📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯৩: আদ সম্প্রদায়ের অধিবাসী

📄 মু’জিজা-৯৩: আদ সম্প্রদায়ের অধিবাসী


আর স্মরণ কর আদ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের (হুদের) কথা, যখন সে আহকাফের স্বীয় সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। আর এমন সতর্ককারী তার পূর্বে এবং পরেও গত হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর এক ভয়াবহ দিনের আজাবের আশঙ্কা করছি।’ তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে নিবৃত করতে আমাদের নিকট এসেছ? তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও তাহলে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো।’ অতঃপর যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে মেঘমালা দেখল তখন তারা বলল, ‘এ মেঘমালা আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে।’ (হুদ আ. বলল,) বরং এটি তা-ই যা তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে। এ এক ঝড়, যাতে যন্ত্রণাদায়ক আজাব রয়েছে। ফলে তারা এমন (ধ্বংস) হয়ে গেল যে, তাদের আবাসস্থল ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এভাবেই আমি অপরাধী কওমকে প্রতিফল দিয়ে থাকি। (আহকাফ, ৪৬ : ২১-২২, ২৪-২৫)

কুরআন মাজিদের ভাষ্যকাররা বলেন, ‘আদ সম্প্রদায়ের একটি অংশ প্রথম আজাব ও ধ্বংস থেকে বেঁচে গিয়েছিল এবং অন্যান্য শহরে বসতি স্থাপন করেছিল। তাদেরকে ‘আদে উখরা’ বা পরবর্তী আদ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। তারাও তাদের নবীদের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল এবং পূর্ববর্তী আদ জাতির ন্যায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।
একটি আমেরিকান মুসলিম সাময়িকী ‘ The message’ এর ১৯৯২ সালের মার্চ সংখ্যায় রিপোর্ট করা হয়, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ভূতত্ত্ববিশারদদের একটি টিম সম্প্রতি আদ সম্প্রদায়ের শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছে। যারা ছিল ছামুদ সম্প্রদায়ের সমসাময়িক। কুরআন মাজিদ চব্বিশটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এই সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্বের সকল ধর্মগ্রন্থের মধ্যে কেবল কুরআন মাজিদই এই শহর ও তার অধিবাসী সম্পর্কে কথা বলেছে। বাইবেলের পুরাতন ও নতুন সমাচার (Old and New Testaments) এদের সম্পর্কে নীরব। না মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর না যারা তাঁর চারপাশে বসবাস করত তাদের কেহ কখনো মরুভূমির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সেই দূরবর্তী এলাকা সফর করেছিল। এমনকি যদি কেহ এই অঞ্চলটি সফর করেও থাকে, তবু সে এই শহর সম্পর্কে জানতে পারত না। কেননা, তা গভীর বালির নিচে চাপা পড়ে ছিল।
ইহুদি, খ্রিস্টান ও নাস্তিকরা বলে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই কুরআন মাজিদের রচয়িতা। যাহোক, কেহ এ কথার ব্যাখ্যা দিতে পারে না যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই অভাবিত জ্ঞান কিভাবে লাভ করেছিলেন? বাস্তব কথা হল, আল্লাহ তাআলাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই জ্ঞান নাজিল করেছিলেন, তাঁর শাশ্বত আসমানি বার্তার উজ্জ্বল প্রমাণ স্বরূপ।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯৪: গুহাবাসী লোকেরা (আসহাবে কাহফ)

📄 মু’জিজা-৯৪: গুহাবাসী লোকেরা (আসহাবে কাহফ)


তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রকিমের অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়? যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল, অতঃপর বলল, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকান্ড সঠিক করে দিন।’ ফলে আমি গুহায় তাদের কান বন্ধ করে দিলাম অনেক বছরের জন্য।
বিতর্ককারীরা বলবে, ‘তারা ছিল তিনজন, চতুর্থ হল তাদের কুকুর।’ আর কতক বলবে, ‘তারা ছিল পাঁচজন, ষষ্ঠ হল তাদের কুকুর।’ এসবই অজানা বিষয়ে অনুমান করে। আর কেহ কেহ বলবে, ‘তারা ছিল সাতজন; অষ্টম হল তাদের কুকুর। (কাহফ, ১৮ : ০৯,১২,২২)

