📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৮২: নবজাতকের লিঙ্গ নির্ধারণ

📄 মু’জিজা : ৮২: নবজাতকের লিঙ্গ নির্ধারণ


অতঃপর (ছুম্মা) সে (নবজাতক) আলাকায় পরিণত হয়। তারপর (ফা) আল্লাহ তাকে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেন এবং সুবিন্যস্ত করেন। অতঃপর (ফা) তিনি তা থেকে সৃষ্টি করেন দুই ধরনের লিঙ্গ-পুরুষ ও মহিলা। (কিয়ামা ৭৫ : ৩৮-৩৯)

প্রফেসর কিথ মুর তাঁর ভ্রূণতত্ত্বের পাঠ্যবই ‘The Developing Human, 1912, P.272’ -এর মধ্যে এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এভাবে : ভ্রূণতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সপ্তম সপ্তাহ পর্যন্ত নবজাতকের লিঙ্গের অঙ্গসংস্থানগত লক্ষণ দেখা যায় না, যখন পুরুষের অণ্ডকোষ এবং মহিলার ডিম্বকোষ গঠিত হয়। যৌন অঙ্গসমূহের বিকাশ শুরু হয় চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রথম দিকে। এটি উপরোল্লিখিত কুরআন মাজিদের বর্ণনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ যে, যৌনঅঙ্গের বিকাশ শুরু হয় হাড় ও মাংসপেশী গঠিত হওয়ার পর।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৮৩: ‘নাশআ’ পর্যায়

📄 মু’জিজা : ৮৩: ‘নাশআ’ পর্যায়


...অতঃপর (ছুম্মা) আমি আনশা’নাহু (তাকে গড়ে তুলি) ‘খালকান আখারা’ (অন্য এক সৃষ্টি রূপে)। অতএব, সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত বরকতময়। (মুমিনূন, ২৩ : ২১)

‘নাশআ’ বা চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয় নবম সপ্তাহে এবং গর্ভধারণের শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। এ পর্যায়ে ভ্রূণ মানব আকৃতি প্রদর্শন করে। ভাষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে ‘নাশআ’ শব্দের কতিপয় অর্থ রয়েছে। যথা : আরম্ভ করা, জন্মানো, বৃদ্ধি করা, ওঠা ইত্যাদি। বস্তুত ভ্রূণ এর সবকটি পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই অতিবাহিত হয়। প্রথম অর্থ, আরম্ভ করা— তা বিভিন্ন শারীরিক অঙ্গ ও তন্ত্রের ক্রিয়াতৎপরতা শুরু করার বর্ণনা দেয়। দ্বিতীয় অর্থ তথা জন্মানো— তা বিভিন্ন অঙ্গের দ্রুত বিকাশের প্রতি নির্দেশ করে। তৃতীয় অর্থ তথা বৃদ্ধি করা— তা ভ্রূণের আকৃতি ও ওজন বৃদ্ধির বর্ণনা দেয়। অতএব, কুরআন মাজিদের শব্দ ‘নাশআ’ এ সকল পরিবর্তন বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক উপযুক্ত ও সার্বজনীন।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৮৪: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘খালকান আখারা’

📄 মু’জিজা : ৮৪: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘খালকান আখারা’


‘....... অতঃপর (ছুম্মা) আমি (আল্লাহ) আনশা’নাহু (তাকে গড়ে তুলি) খালকান আখারা (অন্য এক সৃষ্টিরূপে)। অতএব, সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত বরকতময়। (মুমিনূন, ২৩ : ২৪)

Fetal কোষসমূহের দ্রুত বৃদ্ধি ও বিকাশ ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটায়, যা তখন একটি সম্পূর্ণ নতুন রূপ ধারণ করে। এই নতুন রূপটিই উপরোল্লিখিত আয়াতে ‘খালকান আখারা’ (অন্যসৃষ্টি) শব্দে ব্যক্ত হয়েছে। এই নতুন রূপটি এখন সম্পূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্রসমূহ নিয়ে গঠিত, আর তা একটি মানব আকৃতির রূপ লাভ করে।
স্মর্তব্য যে, পূর্বের বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, পুরুষের শুক্রাণুতে কিংবা মহিলার ডিম্বাণুতে একটি পূর্ণ আকৃতি বিশিষ্ট মানব-কায়া বিদ্যমান রয়েছে। কুরআন মাজিদ চৌদ্দশ বছরেরও অধিককাল পূর্বে বর্ণনা করেছে, একজন মানব শিশুর অঙ্গসংস্থানগত রূপ গঠনের সূচনা প্রাথমিকভাবে দৃষ্টিগোচর হয় ভ্রূণবিকাশের সর্বশেষ ধাপে এসে। ভ্রূণবিজ্ঞানীগণ কেবল সম্প্রতিই ইলেক্ট্রন অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তা আবিষ্কার করেছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৮৫: প্রসব বেদনা ও সন্তান প্রসব

📄 মু’জিজা : ৮৫: প্রসব বেদনা ও সন্তান প্রসব


মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতই না অকৃতজ্ঞ! তিনি (আল্লাহ) তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন? একটি ‘নুতফা; থেকে তাকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে সুগঠিত করেছেন। পরবর্তীতে (ছুম্মা) তিনি তার পথ সহজ করে দিয়েছেন। (আবাসা, ৮০ : ১৭-২০)

