📄 মু’জিজা : ৭০: কুরআনি পরিভাষা ‘আল মাউ’দ দাফিক্ব’
আভিধানিকভাবে ‘আল মাউ’দ দাফিক্ব’ কথাটির অর্থ, প্রবলবেগে নির্গমনকারী কিংবা স্বেচ্ছা নির্গমনকারী তরল পদার্থ বা এমন একটি ফোঁটা যা নির্গত হয়েছে। অন্যকথায়, তা এমন তরল পদার্থ নির্গমনকে নির্দেশ করে যা স্বেচ্ছায় নিষ্ক্রান্ত হয়, যা নিজে নিজে চলৎক্ষম। মাইক্রোস্কোপ ব্যবহারে দেখা গেছে, কেবল শুক্রাণুই নয় বরং ডিম্বাণুও চলৎক্ষমতা প্রদর্শন করে। পরিপক্ক শুক্রাণু একটি স্বাধীনভাবে সন্তরণকারী কার্যকরী অঙ্কুর কোষ, যাতে একটি মাথা ও একটি লেজ রয়েছে। লেজ শুক্রাণুতে গতি সঞ্চার করে এবং এটিকে ডিম্বাণুর দিকে গমনে সাহায্য করে।
Fimbrac আঙ্গুল সদৃশ প্রক্ষেপণ যা Infundibulum-এর অংশ, ডিম্বনালীর ফানেল আকৃতির প্রান্ত। সিলিয়া তথা Fimbrac-এর ওপর সূক্ষ্ম অণুবীক্ষণিক চাবুক একই সময়ে ডিম্বকোষকে Infundibulum-এর দিকে চলনে সহযোগিতা করে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উভয়ের প্রদর্শিত নড়াচড়া ব্যতিরেকে নিষিক্তকরণ সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। কুরআন মাজিদের শব্দ ‘আল মাউ’দ দাফিক্ব’ এভাবে দ্রুতবেগে নির্গমন, স্বেচ্ছানির্গমন, এবং এই উপধাপের চলাচল সংক্রান্ত ঘটনাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
📄 মু’জিজা : ৭১: কুরআন মাজিদের শব্দ ‘সুলালা’
তারপর তিনি (আল্লাহ) তাঁর (মানুষের) বংশধর সৃষ্টি করেছেন ‘সুলালা’ (তুচ্ছ পানির নির্যাস) থেকে। (সাজদাহ, ৩২ : ০৮)
আর আমি অবশ্যই মানুষকে ‘সুলালা’ (মাটির নির্যাস) থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর আমি (আল্লাহ) নুতফারূপে সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। (মুমিনূন, ২৩ : ১২-১৩)
আরবি শব্দ ‘সুলালা’র তিনটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ রয়েছে। এর অর্থ একটি তরলের সাধারণ নির্যাস, স্বল্প পরিমাণ তরল ও একটি মৎস্য সদৃশ কাঠামো। উল্লেখ্য যে, মানুষের শুক্রাণু একটি লম্বা আকৃতির মাছের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে। অধিকন্তু প্রত্যেক বীর্যপাতের সময় ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন শুক্রাণু নির্গত হয়। যা থেকে কেবল ২০০টি শুক্রাণু ৫ মিনিটের মধ্যে নিষিক্তকরণ অঞ্চলে পৌঁছে যায়। সেসব থেকে কেবল একটি শুক্রাণুকেই ডিম্বাণুর সঙ্গে নিষিক্তকরণের জন্য নিংড়ে নেওয়া হয়। অধিকন্তু শুক্রাণুগুলো সামান্য পরিমাণ তরলের রূপ ধারণ করে, যা ৩.৫ থেকে ৫.০ মিলিমিটারের বেশি নয়। অতএব কারণে কুরআনের ‘সুলালা’ শব্দটি কেবল যথার্থ বর্ণনাই প্রদান করে না, বরং এই উপধাপের অঙ্গসংস্থান এবং শারীরতাত্ত্বিক গঠনকেও নির্দেশ করে। আরও উল্লেখ্য যে, কুরআন মাজিদ এই ধাপে কেবল পুরুষের বীর্য সম্পর্কে নির্দেশ করে। আর তাও ভ্রূণবিদ্যার সাম্প্রতিক জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
📄 মু’জিজা : ৭২: কুরআন মাজিদের পারিভাষিক শব্দ ‘নুতফা’
মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতই না অকৃতজ্ঞ! তিনি (আল্লাহ) তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন? ‘নুতফা’ (শুক্রবিন্দু) থেকে তিনি (আল্লাহ) তাকে সৃষ্টি করেছেন। (আবাসা, ৮০ : ১৭-১৯)
এই আয়াতগুলো আমাদেরকে মানুষের প্রাথমিক উপাদান সম্পর্কে তথ্যের যোগান দেয় যে, ‘নুতফা’ই হল একটি নবজাত শিশু সৃষ্টির মূল উপাদান। আরবি শব্দ ‘নুতফা’-এর অর্থ হল, একটি ফোঁটা কিংবা অল্প পরিমাণ তরল। বর্তমানে এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, ‘নুতফা’ হল পুরুষের শুক্রাণু ও মহিলার ডিম্বাণুর সমন্বয়ে গঠিত স্বল্প পরিমাণ তরল এবং এই তরলটিই নবগঠিত মানবদেহের মূল উপাদান।
📄 মু’জিজা : ৭৩: কুরআন মাজিদের পরিভাষা ‘নুতফাতুন আমশাহ’
আমি (আল্লাহ) মানুষকে সৃষ্টি করেছি ‘নুতফাতুন আমশাহ’ (মিশ্র শুক্রবিন্দু) থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব। (ইনসান, ৭৬ : ০২)
ইতঃপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, ‘নুতফা’ হল একটি ফোঁটা। পক্ষান্তরে ‘আমশাহ’ শব্দের অর্থ হল, একটি মিশ্রণ। অতএব এই শব্দটি পুরুষ ও মহিলার বীর্যপাতের উপাদানগত মিশ্রণকে নির্দেশ করে। ভ্রূণবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক জ্ঞান অনুসারে সাধারণত এই মিশ্রণ সংঘটিত হয় ডিম্বনালীর ওপরের এক তৃতীয় অংশে এবং খুব কমই জরায়ুর অভ্যন্তরে। তা পরে জাইগোট সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, ‘নুতফা’ শব্দটি একটি একবচন বিশেষ্য। পক্ষান্তরে ‘আমশাহ’ হল বিশেষণ, যা বহুবচনের শব্দ নির্দেশ করে। এভাবে ‘নুতফাতুন আমশাহ’ শব্দদ্বয় দু’টি তরল উপাদানের মিশ্রণ এবং ভ্রূণবিকাশের এই উপপর্যায়ে একটি জাইগোটের গঠনকে যথাযথভাবে বর্ণনা করে।