📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৫৭: চামড়ায় সংবেদনশীল স্নায়ুকোষের অস্তিত্ব

📄 মু’জিজা-৫৭: চামড়ায় সংবেদনশীল স্নায়ুকোষের অস্তিত্ব


এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আজাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয় আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী। (নিসা, ০৪ : ৫৬)

এই আয়াত বলে, আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের অধিবাসীদের চামড়া পাল্টে দেবেন যেন তারা বারবার আগুনের শাস্তি আস্বাদন করতে পারে। আর এ থেকে বুঝা যায়, শাস্তি আস্বাদন ও অনুভব চামড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মানব শরীর বিশ্লেষকরা সম্প্রতি দেখিয়েছেন, ব্যথার অনুভূতি গ্রাহক (স্নায়ু) চামড়ার সঙ্গেই সন্নিবেশিত। ফলে আংশিক চামড়া পুড়ে যাওয়া বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে, যেহেতু গভীর চামড়ার গ্রাহকসমূহ (স্নায়ুসমূহ) তখনো অক্ষত থাকে। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ চামড়া পুড়ে যাওয়াটা যন্ত্রণাহীন হয়ে থাকে। কেননা তা গ্রাহক স্নায়ুগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়। এটি কুরআন মাজিদের একটি সমুজ্জ্বল মু’জিজা যে, তা চামড়া সংক্রান্ত এত সূক্ষ্ম শরীর তত্ত্বেরও বর্ণনা দেয়। যখন তা বলে, ‘তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আজাব আস্বাদন করতে থাকে।’
থাইল্যান্ড চিয়াংমাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ‘তাগাতাত তাজাসেন’ (Tagatat Tajasen) প্রথম দিকে একথা বিশ্বাস করতেন না যে, কুরআন মাজিদে এ বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি কুরআন মাজিদের এই আয়াতটি যাচাই করেন। তিনি কুরআন মাজিদের বৈজ্ঞানিক যথার্থতা দেখে এত বেশি প্রভাবিত হন যে, সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত অষ্টম মেডিকেল কনফারেন্সের একটি সাধারণ অধিবেশনে তিনি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৫৮: সংবেদনশীল স্নায়ু ও অন্ত্র

📄 মু’জিজা-৫৮: সংবেদনশীল স্নায়ু ও অন্ত্র


খোদাভীরুদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হল, তাতে আছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের নহরসমূহ, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তাতে তাদের জন্য আছে রকমারি ফলমূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেজগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদের পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি, অতঃপর তা তাদের নাড়ি-ভুড়ি (ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে) কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলবে? (মুহাম্মদ, ৪৭ : ১৫)

অধ্যাপক কিথ মুর তাঁর পাঠ্য বই ‘The Developing Human’- এ এই আয়াতের ব্যাখ্যা দেন এভাবে, ‘অন্ত্র বা নাড়ি-ভুড়ি কর্তনের মাধ্যমে আজাব দেওয়াও আমাদের জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কেননা অন্ত্রের মধ্যে কোনো সংবেদন বা অনুভূতি নেই। অন্ত্রে উত্তাপগ্রাহী স্নায়ু নেই। এভাবে তা কেবল ফুটন্ত পানিই নয় যা এই আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে। এটাও জ্ঞাত বিষয় যে, যদি অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যায়, তবে অন্ত্রস্থ পদার্থসমূহ উচ্চ সংবেদনশীল (Peritoneal) গহ্বরের ভেতর দিয়ে নির্গত হবে। তখন Peritoneal গহ্বরে বিদ্যমান দৈহিক স্নায়ুগুলো উদ্দীপিত হবে। এটি মানব শরীরে তীব্রতর ব্যথার অনুভূতি সঞ্চার করবে। এ কারণে কুরআন মাজিদ বলে, ফুটন্ত পানি তাদের অন্ত্র বিদীর্ণ করে দিবে। একথা বলাবাহুল্য যে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সময়কালে মানব-শরীর সম্পর্কে এমন সুনির্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনে সক্ষম ছিলেন না।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৫৯: রজঃস্রাব চক্র

📄 মু’জিজা-৫৯: রজঃস্রাব চক্র


আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা বহন করে (গর্ভধারণ করে) এবং গর্ভাশয় কি পরিমাণ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত হয়। এবং তাঁর কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটা পরিমাণ রয়েছে। (রা’দ, ১৩ : ০৮)

