📄 মু’জিজা : ৭৯: ‘ইয়াম’ উপ-পর্যায়
অতঃপর (ছুম্মা) ‘নুতফা’কে আমি (আল্লাহ) ‘আলাকা’য় পরিণত করি। তারপর (ফা) ‘আলাকা’কে ‘মুদ্গা’য় রূপান্তরিত করি। তারপর (ফা) ‘মুদ্গা’কে ‘ইযাম’-এ (হাড়, মেরুদন্ড, কঙ্কাল ইত্যাদিতে) পরিণত করি। তারপর (ফা) হাড়কে গোশত দিয়ে আবৃত করি। (মুমিনূন, ২৩ : ১৪)
‘মুদ্গা’ পর্যায়ে ৬ষ্ঠ সপ্তাহ পর্যন্ত ভ্রূণের বিকাশ অব্যাহত থাকে। এ পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট মানবাকৃতি দেখা যায় না। পঞ্চম সপ্তাহের সূচনা থেকে কোমলাস্থি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই আয়াত পরিষ্কারভাবে বলে, ‘ইযাম’-এর পর্যায় শুরু হয় ‘মুদ্গা’ পর্যায়ের পরে। অধিকন্তু ‘ফা’ অব্যয়টি নির্দেশ করে যে, এই গঠন প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে দ্রুত সম্পাদিত হয়ে থাকে। বিস্ময়ের ব্যাপার হল, কুরআন মাজিদের সকল তথ্যই ভ্রূণবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আবিষ্কৃত অধিকাংশ তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।
📄 মু’জিজা : ৮০: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘সাওয়াকা’
হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে ধোঁকা দিয়েছে? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর (ফা) তিনি ‘সাওয়াকা’ (তোমাকে মসৃণ ও সোজা করেছেন)। অতঃপর (ফা) তোমাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন। (ইনফিতার, ৮২ : ০৬-০৭)
অঙ্গসংস্থান (Organogenesis) সম্পন্ন হয় ‘ইযাম’ ধাপে। অতঃপর ভ্রূণের সাধারণীকৃত কোষগুলো পৃথক হতে শুরু করে এবং কার্যকরী মাংসপেশী ও অস্থিসম্পর্কীয় দল গঠন করে। এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, শুরুতে ভ্রূণ থাকে ‘C’ আকৃতির। অতঃপর তা সপ্তম সপ্তাহে সোজা ও দীর্ঘায়িত হয় এবং বাহ্যত একটি খুব মসৃণ ও খুব সোজা আকৃতি ধারণ করে। বিস্ময়ের ব্যাপার হল, কুরআন মাজিদ এমন একটি সূক্ষ্ম কিন্তু সুস্পষ্ট ভ্রূণবিকাশের স্তরকে ‘সাওয়াকা’ শব্দ ব্যবহার করে উল্লেখ করেছে। যার অর্থ মসৃণ কিংবা সোজা।
📄 মু’জিজা : ৮১: ‘লাহম’ উপ-পর্যায়
অতঃপর (ছুম্মা) ‘নুতফা’কে আমি (আল্লাহ) ‘আলাকা’য় পরিণত করি। তারপর (ফা) ‘আলাকা’কে ‘মুদ্গা’য় রূপান্তরিত করি। তারপর (ফা) ‘মুদ্গা’কে ‘ইযাম’-এ (হাড়, মেরুদন্ড, কঙ্কাল ইত্যাদিতে) পরিণত করি। তারপর (ফা) হাড়কে গোশত দিয়ে আবৃত করি। (মুমিনূন, ২৩ : ১৪)
এখানে কুরআন মাজিদ সুস্পষ্টভাবে বলে, ভ্রূণগত হাড় গঠিত হয় ‘মুদ্গা’ পর্যায়ের পরে। অতঃপর মাংসপেশী দ্বারা আবৃত হয়। এটি পরবর্তীতে ভ্রূণকে জরায়ুর অভ্যন্তরে নড়াচড়ায় সাহায্য করে। এই ধাপ শুরু হয় সপ্তম সপ্তাহের সমাপ্তির পর এবং অষ্টম সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। ভ্রূণবিকাশের দ্বিতীয় প্রধান পর্যায় অর্থাৎ, ‘তাখলিক’-এই ধাপের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। যা শেষ হয় ভ্রূণ বিকাশের অষ্টম সপ্তাহের সমাপ্তির মাধ্যমে। এরপরে ভ্রূণ তৃতীয় এবং সর্বশেষ পর্যায় তথা ‘নাশআ’ বা বিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করে। এ কারণে কুরআন মাজিদ এ ক্ষেত্রে ‘ছুম্মা’ संयोजक অব্যয় ব্যবহার করেছে, যা ‘তাখলিক’ ও ‘নাশআ’- ভ্রূণ বিকাশের এই দুই প্রধান পর্যায়ের মাঝখানে একটি সময়ের ব্যবধান নির্দেশ করে।
📄 মু’জিজা : ৮২: নবজাতকের লিঙ্গ নির্ধারণ
অতঃপর (ছুম্মা) সে (নবজাতক) আলাকায় পরিণত হয়। তারপর (ফা) আল্লাহ তাকে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেন এবং সুবিন্যস্ত করেন। অতঃপর (ফা) তিনি তা থেকে সৃষ্টি করেন দুই ধরনের লিঙ্গ-পুরুষ ও মহিলা। (কিয়ামা ৭৫ : ৩৮-৩৯)
প্রফেসর কিথ মুর তাঁর ভ্রূণতত্ত্বের পাঠ্যবই ‘The Developing Human, 1912, P.272’ -এর মধ্যে এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এভাবে : ভ্রূণতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সপ্তম সপ্তাহ পর্যন্ত নবজাতকের লিঙ্গের অঙ্গসংস্থানগত লক্ষণ দেখা যায় না, যখন পুরুষের অণ্ডকোষ এবং মহিলার ডিম্বকোষ গঠিত হয়। যৌন অঙ্গসমূহের বিকাশ শুরু হয় চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রথম দিকে। এটি উপরোল্লিখিত কুরআন মাজিদের বর্ণনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ যে, যৌনঅঙ্গের বিকাশ শুরু হয় হাড় ও মাংসপেশী গঠিত হওয়ার পর।