতাব সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নাই। (সাজদাহ, ৩২ : ০২)
লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, এই আয়াতগুলি কাফিরদেরকে কুরআন মাজিদের ভুল-ত্রুটি, অসঙ্গতি কিংবা অনৈক্য খুঁজে বের করতে বলে না, বরং কুরআন মাজিদে একটি সাধারণ সন্দেহের ছায়া খুঁজে বের করতে বলে। মানব ইতিহাসে এমন কোনো বইয়ের নজির নেই যার লেখক এই দাবি করতে পেরেছেন। কুরআন মাজিদই একমাত্র গ্রন্থ যা এই দাবি করেছে।
এখন আমরা সেসব বিবিধ সন্দেহের বিশ্লেষণ করি যা কোনো বই সম্পর্কে একজন মানুষের হতে পারে। তা এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত, রচিত বা প্রচারিত হতে পারে, যিনি মানব সমাজে অপরিচিত কিংবা তা এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত, রচিত বা প্রচারিত হতে পারে, যার চরিত্র, আচরণ কিংবা ন্যায়পরায়ণতা সন্দেহপূর্ণ। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন ইতিহাসের এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা যে, তাঁর জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ পর্যন্ত সংরক্ষিত, লিখিত এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়ে এসেছে। বস্তুত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই মানব ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যাঁর জীবন বৃত্তান্ত বিগত চৌদ্দশ বছরের প্রত্যেক যুগের মুসলমানরাই লিপিবদ্ধ করেছে। অধিকন্তু এ সকল বিবরণ এতই ব্যাপক যে, তারা কেবল তাঁর জীবন-বৃত্তান্ত লিখেই ক্ষান্ত হয় নি, বরং তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, সামাজিক সম্পর্ক, আদান-প্রদান, কথা বলার ধরন, হাঁটা-চলা, নিদ্রা যাওয়া, প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং তাঁর দেহাবয়বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ের ওপরও আলোকপাত করেছে। যেমন- তাঁর দাড়িতে শুভ্র চুলের পরিমাণ কত ইত্যাদি। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চরিত্র-বৈশিষ্ট্য, আচার-আচরণ ও ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, মক্কায় তাঁর ঘোর শত্রুরাও তাঁকে ‘সিদ্দিক’ (সত্যবাদী) এবং ‘আল-আমিন’ (বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন-ইতিহাস, চারিত্রিক ন্যায়পরায়ণতা ও আচার-আচরণ সম্পর্কিত বাস্তব ঘটনাবলি এমন নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের পর সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো সংশয় থাকতে পারে না যিনি মানব জাতির কাছে কুরআনের বাণী প্রচার করেছেন। তিনি ইতিহাসের এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বই নন, বরং একজন প্রখ্যাত ও স্বতঃসিদ্ধ সত্যের প্রচারক। অতএব এ থেকে বুঝা যায়, কুরআন মাজিদের উৎসের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ নেই।
দ্বিতীয় প্রকার সন্দেহ, যা একটি গ্রন্থে সৃষ্টি হতে পারে তা, তার অন্তর্নিহিত সঙ্গতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যদি একটি গ্রন্থের কিছু বর্ণনা অন্য বর্ণনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা একটি গ্রন্থের অন্তর্নিহিত সঙ্গতি কিংবা সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে। পুরো কুরআন মাজিদে ৬,২৩৬টি আয়াত এবং ৮৬,৪৩২টি শব্দ রয়েছে।
