📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৬৭: মানব ভ্রূণের পর্যায়সমূহ

📄 মু’জিজা : ৬৭: মানব ভ্রূণের পর্যায়সমূহ


তোমাদের কী হল, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের পরোয়া করছ না? অথচ তিনি তোমাদেরকে নানা স্তরে সৃষ্টি করেছেন। (নূহ, ৭১ : ১৩-১৪)
তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে; এক সৃষ্টির (পর্যায়ের) পর আরেক সৃষ্টি (পর্যায়)। (যুমার, ৩৯ : ০৬)

একদা জানা ছিল, একজন মানুষ বিকশিত হয় পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিল, একটি সাধারণ জাইগোট কোষ বহুকোশে, সেখান থেকে বহু অঙ্গে এবং তা থেকে বহুতন্ত্র সম্বলিত একজন পরিপূর্ণ মানুষে রূপান্তরিত হওয়া প্রসঙ্গে। যদিও পূর্বেকার বিজ্ঞানীদের মধ্যে নবজাত শিশুর আদি উৎস সম্পর্কে মতের ভিন্নতা রয়েছে, তাদের এই সাধারণ বিশ্বাস ছিল যে, পুরুষের শুক্রাণু কিংবা মহিলার ডিম্বাণুতে একটি পূর্ণ আকৃতির মানুষ বিদ্যমান রয়েছে। অধিকন্তু তারা এই ধারণাও পোষণ করত যে, একটি মানব ভ্রূণের বৃদ্ধি কেবল তার মূল আকৃতির পরিমাণ বাড়ার এক অভিন্ন প্রক্রিয়া। অনেক বিজ্ঞানীর মধ্যে এই ধারণা প্রবল ছিল। পক্ষান্তরে, কুরআন মাজিদ সুস্পষ্টভাবে এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, মানবভ্রূণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় কিছু পরম্পরাগত পর্যায়ে, যা বর্তমানে ভ্রূণতত্ত্ববিদদের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠিত সত্যের মর্যাদা লাভ করেছে। উল্লেখ্য যে, ভ্রূণ বিকাশের এই পর্যায়ক্রমিক স্তরসমূহের ধারণা সর্বপ্রথম প্রদান করেন Wolf (উলফ) ১৭৫৯ সালে। যা হোক ১৯৪০ সাল পর্যন্ত মানব ভ্রূণ বিকাশের সুনির্দিষ্ট স্তরসমূহ নির্ধারিত হয় নি। কেবল সাম্প্রতিক সময়েই ভ্রূণবিজ্ঞানীগণ ভ্রূণ বিকাশের বিভিন্ন স্তর ও ধাপ নির্ণয় করেছেন। এটি কুরআন মাজিদের একটি সুস্পষ্ট মু’জিজা যে, ভ্রূণবিজ্ঞানীগণ ধারণা করারও বহশত বছর পূর্ব থেকে কুরআন মাজিদে এই তথ্য বিদ্যমান রয়েছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৬৮: তিনটি আবরণ দ্বারা ভ্রূণের আচ্ছাদন

📄 মু’জিজা : ৬৮: তিনটি আবরণ দ্বারা ভ্রূণের আচ্ছাদন


তিনি (আল্লাহ) তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন তোমাদের মাতৃগর্ভে; বিভিন্ন স্তরে একেপর এক, তিন অন্ধকারের (আবরনের) মধ্যে। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব ও পালনকর্তা। (যুমার ৩৯ : ০৬)

পূর্বকার ভাষ্যকারগণ ‘অন্ধকারের তিন আচ্ছাদন’-এর ব্যাখ্যা করেছেন— উদরের বেষ্টনী, জরায়ুর দেয়াল ও ভ্রূণের চারপাশে বেষ্টিত ঝিল্লি।
ভ্রূণবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই তিনটি স্তরের প্রত্যেকটি পরবর্তীতে তিনটি পৃথক পৃথক স্তর গঠন করে। উদরের আচ্ছাদন তিনটি স্তর দ্বারা গঠিত : বহিঃস্থ তির্যক মাংসপেশীর আস্তরন, অভ্যন্তরীণ তির্যক মাংসপেশীর আস্তরন ও আড়াআড়ি মাংসপেশীসমূহ। অনুরূপভাবে জরায়ুর দেয়াল তিনটি স্তর দ্বারা গঠিত : Epimetrium, Myometrium ও Endometrium। Myometriumও পরবর্তীতে তিনস্তরের মাংসপেশী দ্বারা গঠিত হয় : Longitudinal স্তর, আটটি মাংসপেশী समेत তারপরবর্তী একটি Interwoven স্তর, অতঃপর একটি বৃত্তাকার মাংসপেশীর স্তর। অধিকন্তু যে কোষ ভ্রূণকে বেষ্টন করে থাকে তাও তিন স্তরে গঠিত। যথা : Amnion, Chorion ও Decidion।

