📄 মু’জিজা নং- ১৩১: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ভূমিকা
তুমি অবশ্যই মুমিনদের জন্য মানুষের মধ্যে শত্রুতাায় অধিক কঠোর পাবে ইহুদিদেরকে ও মুশরিকদেরকে। আর মুমিনদের জন্য বন্ধুত্বে তাদের জন্য নিকটতর পাবে তাদেরকে যারা বলে, ‘আমরা নাসারা (খ্রিস্টান)’। (মায়েদা, ০৫ : ৮২)
এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা, সর্ববিষয়ে যাঁর জ্ঞান অগাধ ও অসীম। বিগত চৌদ্দশত বছর যাবৎ এই ভবিষ্যৎবাণীর সত্যতা প্রত্যক্ষ করা গেছে। আমাদের বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে তা আরও অধিক পরিষ্কারভাবে দেখা যেতে পারে। ইহুদিরা ফিলিস্তিন সমস্যাকে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমস্যা থেকে বিশ্বের সকল মুসলমানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পরিণত করেছে। যদি ইহুদিরা তাদের ন্যূনতম বিবেচনা শক্তি কাজে লাগাত, তারা ভাণ করে হলেও মুসলমানদের প্রতি তাদের ভালবাসা ও দয়া দেখাত এবং এ কথা দাবি করতে পারত যে, কুরআন মাজিদ তাদের সম্পর্কে মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করেছে। এটি কুরআন মাজিদের এখনও মু’জিজা যে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এই বিবেচনা বোধ থেকে বঞ্চিত রেখেছেন।
📄 মু’জিজা নং- ১৩২: ইহুদিদের ওপর খ্রিস্টানদের আধিপত্য
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী। যেমন মরিয়ম পুত্র ঈসা হাওয়ারিদেরকে বলেছিলেন, আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে? হাওয়ারিগণ বলল, আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী। তারপর বনি ইসরাইলের মধ্য থেকে একদল ঈমান আনল এবং অপর একদল প্রত্যাখ্যান করল। অতঃপর যারা ঈমান আনল আমি তাদেরকে তাদের শত্রুবাহিনীর ওপর শক্তিশালী করলাম। ফলে তারা বিজয়ী হল। (সা’ফ, ৬১ : ১৪)
খ্রিস্টানরা বর্তমানে ইহুদিদের ওপর সংখ্যা, এলাকা ও ক্ষমতার বিচারে বিস্ময়করভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তারা সকল আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইহুদিদের ওপর প্রবল। লক্ষণীয় বিষয় হল, ইসরাইল রাষ্ট্র যে সকল ক্ষমতা ও মর্যাদা ভোগ করে তা পুরোপুরি খ্রিস্টান বিশ্বের ওপর নির্ভরশীল। কুরআন মাজিদের শত শত বছর পূর্বেকারকৃত এই ভবিষ্যৎবাণী ইহুদিদের পুরো ইতিহাসে সর্বদা বাস্তব বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং চিরকালই এই বাস্তবতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।