তথাপি কুরআন মাজিদের একটি সাধারণ আয়াত, প্রবাদ-প্রবচন, বাগধারা কিংবা শব্দ অন্য অংশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। পক্ষান্তরে প্রত্যেকটি আয়াত ও শব্দ সমগ্র কুরআন মাজিদের টেক্সটের সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাঠক এই বিষয়টি সহজে বুঝতে পারবেন, যদি বর্তমান বাইবেল সম্পর্কে কেবল দু’টি উদ্ধৃতি দেয়া হয়। প্রোটেস্টেন্ট খ্রিস্টানদের বাইবেলের কপিতে বই সংখ্যা ৬৬টি, যার মধ্যে ৩৯টি বই পুরাতন সমাচার থেকে এবং ২৭টি বই নতুন সমাচার থেকে। অপরপক্ষে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের বাইবেলের কপিতে বই সংখ্যা ৭৩টি; ৬৬টি বই প্রোটেস্টেন্ট খ্রিস্টানদের কপি থেকে এবং ৬টি অতিরিক্ত বই যেগুলি Apocrypha (অ্যাপোক্রাইফা) নামে পরিচিত।
বাইবেলের এই দুই ধরনের ভার্সনের অস্তিত্ব থাকার কারণে পুরো বাইবেলের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সুস্পষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন জাগে গ্রন্থটির কোন ভার্সনটি গ্রহণ করা যাবে, প্রোটেস্টেন্ট ভার্সন না ক্যাথলিক ভার্সন? বাইবেলের একটি বিস্ময়কর অসঙ্গতি হল, এটি যীশু খ্রিস্টের (ঈসা আলাইহিস সালাম-এর) দু’টি ভিন্ন ভিন্ন বংশ তালিকা প্রদান করে। বাইবেল অনুসারে, তাঁর একজন পূর্বপুরুষের নাম হল যোসেফ। মেথিউ ১ : ১-৭ অনুসারে যোসেফের পিতার নাম জ্যাকব। পক্ষান্তরে লুক ৩ : ২৩ অনুসারে যোসেফের পিতার নাম হেলি।
আল হামদুলিল্লাহ। কুরআন মাজিদের কেবল একটি ভার্সনই সদা বিদ্যমান থেকেছে এবং এর টেক্সটও সবধরনের অসঙ্গতিরহিত। সেহেতু সন্দেহের দ্বিতীয় রূপ অর্থাৎ গ্রন্থের অভ্যন্তরীণ সঙ্গতি ও সামঞ্জস্য অনুসারেও কুরআন মাজিদে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই।
একটি গ্রন্থে তৃতীয় প্রকার যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় তা তার বাহ্যিক সঙ্গতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তার অর্থ, গ্রন্থটিতে এমন কোনো বর্ণনা থাকবে না, যা গ্রন্থটির বাইরের জগতের স্বতঃসিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। विगत পৃষ্ঠাগুলি তার কিছু নমুনা প্রদান করে যে, কুরআন মাজিদের বর্ণনা শরীরবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, ভ্রূণবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, ব্যবচ্ছেদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়সহ কোনো মানবজ্ঞান জগতের সঙ্গেই অসঙ্গতি রাখে না। অধিকন্তু কুরআন মजिद মানব জ্ঞানের সকল স্তর থেকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা রাখে, চাই তা প্রাচীন, সাম্প্রতিক কিংবা অতি সাম্প্রতিকই হোক না কেন।
