📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১৪০: মানব-জাতির রিযিকের বন্দোবস্ত

📄 মু’জিজা নং- ১৪০: মানব-জাতির রিযিকের বন্দোবস্ত


দারিদ্রের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা কর না। আমিই তোমাদেরকে রিযিক দেই এবং তাদেরকেও। (আনআম, ০৬ : ১৫১)
অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা কর না। আমিই তাদেরকে রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদের হত্যা করা মহাপাপ। (ইসরা, ১৭ : ৩১)

১৭৯৮ ঈসায়ি সালে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ রবার্ট ম্যালথাস জনসংখ্যানীতির ওপর তাঁর প্রসিদ্ধ প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, মানুষ বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে, কিন্তু সম্পদ বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে। অর্থাৎ জনসংখ্যা বাড়ে ১, ২, ৪ ও ৮ হারে। কিন্তু সম্পদ বাড়ে শতকরা ৩, ৫ কিংবা ১০ হারে। তিনি বলেন, অল্প কয়েক বছরের মধ্যে জনসংখ্যা দাঁড়াবে দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ। কিন্তু সম্পদ বৃদ্ধি পাবে কেবল একটি নির্দিষ্ট মাত্রার শতকরা হারে। এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেন যে, যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে পৃথিবীতে প্রবল খাদ্যাভাব দেখা দিবে। সকল শিল্পোন্নত দেশই বর্তমানে ম্যালথাসের তত্ত্বকে অনুসরণ করছে এবং তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এই অবস্থা ঠিক তেমনি যেমনটি কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে আরব সমাজে ছিল। আরবরা তাদের কন্যা সন্তানদের হত্যা করত। মানুষ বর্তমানে হত্যা করছে না, কিন্তু দারিদ্রের ভয়ে শিশুর জন্ম নিয়ন্ত্রণ করছে। ম্যালথাসের তত্ত্ব ও মানুষের ভয়ের বিপরীতে আল্লাহ তাআলা আছেন এবং মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করছেন। সন্দেহ নেই আফ্রিকার কোনো কোনো অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব কিছুই ঘটেছে কিছু দায়িত্ব-জ্ঞানহীন মানুষের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে। পুরো মানব সমাজ কোনো গণদুর্ভিক্ষে পতিত হয় নি কিংবা প্রত্যক্ষ করে নি, যা কুরআন মাজিদের একটি ভবিষ্যৎবাণী।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১৪১: মহানবী সা.- এর মক্কা প্রত্যাবর্তন

📄 মু’জিজা নং- ১৪১: মহানবী সা.- এর মক্কা প্রত্যাবর্তন


নিশ্চয় যিনি তোমার প্রতি কুরআনকে বিধান স্বরূপ দিয়েছেন, অবশ্যই তিনি তোমাকে প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরিয়ে নেবেন। বল, আমার রব বেশি জানেন কে হিদায়াত নিয়ে এসেছে আর কে রয়েছে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায়। (কাসাস, ২৮ : ৮৫)

আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলি তাঁর কুরআনের তাফসিরে লিখেছেন, প্রত্যাবর্তন স্থলের দু’টি অর্থ রয়েছে। প্রথমত, এটি মক্কা শহরের একটি উপাধি। দ্বিতীয়ত, এটি সেই উপলক্ষকে নির্দেশ করে যখন আমরা সকলে আমাদের পালনকর্তার সামনে সমবেত হব। তিনি আরও বলেন, এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের প্রাক্কালে ‘জুহফা’ নামক স্থানে। যা মক্কা থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকৃতিগতভাবেই মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে যেতে কষ্ট অনুভব করছিলেন। এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল তাঁকে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সান্ত্বনা দিতে। এই ভবিষ্যৎবাণী বাস্তবায়িত হয় আট বছরের মধ্যে এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজেতার বেশে মক্কা প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেন।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১৪২: মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খ্যাতি ও মর্যাদা

📄 মু’জিজা নং- ১৪২: মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খ্যাতি ও মর্যাদা


আমি কি তোমার জন্য তোমার বক্ষ প্রশস্ত করি নি? আর আমি নামিয়ে দিয়েছি তোমার থেকে তোমার বোঝা, যা তোমার পিঠ ভেঙে দিচ্ছিল। আর আমি তোমার (মর্যাদার) জন্য তোমার স্মরণকে সমুন্নত করেছি। (ইনশিরাহ ০৯ : ১-৪)

এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মাক্কি জীবনের প্রথম দিকে, যখন তিনি ছিলেন এমন দুর্বল ও কঠিন পরিস্থিতিতে যে, তিনি শহরের মধ্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা, ইসলাম প্রচার কিংবা নামাজ আদায় পর্যন্ত করতে পারতেন না। এমন প্রেক্ষাপটে কুরআন মাজিদ বলে, তাঁর নাম সমুন্নত হয়েছে মহা সম্মানে। এই ভবিষ্যৎবাণী কিভাবে পূর্ণতা লাভ করেছিল তা দেখার জন্য আবশ্যক হল, সেসব উপায়-উপকরণের প্রতি লক্ষ করা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যশ-খ্যাতি ও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন।
প্রথমত. ‘মুহাম্মদ’ হল বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় নাম। মুসলমানদের নামের শুরুতে, মাঝখানে কিংবা শেষে মুহাম্মদ শব্দ থাকাটা তাদের একটি অতি সাধারণ রীতি। এটি একটি অনুপম মর্যাদা যা আল্লাহ তাআলা কেবল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রদান করেছেন। লক্ষ লক্ষ মুসলমান সর্বদা এই নামটি বহন করে চলে। যা সারা বিশ্বে এই নামটিকে সর্বাধিক পরিচিতি ও সর্বাপেক্ষা পুনরাবৃত্ত নামের মর্যাদা দান করেছে।
দ্বিতীয়ত. মুসলমানরা জ্ঞানের একটি নতুন শাখার সূচনা করেছে, যা ছিল মানুষের অজ্ঞাত। এ শাখাটি সিরাত নামে পরিচিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন বৃত্তান্ত রচনার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত। মুসলমানদের প্রতিটি প্রজন্ম ‘সিরাত’ রচনার ক্ষেত্রে একেকটি নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনী লেখার ধারা অব্যাহত রাখে।
তৃতীয়ত. মুসলমানরা সাহিত্যের একটি নতুন ধারাও শুরু করেছে, যা অদ্যাবধি মানুষের অজানা, এটি না’ত নামে পরিচিত। এটি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কবিতা রচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতি বছরই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে না’ত সম্পর্কিত অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়।
চতুর্থত. আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামকে ইসলামের মূল কালিমার একটি সম্পূর্ণ অংশ করেছেন। অর্থাৎ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল)। প্রত্যেক আমলদার মুসলমানই এই কালিমা তাদের জীবনের প্রাত্যহিক রুটিন হিসেবে বারবার উচ্চারণ করে। এভাবে অসংখ্য মানুষ তাদের জীবনের প্রতিটি দিন অসংখ্যবার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম উচ্চারণ করে থাকে।
পঞ্চমত. আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন। অসংখ্য মানুষ তা সম্পাদন করে এবং এভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম উচ্চারণ করে এবং তাদের প্রাত্যহিক জীবনে তাঁর গুণগান করে।
ষষ্ঠত. আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামকে আযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ করেছেন, যা প্রতিদিন পাঁচবার করে পৃথিবীর প্রতিটি মসজিদ থেকে ধ্বনিত হয়। সেহেতু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামও সারা বিশ্বে দৈনিক পাঁচবার উচ্চারিত হয়। অধিকন্তু যদি কেহ ভূগোলকের দিকে লক্ষ করে তবে দেখতে পাবে, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সবসময় কোনো না কোনো নামাজের ও আযানের সময় বিরাজ করে। এভাবে দিন-রাতের চক্রাবর্তের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে এমন কোনো ঘন্টা অতিক্রান্ত হয় না, যখন পৃথিবীর কোথাও না কোথাও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম উচ্চারিত হয় না। এ কথাকেই কুরআন মাজিদে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- ‘আর আমি তোমার (মর্যাদার) জন্য তোমার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’
পূর্বোক্ত পৃষ্ঠা‍সমূহ কুরআন মাজিদের বহু ভবিষ্যৎবাণীর বর্ণনা দেয়। এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কোনো মানুষই এমন জ্ঞানের অধিকারী হতে পারে না যা কুরআন মাজিদের এসব ভবিষ্যৎবাণী ধারণ করবে। একজন মানুষ কিছু সঠিক অনুমান তৈরি করতে পারে। কিন্তু কুরআন মাজিদের ভবিষ্যৎবাণীর বৈচিত্র্যময়তা ও গুণগত মান পরিষ্কার সাক্ষ্য বহন করে যে, একমাত্র আল্লাহ তাআলাই কুরআন মাজিদের জ্ঞানের উৎস।
এটা লক্ষ করা ও পর্যবেক্ষণ করা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, কুরআন মাজিদ দুই ধরনের ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করে। কিছু ভবিষ্যৎবাণী নির্দিষ্ট ও স্বল্পস্থায়ী। কিন্তু অধিকাংশই সাধারণ ও দীর্ঘস্থায়ী। যদি কুরআন মাজিদ কেবল বিশেষ ও স্বল্পস্থায়ী ভবিষ্যৎবাণীসমূহ উল্লেখ করত, যেমন- আবু লাহাবের ধ্বংস সাধন, রোমকদের বিজয়, মদিনা থেকে ইহুদিদের উচ্ছেদ- তবে অবিশ্বাসী ও কাফিররা এগুলোকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ধারণা-অনুমান বলে আখ্যা দিতে পারত। যাহোক, কুরআন মাজিদ বহু সাধারণ ও দীর্ঘ মেয়াদী ভবিষ্যৎবাণীর উল্লেখ করে, যেমন মক্কার নিরাপত্তা, হজ্জের জন্য সফর, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ভূমিকা ইত্যাদি।
একজন সচেতন মানুষ ধারণা করতে পারে না যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সময় থেকে এত অগ্রসর হয়ে এসব বিষয় অনুমান করেছেন। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে এসব ভবিষ্যৎবাণী তাঁর নিদর্শন হিসেবে রেখেছেন যাতে মানুষ এসব বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে এবং তাঁর এই কিতাবকে তাদের জীবন পরিচালনার জন্য আসমানি নির্দেশিকা হিসেবে গ্রহণ করে।
‘নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন। যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে। কেহ তা স্পর্শ করবে না পবিত্রগণ ছাড়া। তা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাজিলকৃত। তবে কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ জ্ঞান করছ? আর তোমরা তোমাদের রিযিক বানিয়ে নিয়েছ যে, তোমরা মিথ্যা আরোপ করবে? সুতরাং কেন নয়, যখন রূহ কন্ঠদেশে পৌঁছে যায়। আর তোমরা তখন কেবল চেয়ে থাক। আর তোমাদের চাইতে আমি তাঁর খুব কাছে; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না। তোমাদের যদি প্রতিফল দেয়া না হয়, তাহলে তোমরা কেন ফিরিয়ে আনছ না রূহকে, যদি তোমরা (তোমাদের স্বাধীনতা ও কুরআন অমান্য করার ক্ষেত্রে) সত্যবাদী হও? (ওয়াকিয়া, ৫৬ : ৭৭-৮৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00