📄 মু’জিজা : ১০১: ফসলহীন উপত্যকা
‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমি আমার কিছু বংশধরকে ফসলহীন উপত্যকায় তোমার পবিত্র ঘরের (মক্কার কাবা শরিফের) নিকট বসতি স্থাপন করালাম। (ইবরাহিম, ১৪ : ৩৭)
এটি সেই বিবৃতি যা আল্লাহর নবি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আজ থেকে চার হাজার বছরেরও আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে দিয়েছিলেন। এই আয়াতে উপত্যকা বলতে বুঝানো হয়েছে মক্কা নগরী এবং বলা হয়েছে, এটি এমন একটি উপত্যকা যেখানে চাষাবাদ হয় না। আরব উপদ্বীপের ভূভাগে বহু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। যে কেহ এখন দেখতে পাবে কিছু পানির ড্যাম, পানি সেচের জন্য প্রচুর পানির কূপ এবং বহু চারণভূমি ও খামারবাড়ি। এটি লক্ষণীয় বিষয়, এই চার হাজার বছরের দীর্ঘ সময়েও এই উপত্যকার ভূমিতে তাঁর চারপাশে কোনো পরিবর্তন আসে নি। মক্কা এখনও অনাবাদী ভূমি হিসেবে রয়ে গেছে।
📄 মু’জিজা : ১০২: মেঘ সৃষ্টি ও বৃষ্টি বর্ষণ
তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ মেঘমালাকে পরিচালিত করেন, তারপর তিনি সেগুলোকে একত্রে জুড়ে দেন, তারপর সেগুলো স্তুপীকৃত করেন, তারপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে বৃষ্টি বের হয়। আর তিনি আকাশস্থিত পাহাড় (সদৃশ) মেঘমালা থেকে শিলা বর্ষণ করেন, (অথবা মহসিন খানের অনুবাদ মতে : আকাশে শিলার পর্বতমালা রয়েছে)। অতঃপর তা দ্বারা যাকে ইচ্ছে আঘাত করেন। আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা সরিয়ে দেন। এর বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়। (নূর ২৪ : ৪৩)
আল্লাহ, যিনি বাতাস প্রেরণ করেন ফলে তা মেঘমালাকে ধাওয়া করে, অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে খন্ড-বিখন্ড করে দেন, ফলে তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বারিধারা। অতঃপর যখন তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের ওপর ইচ্ছা বারি বর্ষণ করেন, তখন তারা হয় আনন্দিত। (রূম, ৩০ : ৪৮)
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মত একজন বেদুঈন আরব একটি মরুময় অঞ্চল থেকে মেঘ সৃষ্টি, বৃষ্টিপাত, বিদ্যুতের ঝলকানি এসব ঘটনা খুব কমই প্রত্যক্ষ করেছেন। আল্লাহ তাআলা মেঘের গঠন ও বৃষ্টিপাত সম্পর্কিত এসব তথ্য তাঁর কাছে নাজিল না করলে তিনি এসবের এমন প্রাণবন্ত বর্ণনা দিতে পারতেন না। আবহাওয়াবিদগণ মেঘের গঠন ও বৃষ্টিপাত সম্পর্কে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি পেয়েছেন।
বাতাস মেঘমালাকে ধাবিত করে যাতে সেগুলি ঘনীভূত হতে শুরু করে। অতঃপর মেঘগুলি পরস্পর জুড়ে যায় এবং বড় মেঘ তৈরি করে এবং লম্বভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে মনে হয় যেন সেগুলি স্তুপীকৃত। নবগঠিত মেঘের ওপর অংশে পানির ফোঁটা পুঞ্জিভূত হতে শুরু করে এবং যখন তা খুব ভারী হয়ে যায়, তখন পৃথিবীতে বৃষ্টির আকারে নেমে আসে। আমাদের উচিত, এই তথ্যটিকে উপরিউক্ত কুরআনের আয়াতের সঙ্গে তুলনা করা এবং এতে যে কেহ এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, কেবল আল্লাহ তাআলাই কুরআন মাজিদের এই তথ্যের উৎস।
📄 মু’জিজা : ১০৩: পরিবহনের আধুনিক বাহনসমূহ
আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, তোমাদের আরোহণ ও শোভার জন্য এবং তিনি সৃষ্টি করেন এমন কিছু, যা তোমরা জান না। (নাহল, ১৬ : ৮)
এই আয়াত যখন অবতীর্ণ হয় তখন মানুষের কোনো ধারণাই ছিল না যে, ভবিষ্যতে এসব প্রাণী ব্যতীত পরিবহনের জন্য অন্য কিছু ব্যবহৃত হতে পারে। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ইরশাদ করেছেন, ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন (অন্যান্য) এমন কিছু যা তোমরা জান না।’ বস্তুতঃ, ইতিহাস বলে, মানুষ পরিবহন ও যোগাযোগের জন্য পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন উপায় আবিষ্কার করেছে। যে কোনো যুগের দিকে তাকালে দেখা যায়, পরিবহনের কিছু মাধ্যম মানুষের সর্বদা অজ্ঞাত ছিল। এভাবে এই আয়াতটি প্রত্যেক যুগের মানুষের জন্যই সত্য।
📄 মু’জিজা : ১০৪: মেরু অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য
অবশেষে যখন সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছল তখন সে দেখতে পেল, তা এমন এক জাতির ওপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্যের বিপরীতে কোনো আড়ালের ব্যবস্থা করি নি। (কাহফ, ১৮ : ৯০)
এই আয়াত এমন একজন রাজার বিজয় অভিযানের বর্ণনা দেয় যাকে কুরআন মাজিদ ‘যুল-কারনাইন’ বলে অভিহিত করেছে। এই আয়াত বলে, তিনি এমন এক স্থানে গমন করেন যেখানে তিনি সূর্যকে উদিত হওয়ার অবস্থায় দেখতে পান এবং সেই স্থানের লোকদের সূর্যের বিপরীতে কোনো আড়ালের ব্যবস্থা ছিল না। আমরা এখন জানতে পারি, এটি হল মেরু অঞ্চলের সূর্যের অবস্থা যেখানে তা ছয় মাসের জন্য অস্ত যায় না। অধিকন্তু, সূর্য সর্বদা নিম্নে উদিত হওয়ার অবস্থায় থাকে, যেমনটি কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে। না মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর না কোনো আরবি ব্যক্তির এই সূর্যোদয়ের অবস্থা সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা ছিল। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কে, কুরআন মাজিদে এই তথ্য সন্নিবেশিত করতে পারেন?