ভ্রূণ পূর্ণরূপে গঠিত হয় ষষ্ঠ মাসের শেষ দিকে। অতঃপর তা জরায়ুর উত্তাপের মধ্যে একটি সময়কাল অতিবাহিত করে। সকল দৈহিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্রসমূহ এই সময় বিকশিত হয়। জরায়ু এ সময় তাকে বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি যোগায় এবং তা তাকে দ্রুত বড় করে তোলে। প্রসব পর্যন্ত এই ধাপ অব্যাহত থাকে, যখন ভ্রূণটি মায়ের গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসে। সাধারণত প্রসবের পথটি খুব সরু থাকে এবং বাহ্যত মনে হয় তা দিয়ে সন্তান প্রসব হওয়া খুব কষ্টসাধ্য হবে। যা হোক, প্রসবের সময় মায়ের শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক, শারীরতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটে। এসব পরিবর্তন প্রসবের রাস্তা দিয়ে সন্তান নির্গমন ও তার নড়াচড়াকে মসৃণ ও নিষ্কণ্টক করে তোলে। এসব পরিবর্তনের কতক হল :
প্রসবের পথ প্রশস্ত হওয়ার জন্য Pelvis joints (নিম্ন ঔদরিক গিঁটসমূহ) শিথিল হয়, প্রসবের রাস্তা আরও প্রসারিত হতে সহযোগিতার জন্য মাংসপেশীগুলি শিথিল হয়ে যায়। Amniotic তরল পদার্থ, যা ইতঃপূর্বে ভ্রূণের চারপাশে ছিল তা প্রসবের পথকে পিচ্ছিল করে দেয়। আর ভ্রূণের মাথার খুলির হাড় ভ্রূণটিকে মায়ের গর্ভাশয় থেকে পৃথিবীতে আসতে আরও সহায়তা করে। কুরআন মাজিদ এই পুরো প্রক্রিয়াকেই এই আয়াত দ্বারা ব্যক্ত করেছে— ‘...তিনি তার পথ সহজ করে দিয়েছেন।’

বিগত আলোচনা থেকে এ কথা পরিষ্কার হয়েছে যে, কুরআন মাজিদ গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়া, পরিণত হওয়া ও প্রসবের পর্যায় পর্যন্ত মানব ভ্রূণবিকাশের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে। প্রথম. তা বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান প্রধান ঘটনাগুলির বর্ণনা দেয়। দ্বিতীয়. তা এ সকল ঘটনার ক্রমপরম্পরারও বর্ণনা প্রদান করে, যা ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে আবিষ্কৃত কালানুক্রমিক বিন্যাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। তৃতীয়. তা এ সকল পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সময়েরও বর্ণনা দেয়। সংঘটিত পরিবর্তন বা ঘটনাটি কি দ্রুত সংঘটিত হয়? না এর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন এই পার্থক্য নির্দেশ করে। চতুর্থ. এটি এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক উপযুক্ত ও সার্বজনীন শব্দ ব্যবহার করে। প্রত্যেক শব্দই একটি নির্দিষ্ট ধাপের বর্ণনা দেয়, যার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সূচনা ও সমাপ্তি রয়েছে এবং যার আছে অঙ্গ-সংস্থানগত বা শরীরতত্ত্ব সম্পর্কিত বিশেষ স্বকীয়তা। ভ্রূণতত্ত্বের ওপর সাম্প্রতিক গবেষণাসমূহ কুরআন মাজিদের এ সকল বর্ণনার সত্যতাকে প্রত্যয়ন করে। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সেই মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর প্রিয় রাসুলের ওপর এমন মু’জিজাপূর্ণ ওহি অবতীর্ণ করেছেন, যা তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি সম্পর্কিত এমন বিস্ময়পূর্ণ তথ্য ধারণ করে। সেই সুমহান আল্লাহ তাআলার প্রতি অজস্র কৃতজ্ঞতা যিনি তাঁর গ্রন্থে এমন সমুজ্জ্বল মু’জিজাসমূহ গচ্ছিত রেখেছেন, যাতে মানবজাতির কাছে তাঁর সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ হিসেবে কুরআন মাজিদের ন্যাযতার প্রশ্নে কোনো‍রূপ সন্দেহ না থাকে।
‘হে লোক সকল, যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও তবে (ভেবে দেখ) আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি, পরবর্তীতে (ছুম্মা) বীর্য (নুতফা) থেকে, পরবর্তীতে (ছুম্মা) আলাকা (জমাট রক্ত) থেকে। এরপর (ছুম্মা) পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণ আকৃতি বিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে (আমার ক্ষমতাকে) প্রকাশ করার জন্য। আর আমি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই। এরপর (ছুম্মা) আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপরে (আমি তোমাদেরকে প্রতিপালন করি) যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেহ কেহ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান না থাকে। .... আর নিশ্চয় কিয়ামত (বিচার দিবস) অবশ্যম্ভাবী। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কবরে যারা আছে, তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন। (হজ্জ, ২২ : ০৫-০৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00