এভাবে কুরআন মजिद বাহ্যিক সঙ্গতির পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ। কোনো মানুষই এমন কোনো গ্রন্থ রচনা করতে পারে নি যা চিরকাল বাহ্যিক সঙ্গতির বিষয়টি রক্ষা করতে পেরেছে। প্রত্যেক বই-ই সময়ের সঙ্গে একটি ধাপ পেরিয়ে গেলে সেকেলে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে। কুরআন মাজিদই একমাত্র গ্রন্থ যা সফলতার সঙ্গে বিগত চৌদ্দশ বছর যাবৎ বাহ্যিক সঙ্গতির চ্যালেঞ্জ মুকাবিলা করেছে। মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞাতা আল্লাহ তাআলাই এমন একটি গ্রন্থ অবতীর্ণ করতে পারেন, যা এমন সর্বব্যাপী জ্ঞান ধারণ করে যা সকল যুগের মানুষের জ্ঞানকে পরিব্যাপ্ত করে এবং সকল জ্ঞান জগতের ওপর নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব রাখে।
📄 মু’জিজা : ১৪৪: কুরআন মাজিদের মত একটি গ্রন্থ নিয়ে আস
বল, যদি মানুষ ও জ্বিন এ কুরআনের অনুরূপ হাজির করার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ হাজির করতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। (ইসরা, ১৭ : ৮৮)
এই আয়াতটি সমগ্র মানব ও জ্বিন জাতিকে এ মর্মে চ্যালেঞ্জ করে যে, তারা পারলে কুরআন মাজিদের মত একটি গ্রন্থ তৈরি করে নিয়ে আসুক। পাশাপাশি এও বর্ণিত হয়েছে যে, কুরআন মাজিদের মত একটি গ্রন্থ তৈরি করতে কেহ কখনো সক্ষম হবে না। বাস্তবতা হল, এমনকি, এ পর্যন্ত কেহ কুরআন মাজিদের মত একটি গ্রন্থ রচনা করার চেষ্টা পর্যন্ত করে নি, যা কুরআন মजिद আল্লাহ তাআলা কর্তৃক অবতীর্ণ আসমানি গ্রন্থ হওয়ার ব্যাপারে আরও একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। স্মরণ করে নেয়া ভাল যে, খ্রিস্টানরা বাইবেলের প্রচুর সংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন ভার্সন তৈরি করেছে। কিন্তু কেহ কখনো কুরআন মাজিদের, এমনকি, একটি দ্বিতীয় ভার্সন পর্যন্ত প্রস্তুত করে, দেখায় নি।
📄 মু’জিজা : ১৪৫: কুরআন মাজিদের মত একটি সূরা নিয়ে আস
এ কুরআন তো এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেহ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি, যা তাঁর সামনে রয়েছে, তাঁর সত্যায়ন এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যাতে কোনো সন্দেহ নাই, যা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে। নাকি তারা বলে, ‘সে তা বানিয়েছে?’ বল, তবে তোমরা তার মত একটি সূরা (বানিয়ে) নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো (তোমাদের সাহায্যের জন্য) ডাক, যদি তোমরা (তোমাদের সন্দেহের ক্ষেত্রে) সত্য হয়ে থাক। (ইউনুস, ১০ : ৩৭-৩৮)
আয়াতদ্বয় সমগ্র মানব সমাজের জন্য একটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। আয়াতগুলি পরিষ্কার ভাষায় বলছে, কুরআন মাজিদ এমন একটি গ্রন্থ যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কেহ রচনা করতে পারে না। অতঃপর বলে, যদি কেহ ধারণা করে এটি একজন মানুষ কর্তৃক রচিত গ্রন্থ সে যেন নিদেনপক্ষে কুরআন মাজিদের মত একটি সুরা তৈরি করে নিয়ে আসে। বাস্তবতা হল, এ যাবৎ কেহ একটি সুরাও তৈরি করতে সক্ষম হয় নি, যা কুরআন মাজিদের কোনো সুরার অনুরূপ হতে পারে। আমরা এখানে একটি ঘটনার কথা স্মরণ করি, যা তৎকালীন আরব সমাজ কুরআন মাজিদের এই চ্যালেঞ্জকে কিভাবে গ্রহণ করেছিল, তার চিত্র তুলে ধরবে।
