📄 মু’জিজা : ১০৭: কুরআন মাজিদের উল্লিখিত শব্দ ‘হামান’
আর ফিরাউন বলল, ‘হে পরিষদবর্গ, আমি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ আছে বলে আমি জানি না। অতএব হে হামান, আমার জন্য তুমি ইট পোড়াও, তারপর আমার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি কর। যাতে আমি মুসার ইলাহকে দেখতে পাই। আর আমি নিশ্চয় মনে করি সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (কাসাস, ২৮ : ৩৮)
কুরআন মাজিদ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে, মিসরের পূর্ববর্তী ইতিহাস সম্পর্কে, যা বহু শতাব্দী পর্যন্ত মানুষের অজানা ছিল। ‘হামান’ একটি চরিত্র, যার নাম কুরআন মাজিদে উল্লিখিত হয়েছে ফিরাউনের সঙ্গে। সে ফিরাউনের একজন নিকটতম লোক হিসেবে কুরআন মাজিদের ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে লক্ষ্য রাখা নিতান্ত আবশ্যক যে, তাওরাতের সেসব পরিচ্ছেদে হামানের নাম মোটেই উল্লিখিত হয় নি, যেখানে মুসার (আলাইহিস সালাম)- জীবন সংক্রান্ত আলোচনা আছে। পুরাতন সমাচারের শেষ অধ্যায়ে একজন ব্যবিলনীয় রাজার সহযোগী হিসেবে হামানের নাম উল্লেখ রয়েছে, যার আগমন ঘটেছে মুসা আলাইহিস সালাম-এর প্রায় ১,১০০ বছর পরে। এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরাতন সমাচার থেকে কুরআন মাজিদ নকল করতেন তবে ফিরাউনের সঙ্গে কিছুতেই হামানের উল্লেখ করতেন না।
নৃতত্ত্ববিদরা মিসরের পিরামিড থেকে বিচিত্র রকমের বর্ণলিপির ফলক উদ্ধার করেছে। দীর্ঘদিন কেহ এই বর্ণলিপিগুলির পাঠোদ্ধার করতে পারে নি। ১৭৯৯ সালে একটি স্বতন্ত্র ধরনের শিলালিপি উদ্ধার করা হয়। এটিকে বলা হয় ‘Rosetta’ শিলা, এতে তারিখ লিখা আছে ১৯৬ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ। এই শিলালিপিতে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় লিখিত শিলালিপি রয়েছে : চিত্র লিখন (Hiero glyphics), ডেমোক (Democ) ও গ্রীক। গ্রীক ভাষার সহযোগিতায় অপর দুই ভাষার পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়। এই অনুবাদ সম্পন্ন হয়েছিল Jaen-Francoise Champollin নামক একজন ভাষাবিদের মাধ্যমে। বিস্ময়ের ব্যাপার হল, এই শিলালিপিতে হামানের নামও রয়েছে। ‘People in the New Kingdom’ নামক অভিধানে (Herman Rank, Die Agyptischen Personennamen, Verzeichnis dor Namen, Verlag Ven, J.J. Augustin in Gluckstadt, Born 11-1952) যা তৈরি হয়েছিল শিলালিপির সকল সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে, তাতে হামানকে বলা হয়েছে শিলা ছেদনকারী কর্মীদের নেতা। লক্ষণীয় বিষয় হল, কুরআন মাজিদ কেবল ফিরাউনের সঙ্গে হামানের নামকে একত্রেই করে নি, বরং এও বলেছে যে, সে নির্মাণ বিষয়ক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল। এজন্যেই ফিরাউন তাঁকে একটি উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করতে আদেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে এই তথ্যটি অবতীর্ণ না করলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে তাঁর বর্ণনা দিলেন?
