📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৮৯: সা’দুম ও গোমরাহ সম্প্রদায়ের জনপদ

📄 মু’জিজা-৮৯: সা’দুম ও গোমরাহ সম্প্রদায়ের জনপদ


আপনার প্রাণের কসম (হে নবী,) নিশ্চয় তারা (লুত সম্প্রদায়) আপন নেশায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরপাক খাচ্ছিল। অতঃপর সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে একটি বিকট আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও করল। অতঃপর আমি (আল্লাহ) তাদের (সাদুম গোত্রের) জনপদগুলিকে উল্টে দিলাম এবং তাদের ওপর বর্ষণ করলাম পোড়ামাটির পাথর। নিশ্চয় এতে পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। আর নিশ্চয় তা (জনপদগুলি) রাজপথের পাশেই বিদ্যমান। নিশ্চয় এতে ঈমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। (হিজর, ১৫ : ৭২-৭৭)

এই আয়াতগুলিতে কুরআন মাজিদ ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদগুলির অধিক সুনিশ্চিত অবস্থানস্থলের নির্দেশনা প্রদান করে। এতে বর্ণিত হয়েছে সেগুলি রাজপথের পাশে অবস্থিত।
ভৌগলিকরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছে, জনপদগুলি মৃত সাগরের দক্ষিণ পূর্বে, মক্কা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত একটি রাজপথের পাশে অবস্থিত। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যাঁর ভূগোল সম্পর্কে তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না, তথাপি এই আয়াতগুলি এমন এক বাস্তবতার কথা বলে যা কেবল সাম্প্রতিক ভূগোল বিশারদদের দ্বারাই আবিষ্কৃত হয়েছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯০: ‘আইকা’র অধিবাসী

📄 মু’জিজা-৯০: ‘আইকা’র অধিবাসী


অতঃপর ভূমিকম্প তাদের (অসতর্ক অবস্থায়) পাকড়াও করল। তারপর তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। সেসব লোক যারা শুয়াইব আলাইহিস সালাম-কে মিথ্যাবাদী বলেছিল, মনে হয় যেন তারা সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শুয়াইবকে মিথ্যাবাদী বলেছিল তারাই ছিল ক্ষতিগ্রস্ত। (আরাফ, ০৭ : ৯১-৯২)
আর নিশ্চয় আইকার অধিবাসীরা ছিল জালিম। অতএব আমি (আল্লাহ) তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম। আর এ (জনপদ) দু’টি উন্মুক্ত রাস্তার পাশেই বিদ্যমান। (হিজর, ১৫ : ৭৮-৭৯)

‘আইকা’ ছিল সেই সম্প্রদায় যেখানে নবী শুয়াইব আ. প্রেরিত হয়েছিলেন। ভৌগলিকরা সম্প্রতি এই জনপদ আবিষ্কার করেছেন সৌদি আরবের তাবুক শহরের সন্নিকটে। এখনও যে কেহ (এই ধ্বংসস্তূপ প্রত্যক্ষ করে) কুরআন মাজিদের এই আয়াতের বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করতে পারে। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না ছিলেন একজন ভৌগলিক, না ছিলেন কোনো পর্যটক। এটি অধিক সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই তথ্য অবতীর্ণ করেছেন। অতঃপর যা তিনি কুরআন মাজিদের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছিয়েছেন।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯১: হিজরের অধিবাসী

📄 মু’জিজা-৯১: হিজরের অধিবাসী


আর ছামুদের নিকট (আমি প্রেরণ করেছি) তাদের ভাই সালিহকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। (আরাফ, ০৭ : ৭৩)
যারা অহংকার করেছিল তারা বলল, নিশ্চয় তোমরা যার প্রতি ঈমান এনেছ, আমরা তাকে অস্বীকার করি। ফলে ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করল। তাই সকালে তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল। (আরাফ, ০৭ : ৭৬-৭৮)
আর অবশ্যই হিজরের অধিবাসীরা (সালেহের কওম) রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছে। আর আমি তাদেরকে আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম, তবে তারা তা থেকে বিমুখ হয়েছে। আর তারা পাহাড় কেটে বাড়ি বানাত, নিরাপদ ভেবে। কিন্তু অবশেষে ভোরের প্রাক্কালে এক বিকট আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও করল। আর তারা যা উপার্জন করত তা তাদের কোনো কাজে আসল না। (হিজর, ১৫ : ৮০-৮৪)

