📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫১: শূকরের মাংসের বিপত্তি

📄 মু’জিজা নং- ৫১: শূকরের মাংসের বিপত্তি


তিনি (আল্লাহ) তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমান ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয় তার জন্য কোনো পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (বাকারা, ০২ : ১৭৩)

কুরআন মাজিদ কেন শূকরের মাংস ব্যবহার নিষেধ করে তা বহু শতাব্দী পর্যন্ত একটি রহস্য হয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে, শূকরের মাংস মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিছুদিন পূর্বেও মনে করা হত শূকরের মাংসে Trichina Parasite (একপ্রকার পরজীবী জীবাণু)-ই মানুষের শরীরের জন্য একমাত্র বিপত্তি। বৈজ্ঞানিকরা বর্তমানে শূকরের মাংসের আরও অনেক ক্ষতিকর দিক আবিষ্কার করেছেন। সেসব গবেষণার কিছু নিম্নে তুলে ধরা হল :
১) শূকরের মাংসে `Sutoxin’ নামে একটি স্বতন্ত্র প্রোটিন রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের এলার্জি সৃষ্টি করে। যেমন, হাঁপানি, খোস পাঁচড়া ও একজিমা ইত্যাদি।
২) শূকরের মাংসে প্রচুর পরিমাণে Muco polysaccharides (একপ্রকার শ্লেষ্মা জাতীয় পদার্থ) রয়েছে। এগুলি সালফারে সমৃদ্ধ এবং গিঁটসমূহে ও শরীরের জোড়াগুলিতে ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি করে।
৩) শূকরের মাংস রক্তের প্রবাহে চর্বিজাতীয় পদার্থের অনুপাত বাড়িয়ে দেয়। প্রাণী মাংসে দু’ধরনের চর্বি থাকে। একটি হল বাহ্যিক যা মাংসকে ঢেকে রাখে। অপরটি হল অভ্যন্তরীণ, যা থাকে মাংসপেশীর তন্তুসমূহে। নিম্নে সাধারণ মাংসের অভ্যন্তরীণ পেশীতে চর্বির পরিমাণ দেখানো হল :
বাছুরের মাংস— ১০%, ভেড়া— ২০% মেষশাবক— ২৩% শূকরের মাংস— ৩৫%।
রক্তে চর্বির উচ্চমাত্রা কতিপয় স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সৃষ্টি করে। যেমন, বার্ধক্য, জরাগ্রস্ততা, প্যারালাইসিস ও হৃদযন্ত্র সম্বন্ধীয় বিভিন্ন রোগ। শূকরের মাংসের উচ্চমাত্রার চর্বি মানব স্বাস্থ্যের জন্য সর্বাধিক বিপজ্জনক।
৪) শূকরের মাংসের উচ্চমাত্রার চর্বির আরেকটি ক্ষতিকর দিক হল, তা ভিটামিন ‘বি’র অতিরিক্ত ক্ষয়সাধন করে। ভিটামিন ‘বি’র এই ক্ষয়সাধন বা ঘাটতি পরিণামে ভিটামিন ‘এ’র ক্ষয় সাধন করে। এভাবে শূকরের মাংস শরীরের ভিটামিন ‘বি’ ও ‘এ’র ক্ষয় সাধনের মাধ্যমে শরীরবৃত্তীয় কাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
৫) এও দেখা গেছে যে, শূকর নোংরা ও ঘৃণিত বস্তু ভোগ ও আহার করে থাকে। এজন্য তার Lympatic system (লসিকা প্রণালী) সর্বদা সক্রিয় অবস্থায় থাকে। এটি albumens সহ বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণমূলক বস্তুতে পূর্ণ থাকে। শূকরের শরীরের এক অংশে albumens-এর উপস্থিতি শরীরের অন্য অংশে Immune response সৃষ্টি করে। শূকরের মাংস ভক্ষণের ফলে এভাবে বিভিন্ন প্রকার এলার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া ও মানব দেহে লসিকা প্রণালীতে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
৬) শূকরের মাংসের কারণে অন্য একটি প্রাণঘাতি ব্যাধি জন্ম নেয়, যা সঞ্চারিত হয় 'Trichina' নামক জীবাণুর মাধ্যমে। যদিও পশ্চিমাদের সাম্প্রতিক উৎকর্ষের ফলে এই জীবাণু দূর করা যেতে পারে তথাপি ধারণা করা হয় পৃথিবীতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন এই 'Trichina victims' রয়েছে।
৭) অনেক মুসলিম কর্মী চিহ্নিত করেছে, শূকরই একমাত্র প্রাণী যে তার স্ত্রী সঙ্গীর সম্ভ্রমহানির ব্যাপারে সজাগ নয় এবং তার জন্যে লড়াই করে না। এ এক অদ্ভুত সাদৃশ্য যে যেসব জাতি শূকরের মাংস ভক্ষণ করে তারাও একই ধরনের যৌনসংক্রান্ত মানসিকতা প্রদর্শন করে। এ থেকে বুঝা যায়, মানুষের ওপর শূকরের মাংসের একটি বিশেষ নৈতিক নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে।
বলাবাহুল্য, যখন কুরআন শূকরের মাংসকে হারাম ঘোষণা করে তখন এসব তথ্য মানুষের জানা ছিল না।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫২: সকল বৃক্ষে বিপরীত লিঙ্গের অস্তিত্ব

