📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯৫: গুহাবাসীদের কর্ণকুহর বন্ধ করে দেওয়া

📄 মু’জিজা-৯৫: গুহাবাসীদের কর্ণকুহর বন্ধ করে দেওয়া


ফলে আমি (আল্লাহ) গুহায় তাদের কান (শ্রবণশক্তি) বন্ধ করে দিলাম বহু বছরের জন্য (যাতে তারা গভীর নিদ্রায় নিমগ্ন হয়)। (কাহফ ১৮ : ১১)

এই আয়াতে সেসব যুবকের কথা উল্লিখিত হয়েছে যারা গুহার ভেতর ঘুমিয়ে ছিল তিনশত বছর। লক্ষ করলে বিস্মিত হতে হয় যে, এই আয়াতে কুরআন মাজিদ শ্রবণ ব্যতীত সেসব যুবকের অন্য কোনো শরীরবৃত্তের বর্ণনা দেয় নি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে, সকল সংবেদনশীল অঙ্গের মধ্যে কেবল কানই, এমন কি, ঘুমের মধ্যেও সক্রিয় থাকে। এ কারণেই ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার জন্য আমাদের শাব্দিক সংকেত প্রয়োজন হয়। যেহেতু, আল্লাহ তাআলা এসব লোককে দীর্ঘদিনের জন্য নিদ্রিত রাখতে ইচ্ছা করলেন, তিনি তাদের শ্রবণেন্দ্রিয়কেও বন্ধ করে দিলেন। নিশ্চিতভাবে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চৌদ্দশ বছর পূর্বে ঘুমের শরীরবৃত্তীয় বিদ্যা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯৬: গুহাবাসীদের পার্শ্ব পরিবর্তন

📄 মু’জিজা-৯৬: গুহাবাসীদের পার্শ্ব পরিবর্তন


তুমি তাদের মনে করতে জাগ্রত, অথচ তারা ছিল ঘুমন্ত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাচ্ছি ডানে ও বামে এবং তাদের কুকুরটি আঁচিনায় তার সামনের দু’পা বাড়িয়ে আছে। (কাহফ, ১৮ : ১৮)

এই আয়াতটি গুহার যুবকদের ঘুমানোর ধরন সম্পর্কিত। এই আয়াত বলে, যদিও তারা তিনশ বছরের অধিককাল ঘুমিয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তাদের ডানে ও বামে পার্শ্ব পরিবর্তন করাতেন। এই আয়াতটি এভাবে সেসব লোকদের জন্য একটি বিশেষ স্বাস্থ্য-নিয়মের নির্দেশনা দেয় যারা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিছানায় শুয়ে থাকতে বাধ্য হয়। এ ধরনের লোকদের উপদেশ দেয়া হয়েছে বিছানায় তাদের অবস্থান নিয়ত পরিবর্তন করতে। অন্যথায় পরিণামে তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য-সমস্যায় পতিত হবে। যেমন- রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতা, ত্বকের পচন, শরীরের নিম্নাংশে রক্তের চাপ ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কে এসব যুবকের ঘুমানোর ধরন বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন যথার্থ ভাষা ব্যবহার করতে পারেন?

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯৭: ইউসুফ ও মুসা আ.-এর বৃত্তান্ত

