📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৭৩: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘নুতফাতুন আমশাহ’

📄 মু’জিজা : ৭৩: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘নুতফাতুন আমশাহ’


আমি (আল্লাহ) মানুষকে সৃষ্টি করেছি ‘নুতফাতুন আমশাহ’ (মিশ্র শুক্রবিন্দু) থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব। (ইনসান, ৭৬ : ০২)

ইতঃপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, ‘নুতফা’ হল একটি ফোঁটা। পক্ষান্তরে ‘আমশাহ’ শব্দের অর্থ হল, একটি মিশ্রণ। অতএব এই শব্দটি পুরুষ ও মহিলার বীর্যপাতের উপাদানগত মিশ্রণকে নির্দেশ করে। ভ্রূণবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক জ্ঞান অনুসারে সাধারণত এই মিশ্রণ সংঘটিত হয় ডিম্বনালীর ওপরের এক তৃতীয় অংশে এবং খুব কমই জরায়ুর অভ্যন্তরে। তা পরে জাইগোট সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, ‘নুতফা’ শব্দটি একটি একবচন বিশেষ্য। পক্ষান্তরে ‘আমশাহ’ হল বিশেষণ, যা বহুবচনের শব্দ নির্দেশ করে। এভাবে ‘নুতফাতুন আমশাহ’ শব্দদ্বয় দু’টি তরল উপাদানের মিশ্রণ এবং ভ্রূণবিকাশের এই উপপর্যায়ে একটি জাইগোটের গঠনকে যথাযথভাবে বর্ণনা করে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৭৪: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘কারারিম মাকিন’

📄 মু’জিজা : ৭৪: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘কারারিম মাকিন’


তারপর আমি তাকে ‘নুতফা’ রূপে ‘কারারিম মাকিন’ (সুরক্ষিত আধার)-এ স্থাপন করেছি। (মুমিনূন, ২৩ : ১৩)

আরবি শব্দ ‘ক্বারার’-এর অর্থ অবস্থান। আর ‘মাকিন’ শব্দের অর্থ সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত। ভ্রূণবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক জ্ঞানের ভিত্তিতে, ‘ক্বারার’ শব্দটি জরায়ুর সঙ্গে একটি বিকাশমান ভ্রূণের সম্পর্ককে নির্দেশ করে এবং ‘মাকিন’ শব্দটি মায়ের শরীরের সঙ্গে জরায়ুর সম্পর্ক নির্দেশ করে। নিষিক্ত হওয়ার সাত থেকে নয় দিন পর Blastocyst জরায়ুর দিকে সরে আসে এবং তার দেয়ালের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যায়। এটিই সেই স্থান যেখানে অধিকতর কোষ বিভাজন এবং পৃথকীকরণের প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। এটি খুবই জরুরি যে, Blastocyst জরায়ুর একটি নির্দিষ্ট স্থানে পূর্ণরূপে স্থাপিত হবে এবং সেই স্থানও ভালভাবে সংরক্ষিত হবে। নতুবা তা স্খলিত হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যেমনটি হয়ে থাকে উদরস্থিত কিংবা tubal গর্ভধারণের ক্ষেত্রে। এতদুভয় ধারণা‍ই কুরআন মাজিদের শব্দ ‘কারারিম মাকিন’-এর মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৭৫: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘কাদ্দারাহু’

📄 মু’জিজা : ৭৫: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘কাদ্দারাহু’


মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতই না অকৃতজ্ঞ! তিনি (আল্লাহ) তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন? ‘নুতফা’ থেকে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর (‘ফা’) তিনি ‘কাদ্দারাহু’ (তাকে সুগঠিত করেছেন)। (আবাসা, ৮০ : ১৭-১৯)