📄 মু’জিজা : ১০৮: কাবা শরিফে আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন
নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের (ইবাদতের) জন্য স্থাপিত হয়েছে তা বাক্কায় (মক্কায়), যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত (নির্দেশিকা)। তাতে রয়েছে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, (উদাহরণ স্বরূপ) মাকামে ইবরাহিম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হয়ে যাবে। (আলে ইমরান, ০৩ : ৯৬-৯৭)
এই আয়াত অনুসারে কাবা শরিফ আল্লাহ তাআলার অনেক সমুজ্জ্বল নিদর্শনাবলি ধারণ করে আছে। একজন ঈমানদার পুরুষ কিংবা নারী যখন তাতে প্রবেশ করে তখন মুহূর্তেই সেসব আধ্যাত্মিক নিদর্শন অনুভব করতে পারে। অনুরূপভাবে কাবা শরিফের কিছু খুব সমুজ্জ্বল বাহ্যিক নিদর্শনও রয়েছে। এসব নিদর্শনের একটি হল জমজম কূপ, যা কাবা শরিফের অভ্যন্তরে অবস্থিত। হাদিসের ভাষ্য অনুসারে, জমজম কূপের পানি একজন মানুষের যে কোনো ইচ্ছা কিংবা প্রয়োজন পূরণে সাহায্য করে। এই হাদিসের ওপর ভিত্তি করে মুসলমানরা এই পানি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।
উল্লেখ্য যে, কাবা শরিফ মক্কায় অবস্থিত, যা খুব শুষ্ক। এর চারপাশে রয়েছে তৃণ-লতাহীন পাথুরে পর্বতমালা। মক্কা মরুভূমি হওয়ার কারণে তাতে পুরো বছর উল্লেখ করার মত তেমন কোনো বৃষ্টিপাতও হয় না। অধিকন্তু মক্কার ভেতরে কিংবা বাইরে কোনো পুকুর কিংবা হ্রদও নেই। এ কারণে যে কেহ ধারণা করতে পারে, জমজম কূপ একটি সীমিত পরিমাণ পানি সরবরাহ করবে। কিন্তু বাস্তবতা হল, অসংখ্য মানুষ বিরতিহীনভাবে তাঁর পানি ব্যবহার করছে। প্রথমত: মক্কার অধিকাংশ অধিবাসী, জেদ্দার পার্শ্ববর্তী শহরসমূহ এবং তায়েফবাসীরা তাদের প্রাত্যহিক খাবার পানি ও রান্নার জন্য জমজমের পানির নিয়মিত সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। দ্বিতীয়ত: সারা বছর অসংখ্য মানুষ কাবা শরিফ জিয়ারত করতে আসে। তারা খাবার, গোসল এমনকি ধোয়া-মোছার কাজেও ব্যাপকভাবে জমজমের পানি ব্যবহার করে। তৃতীয়ত: তারা যখন তাদের বাড়ি-ঘরে ফিরে যায় তখন প্রচুর পরিমাণে পানি তাদের বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের জন্য হাদিয়া স্বরূপ নিয়ে যায়। চতুর্থত: রোজার মাসে দৈনিক কমপক্ষে পাঁচলাখ মানুষ কাবা শরিফে সমবেত হয়। এ সকল জিয়ারতকারী ত্রিশদিন যাবৎ এই পানি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করে। পঞ্চমত: হজ্জের মৌসুমে কাবা শরিফে বিশ লাখেরও অধিক লোকের আগমন ঘটে। এ সকল জিয়ারতকারী তাদের প্রাত্যহিক সকল প্রয়োজনে এই পানি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় প্রত্যেকে কমপক্ষে এক কনটেইনার করে পানি সঙ্গে নিয়ে যায়। বিস্ময়কর ব্যাপার হল, সারা বছর ধরে জমজম কূপের পানির এত প্রচুর ব্যবহার সত্ত্বেও তাতে কখনো পানি স্বল্পতা দেখা দেয় নি। এখনো পর্যন্ত কেহ ধারণাও করতে পারে না যে, মক্কার মত এমন ঊষর ও পাথুরে ভূমিতে এই निःসীম পানির উৎস কোথায়। এটি উপরোক্ত আয়াতে বর্ণিত কাবা শরিফে আল্লাহ তাআলার একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।
📄 মু’জিজা : ১০৯: রাসুল সা.-এর সাহাবীদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও সহানুভূতি
(আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না।) আর তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামতকে (কৃতজ্ঞতার সঙ্গে) স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ভালবাসার সঞ্চার করলেন। অতঃপর তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। (আলে ইমরান, ০৩ : ১০৩)
আর যদি তারা তোমাকে ধোঁকা দিতে চায়, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই তোমাকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা। আর তিনি তাদের অন্তরসমূহে প্রীতি স্থাপন করেছেন। যদি তুমি জমিনে যা আছে তার সবকিছু ব্যয় করতে, তবুও তাদের অন্তরসমূহে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। (আনফাল, ০৮ : ৬২-৬৩)
এই আয়াতগুলি অনুধাবন ও উপলব্ধির জন্য ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আরবের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব উপদ্বীপে কোনো সুসংগঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল না। দেশটি বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল। গোত্র প্রতিহিংসা ও গোত্রযুদ্ধ ছিল সেই ভূখণ্ডের আইন। প্রায়ই যুদ্ধ সংঘটিত হত কোনো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যেমন : কোনো কূপ থেকে পানি পান ইত্যাদি। আর এই সৃষ্ট যুদ্ধ যুগযুগ ধরে চলতে থাকত। গোত্র সংঘাত ও গোত্র শত্রুতা মদিনার মধ্যে ছিল অধিক বেশি প্রকট। তাতে ছিল দু’টি সমান শক্তিধর গোত্র, একটির নাম আউস, অপরটি খাযরাজ। যেহেতু উভয় গোত্রই ছিল শক্তিধর, তাই তারা জীবনের সব ক্ষেত্রেই ছিল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। নিত্য যুদ্ধ, প্রতিহিংসা ও অবিশ্বাসের একটি দুর্গন্ধময় পরিবেশে ছিল তাদের নিত্যদিনের বসবাস। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার হল, তারা ইসলাম গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে এসব কিছু ভালবাসা ও সহানুভূতির পরিবেশে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অধিকন্তু, পুরো আরব সমাজ পারস্পরিক এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি অবিচ্ছিন্ন জাতিতে পরিণত হয় পুরো মানবজাতির ইতিহাসে যার কোনো তুলনা মিলে না। কুরআন মাজিদ এ কথাই বলছে, আল্লাহ তাআলাই মুমিনদের ওপর এই অনুগ্রহ করেছেন এবং তা কেহ কোনো জাগতিক উপায়ে অর্জন করতে পারে নি।
📄 মু’জিজা : ১১০: সংখ্যাসূচক সমতার রহস্য
কুরআন মাজিদের বিভিন্ন শব্দের সংখ্যাসূচক সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে বহু বই ও প্রবন্ধ লিখা হয়েছে। এই সংখ্যাতাত্ত্বিক সম্পর্কের ব্যাপারে এ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা যায় নি। তবে তা এতই অনুপম যে, কুরআন মাজিদের বিস্ময়কর প্রকৃতিতে তা নতুন ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে। নিম্নে কুরআন মাজিদের কিছু সংখ্যাতাত্ত্বিক সাদৃশ্যের দৃষ্টান্ত পেশ করা হল :
১. কুরআন মাজিদ বলে, সাতটি আসমান রয়েছে। কুরআন মাজিদের কেবল সাতটি সুরার মধ্যেই এই বর্ণনা পাওয়া যায়।