ভ্রূণবিজ্ঞানের কোনো কোনো বইতে বলা হয়েছে, ভ্রূণ চারটি ঝিল্লি দ্বারা পরিবেষ্টিত। তারা Yolk cell ঝিল্লিকে ভ্রূণের চতুর্থ স্তর বলে গণ্য করেন। যা হোক, Yolk cell ঝিল্লির পুষ্টিসংক্রান্ত কোনো কাজ নেই এবং অবশেষে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ভ্রূণের চারপাশে অবশেষে তিনটি ঝিল্লিই অবশিষ্ট থাকে। সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিজীবের রিযিকদাতা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কার কাছে মানবভ্রূণ বেষ্টিত আস্তরণের মত এমন জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয়ের জ্ঞান থাকতে পারে?

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৬৯: ভ্রূণ বিকাশের তিনটি প্রধান পর্যায়

📄 মু’জিজা : ৬৯: ভ্রূণ বিকাশের তিনটি প্রধান পর্যায়


আর অবশ্যই আমি (আল্লাহ) মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর (ছুম্মা) আমি তাকে শুক্ররূপে (নুতফা) সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। তারপর (ছুম্মা) আমি ‘নুতফা’ কে ‘আলাকা’য় (রক্তপিন্ড) পরিণত করি (খালাকনা)। অতঃপর (ফা) আমি আলাকাকে ‘মুদ্গা’য় (গোশতপিন্ডে) পরিণত করি। অতঃপর (ফা) মুদ্গাকে ‘ইযামে’ (হাড়ে) পরিণত করি। অতঃপর (ফা) ‘ইযাম’ কে ‘লাহম’ (মাংসপেশী) দ্বারা আবৃত করি। তারপর (ছুম্মা) আমি ‘আনশা’নাহু’ (তাকে গড়ে তুলি) অন্য এক সৃষ্টিরূপে। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত বরকতময়! (মুমিনূন, ২৩ : ১২-১৪)

উল্লেখেয্য যে, এই আয়াতে কুরআন মাজিদ দু’টি ভিন্ন संयोजक অব্যয় তথা ‘ফা’ ও ‘ছুম্মা’ ব্যবহার করেছে। অধিকাংশ অনুবাদের ক্ষেত্রে উভয়টির একই অর্থ করা হয়েছে। অথচ পূর্বে যেমনটি উল্লিখিত হয়েছে ‘ফা’ অব্যয়টি অব্যবহিত পরে অর্থ বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। পক্ষান্তরে ‘ছুম্মা’ অব্যয়টি ব্যবহৃত হয় বিলম্বিত পরম্পরা বুঝানোর জন্য। কুরআন মাজিদ উপরোক্ত আয়াতে ‘ছুম্মা’ অব্যয়টি কেবল তিনবার ব্যবহার করেছে। যা নির্দেশ করে, ভ্রূণের বিকাশের ক্ষেত্রে তিনটি স্বতন্ত্র পর্যায় রয়েছে। ভ্রূণবিজ্ঞানীগণ ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে এই বিষয়টি আবিষ্কার করেছেন কেবল কয়েক বছর পূর্বে। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর বহু শতাব্দী পূর্বে এমন সূক্ষ্ম ও সুনির্দিষ্ট তথ্য অবতীর্ণ করতে পারেন?

