📄 মু’জিজা : ৭১: কুরআন মাজিদের শব্দ ‘সুলালা’
তারপর তিনি (আল্লাহ) তাঁর (মানুষের) বংশধর সৃষ্টি করেছেন ‘সুলালা’ (তুচ্ছ পানির নির্যাস) থেকে। (সাজদাহ, ৩২ : ০৮)
আর আমি অবশ্যই মানুষকে ‘সুলালা’ (মাটির নির্যাস) থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর আমি (আল্লাহ) নুতফারূপে সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। (মুমিনূন, ২৩ : ১২-১৩)
আরবি শব্দ ‘সুলালা’র তিনটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ রয়েছে। এর অর্থ একটি তরলের সাধারণ নির্যাস, স্বল্প পরিমাণ তরল ও একটি মৎস্য সদৃশ কাঠামো। উল্লেখ্য যে, মানুষের শুক্রাণু একটি লম্বা আকৃতির মাছের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে। অধিকন্তু প্রত্যেক বীর্যপাতের সময় ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন শুক্রাণু নির্গত হয়। যা থেকে কেবল ২০০টি শুক্রাণু ৫ মিনিটের মধ্যে নিষিক্তকরণ অঞ্চলে পৌঁছে যায়। সেসব থেকে কেবল একটি শুক্রাণুকেই ডিম্বাণুর সঙ্গে নিষিক্তকরণের জন্য নিংড়ে নেওয়া হয়। অধিকন্তু শুক্রাণুগুলো সামান্য পরিমাণ তরলের রূপ ধারণ করে, যা ৩.৫ থেকে ৫.০ মিলিমিটারের বেশি নয়। অতএব কারণে কুরআনের ‘সুলালা’ শব্দটি কেবল যথার্থ বর্ণনাই প্রদান করে না, বরং এই উপধাপের অঙ্গসংস্থান এবং শারীরতাত্ত্বিক গঠনকেও নির্দেশ করে। আরও উল্লেখ্য যে, কুরআন মাজিদ এই ধাপে কেবল পুরুষের বীর্য সম্পর্কে নির্দেশ করে। আর তাও ভ্রূণবিদ্যার সাম্প্রতিক জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
📄 মু’জিজা : ৭২: কুরআন মাজিদের পারিভাষিক শব্দ ‘নুতফা’
মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতই না অকৃতজ্ঞ! তিনি (আল্লাহ) তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন? ‘নুতফা’ (শুক্রবিন্দু) থেকে তিনি (আল্লাহ) তাকে সৃষ্টি করেছেন। (আবাসা, ৮০ : ১৭-১৯)
এই আয়াতগুলো আমাদেরকে মানুষের প্রাথমিক উপাদান সম্পর্কে তথ্যের যোগান দেয় যে, ‘নুতফা’ই হল একটি নবজাত শিশু সৃষ্টির মূল উপাদান। আরবি শব্দ ‘নুতফা’-এর অর্থ হল, একটি ফোঁটা কিংবা অল্প পরিমাণ তরল। বর্তমানে এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, ‘নুতফা’ হল পুরুষের শুক্রাণু ও মহিলার ডিম্বাণুর সমন্বয়ে গঠিত স্বল্প পরিমাণ তরল এবং এই তরলটিই নবগঠিত মানবদেহের মূল উপাদান।
📄 মু’জিজা : ৭৩: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘নুতফাতুন আমশাহ’
আমি (আল্লাহ) মানুষকে সৃষ্টি করেছি ‘নুতফাতুন আমশাহ’ (মিশ্র শুক্রবিন্দু) থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব। (ইনসান, ৭৬ : ০২)
ইতঃপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, ‘নুতফা’ হল একটি ফোঁটা। পক্ষান্তরে ‘আমশাহ’ শব্দের অর্থ হল, একটি মিশ্রণ। অতএব এই শব্দটি পুরুষ ও মহিলার বীর্যপাতের উপাদানগত মিশ্রণকে নির্দেশ করে। ভ্রূণবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক জ্ঞান অনুসারে সাধারণত এই মিশ্রণ সংঘটিত হয় ডিম্বনালীর ওপরের এক তৃতীয় অংশে এবং খুব কমই জরায়ুর অভ্যন্তরে। তা পরে জাইগোট সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, ‘নুতফা’ শব্দটি একটি একবচন বিশেষ্য। পক্ষান্তরে ‘আমশাহ’ হল বিশেষণ, যা বহুবচনের শব্দ নির্দেশ করে। এভাবে ‘নুতফাতুন আমশাহ’ শব্দদ্বয় দু’টি তরল উপাদানের মিশ্রণ এবং ভ্রূণবিকাশের এই উপপর্যায়ে একটি জাইগোটের গঠনকে যথাযথভাবে বর্ণনা করে।
📄 মু’জিজা : ৭৪: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘কারারিম মাকিন’
তারপর আমি তাকে ‘নুতফা’ রূপে ‘কারারিম মাকিন’ (সুরক্ষিত আধার)-এ স্থাপন করেছি। (মুমিনূন, ২৩ : ১৩)
আরবি শব্দ ‘ক্বারার’-এর অর্থ অবস্থান। আর ‘মাকিন’ শব্দের অর্থ সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত। ভ্রূণবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক জ্ঞানের ভিত্তিতে, ‘ক্বারার’ শব্দটি জরায়ুর সঙ্গে একটি বিকাশমান ভ্রূণের সম্পর্ককে নির্দেশ করে এবং ‘মাকিন’ শব্দটি মায়ের শরীরের সঙ্গে জরায়ুর সম্পর্ক নির্দেশ করে। নিষিক্ত হওয়ার সাত থেকে নয় দিন পর Blastocyst জরায়ুর দিকে সরে আসে এবং তার দেয়ালের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যায়। এটিই সেই স্থান যেখানে অধিকতর কোষ বিভাজন এবং পৃথকীকরণের প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। এটি খুবই জরুরি যে, Blastocyst জরায়ুর একটি নির্দিষ্ট স্থানে পূর্ণরূপে স্থাপিত হবে এবং সেই স্থানও ভালভাবে সংরক্ষিত হবে। নতুবা তা স্খলিত হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যেমনটি হয়ে থাকে উদরস্থিত কিংবা tubal গর্ভধারণের ক্ষেত্রে। এতদুভয় ধারণাই কুরআন মাজিদের শব্দ ‘কারারিম মাকিন’-এর মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।