কুরআন মাজিদের সর্বকনিষ্ঠ সুরা হল আল-কাউসার (১০৮)। এতে কেবল ছোট ছোট তিনটি আয়াত রয়েছে, যা কেবল একটি সাধারণ সারিতে লেখা যেতে পারে। ঐতিহাসিকগণ বলেন, যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘোর শত্রু আবু জেহেল এই সুরা শুনতে পেল সে এতই অভিভূত হয়ে পড়েছিল যে, সে বিস্মিত কন্ঠে বলে উঠল, ‘সকল মহিমা প্রভুর জন্য!’ উল্লেখ্য যে, আরবরা ছিল খুবই কাব্যানুরাগী। আর কবিতা প্রতিযোগিতা ছিল তাদের সামাজিক অনুষ্ঠান-সমাবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঐতিহাসিকগণ লিখেন, বহুদিন যাবৎ সাতটি আরবি কবিতা তৎকালীন আরবি সাহিত্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃত ছিল। এই কবিতাগুলি পৃথক পৃথকভাবে কাগজের টুকরায় লিখে কাবা শরিফের প্রধান দরজায় ঝুলানো ছিল। ইতিহাসের গ্রন্থে সেগুলি ‘সাবআ মুআল্লাকাত’ বা ঝুলন্ত সপ্তক নামে খ্যাত।
যখন সুরা কাউসার অবতীর্ণ হয় তখন এসব কবিতার লেখকদের মধ্যে একজন ব্যতীত সবাই মৃত্যুবরণ করে। আবু জেহেল একটি কাগজের টুকরায় সুরা কাউসার লিপিবদ্ধ করে এবং তা একমাত্র জীবিত কবির কাছে নিয়ে যায়। যখন কবি সুরা কাউসার পড়ল, সে বিস্ময়ে ফেটে পড়ল এবং বলল, ‘সকল মহিমা প্রভুর জন্য! এটি কোনো মানুষের কথা হতে পারে না।’ সে তখন কাবা শরিফে গেল, নিজের কবিতার টুকরা সেখান থেকে সরিয়ে ফেলল এবং সেখানে সুরা কাউসার লিখিত কাগজটি ঝুলিয়ে দিল। এমনও বর্ণিত আছে যে, সুরা কাউসারের শেষ তৃতীয় আয়াত অর্থাৎ ‘ইন্না আতাইনাকাল কাউসার’-এর নিচে সে একটি ছন্দপূর্ণ লাইন যোগ করে দেয়- ‘মা হাযা কালামুল বাশার’। অর্থাৎ এটি কোনো মানুষের কথা নয়।
📄 মু’জিজা : ১৪৬: কুরআন মাজিদের মত দশটি সূরা রচনা করে নিয়ে আস
নাকি তারা বলে, সে এটি রটনা করেছে? বল, ‘তাহলে তোমরা নিদেনপক্ষে দশটি সুরা বানিয়ে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার (তোমাদের সাহায্যের জন্য) ডেকে নিয়ে আস, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (হূদ, ১১ : ১৩)
আমরা এ ক্ষেত্রে মুসলমান ও কুরআনের বিপক্ষে মক্কাবাসীদের বিদ্বেষ ও শত্রুতার কথা একটু স্মরণ করি। এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, কুরআন নাজিলের সময় সকল আরব, বিশেষত যারা মক্কায় ছিল, কুরআনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। তারা কুরআনের বাণীকে মিটিয়ে দিতে এবং মুসলমানদেরকে সমূলে উৎখাত করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যায়। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথী-সঙ্গীগণসহ মদিনায় হিজরত করা পর্যন্ত তাদের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকে। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরুদ্ধে কতিপয় যুদ্ধেও লিপ্ত হয়। এতে তাদের কিছু পরাজয়, অপমান ও জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি গুণতে হয়। তারা তাদের একজন কবিকে ডেকে কুরআন মাজিদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কুরআন মাজিদের মত কিছু আয়াত রচনা করিয়ে নিলে এসকল ভোগান্তি এবং জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি সহজে এড়াতে পারত। তবে বাস্তবতা হল, আরবরা কুরআন মাজিদের চ্যালেঞ্জের মুকাবিলা করতে সক্ষম হয় নি, না এর অবতরনকালে, আর না বিগত চৌদ্দশ বছরের দীর্ঘ সময়ে।