📄 মু’জিজা নং- ৫৩: বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ণ
আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি। অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি। এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুত তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই। (হিজর, ১৫ : ২২)
বায়ু, ফুলের পরাগরেণু বিস্তারের একটি কার্যকরী মাধ্যম। তার মাধ্যমে গাছের পরাগায়ণ সংঘটিত হয়। আর এটি উদ্ভিদবিদ্যার সাম্প্রতিক গবেষণার আবিষ্কৃত একটি বিষয়। যা হোক, আল্লাহ তাআলা এই বিষয়টি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞান তা আবিষ্কার করার বহু পূর্বে।
📄 মু’জিজা নং- ৫৪: উদ্ভিদ থেকে অক্সিজেন উৎপাদন
যিনি সবুজ বৃক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আগুন উৎপন্ন করেন। তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৮০)
চৌদ্দশ বছর পূর্বে ज्वলনের প্রক্রিয়া জানতে পারা মানুষের জন্য ছিল অসম্ভব। তার বহু শতাব্দী পর আবিষ্কৃত হয় যে, দাহ্য পদার্থে কার্বনের সঙ্গে অক্সিজেনের বিক্রিয়ার ফলেই ज्वলন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। কুরআন মাজিদ এই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চৌদ্দশ বছর পূর্বে। পবিত্র আয়াতটি গাছের মধ্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয়। গাছের সবুজ উপাদান হল ক্লোরোফিল। এখন এটা অজানা নয় যে, ক্লোরোফিল বায়ুমন্ডল থেকে কার্বনডাই-অক্সাইড শুষে নেয় এবং পানির সহায়তায় তাকে কার্বোহাইড্রেডে রূপান্তরিত করে। ফলস্বরূপ অক্সিজেন নির্গত হয়। বস্তুত গাছের সবুজ অংশ বা ক্লোরোফিলই হল প্রধান এজেন্ট যা প্রকৃতিতে অক্সিজেন উৎপাদন ও তার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। বলা বাহুল্য, অক্সিজেন ছাড়া কোনো আগুন জ্বলতে পারে না। পাশাপাশি ক্লোরোফিল যে কার্বোহাইড্রেড উৎপাদন করে তা মৌলিক কার্বন উপাদানের যোগান দেয়- যা সব ধরনের দাহ্য ক্রিয়ার দ্বিতীয় উপাদানের ভূমিকা পালন করে। এটি হুবহু তা-ই যা এই আয়াত বর্ণনা দেয়- যে আগুন তোমরা প্রজ্বলিত কর তা উৎপন্ন হয় সবুজ বৃক্ষ থেকে।