২. কুরআন মাজিদ বলে, আল্লাহ তাআলা কর্তৃক স্থিরীকৃত মাসের সংখ্যা হল ১২ (বারো)। ‘মাস’ শব্দের আরবি প্রতিশব্দ ‘শাহর’ (شَهْرٍ)। এই ‘শাহর’ শব্দটি কুরআন মাজিদে কেবল বারো বার উল্লিখিত হয়েছে।
৩. আরবি শব্দ ‘ঈমান’ অর্থ বিশ্বাস। এই শব্দের বিপরীত শব্দ ‘কুফর’, যার অর্থ অস্বীকৃতি। কুরআন মাজিদে এই (إِيمَان) ঈমান শব্দটি ১৭ (সতের) বার দেখা যায়। বিস্ময়ের ব্যাপার হল কুরআন মাজিদে কুফর শব্দটিও এসেছে ১৭ (সতের) বার। অধিকন্তু ‘মুমিনূন’ শব্দটি কুরআন মাজিদে পাওয়া যায় ৮ (আট) স্থানে এবং ‘কাফিরূন’ শব্দটিও পাওয়া যায় ৮টি স্থানে।
৪. আরবি শব্দ ‘মালাইকা’ অর্থ ফেরেশতা এবং ‘শয়তান’ শব্দ নির্দেশ করে ইবলিশ। শব্দদুটি তাদের বৈশিষ্ট্য ও ভূমিকার ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধী। কুরআন মাজিদে এই ‘মালাইকা’ শব্দটি সর্বমোট ৬৮ (আটষট্টি) বার ব্যবহৃত হয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হল ‘শয়তান’ শব্দটিও কুরআন মাজিদে ৬৮ (আটষট্টি) বার ব্যবহৃত হয়েছে।
৫. আরবি শব্দ ‘দুনিয়া’ অর্থ ইহকাল এবং ‘আখিরাহ’ অর্থ পরকাল। কুরআন মাজিদে ‘দুনিয়া’ শব্দটি এসেছে ১১৫ বার। অনুরূপভাবে ‘আখিরাহ’ শব্দটিও এসেছে ১১৫ মোট ১০৮ বার।
৬. আরবি শব্দ ‘ত্বীন’ অর্থ কাদা মাটি এবং ‘নুতফা’ অর্থ ‘শুক্রবিন্দু’। কুরআন মাজিদ বলে, মানুষ প্রথমে সৃষ্টি হয়েছে ‘ত্বীন’ থেকে এবং পরে ‘নুতফা’ থেকে। কুরআন মাজিদে ‘ত্বীন’ শব্দটি দেখা যায় মোট ১২ (বারো) বার। ‘নুতফা’ শব্দেরও একই অবস্থা, তাও রয়েছে ১২ (বারো) বার।
৭. আরবি শব্দ ‘ফে’ল’ মানে কাজ এবং ‘আজর’ অর্থ প্রতিদান। কুরআন মাজিদে ‘ফে’ল’ শব্দটি দেখা যায় মোট ১০৮ (একশত আট) বার। ‘আজর’ শব্দের ক্ষেত্রেও তা সত্যি, তাও দেখা যায় ১০৮ বার।
৮. ‘রহমান’ ও ‘রহিম’ আল্লাহ তাআলার দু’টি গুণবাচক নাম, উভয় শব্দই রহম, যার অর্থ দয়া- থেকে নির্গত। ‘রহমান’ এমন দয়াকে ইঙ্গিত করে যার সঙ্গে আছে ন্যায় বিচার। পক্ষান্তরে ‘রহিম’ এমন দয়াকে নির্দেশ করে যার সঙ্গে আছে ক্ষমা। কুরআন মাজিদে ‘রহমান’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে মোট ৫৭ (সাতান্ন) বার, কিন্তু ‘রাহিম’ শব্দটি দেখা যায় মোট ১১৪ (একশত চৌদ্দ) বার। যা ৫৭ (সাতান্ন) এর ঠিক দুই গুণ। বিভিন্ন হাদিস এই সম্পর্কে প্রমাণ বহন করে যে, আল্লাহ তাআলার দয়া তাঁর ক্রোধ ও রাগের ওপর প্রবল।
৯. আরবি শব্দ ‘জাযা’ অর্থ বিনিময় বা প্রতিদান এবং ‘মাগফিরাহ’ শব্দের অর্থ ক্ষমা। কুরআন মাজিদে ‘জাযা’ শব্দটি মোট ১১৭ বার দেখা যায়। ‘মাগফিরাত’ শব্দটি দেখা যায় ২৩৪ (দুইশত চৌত্রিশ) বার, যা ১১৭-এর ঠিক দুই গুণ। তা আবারও নির্দেশ করে, আল্লাহ তাআলার ক্ষমা তাঁর ন্যায় বিচারের ওপর ছায়া বিস্তার করে।
অনেকেই কুরআন মাজিদের এমন অসংখ্য সংখ্যাতাত্ত্বিক সাদৃশ্য বের করেছেন। আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে প্রত্যেক সাদৃশ্যের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বলাবাহুল্য, কুরআন মাজিদের সকল শব্দ হিসাব করার জন্য মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এমন কোনো কম্পিউটার ছিল না, যা তাঁকে কুরআন মাজিদে একটি বিশেষ শব্দকে তাঁর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দের সঙ্গে একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যবহার করতে সক্ষম করেছে।