📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ১১১: অন্ধকার ও আলোর বর্ণনা

📄 মু’জিজা : ১১১: অন্ধকার ও আলোর বর্ণনা


এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শান্তির পথ দেখান, যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিতে তিনি তাদেরকে ‘যুলুমাত’ (অনেক অন্ধকার) থেকে ‘নূর’ (আলো)-এর দিকে বের করেন। (মায়েদা, ০৫ : ১৬)

কুরআন মাজিদ যখন অন্ধকারের (যুলমাত)- বর্ণনা দেয় তখন তা একবচন ও বহুবচন উভয় ধরনের শব্দ ব্যবহার করে। পক্ষান্তরে, তা যখন আলো (নূর)-এর বর্ণনা দেয় তখন তা সর্বদা একবচনের শব্দই ব্যবহার করে। বস্তুত, কুরআন মাজিদে এমন একটি আয়াতও পাওয়া যায় না যেখানে নূর শব্দটি বহুবচনে ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআন মাজিদে অন্ধকার বলতে বিভিন্ন ধরনের মানবীয় দুর্বলতা ও অজ্ঞতাকে নির্দেশ করে। একজন মানুষের বিভিন্ন ধরনের মানবিক দুর্বলতা থাকতে পারে। যেমন, অহম, লোভ, কৃপণতা ইত্যাদি। তাঁর বিভিন্ন ধরনের অজ্ঞতাও থাকতে পারে। যেমন, মিথ্যা উপাস্যের আরাধনা কিংবা ভ্রান্ত মতবাদের অনুসরণ, যেমন, নাস্তিক্যবাদ, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি। একই সময়ে একজন মানুষ বিভিন্ন মাত্রা ও পরিমাণের অন্ধকারের অনুসরণ করতে পারে। অতএব বিভিন্ন প্রকার ও বিভিন্ন মাত্রার অন্ধকার রয়েছে। এজন্যেই কুরআন মাজিদ অন্ধকারের বর্ণনার ক্ষেত্রে একবচনের পাশাপাশি বহুবচনের শব্দও ব্যবহার করেছে।

যখন কুরআন মাজিদ আলোর কথা বলে তখন তা সেই সত্য হেদায়েতের প্রতিই নির্দেশ করে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) ও আসমানি কিতাবের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন। পুরো মানব ইতিহাসে সত্য কেবল একটিই ছিল। এজন্যেই কুরআন মাজিদ আলো বুঝাতে সর্বদা ‘নূর’ শব্দটিকে একবচনে উল্লেখ করেছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কুরআন মাজিদের প্রতিটি শব্দেরই একটি বিশেষ অর্থ ও বার্তাবাহী অবতীর্ণ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00