📄 মু’জিজা-৯৭: ইউসুফ ও মুসা আ.-এর বৃত্তান্ত


কুরআন মাজিদ নবী ইউসুফ আ. ও নবী মুসা আ. এর বিরুদ্ধাচরণের বৃত্তান্ত সমকালীন রাজা-বাদশাহদের আলোচনাসহ সবিস্তারে বর্ণনা দিয়েছে। এটি অধিক লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, ইউসুফ আ. ও তাঁর সমকালীন বাদশাহর আলোচনা প্রসঙ্গে কুরআন মাজিদ সর্বদা ‘রাজা’ শব্দটি ব্যবহার করেছে। পক্ষান্তরে যখন মুসা আ. ও তাঁর সমকালীন রাজা প্রসঙ্গে আলোচনা এসেছে সেক্ষেত্রে কুরআন সর্বদা ‘ফিরাউন’ শব্দ ব্যবহার করেছে। ইহুদি ঐতিহাসিকগণ অনুরূপভাবে বাইবেলের পুরাতন ও নতুন সমাচার এমন সুনির্দিষ্ট পার্থক্য দেখায় নি। উভয়ের বর্ণনাতেই আছে, উভয় নবীই ফিরাউনের সঙ্গে মুকাবিলা করেন।
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিকরা এই নবীদ্বয়ের সময়কাল নির্দিষ্ট করেছে। ধারণা করা হয়, ইউসুফ আ. জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯০৬ খ্রিস্টপূর্বে। মিসর সে সময় শাসন করত ‘হায়কস’ নামক এক রাজা, ফিরাউন নয়। ‘আপফিস’ নামক ‘হায়কস’ রাজা ১৮৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হযরত ইউসুফ আ. কে কারারুদ্ধ করেন। মিসরের ইতিহাসে ‘ফিরাউন’ নাম আসে অনেক পরে। বর্ণিত আছে, মুসা আ. কে যে ফিরাউন লালন-পালন করে সে ছিল ‘দ্বিতীয় রামসিস’। সে মিসর শাসন করে ১২৯২ থেকে ১২২৫ খ্রি.পূর্বাব্দ পর্যন্ত। যে ফিরাউন মুসা আ.-এর সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল সে ছিল মাইনপথ (Minepath)। সে ‘দ্বিতীয় রামসিস’-এর জীবদ্দশাতেই মিসরের রাজমুকুট ধারণ করে। অধিকন্তু বর্ণিত আছে, মুসা আ. মৃত্যুবরণ করেন ১২৭২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। এই তারিখসমূহের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিকরা সম্প্রতি একথা প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, ইউসুফ আ. ফিরাউনের মুকাবিলা করেন নি।
একথা স্মর্তব্য যে, না পুরাতন সমাচার, না নতুন সমাচার, আর না পূর্বের ইহুদি ঐতিহাসিকরা এ বিষয়টি শনাক্ত করতে পেরেছিল। পক্ষান্তরে, কুরআন মাজিদ এই সত্যটি চিহ্নিত করেছে। তা হযরত ইউসুফ আ.-এর আলোচনা প্রসঙ্গে সর্বদা ‘রাজা’ শব্দ ব্যবহার করেছে এবং মুসা আ. এর আলোচনা করার সময় তার বিপরীতে সর্বদা ‘ফিরাউন’ শব্দ ব্যবহার করেছে। তিনি আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কে হতে পারেন, যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করেছেন?

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৯৮: রোমানদের পরাজয়ের এলাকা

📄 মু’জিজা : ৯৮: রোমানদের পরাজয়ের এলাকা


আলিফ, লাম, মিম। রোমান সাম্রাজ্য পরাজিত হয়েছে। একটি নিম্নতম স্থানে। তারা অচিরেই বিজয় লাভ করবে, তাদের পরাজয়ের পর। (রূম, ৩০ : ১-৩)

এই আয়াতে যে আরবি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল আদ্‌নাল-আরদ (أَدْنَى الْأَرْضِ)। ‘আরদ’ শব্দের অর্থ ভূমি এবং ‘আদ্‌না’ শব্দটির দু’টি অর্থ রয়েছে- একটি হল, নিকটবর্তী এবং অন্যটি নিম্ন। এই আয়াত সেই যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে যা সংঘটিত হয় রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের মধ্যে। হিজরতের দ্বিতীয় বছরে (মোতাবেক ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে)। সকল আরব, মুসলিম-অমুসলিম সকলে এই যুদ্ধ সম্পর্কে সজাগ ছিল এবং এও জানত যে, তা সংঘটিত হয় জর্ডানের বর্তমান মৃত সাগরের সন্নিকটে একটি নির্দিষ্ট স্থানে। কুরআন মাজিদের পূর্ববর্তী ভাষ্যকারগণ ‘আদ্‌না’ শব্দের কেবল প্রথম অর্থ ব্যবহার করে এই আয়াতের ব্যাখ্যা দেন এবং বলেন, এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় আরব উপদ্বীপের সন্নিকটবর্তী একটি স্থানে। সাম্প্রতিক সময়ের একদল মুসলিম বিজ্ঞানী জানতে চাইলেন, ‘আদ্‌না’ শব্দের অন্য অর্থ ‘নিম্নভূমি’ এর সঙ্গে এই আয়াতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না? তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সুপ্রসিদ্ধ ভূতত্ত্ববিদ পলমারকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নতম ভূমি চিহ্নিত করতে বললেন। উল্লেখ্য যে, প্রফেসর পলমার ছিলেন সেই কমিটির সভাপতি যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Geology Society-র শত বার্ষিকী উৎসবের আয়োজন করে। প্রফেসর পলমার বলেন, পৃথিবীতে বহু সংখ্যক নিম্নভূমি রয়েছে। তখন তাঁকে বলা হল, পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থানটি চিহ্নিত করতে। তিনি জর্ডানের মৃত সাগরের সন্নিকটে একটি বিশেষ স্থানের দিকে নির্দেশ করলেন। তখন মুসলিম বিজ্ঞানীরা তাঁকে কুরআন মাজিদের এই আয়াতটি দেখালেন এবং তাঁকে এও জানালেন যে, এটি হচ্ছে হুবহু সেই স্থান যেখানে যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। প্রফেসর পলমার বললেন, তিনি জানেন না, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময়কালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কি অবস্থা ছিল। তবে এটি পরিষ্কার যে, কুরআন মাজিদ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসমানি আলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00