রজঃস্রাব হল, প্রতি মাসে একবার একজন মহিলা থেকে রক্ত ও টিস্যুর নির্গমন। কেবল একজন শরীরবিদ্যা বিশারদ কিংবা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞই বলতে পারে, একজন মহিলার জরায়ুগ্রন্থিতে কী ঘটে থাকে। তারা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছে, uterus undergoes এর endometrial স্তর প্রতি মাসচক্রে পরিবর্তিত হয়, যা রজঃস্রাব বা ঋতুচক্রের জন্য দায়ী। ঋতুচক্রের শুরুতে এর পুরুত্ব থাকে ০·৫ মিলিমিটার।
ডিম্বাশয়ে সংগুপ্ত হরমোনের প্রতিক্রিয়ার ফলে endometrial বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং ৫-৬ মিলিমিটারের পুরুত্বে পৌঁছে যায়। যখন এটি তার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায় অথচ গর্ভ সঞ্চারিত না হয়, তখন basal layer ত্যাগ করতে পুরো endometrium ঝরে যায়। endometrium- এর পুরুত্বে সংকোচন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া রজঃস্রাবের রক্তপাতের সঙ্গে সংঘটিত হয়। এটি হুবহু তা-ই যা কুরআন মাজিদে বর্ণিত আয়াতে ‘গর্ভাশয়ের সংকোচন ও সম্প্রসারণ’ করার মাধ্যমে বর্ণনা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কে কুরআন মাজিদে এমন বিস্ময়কর তথ্য সংস্থাপন করতে পারেন?

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা : ৬০: মানব অণ্ডকোষ গঠনের স্থান

📄 মু’জিজা : ৬০: মানব অণ্ডকোষ গঠনের স্থান


অতএব মানুষের চিন্তা করে দেখা উচিত, তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে? তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে দ্রুতবেগে নির্গত পানি থেকে। যা বের হয় মেরুদণ্ড ও বুকের হাড়ের মধ্য থেকে। নিশ্চয় তিনি (আল্লাহ) তাকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয় প্রকাশ করা হবে। (তারিক, ৮৬ : ০৫-০৯)

কুরআন মাজিদের পূর্বেকার ভাষ্যকারগণ এসব আয়াতের বিষয়বস্তু পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে পারেন নি। এখন এটি ভালভাবে জ্ঞাত যে, gonad বা প্রজননগ্রন্থি সেখানেই প্রকাশ পায় যেখানে Loins (কোমরের সর্বনিম্নাংশ) পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়।
এটি এখন ভালভাবে জ্ঞাত যে, ভ্রূণ বেড়ে ওঠার সময় যেখানে কোমর (Loins) তৈরি হয় সেখানেই প্রজননগ্রন্থি (gonads) তৈরি হয়। ভ্রূণের মধ্যে Genital ridges নামক অংশটি চার সপ্তাহ বয়সে (ভ্রূণের) মধ্য লাইনের দুইদিকে Mesonephros ও dorsal mesentery-এর মাঝখানে তৈরি হয়। সপ্তম কিংবা অষ্টম সপ্তাহে প্রজননগ্রন্থি স্ত্রী কিংবা পুংলিঙ্গে বিভক্ত হয়। প্রজননগ্রন্থি তখন ক্রমাগত নিচের দিকে নামতে থাকে। স্ত্রী প্রজননগ্রন্থি তথা ovaries (ডিম্বাশয়) কোমরের ভেতরেই থেমে যায়। পক্ষান্তরে পুং প্রজননগ্রন্থি আগ পর্যন্ত আরও নিচের দিকে নামতে থাকে; অবশেষে তা Inguinal canal দিয়ে শরীরের বাইরে এসে অন্ড থলিতে প্রবেশ করে। যা হোক, মূত্র উৎপাদন পদ্ধতি, রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি, লসিক নিঃস্বরণ পদ্ধতি, এমনকি যা পূর্ণ বয়স্ক মানুষের শরীরে বিদ্যমান থাকে কুরআন মাজিদে উল্লিখিত দু’টি স্থান (মেরুদণ্ড ও পাঁজর)-কে সংযুক্ত করে। অধিকন্তু, অণ্ডকোষের রক্তনালী (ধমনি) abdominal orta নামক পেটের ভেতরের সর্ববৃহৎ রক্তনালী, যা দ্বিতীয় lumber vertebra এর সমান্তরালে অবস্থিত থেকে উৎপন্ন হয়। আবার ডানদিকের দূষিত রক্তগুলো শিরা দিয়ে পেটের অন্তঃস্থ বৃহৎ শিরা-‘interior vena cava’য় গিয়ে পতিত হয়। অন্যদিকে বাম দিকের অণ্ডকোষ থেকে দূষিত রক্তগুলো বাম পাশের কিডনি হয়ে পূর্বে উল্লিখিত শিরায় গিয়ে পতিত হয়। উপরোক্ত স্থানগুলো কুরআন মাজিদে উল্লিখিত স্থান নির্দেশ করে। ভ্রূণ বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিককালে এই সূক্ষ্ম উপাত্তগুলো আবিষ্কার করেছেন, যেগুলো হাজার বছর আগে কুরআন মাজিদে উল্লিখিত হয়েছে। (শেষ প্যারাটি অনুবাদে সাহায্য করেছেন ডা. আবুল মঞ্জুর (রাসেল) এমবিবিএস, এফআরসিএস (প্রশিক্ষণরত) মিডফোর্ট, ঢাকা)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00