কুরআন মাজিদ ভ্রূণ বিকাশের স্তরগুলিকে নির্দেশ করার জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করেছে। সেগুলি নিম্নে তুলে ধরা হল :
১. ‘নুতফা’ : এটি বিকাশের প্রথম ধাপকে নির্দেশ করে এবং এই ধাপটি পুরুষ ও নারীর বীর্য মিলন থেকে মায়ের জরায়ুতে জাইগোট সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এ ধাপে আন্তঃকোষীয় জাইগোট বিভাজিত হওয়া শুরু করে এবং একটি অধিকতর জটিল রূপ ধারণ করে।
২. ‘খালাক্বনা বা তাখলিক : এটি ভ্রূণ বিকাশের দ্বিতীয় ধাপ। এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টির স্তর। যা শুরু হয় তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এবং শেষ হয় গর্ভধারণের অষ্টম সপ্তাহে। এই ধাপে কোষ বিভাজন আরও ত্বরান্বিত হয় এবং মানব অঙ্গসমূহ ও বিভিন্ন তন্ত্রের পার্থক্য পরিষ্কার হয়।
৩. ‘আনশা’না বা নাশআ : এটি ভ্রূণবিকাশের তৃতীয় ও সর্বশেষ স্তর। এই ধাপে দ্রুত কোষ বিভাজন, পৃথকীকরণ ও বৃদ্ধি সাধন একটি সুনির্দিষ্ট মানব আকৃতি গঠন করে, যাকে বলা হয় ভ্রূণ। ধাপটি শুরু হয় গর্ভধারণের নবম সপ্তাহ থেকে এবং শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

এসব ধাপের প্রত্যেকটি অঙ্গসংস্থান ও শারীরতাত্ত্বিক বিভিন্ন পরিবর্তনের একটি জটিল প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে অতিবাহিত হয়। এই পরিবর্তনগুলি হয় দ্রুত, কিন্তু একটি থেকে অপরটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কুরআন মাজিদ এসব উপধাপকে সুনির্দিষ্ট শব্দে ‘ফা’ संयोजक অব্যয় সহকারে বর্ণনা দিয়েছে, যা দ্রুত ও তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নির্দেশ করে। আগত পৃষ্ঠাগুলি এ কথা পরিষ্কার করে দিবে যে, ভ্রূণবিকাশের এসব উপধাপ বর্ণনার ক্ষেত্রে কুরআন মাজিদের শব্দসমূহ অধিক ব্যাপক ও যথোপযুক্ত। এভাবে কুরআন মাজিদের প্রতিটি পরিভাষা‍ই একথা ঘোষণা করে যে, মানব ভ্রূণবিদ্যা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি জীবন্ত মু’জিজা এবং স্বয়ং কুরআন মাজিদের জন্যও তা মু’জিজা।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৭০: কুরআনি পরিভাষা ‘আল মাউ’দ দাফিক্ব’

📄 মু’জিজা : ৭০: কুরআনি পরিভাষা ‘আল মাউ’দ দাফিক্ব’


আভিধানিকভাবে ‘আল মাউ’দ দাফিক্ব’ কথাটির অর্থ, প্রবলবেগে নির্গমনকারী কিংবা স্বেচ্ছা নির্গমনকারী তরল পদার্থ বা এমন একটি ফোঁটা যা নির্গত হয়েছে। অন্যকথায়, তা এমন তরল পদার্থ নির্গমনকে নির্দেশ করে যা স্বেচ্ছায় নিষ্ক্রান্ত হয়, যা নিজে নিজে চলৎক্ষম। মাইক্রোস্কোপ ব্যবহারে দেখা গেছে, কেবল শুক্রাণুই নয় বরং ডিম্বাণুও চলৎক্ষমতা প্রদর্শন করে। পরিপক্ক শুক্রাণু একটি স্বাধীনভাবে সন্তরণকারী কার্যকরী অঙ্কুর কোষ, যাতে একটি মাথা ও একটি লেজ রয়েছে। লেজ শুক্রাণুতে গতি সঞ্চার করে এবং এটিকে ডিম্বাণুর দিকে গমনে সাহায্য করে।
Fimbrac আঙ্গুল সদৃশ প্রক্ষেপণ যা Infundibulum-এর অংশ, ডিম্বনালীর ফানেল আকৃতির প্রান্ত। সিলিয়া তথা Fimbrac-এর ওপর সূক্ষ্ম অণুবীক্ষণিক চাবুক একই সময়ে ডিম্বকোষকে Infundibulum-এর দিকে চলনে সহযোগিতা করে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উভয়ের প্রদর্শিত নড়াচড়া ব্যতিরেকে নিষিক্তকরণ সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। কুরআন মাজিদের শব্দ ‘আল মাউ’দ দাফিক্ব’ এভাবে দ্রুতবেগে নির্গমন, স্বেচ্ছানির্গমন, এবং এই উপধাপের চলাচল সংক্রান্ত ঘটনাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00