একটি নতুন মানব দেহ সৃষ্টির সূচনা হয় একটি জাইগোট গঠনের মাধ্যমে। এটি ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম ও প্রায় ৪মিলিয়ন ভিন্ন ভিন্ন জিন দ্বারা গঠিত। প্রত্যেক ক্রোমোজোমেরই নির্দিষ্ট সেটের জিন রয়েছে, যা নবজাতকের সুপ্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ বহন করে। পুরুষ ও মহিলার জিন বিনিময় যা, পারস্পরিক alleles pair নামে পরিচিত। প্রতিটি জিনেরই একটি পরিমাণগত কিংবা গুণগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যখন জিনের পারস্পরিক জোড়া বিনিময় হয় তখন নবজাতকের বৈশিষ্ট্য গঠন হয়। যদি জিনের মধ্যে কোনো গুণগত বৈশিষ্ট্য থাকে, প্রবল বৈশিষ্ট্যটি দুর্বল বৈশিষ্ট্যটিকে পরাস্ত করে এবং কেবল প্রবল বৈশিষ্ট্যই নবজাতকের দেহে দেখা যায়। যদি জিনটির কোনো পরিমাণগত বৈশিষ্ট্য থাকে, পুরুষ ও মহিলার জিন পরস্পর মিশ্রিত হয়ে মধ্যবর্তী চরিত্র বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি করে। এভাবে কার্যক্রমের একটি জটিল প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা নবজাতকের মধ্যে সকল প্রকার চরিত্রবৈশিষ্ট্য গঠন ও প্রকাশ ঘটায়। উল্লেখ্য যে, ভ্রূণতত্ত্ববিদরা ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত একটি প্রজনন পরিকল্পনার ধারণার বর্ণনা দিতে পারে নি। এটি কুরআন মাজিদের একটি মু’জিজা যে, তা এই ঘটনা বর্ণনার জন্য ‘কাদ্দারাহু’ শব্দ ব্যবহার করেছে। ‘কাদ্দারাহু’ শব্দটি মূল শব্দ ‘কাদারা’ থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ পরিকল্পনা প্রণয়ন বা কার্যক্রম বিন্যস্ত করা। কুরআন মাজিদ এভাবে জিনের প্রকাশ ও চরিত্র-বৈশিষ্ট্য গঠনের বিষয় বহুপূর্বে সপ্তম শতাব্দীতে সুদৃঢ়ভাবে বর্ণনা করেছে। পক্ষান্তরে ভ্রূণবিশারদরা তা আবিষ্কার করেছে বিংশ শতাব্দীতে। আরও উল্লেখ্য যে, এই গঠন-প্রক্রিয়া হয় খুব দ্রুত এবং তা allelic জিন বহনকারী বিনিময়কৃত ক্রোমোজোমগুলির পাশাপাশি অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গে সংঘটিত হয়। কুরআন মাজিদ ‘ফা’ অব্যয় ব্যবহারের মাধ্যমে এই বিষয়টির যথাযথ বর্ণনা প্রদান করেছে, যা অব্যবহিত পরম্পরাগত পরিবর্তন নির্দেশ করে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৭৬: কুরআনি পরিভাষা ‘হারছ’

📄 মু’জিজা : ৭৬: কুরআনি পরিভাষা ‘হারছ’


তোমাদের স্ত্রী তোমাদের ‘হারছ’ (শস্যক্ষেত্র)। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে গমন কর, যখন এবং যেভাবে চাও। (বাকারা, ০২ : ২২৩)

এই আয়াতগুলি মানব বিকাশের বৈজ্ঞানিক সত্যকে সুন্দরভাবে বর্ণনা করে; কিভাবে একটি জীবনের বীজ একজন পরিপূর্ণ মানুষরূপে বিকশিত হয়। উপরে বর্ণিত উপ-পর্যায়গুলি শেষ হওয়ার পর জাইগোটটি জরায়ু নালী থেকে জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয় এবং তা জরায়ুর দেয়াল স্থাপিত হয়, যেমনটি বীজ মাটির ভেতর বপন করা হয়। এটিই ‘নুতফা’র সর্বশেষ পর্যায়। কুরআন মাজিদ ‘হারছ’ শব্দ দ্বারা এটিকে নির্দেশ করে। আভিধানিক অর্থে ‘হারছ’ শব্দটি মাটি চাষ করা বুঝায়। এখানে তার সঙ্গে সাদৃশ্য হল, জরায়ুর দেয়াল মাটিসদৃশ। আর জাইগোট সেই বীজের মত যা তাতে বপন করা হয়েছে। অধিকন্তু বীজ যেমনটি মাটি থেকে পুষ্টি আহরণ করে এবং একটি চারাগাছে পরিণত হয়, তেমনিভাবে জাইগোট জরায়ুর ভেতর দিয়ে পুষ্টি আহরণ করে এবং একজন মানুষের আকৃতি লাভ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00