📄 মু’জিজা নং- ১২৯: কিবলা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইহুদিদের আপত্তি
অচিরেই নির্বোধ লোকেরা (ইহুদি ও মুনাফিকরা) বলবে, কী সে তাদেরকে (মুসলমানদেরকে) তাদের কিবলা (মসজিদে আকসার দিকে ফিরে ইবাদত করা) থেকে ফিরাল, যার ওপর তারা ছিল? (বাকারা, ০২ : ১৪২)
যখন নামাজ ফরজ হয়, মুসলমানরা প্রথমদিকে ১৬-১৭ মাস যাবৎ জেরুজালেমের (বায়তুল মুকাদ্দাসের) দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করে। পরবর্তীতে নামাজের দিক মক্কার কাবা শরিফের দিকে পরিবর্তিত হয়। এই আয়াতটি মুনাফিক ও মদিনার ইহুদিদেরকে কুরআন মাজিদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য একটি সহজ যুক্তি সরবরাহ করে। তারা সকলে মুসলমানদের নতুন কিবলাকে মেনে নিতে পারত এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অভিযুক্ত করতে পারত যে, তাদের ব্যাপারে যে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে তা ছিল ভুল। তবে বাস্তবতা হল, তারা কিবলা পরিবর্তনে আপত্তি জানায় এবং কুরআন মাজিদের ভবিষ্যৎবাণী পূর্ণতা লাভ করে।
📄 মু’জিজা নং- ১৩০: শত্রুদের ইসলাম গ্রহণ
পেছনে পড়ে থাকা বেদুঈনদেরকে বল, এক কঠোর যোদ্ধা জাতির বিরুদ্ধে শীঘ্রই তোমাদেরকে ডাকা হবে। তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে। (ফাতাহ, ৪৮ : ১৬)
এই আয়াত দু’টি খুব সুস্পষ্ট ও বিশেষ ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করে। প্রথমত. মরুর আরব বেদুঈনদেরকে ডাকা হবে শক্তিধর জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। দ্বিতীয়ত. যুদ্ধ চলতে থাকবে মুসলমানরা বিজয় লাভের পূর্ব পর্যন্ত। আরব উপদ্বীপকে ঘিরে যে দু’টি শক্তিধর জাতি ছিল তারা হল, রোম সাম্রাজ্য ও পারস্য সাম্রাজ্য। ইতিহাস বলে, মুসলমানরা দ্বিতীয় খলিফা ওমর রা.-এর সময়কালে (১৩-২৩ হিজরি) পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বহু যুদ্ধ করে। পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয় হিজরি ১৪ সালে কাসিদিয়া নামক স্থানে। এটি ছিল সেই স্থান যেখানে পারস্য বাহিনী পূর্ণ শক্তি নিয়ে মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হয়। যুদ্ধ চারদিন স্থায়ী হয় এবং পারস্য বাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ের মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটে। হিজরি ১৫ সালে ইয়ারমুকের যুদ্ধ ছিল মুসলিম বাহিনী ও রোমান বাহিনীর মধ্যে চূড়ান্ত মুকাবিলা। মুসলমানরা রোমানদের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে এবং রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস কনস্টান্টিনোপলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে কুরআন মাজিদের উভয় ভবিষ্যৎবাণীই অতি অল্প সময়ের মধ্যে সত্যে পরিণত হয়।
📄 মু’জিজা নং- ১৩১: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ভূমিকা
তুমি অবশ্যই মুমিনদের জন্য মানুষের মধ্যে শত্রুতাায় অধিক কঠোর পাবে ইহুদিদেরকে ও মুশরিকদেরকে। আর মুমিনদের জন্য বন্ধুত্বে তাদের জন্য নিকটতর পাবে তাদেরকে যারা বলে, ‘আমরা নাসারা (খ্রিস্টান)’। (মায়েদা, ০৫ : ৮২)
এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা, সর্ববিষয়ে যাঁর জ্ঞান অগাধ ও অসীম। বিগত চৌদ্দশত বছর যাবৎ এই ভবিষ্যৎবাণীর সত্যতা প্রত্যক্ষ করা গেছে। আমাদের বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে তা আরও অধিক পরিষ্কারভাবে দেখা যেতে পারে। ইহুদিরা ফিলিস্তিন সমস্যাকে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমস্যা থেকে বিশ্বের সকল মুসলমানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পরিণত করেছে। যদি ইহুদিরা তাদের ন্যূনতম বিবেচনা শক্তি কাজে লাগাত, তারা ভাণ করে হলেও মুসলমানদের প্রতি তাদের ভালবাসা ও দয়া দেখাত এবং এ কথা দাবি করতে পারত যে, কুরআন মাজিদ তাদের সম্পর্কে মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করেছে। এটি কুরআন মাজিদের এখনও মু’জিজা যে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এই বিবেচনা বোধ থেকে বঞ্চিত রেখেছেন।
📄 মু’জিজা নং- ১৩২: ইহুদিদের ওপর খ্রিস্টানদের আধিপত্য
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী। যেমন মরিয়ম পুত্র ঈসা হাওয়ারিদেরকে বলেছিলেন, আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে? হাওয়ারিগণ বলল, আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী। তারপর বনি ইসরাইলের মধ্য থেকে একদল ঈমান আনল এবং অপর একদল প্রত্যাখ্যান করল। অতঃপর যারা ঈমান আনল আমি তাদেরকে তাদের শত্রুবাহিনীর ওপর শক্তিশালী করলাম। ফলে তারা বিজয়ী হল। (সা’ফ, ৬১ : ১৪)
খ্রিস্টানরা বর্তমানে ইহুদিদের ওপর সংখ্যা, এলাকা ও ক্ষমতার বিচারে বিস্ময়করভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তারা সকল আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইহুদিদের ওপর প্রবল। লক্ষণীয় বিষয় হল, ইসরাইল রাষ্ট্র যে সকল ক্ষমতা ও মর্যাদা ভোগ করে তা পুরোপুরি খ্রিস্টান বিশ্বের ওপর নির্ভরশীল। কুরআন মাজিদের শত শত বছর পূর্বেকারকৃত এই ভবিষ্যৎবাণী ইহুদিদের পুরো ইতিহাসে সর্বদা বাস্তব বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং চিরকালই এই বাস্তবতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।