📄 মু’জিজা : ৮১: ‘লাহম’ উপ-পর্যায়
অতঃপর (ছুম্মা) ‘নুতফা’কে আমি (আল্লাহ) ‘আলাকা’য় পরিণত করি। তারপর (ফা) ‘আলাকা’কে ‘মুদ্গা’য় রূপান্তরিত করি। তারপর (ফা) ‘মুদ্গা’কে ‘ইযাম’-এ (হাড়, মেরুদন্ড, কঙ্কাল ইত্যাদিতে) পরিণত করি। তারপর (ফা) হাড়কে গোশত দিয়ে আবৃত করি। (মুমিনূন, ২৩ : ১৪)
এখানে কুরআন মাজিদ সুস্পষ্টভাবে বলে, ভ্রূণগত হাড় গঠিত হয় ‘মুদ্গা’ পর্যায়ের পরে। অতঃপর মাংসপেশী দ্বারা আবৃত হয়। এটি পরবর্তীতে ভ্রূণকে জরায়ুর অভ্যন্তরে নড়াচড়ায় সাহায্য করে। এই ধাপ শুরু হয় সপ্তম সপ্তাহের সমাপ্তির পর এবং অষ্টম সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। ভ্রূণবিকাশের দ্বিতীয় প্রধান পর্যায় অর্থাৎ, ‘তাখলিক’-এই ধাপের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। যা শেষ হয় ভ্রূণ বিকাশের অষ্টম সপ্তাহের সমাপ্তির মাধ্যমে। এরপরে ভ্রূণ তৃতীয় এবং সর্বশেষ পর্যায় তথা ‘নাশআ’ বা বিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করে। এ কারণে কুরআন মাজিদ এ ক্ষেত্রে ‘ছুম্মা’ संयोजक অব্যয় ব্যবহার করেছে, যা ‘তাখলিক’ ও ‘নাশআ’- ভ্রূণ বিকাশের এই দুই প্রধান পর্যায়ের মাঝখানে একটি সময়ের ব্যবধান নির্দেশ করে।
📄 মু’জিজা : ৮২: নবজাতকের লিঙ্গ নির্ধারণ
অতঃপর (ছুম্মা) সে (নবজাতক) আলাকায় পরিণত হয়। তারপর (ফা) আল্লাহ তাকে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেন এবং সুবিন্যস্ত করেন। অতঃপর (ফা) তিনি তা থেকে সৃষ্টি করেন দুই ধরনের লিঙ্গ-পুরুষ ও মহিলা। (কিয়ামা ৭৫ : ৩৮-৩৯)
প্রফেসর কিথ মুর তাঁর ভ্রূণতত্ত্বের পাঠ্যবই ‘The Developing Human, 1912, P.272’ -এর মধ্যে এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এভাবে : ভ্রূণতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সপ্তম সপ্তাহ পর্যন্ত নবজাতকের লিঙ্গের অঙ্গসংস্থানগত লক্ষণ দেখা যায় না, যখন পুরুষের অণ্ডকোষ এবং মহিলার ডিম্বকোষ গঠিত হয়। যৌন অঙ্গসমূহের বিকাশ শুরু হয় চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রথম দিকে। এটি উপরোল্লিখিত কুরআন মাজিদের বর্ণনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ যে, যৌনঅঙ্গের বিকাশ শুরু হয় হাড় ও মাংসপেশী গঠিত হওয়ার পর।
📄 মু’জিজা : ৮৩: ‘নাশআ’ পর্যায়
...অতঃপর (ছুম্মা) আমি আনশা’নাহু (তাকে গড়ে তুলি) ‘খালকান আখারা’ (অন্য এক সৃষ্টি রূপে)। অতএব, সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত বরকতময়। (মুমিনূন, ২৩ : ২১)
‘নাশআ’ বা চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয় নবম সপ্তাহে এবং গর্ভধারণের শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। এ পর্যায়ে ভ্রূণ মানব আকৃতি প্রদর্শন করে। ভাষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে ‘নাশআ’ শব্দের কতিপয় অর্থ রয়েছে। যথা : আরম্ভ করা, জন্মানো, বৃদ্ধি করা, ওঠা ইত্যাদি। বস্তুত ভ্রূণ এর সবকটি পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই অতিবাহিত হয়। প্রথম অর্থ, আরম্ভ করা— তা বিভিন্ন শারীরিক অঙ্গ ও তন্ত্রের ক্রিয়াতৎপরতা শুরু করার বর্ণনা দেয়। দ্বিতীয় অর্থ তথা জন্মানো— তা বিভিন্ন অঙ্গের দ্রুত বিকাশের প্রতি নির্দেশ করে। তৃতীয় অর্থ তথা বৃদ্ধি করা— তা ভ্রূণের আকৃতি ও ওজন বৃদ্ধির বর্ণনা দেয়। অতএব, কুরআন মাজিদের শব্দ ‘নাশআ’ এ সকল পরিবর্তন বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক উপযুক্ত ও সার্বজনীন।
📄 মু’জিজা : ৮৪: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘খালকান আখারা’
‘....... অতঃপর (ছুম্মা) আমি (আল্লাহ) আনশা’নাহু (তাকে গড়ে তুলি) খালকান আখারা (অন্য এক সৃষ্টিরূপে)। অতএব, সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত বরকতময়। (মুমিনূন, ২৩ : ২৪)
Fetal কোষসমূহের দ্রুত বৃদ্ধি ও বিকাশ ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটায়, যা তখন একটি সম্পূর্ণ নতুন রূপ ধারণ করে। এই নতুন রূপটিই উপরোল্লিখিত আয়াতে ‘খালকান আখারা’ (অন্যসৃষ্টি) শব্দে ব্যক্ত হয়েছে। এই নতুন রূপটি এখন সম্পূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্রসমূহ নিয়ে গঠিত, আর তা একটি মানব আকৃতির রূপ লাভ করে।
স্মর্তব্য যে, পূর্বের বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, পুরুষের শুক্রাণুতে কিংবা মহিলার ডিম্বাণুতে একটি পূর্ণ আকৃতি বিশিষ্ট মানব-কায়া বিদ্যমান রয়েছে। কুরআন মাজিদ চৌদ্দশ বছরেরও অধিককাল পূর্বে বর্ণনা করেছে, একজন মানব শিশুর অঙ্গসংস্থানগত রূপ গঠনের সূচনা প্রাথমিকভাবে দৃষ্টিগোচর হয় ভ্রূণবিকাশের সর্বশেষ ধাপে এসে। ভ্রূণবিজ্ঞানীগণ কেবল সম্প্রতিই ইলেক্ট্রন অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তা আবিষ্কার করেছে।