📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫৫: অধিক উচ্চতায় শ্বাস-প্রশ্বাস

📄 মু’জিজা নং- ৫৫: অধিক উচ্চতায় শ্বাস-প্রশ্বাস


অতঃপর আল্লাহ তাআলা যাকে পথ প্রদর্শন করতে চান, তাঁর বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান তাঁর বক্ষকে সংকীর্ণ-অত্যধিক সংকীর্ণ- করে দেন। যেন সে সবেগে আকাশে (অধিক উচ্চতায়) আরোহণ করছে। (আনআম, ০৬ : ১২৫)

বায়ু চাপ সংক্রান্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে আমরা এখন এই আয়াতের ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। এটি বর্তমানে একটি সাধারণ জ্ঞান যে, সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অধিক উচ্চতায় বায়ু চাপ তুলনামূলক কম। পৃথিবী একটি বায়ু চাদর দ্বারা পরিবেষ্টিত। মানুষের ফুসফুস সক্রিয় হয় একটি তারতম্যপূর্ণ চাপের কারণে। অর্থাৎ ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ চাপ ও বাহ্যিক চাপের একটি ভিন্নতার কারণে। যখন এই ভিন্নতার মাত্রা হ্রাস পায়, যেমন, সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতায় গেলে, তখন শ্বাস নেয়া অধিক কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। যার ফলে কুরআন মাজিদে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, বক্ষ সংকোচন অনুভব হয়। যেহেতু আরব উপদ্বীপে কোনো সুউচ্চ পর্বত নেই, তাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সংক্রান্ত এই অভিজ্ঞতা কখনো লাভ করেন নি, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কুরআন মাজিদ এই রহস্যের বর্ণনা দেয় যদিও, না মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর না যারা তাঁর আশপাশে বসবাস করেছে এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার পর্যায়ে ছিলেন।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫৬: আঙ্গুল ছাফের বিশেষত্ব

📄 মু’জিজা নং- ৫৬: আঙ্গুল ছাফের বিশেষত্ব


মানুষ কি মনে করে যে, আমি (আল্লাহ) তাঁর অস্থিসমূহ একত্রিত করব না? কেবল এই নয়, আমি তাঁর আঙ্গুলের ডগা (আঙ্গুলের ছাপ) পর্যন্ত সন্নিবেশিত করতে সক্ষম। (কিয়ামা, ০৩ : ০৪)

১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডে স্যার ফ্রান্সিস গোল্ট আবিষ্কার করেন, পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া যাবে না যার আঙ্গুলের ছাপ অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে হুবহু মিলে যাবে। তখন থেকেই দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে আঙ্গুলের ছাপ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে। এ-কারণেই বিভিন্ন দেশ যেমন, রাশিয়া তাঁর দেশের সকল নাগরিকের আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ করে থাকে। দুই ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপের পার্থক্য এতই আপেক্ষিক ও সূক্ষ্ম যে, কেবল অভিজ্ঞ ব্যক্তিই উপযুক্ত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তা শনাক্ত করতে পারে। এটি কুরআন মাজিদের অপর এক মু’জিজা যে তা এই বাস্তবতার বর্ণনা দিয়েছে মানুষ তা ধারণা করারও বহু আগে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৫৭: চামড়ায় সংবেদনশীল স্নায়ুকোষের অস্তিত্ব

📄 মু’জিজা-৫৭: চামড়ায় সংবেদনশীল স্নায়ুকোষের অস্তিত্ব


এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আজাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয় আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী। (নিসা, ০৪ : ৫৬)

এই আয়াত বলে, আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের অধিবাসীদের চামড়া পাল্টে দেবেন যেন তারা বারবার আগুনের শাস্তি আস্বাদন করতে পারে। আর এ থেকে বুঝা যায়, শাস্তি আস্বাদন ও অনুভব চামড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মানব শরীর বিশ্লেষকরা সম্প্রতি দেখিয়েছেন, ব্যথার অনুভূতি গ্রাহক (স্নায়ু) চামড়ার সঙ্গেই সন্নিবেশিত। ফলে আংশিক চামড়া পুড়ে যাওয়া বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে, যেহেতু গভীর চামড়ার গ্রাহকসমূহ (স্নায়ুসমূহ) তখনো অক্ষত থাকে। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ চামড়া পুড়ে যাওয়াটা যন্ত্রণাহীন হয়ে থাকে। কেননা তা গ্রাহক স্নায়ুগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়। এটি কুরআন মাজিদের একটি সমুজ্জ্বল মু’জিজা যে, তা চামড়া সংক্রান্ত এত সূক্ষ্ম শরীর তত্ত্বেরও বর্ণনা দেয়। যখন তা বলে, ‘তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আজাব আস্বাদন করতে থাকে।’
থাইল্যান্ড চিয়াংমাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ‘তাগাতাত তাজাসেন’ (Tagatat Tajasen) প্রথম দিকে একথা বিশ্বাস করতেন না যে, কুরআন মাজিদে এ বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি কুরআন মাজিদের এই আয়াতটি যাচাই করেন। তিনি কুরআন মাজিদের বৈজ্ঞানিক যথার্থতা দেখে এত বেশি প্রভাবিত হন যে, সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত অষ্টম মেডিকেল কনফারেন্সের একটি সাধারণ অধিবেশনে তিনি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-৫৮: সংবেদনশীল স্নায়ু ও অন্ত্র

📄 মু’জিজা-৫৮: সংবেদনশীল স্নায়ু ও অন্ত্র


খোদাভীরুদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হল, তাতে আছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের নহরসমূহ, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তাতে তাদের জন্য আছে রকমারি ফলমূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেজগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদের পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি, অতঃপর তা তাদের নাড়ি-ভুড়ি (ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে) কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলবে? (মুহাম্মদ, ৪৭ : ১৫)

অধ্যাপক কিথ মুর তাঁর পাঠ্য বই ‘The Developing Human’- এ এই আয়াতের ব্যাখ্যা দেন এভাবে, ‘অন্ত্র বা নাড়ি-ভুড়ি কর্তনের মাধ্যমে আজাব দেওয়াও আমাদের জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কেননা অন্ত্রের মধ্যে কোনো সংবেদন বা অনুভূতি নেই। অন্ত্রে উত্তাপগ্রাহী স্নায়ু নেই। এভাবে তা কেবল ফুটন্ত পানিই নয় যা এই আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে। এটাও জ্ঞাত বিষয় যে, যদি অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যায়, তবে অন্ত্রস্থ পদার্থসমূহ উচ্চ সংবেদনশীল (Peritoneal) গহ্বরের ভেতর দিয়ে নির্গত হবে। তখন Peritoneal গহ্বরে বিদ্যমান দৈহিক স্নায়ুগুলো উদ্দীপিত হবে। এটি মানব শরীরে তীব্রতর ব্যথার অনুভূতি সঞ্চার করবে। এ কারণে কুরআন মাজিদ বলে, ফুটন্ত পানি তাদের অন্ত্র বিদীর্ণ করে দিবে। একথা বলাবাহুল্য যে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সময়কালে মানব-শরীর সম্পর্কে এমন সুনির্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনে সক্ষম ছিলেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00