📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১৩৮: মক্কার জন্য ফল-ফলাদির যোগান

📄 মু’জিজা নং- ১৩৮: মক্কার জন্য ফল-ফলাদির যোগান


আমি কি তাদের জন্য (মক্কায়) এক নিরাপদ ‘হারাম’-এর সুব্যবস্থা করি নি? যেখানে সব ধরনের ফলমূল আনিত হয় আমার পক্ষ থেকে রিযিক স্বরূপ। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (কাসাস, ২৮ : ৫৭)

মক্কা কঠিন কঠিন শিলা ও বালিয়াড়ি বেষ্টিত একটি সম্পূর্ণ ঊষর ভূমি। শহরটিতে পানির কোনো প্রাকৃতিক উৎস নেই এবং তাতে বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ ৫ ইঞ্চিরও কম। পক্ষান্তরে বছরের প্রতিটি দিন মক্কায় অসংখ্য মানুষ ভ্রমণে আসে। কেবল এক হজ্জ মৌসুমে মক্কায় ভ্রমণকারীদের সংখ্যা দুই মিলিয়ন (২০ লক্ষ) ছাড়িয়ে যায়। মক্কায় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ থেকে ফলমূল ও শাক-সবজি আমদানির সর্বদা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। মক্কায় ভ্রমণকারী মাত্রেই দু’টি বিষয়ে বিস্মিত হবেন। প্রথমত, মক্কায় ভ্রমণকারীর পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তাতে ফলমূল ও শাক-সবজির কোনো ঘাটতি পড়ে না। দ্বিতীয়ত, সব ঋতুর ফলমূল ও শাক-সবজি মক্কায় সব সময় পাওয়া যায়।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১৩৯ : দলে দলে মানুষের ইসলামে প্রবেশ

📄 মু’জিজা নং- ১৩৯ : দলে দলে মানুষের ইসলামে প্রবেশ


যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে আর তুমি লোকদেরকে দলে দলে আল্লাহর দীনে দাখিল হতে দেখবে, তখন তুমি তোমার রবের সপ্রশংস তাসবিহ পাঠ কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী। (নাসর, ১১০ : ০১-০৩)

এই আয়াতসমূহ দু’টি ভিন্ন ভিন্ন ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করে, যা কিছুটা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। প্রথম : কুরআন মাজিদের বর্ণনা, ‘যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে’ এটি মুসলমানদের একটি সুস্পষ্ট বিজয়ের আগাম বার্তা। কুরআন মাজিদের টীকাকারগণ বলেন, এই আয়াত অবতীর্ণ হয় খায়বার যুদ্ধের পর ৭ম হিজরিতে। আর এই ভবিষ্যৎবাণীর বাস্তবায়ন ঘটে মক্কা বিজয় রূপে, ৮ম হিজরিতে। দ্বিতীয় ভবিষ্যৎবাণী পাওয়া যায় কুরআন মাজিদের এই বর্ণনায়- ‘তুমি লোকদেরকে দলে দলে আল্লাহর দীনে দাখিল হতে দেখবে।’ ইতিহাস বলে, যখন মুসলমানদের হাতে মক্কার পতন হয়, আরব উপদ্বীপের চতুর্দিক থেকে অসংখ্য আরব গোত্র মক্কায় আগমন করে এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর হাতে বায়আত হয়ে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করে। বস্তুত এত অধিক গোত্র মক্কায় আগমন করে ইসলাম গ্রহণ করে যে, ইসলামের ইতিহাসে হিজরি ৯ম সালকে ‘প্রতিনিধি আগমনের বছর’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। বাস্তবতা হল, কুরআন মাজিদের উপরোক্ত ভবিষ্যৎবাণী দুই বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে বাস্তবায়িত হয়। যা কুরআন মাজিদের মু’জিজা বা বিস্ময়কর প্রকৃতির অন্য একটি সাক্ষ্য।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১৪০: মানব-জাতির রিযিকের বন্দোবস্ত

📄 মু’জিজা নং- ১৪০: মানব-জাতির রিযিকের বন্দোবস্ত


দারিদ্রের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা কর না। আমিই তোমাদেরকে রিযিক দেই এবং তাদেরকেও। (আনআম, ০৬ : ১৫১)
অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা কর না। আমিই তাদেরকে রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদের হত্যা করা মহাপাপ। (ইসরা, ১৭ : ৩১)

১৭৯৮ ঈসায়ি সালে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ রবার্ট ম্যালথাস জনসংখ্যানীতির ওপর তাঁর প্রসিদ্ধ প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, মানুষ বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে, কিন্তু সম্পদ বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে। অর্থাৎ জনসংখ্যা বাড়ে ১, ২, ৪ ও ৮ হারে। কিন্তু সম্পদ বাড়ে শতকরা ৩, ৫ কিংবা ১০ হারে। তিনি বলেন, অল্প কয়েক বছরের মধ্যে জনসংখ্যা দাঁড়াবে দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ। কিন্তু সম্পদ বৃদ্ধি পাবে কেবল একটি নির্দিষ্ট মাত্রার শতকরা হারে। এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেন যে, যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে পৃথিবীতে প্রবল খাদ্যাভাব দেখা দিবে। সকল শিল্পোন্নত দেশই বর্তমানে ম্যালথাসের তত্ত্বকে অনুসরণ করছে এবং তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এই অবস্থা ঠিক তেমনি যেমনটি কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে আরব সমাজে ছিল। আরবরা তাদের কন্যা সন্তানদের হত্যা করত। মানুষ বর্তমানে হত্যা করছে না, কিন্তু দারিদ্রের ভয়ে শিশুর জন্ম নিয়ন্ত্রণ করছে। ম্যালথাসের তত্ত্ব ও মানুষের ভয়ের বিপরীতে আল্লাহ তাআলা আছেন এবং মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করছেন। সন্দেহ নেই আফ্রিকার কোনো কোনো অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব কিছুই ঘটেছে কিছু দায়িত্ব-জ্ঞানহীন মানুষের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে। পুরো মানব সমাজ কোনো গণদুর্ভিক্ষে পতিত হয় নি কিংবা প্রত্যক্ষ করে নি, যা কুরআন মাজিদের একটি ভবিষ্যৎবাণী।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১৪১: মহানবী সা.- এর মক্কা প্রত্যাবর্তন

📄 মু’জিজা নং- ১৪১: মহানবী সা.- এর মক্কা প্রত্যাবর্তন


নিশ্চয় যিনি তোমার প্রতি কুরআনকে বিধান স্বরূপ দিয়েছেন, অবশ্যই তিনি তোমাকে প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরিয়ে নেবেন। বল, আমার রব বেশি জানেন কে হিদায়াত নিয়ে এসেছে আর কে রয়েছে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায়। (কাসাস, ২৮ : ৮৫)

আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলি তাঁর কুরআনের তাফসিরে লিখেছেন, প্রত্যাবর্তন স্থলের দু’টি অর্থ রয়েছে। প্রথমত, এটি মক্কা শহরের একটি উপাধি। দ্বিতীয়ত, এটি সেই উপলক্ষকে নির্দেশ করে যখন আমরা সকলে আমাদের পালনকর্তার সামনে সমবেত হব। তিনি আরও বলেন, এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের প্রাক্কালে ‘জুহফা’ নামক স্থানে। যা মক্কা থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকৃতিগতভাবেই মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে যেতে কষ্ট অনুভব করছিলেন। এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল তাঁকে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সান্ত্বনা দিতে। এই ভবিষ্যৎবাণী বাস্তবায়িত হয় আট বছরের মধ্যে এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজেতার বেশে মক্কা প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00