📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১২২: মক্কা থেকে অমুসলিমদের বিতাড়ন

📄 মু’জিজা নং- ১২২: মক্কা থেকে অমুসলিমদের বিতাড়ন


আর তাদের (অমুসলিমদের) অবস্থা এমন ছিল যে, তারা তোমাকে (মক্কার) জমিন থেকে উৎখাত করে দিবে যাতে তোমাকে সেখান থেকে বের করে দিতে পারে এবং তখন তারা তোমার পরে স্বল্প সময়ই (মক্কায়) টিকে থাকতে পারত। (বনী ইসরাইল, ১৭ : ৭৬)

এসব আয়াত অবতরনের এক বছর পর মক্কার মুশরিকরা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মক্কা থেকে বহিষ্কার করে এবং তাঁকে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য করে। সে সময় কেহ এ কথা বিশ্বাস করতে পারে নি যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তীতে মক্কা থেকে মুশরিকদের বহিষ্কার করবেন। ইতিহাস সাক্ষ্য বহন করে, হিজরী অষ্টম বর্ষে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন বিজেতার বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন। অধিকন্তু, দুই বছর পর, কুরআন মাজিদের নবম সুরায় বর্ণিত আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুসারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে সকল মুশরিক ও অমুসলিমদের বহিষ্কার করেন। কুরআন মাজিদের এই ভবিষ্যৎবাণী তাঁর পূর্ণ মর্ম সহকারে বাস্তবতার রূপ পরিগ্রহ করে এবং এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে কোনো কাফিরই মক্কায় বসবাস করত না।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১২৩: মদিনা থেকে মুনাফিকদের বহিষ্কার

📄 মু’জিজা নং- ১২৩: মদিনা থেকে মুনাফিকদের বহিষ্কার


যদি মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা এবং (মদিনা) শহরে মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারীরা বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে ক্ষমতা‍বান করে দেব। অতঃপর তারা সেখানে তোমার প্রতিবেশি হয়ে অল্প সময়ই থাকবে। (আহযাব, ৩৩ : ৬০)

মদিনায় মুসলমানদের শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুনাফিকদের সংখ্যা দিন দিন ভারি হতে থাকে। তাদের কেহ কেহ যোগ দেয় ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য। অন্যরা যোগ দেয় মুসলমানদের ঐক্য ও শক্তিকে বিনষ্ট করার জন্য। ৩য় হিজরি সনে উহুদ যুদ্ধে ৩,০০০ সৈন্যের একটি মুসলিম বাহিনী মক্কা থেকে আক্রমণ করতে আসা ১০,০০০ সশস্ত্র কাফির দলের মুকাবিলায় মদিনা থেকে রওনা করে। পরবর্তীতে ৭০০ জনের একটি দল মুসলিম বাহিনী থেকে একটি খোঁড়া অজুহাতে মদিনায় ফিরে আসে। তাদের সকলেই ছিল মুনাফিক। এটি পাঠককে মদিনায় মুনাফিকদের সংখ্যা ও শক্তি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেতে সাহায্য করবে। এই আয়াতে কুরআন মাজিদ মুনাফিকদের সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করে যে, তারা মদিনায় থাকতে পারবে না। ইতিহাস সাক্ষ্য বহন করে যে, মুনাফিকদের প্রতিপত্তি সেখানে ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবদ্দশাতেই মদিনা একটি নির্ভেজাল আদর্শ মুসলিম সমাজে পরিণত হয়েছিল।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১২৪: মুমিনদের বিজয়

📄 মু’জিজা নং- ১২৪: মুমিনদের বিজয়


তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে এই মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে জমিনে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাঁদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাঁদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাঁদের দীনকে, যা তিনি তাঁদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাঁদের ভয়-ভীতি (এর অবস্থা) শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। (নূর, ২৪ : ৫৫)

এই আয়াত অবতীর্ণ হয় যখন সবেমাত্র মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরত করেছেন। এটি অবশ্যই লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, তখন মুসলমানরা নিত্য ভয়-ভীতি ও শঙ্কায় কালাতিপাত করতেন। মক্কার কাফিরদের পক্ষ থেকে আক্রমণের শঙ্কা সদা বিরাজ করত এবং মদিনার ইহুদিদের বিরুদ্ধাচরণের ভয়ও ছিল। পরিস্থিতি এতই সঙ্কটাপন্ন ছিল যে, কিছু কিছু সাহাবি কেঁদে উঠে বলেন, ‘এমন কোনো দিন ছিল না যখন আমরা আমাদের শরীর থেকে রণসজ্জা ত্যাগ করতে পারি এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে আক্রমণের ভয় ব্যতিরেকে কোনো সকাল কিংবা সন্ধ্যা অতিক্রম করতে পারি।’ এই ছিল অবস্থা যখন কুরআন মাজিদ তিনটি বিশেষ ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করে। প্রথমত. আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে তাঁর জমিনে শক্তিশালী করবেন। দ্বিতীয়ত. তিনি তাঁদের দীনকে (ইসলামকে) সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন। আর তৃতীয়ত. তিনি তাঁদের ভয়-ভীতির অবস্থাকে শান্তি ও নিরাপত্তায় বদলে দেবেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, খায়বার, যা ছিল ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধ, যা সংঘটিত হয় হিজরি সপ্তম শতাব্দীতে-এতে ইহুদিরা মুসলমানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। দেশের রাজধানী শহর মক্কার কাফিররা মুসলমানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে। ইসলাম তখন রাষ্ট্রীয় ধর্মে পরিণত হয় এবং মুসলমানরা একটি শান্তিময় ও নিরাপদ রাষ্ট্র লাভ করে। এভাবে দশ বছরের সংক্ষিপ্ত পরিসরে কুরআন মাজিদের ভবিষ্যৎবাণীসমূহ বাস্তব রূপ লাভ করে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ১২৫: মুহাজিরদের জন্য একটি উত্তম আবাসভূমি

📄 মু’জিজা নং- ১২৫: মুহাজিরদের জন্য একটি উত্তম আবাসভূমি


আর যারা হিজরত করেছে আল্লাহর রাস্তায় অত্যাচারিত হওয়ার পর, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাস দান করব। আর আখিরাতের প্রতিদান তো বিশাল, যদি তারা (তা) জানত। (নাহল, ১৬ : ৪১)

ইসলামের সূচনালগ্নে কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মক্কা থেকে মুসলমানদেরকে তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে হিজরত করতে হয়। প্রথমে তারা হিজরত করে আবিসিনিয়ায় (বর্তমান ইথিওপিয়ায়) এবং পরবর্তীতে মদিনায়। উভয় সময়েই হিজরতকালে তাদের সকল সহায়-সম্পত্তি মক্কায় ফেলে যায়। ইতিহাস বলে, যখন তারা আবিসিনিয়ায় হিজরত করে তখন আবিসিনিয়ার বাদশাহ তাদেরকে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করে। পরবর্তীতে যখন তারা মদিনায় হিজরত করে, মদিনার মুসলমানরা তাদের জন্য তাদের গৃহ ও অন্তরের দরজা উন্মোচিত করে দেয়। তারা কেবল তাদেরকে আশ্রয়ই প্রদান করে নি, বরং তাদের অর্ধেক সম্পত্তির অধিকারীও বানিয়ে দেয়। এমনকি যাদের দু’জন স্ত্রী ছিল একজনকে তালাক দিয়ে তাঁর মুহাজির মুসলিম ভাইকে দিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা এভাবে ইহজগতে তাদের উত্তম আবাস প্রদানের ভবিষ্যৎবাণীকে বাস্তবায়ন করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00