ঐতিহাসিকরা বলেন, ‘হিজর’ ছিল ছামুদ সম্প্রদায়ের লোকদের প্রধান শহর। ধারণা করা হয়, তারা ছিল হযরত নুহ আ.-এর পঞ্চম অধঃস্তন বংশধর, যার ধ্বংসাবশেষ সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে আধুনিক শহর ‘আল উলা’র সন্নিকটে, যা সৌদি আরবের মদিনা থেকে তাবুক যাওয়ার পথে অবস্থিত। অষ্টম শতাব্দীর মহান পরিব্রাজক ইবনে বতুতা এই এলাকাটি ভ্রমণ করেন এবং লিখেন, ‘আমি লাল পর্বতসমূহে খোদাই করা ছামুদ সম্প্রদায়ের লোকদের ভবনগুলি দেখেছি। সেগুলির চিত্রকর্মগুলি এতই উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল যেন সেগুলি অতি সম্প্রতি সেখানে স্থাপন করা হয়েছে। এবং সেখানকার অধিবাসীদের জরাজীর্ণ অস্থিসমূহ এখনও তাদের ধ্বংসাবশেষে বিদ্যমান। এটি কুরআন মাজিদের একটি মু’জিজা, যে কেহ এটির সত্যতা আজও স্বচক্ষে অবলোকন করতে পারে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৯২: ‘ইরাম’ শহর

📄 মু’জিজা-৯২: ‘ইরাম’ শহর


তুমি কি দেখনি তোমার রব কিরূপ আচরণ করেছেন আদ জাতির সঙ্গে? ইরাম (গোত্রের) সঙ্গে, যারা ছিল সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারী? যাদের মত সৃষ্টি করা হয় নি কোনো দেশে? (ফজর, ৮৯ : ০৬-০৮)

কুরআন মাজিদের ভাষ্যকারগণ বলেন, ‘আদ ইরাম’ হল আদ জাতির প্রথম দিককার একটি গোত্র, যারা ‘আদে উলা’ বা পূর্ববর্তী আদ নামে পরিচিত। পূর্বকার আরব ঐতিহাসিকদের কাছে তারা ছিল সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। সর্বপ্রথম কুরআন মাজিদই তাদেরকে উল্লেখ করেছে, এভাবে- ‘আদ জাতি, যারা বসবাস করে ইরাম শহরে।’
National Geography পত্রিকার ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর সংখ্যায় একটি প্রাচীন শহর ‘মবলা’, যা ১৯৭৩ সনে সিরিয়ায় খননকার্যের মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয়েছে, তার ব্যাপারে একটি মজাদার বিবরণ দিয়েছে। শহরটি প্রায় তেতাল্লিশ শত বছরের প্রাচীন। ম্যাগাজিনটি আরও লিখেছে, শহরটিতে একটি লাইব্রেরি ছিল। তাতে পার্শ্ববর্তী শহরগুলির একটি তালিকা ছিল, যাদের সঙ্গে এলবার অধিবাসীরা বাণিজ্য করত। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হল, সেই শহরগুলির তালিকায় ‘ইরাম’ নামক একটি শহরের নামও লিপিবদ্ধ ছিল। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে এমন একটি শহর সম্পর্কে জানতে পারেন যা ছিল তেতাল্লিশ শত বছরের পুরনো এবং যা অতি সম্প্রতি ১৯৭৩ সালে ভূতত্ত্ববিদদের মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয়েছে? আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কে তাঁকে এই জ্ঞান দান করেছেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00