📄 মু’জিজা : ৮৫: প্রসব বেদনা ও সন্তান প্রসব
মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতই না অকৃতজ্ঞ! তিনি (আল্লাহ) তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন? একটি ‘নুতফা; থেকে তাকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে সুগঠিত করেছেন। পরবর্তীতে (ছুম্মা) তিনি তার পথ সহজ করে দিয়েছেন। (আবাসা, ৮০ : ১৭-২০)
ভ্রূণ পূর্ণরূপে গঠিত হয় ষষ্ঠ মাসের শেষ দিকে। অতঃপর তা জরায়ুর উত্তাপের মধ্যে একটি সময়কাল অতিবাহিত করে। সকল দৈহিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্রসমূহ এই সময় বিকশিত হয়। জরায়ু এ সময় তাকে বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি যোগায় এবং তা তাকে দ্রুত বড় করে তোলে। প্রসব পর্যন্ত এই ধাপ অব্যাহত থাকে, যখন ভ্রূণটি মায়ের গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসে। সাধারণত প্রসবের পথটি খুব সরু থাকে এবং বাহ্যত মনে হয় তা দিয়ে সন্তান প্রসব হওয়া খুব কষ্টসাধ্য হবে। যা হোক, প্রসবের সময় মায়ের শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক, শারীরতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটে। এসব পরিবর্তন প্রসবের রাস্তা দিয়ে সন্তান নির্গমন ও তার নড়াচড়াকে মসৃণ ও নিষ্কণ্টক করে তোলে। এসব পরিবর্তনের কতক হল :
প্রসবের পথ প্রশস্ত হওয়ার জন্য Pelvis joints (নিম্ন ঔদরিক গিঁটসমূহ) শিথিল হয়, প্রসবের রাস্তা আরও প্রসারিত হতে সহযোগিতার জন্য মাংসপেশীগুলি শিথিল হয়ে যায়। Amniotic তরল পদার্থ, যা ইতঃপূর্বে ভ্রূণের চারপাশে ছিল তা প্রসবের পথকে পিচ্ছিল করে দেয়। আর ভ্রূণের মাথার খুলির হাড় ভ্রূণটিকে মায়ের গর্ভাশয় থেকে পৃথিবীতে আসতে আরও সহায়তা করে। কুরআন মাজিদ এই পুরো প্রক্রিয়াকেই এই আয়াত দ্বারা ব্যক্ত করেছে— ‘...তিনি তার পথ সহজ করে দিয়েছেন।’
বিগত আলোচনা থেকে এ কথা পরিষ্কার হয়েছে যে, কুরআন মাজিদ গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়া, পরিণত হওয়া ও প্রসবের পর্যায় পর্যন্ত মানব ভ্রূণবিকাশের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে। প্রথম. তা বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান প্রধান ঘটনাগুলির বর্ণনা দেয়। দ্বিতীয়. তা এ সকল ঘটনার ক্রমপরম্পরারও বর্ণনা প্রদান করে, যা ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে আবিষ্কৃত কালানুক্রমিক বিন্যাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। তৃতীয়. তা এ সকল পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সময়েরও বর্ণনা দেয়। সংঘটিত পরিবর্তন বা ঘটনাটি কি দ্রুত সংঘটিত হয়? না এর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন এই পার্থক্য নির্দেশ করে। চতুর্থ. এটি এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক উপযুক্ত ও সার্বজনীন শব্দ ব্যবহার করে। প্রত্যেক শব্দই একটি নির্দিষ্ট ধাপের বর্ণনা দেয়, যার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সূচনা ও সমাপ্তি রয়েছে এবং যার আছে অঙ্গ-সংস্থানগত বা শরীরতত্ত্ব সম্পর্কিত বিশেষ স্বকীয়তা। ভ্রূণতত্ত্বের ওপর সাম্প্রতিক গবেষণাসমূহ কুরআন মাজিদের এ সকল বর্ণনার সত্যতাকে প্রত্যয়ন করে। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সেই মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর প্রিয় রাসুলের ওপর এমন মু’জিজাপূর্ণ ওহি অবতীর্ণ করেছেন, যা তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি সম্পর্কিত এমন বিস্ময়পূর্ণ তথ্য ধারণ করে। সেই সুমহান আল্লাহ তাআলার প্রতি অজস্র কৃতজ্ঞতা যিনি তাঁর গ্রন্থে এমন সমুজ্জ্বল মু’জিজাসমূহ গচ্ছিত রেখেছেন, যাতে মানবজাতির কাছে তাঁর সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ হিসেবে কুরআন মাজিদের ন্যাযতার প্রশ্নে কোনোরূপ সন্দেহ না থাকে।
‘হে লোক সকল, যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও তবে (ভেবে দেখ) আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি, পরবর্তীতে (ছুম্মা) বীর্য (নুতফা) থেকে, পরবর্তীতে (ছুম্মা) আলাকা (জমাট রক্ত) থেকে। এরপর (ছুম্মা) পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণ আকৃতি বিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে (আমার ক্ষমতাকে) প্রকাশ করার জন্য। আর আমি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই। এরপর (ছুম্মা) আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপরে (আমি তোমাদেরকে প্রতিপালন করি) যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেহ কেহ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান না থাকে। .... আর নিশ্চয় কিয়ামত (বিচার দিবস) অবশ্যম্ভাবী। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কবরে যারা আছে, তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন। (হজ্জ, ২২ : ০৫-০৭)