📄 মু’জিজা নং- ১৩৫: কুরআন মাজিদকে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে নি
বাতিল এতে (কুরআন মাজিদে) অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না পেছন থেকে, না সামনে থেকে, এটি প্রজ্ঞাময়, সপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত। (ফুসসিলাত, ৪১ : ৪২)
কুরআন মাজিদের ভাষ্যকারগণ বলেন, বাতিল এতে ‘সামনে থেকে’ বক্তব্যটির উদ্দেশ্য, কেহ কুরআন মাজিদের একটি সাধারণ আয়াতকে সরাসরি আক্রমণ কিংবা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। প্রমাণ করতে পারবে না তা অযথার্থ, মিথ্যা বা মেয়াদোত্তীর্ণ। আর ‘পেছন থেকে বাতিল’ দ্বারা উদ্দেশ্য, কেহ কোনো ধরনের জ্ঞান-বিজ্ঞানের মাধ্যমে কখনো এমন কিছু আবিষ্কার করতে পারবে না এবং এই চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হবে না যে, কুরআন মাজিদের একটি সাধারণ আয়াতও বাস্তবিকপক্ষে ত্রুটিপূর্ণ। বিগত চৌদ্দশ বছরের বিস্তৃত কাল পর্বে কুরআন মাজিদের এতদুভয় মু’জিজা সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
📄 মু’জিজা নং- ১৩৬: হজ্জের উদ্দেশে সফর
আর (হে ইবরাহিম,) মানুষের নিকট হজ্জের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং কৃশকায় উটে চড়ে দূর- দূরান্তের পথ পাড়ি দিয়ে। (হজ্জ, ২২ : ২৭)
এখানে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার অবতারণা করা প্রাসঙ্গিক মনে করছি। প্রথমত, আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে হজ্জের এই ঘোষণা দিতে বলেন যখন তিনি কাবা শরিফের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে। দ্বিতীয়ত, তিনি কাবা শরিফ নির্মাণ করেন একটি নিতান্ত ঊষর ও জনমানবহীন স্থানে। আমাদের আরও স্মর্তব্য যে, যখন তিনি কাবা শরিফ নির্মাণ করেন তখন মক্কা শরিফে কোনো শহর ছিল না। তৃতীয়ত, কাবা শরিফ এমন এক অঞ্চলে নির্মিত হয় যাতে কোনো ধরনের সফর ও ভ্রমণের সুবিধাদি ছিল না। রাস্তা ও সরাইখানা তো দূরের কথা, বিস্তৃত মরুভূমিতে ভ্রমণকারীদের জন্য কোথাও পানির ব্যবস্থা পর্যন্ত ছিল না। তথাপি কুরআন মাজিদ ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করে যে, ভ্রমণকারীরা এই কষ্টকর ভ্রমণের ক্লান্তি সহ্য করবেন এবং দূর-দূরান্তের স্থান থেকে কাবা শরিফে এসে সমাগত হবেন। এটি একটি বাস্তব সত্য যে, এই ভবিষ্যৎবাণী বিগত চার হাজার বছর ধরে নিরন্তর বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ কাবা শরিফে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ থেকে হজ্জের সফরে আসে।
📄 মু’জিজা নং- ১৩৭: মক্কার প্রতিরক্ষা
তারা কি দেখে না যে, আমি (মক্কার) ‘হারাম’কে নিরাপদ বানিয়েছি। অথচ তাদের আশপাশ থেকে মানুষদেরকে ছিনিয়ে নেয়া হয়? তাহলে কি তারা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (আনকাবুত, ২৯ : ৬৭)
এই আয়াত এবং কুরআন মাজিদের অন্য কিছু আয়াত মক্কাকে একটি শান্তি ও নিরাপত্তার শহর বলে ঘোষণা করেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য বহন করে, মক্কা কখনো বৈদেশিক বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হয় নি। আর না তাতে কখনো কোনো অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছে। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে মক্কা নিরন্তর শান্তি ও নিরাপত্তার যুগ প্রত্যক্ষ করেছে।
📄 মু’জিজা নং- ১৩৮: মক্কার জন্য ফল-ফলাদির যোগান
আমি কি তাদের জন্য (মক্কায়) এক নিরাপদ ‘হারাম’-এর সুব্যবস্থা করি নি? যেখানে সব ধরনের ফলমূল আনিত হয় আমার পক্ষ থেকে রিযিক স্বরূপ। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (কাসাস, ২৮ : ৫৭)
মক্কা কঠিন কঠিন শিলা ও বালিয়াড়ি বেষ্টিত একটি সম্পূর্ণ ঊষর ভূমি। শহরটিতে পানির কোনো প্রাকৃতিক উৎস নেই এবং তাতে বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ ৫ ইঞ্চিরও কম। পক্ষান্তরে বছরের প্রতিটি দিন মক্কায় অসংখ্য মানুষ ভ্রমণে আসে। কেবল এক হজ্জ মৌসুমে মক্কায় ভ্রমণকারীদের সংখ্যা দুই মিলিয়ন (২০ লক্ষ) ছাড়িয়ে যায়। মক্কায় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ থেকে ফলমূল ও শাক-সবজি আমদানির সর্বদা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। মক্কায় ভ্রমণকারী মাত্রেই দু’টি বিষয়ে বিস্মিত হবেন। প্রথমত, মক্কায় ভ্রমণকারীর পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তাতে ফলমূল ও শাক-সবজির কোনো ঘাটতি পড়ে না। দ্বিতীয়ত, সব ঋতুর ফলমূল ও শাক-সবজি মক্কায় সব সময় পাওয়া যায়।