কুরআন মাজিদের টিকাকারদের মতে, এই আয়াতে একদল যুবকের কথা উল্লিখিত হয়েছে, যারা এক রোমান রাজার উৎপীড়ন থেকে নিজেদের ঈমান ও জীবন রক্ষার জন্য পাহাড়ের একটি গর্তে আশ্রয় নিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে গুহার ভেতর প্রায় তিনশ বছর ঘুমিয়ে রেখেছিলেন। যখন তারা ঘুম থেকে জাগ্রত হল, তাদের একজন সাথীকে একটি মুদ্রা দিয়ে খাবার কিনে আনার জন্য পাঠাল। যখন সে শহরে প্রবেশ করল, দেখতে পেল পুরো শহর সম্পূর্ণরূপে বদলে গেছে। দোকানী এত প্রাচীন মুদ্রা দেখে হতবিহ্বল হয়ে গেল। সে মনে করল, এই যুবক কোনো ধরনের ধনভান্ডারের সন্ধান পেয়েছে এবং সে এই মুদ্রার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইল। যুবকটি এমন বিপত্তির মুখে পড়ে আরও অধিক বিস্মিত হল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত রাজ দরবার পর্যন্ত গড়াল। রাজা যুবকটির কাহিনী শুনে বিস্মিত হলেন। অতঃপর তাঁর সভাসদদের সঙ্গে নিয়ে সেই গুহার কাছে গেলেন এবং যুবকদেরকে তাদের জন্য দুআ করতে বললেন। পরবর্তীতে তারা সেই একই গুহার মধ্যেই বসবাস করতে লাগল এবং মৃত্যু বরণ করল। ‘গিবন’ তাঁর ‘রোমান সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন’ (অধ্যায় ৩৩) নামক গ্রন্থে এই ঘটনার আরও কিছু বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনাটি সংঘটিত হয় রোম সম্রাট ‘ডিসাস’ এর রাজত্বকালে ২৪৯-২৫১ খ্রিস্টাব্দে। যুবকরা অতঃপর জাগ্রত হয়েছিল রোমান সম্রাট থিউডুসাস এর রাজত্বকালে। যার শাসনকাল ছিল ৪০৭ থেকে ৪৫০ খ্রিস্টাব্দ।
কিছুদিন পূর্বে আমি জর্ডানে এক স্থান ভ্রমণ করি, যাকে অধিকাংশ লোক আসহাবে কাহফের গুহা বলে ধারণা করে থাকে। এটি রাজধানী শহর আম্মানের বহিপার্শ্বে অবস্থিত। পুরো এলাকাটি খুব এবড়ো-খেবড়ো, পিঙ্গলবর্ণ পাহাড়ে। একটি পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে আছে একটি সুপ্ত গুহা, যার রয়েছে একটি বড় কক্ষ। আমি কক্ষটিতে প্রবেশ করলাম। পাথরে খোদিত সাতটি গর্ত দেখতে পেলাম। প্রতিটি গর্তের ভেতর একটি করে প্রকোষ্ঠ, যাতে একেকটি মানব কঙ্কাল। সেখানে অন্য একটি গর্ত আছে, যাতে আছে কুকুরের কঙ্কাল।
স্মর্তব্য, এসব লোকের ব্যাপারে ন্যূনতম জ্ঞান অর্জন কিংবা জানার জন্য মুহাম্মদ সা.-এর কাছে কোনো মাধ্যম কিংবা উৎস ছিল না এবং বাস্তবতা হল, তা এখনো মাটির নিচে একটি গুহায় চাপা পড়ে আছে। এটি কুরআনের মু’জিজা যে, তা ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বা নৃবিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের শত শত বছর পূর্বের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯৫: গুহাবাসীদের কর্ণকুহর বন্ধ করে দেওয়া

📄 মু’জিজা-৯৫: গুহাবাসীদের কর্ণকুহর বন্ধ করে দেওয়া


ফলে আমি (আল্লাহ) গুহায় তাদের কান (শ্রবণশক্তি) বন্ধ করে দিলাম বহু বছরের জন্য (যাতে তারা গভীর নিদ্রায় নিমগ্ন হয়)। (কাহফ ১৮ : ১১)

এই আয়াতে সেসব যুবকের কথা উল্লিখিত হয়েছে যারা গুহার ভেতর ঘুমিয়ে ছিল তিনশত বছর। লক্ষ করলে বিস্মিত হতে হয় যে, এই আয়াতে কুরআন মাজিদ শ্রবণ ব্যতীত সেসব যুবকের অন্য কোনো শরীরবৃত্তের বর্ণনা দেয় নি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে, সকল সংবেদনশীল অঙ্গের মধ্যে কেবল কানই, এমন কি, ঘুমের মধ্যেও সক্রিয় থাকে। এ কারণেই ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার জন্য আমাদের শাব্দিক সংকেত প্রয়োজন হয়। যেহেতু, আল্লাহ তাআলা এসব লোককে দীর্ঘদিনের জন্য নিদ্রিত রাখতে ইচ্ছা করলেন, তিনি তাদের শ্রবণেন্দ্রিয়কেও বন্ধ করে দিলেন। নিশ্চিতভাবে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চৌদ্দশ বছর পূর্বে ঘুমের শরীরবৃত্তীয় বিদ্যা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯৬: গুহাবাসীদের পার্শ্ব পরিবর্তন

📄 মু’জিজা-৯৬: গুহাবাসীদের পার্শ্ব পরিবর্তন


তুমি তাদের মনে করতে জাগ্রত, অথচ তারা ছিল ঘুমন্ত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাচ্ছি ডানে ও বামে এবং তাদের কুকুরটি আঁচিনায় তার সামনের দু’পা বাড়িয়ে আছে। (কাহফ, ১৮ : ১৮)

এই আয়াতটি গুহার যুবকদের ঘুমানোর ধরন সম্পর্কিত। এই আয়াত বলে, যদিও তারা তিনশ বছরের অধিককাল ঘুমিয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তাদের ডানে ও বামে পার্শ্ব পরিবর্তন করাতেন। এই আয়াতটি এভাবে সেসব লোকদের জন্য একটি বিশেষ স্বাস্থ্য-নিয়মের নির্দেশনা দেয় যারা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিছানায় শুয়ে থাকতে বাধ্য হয়। এ ধরনের লোকদের উপদেশ দেয়া হয়েছে বিছানায় তাদের অবস্থান নিয়ত পরিবর্তন করতে। অন্যথায় পরিণামে তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য-সমস্যায় পতিত হবে। যেমন- রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতা, ত্বকের পচন, শরীরের নিম্নাংশে রক্তের চাপ ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কে এসব যুবকের ঘুমানোর ধরন বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন যথার্থ ভাষা ব্যবহার করতে পারেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00