📄 মু’জিজা নং- ৫২: সকল বৃক্ষে বিপরীত লিঙ্গের অস্তিত্ব


আর তিনিই (আল্লাহ) যিনি ভূমন্ডলকে বিস্তৃত করেছেন ও তাতে পাহাড়-পর্বত ও প্রবাহমান নদ-নদী স্থাপন করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকার ফলের মধ্যে দু’দু প্রকার সৃষ্টি করে রেখেছেন। তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আবৃত করেন। এতে তাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যারা চিন্তা করে। (রা’দ, ১৩ : ০৩)
তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার যুগল উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। (প্রত্যেকটি অপরটি থেকে স্বতন্ত্র।) (ত্বাহা, ২০ : ৫৩)
হে মানব সকল, যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও তবে (ভেবে দেখ-) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্য। আর আমি একটি নির্দিষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই। এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেহ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত ও নিষ্প্রাণ দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি তখন তা (প্রাণের প্রতি) আলোড়িত ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুন্দর (উদ্ভিদরাজি) জোড়ায় জোড়ায় উৎপন্ন হয়। (হজ্জ, ২২ : ০৫)
তিনি কোনো খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন যা তোমরা দেখ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্ব প্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি। অতঃপর তাতে উদ্‌গত করেছি সর্ব প্রকার কল্যাণকর প্রজাতির (উদ্ভিদের) জোড়াসমূহ। (লুকমান, ৩১ : ১০)
পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সকল জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, জমিন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব থেকে যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)

এসব আয়াত যা অবতীর্ণ হয়েছে চৌদ্দশ বছরেরও অধিককাল পূর্বে, উদ্ভিদরাজিতে লিঙ্গের উপস্থিতি পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করে। উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করেছেন ১০০ বছর পূর্বে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো দক্ষ উদ্ভিদবিজ্ঞানী ছিলেন না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর এ তথ্য অবতীর্ণ করেছিলেন। অতএব সেসব লোক যারা বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার গুণে বিভূষিত তারা এসব বিষয়ের ওপর চিন্তা-ভাবনা করে কুরআন মাজিদকে মানব জাতির জন্য আসমানি নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫৩: বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ণ

📄 মু’জিজা নং- ৫৩: বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ণ


আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি। অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি। এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুত তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই। (হিজর, ১৫ : ২২)

বায়ু, ফুলের পরাগরেণু বিস্তারের একটি কার্যকরী মাধ্যম। তার মাধ্যমে গাছের পরাগায়ণ সংঘটিত হয়। আর এটি উদ্ভিদবিদ্যার সাম্প্রতিক গবেষণার আবিষ্কৃত একটি বিষয়। যা হোক, আল্লাহ তাআলা এই বিষয়টি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞান তা আবিষ্কার করার বহু পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫৪: উদ্ভিদ থেকে অক্সিজেন উৎপাদন

📄 মু’জিজা নং- ৫৪: উদ্ভিদ থেকে অক্সিজেন উৎপাদন


যিনি সবুজ বৃক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আগুন উৎপন্ন করেন। তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৮০)

চৌদ্দশ বছর পূর্বে ज्वলনের প্রক্রিয়া জানতে পারা মানুষের জন্য ছিল অসম্ভব। তার বহু শতাব্দী পর আবিষ্কৃত হয় যে, দাহ্য পদার্থে কার্বনের সঙ্গে অক্সিজেনের বিক্রিয়ার ফলেই ज्वলন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। কুরআন মাজিদ এই রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে চৌদ্দশ বছর পূর্বে। পবিত্র আয়াতটি গাছের মধ্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয়। গাছের সবুজ উপাদান হল ক্লোরোফিল। এখন এটা অজানা নয় যে, ক্লোরোফিল বায়ুমন্ডল থেকে কার্বনডাই-অক্সাইড শুষে নেয় এবং পানির সহায়তায় তাকে কার্বোহাইড্রেডে রূপান্তরিত করে। ফলস্বরূপ অক্সিজেন নির্গত হয়। বস্তুত গাছের সবুজ অংশ বা ক্লোরোফিলই হল প্রধান এজেন্ট যা প্রকৃতিতে অক্সিজেন উৎপাদন ও তার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। বলা বাহুল্য, অক্সিজেন ছাড়া কোনো আগুন জ্বলতে পারে না। পাশাপাশি ক্লোরোফিল যে কার্বোহাইড্রেড উৎপাদন করে তা মৌলিক কার্বন উপাদানের যোগান দেয়- যা সব ধরনের দাহ্য ক্রিয়ার দ্বিতীয় উপাদানের ভূমিকা পালন করে। এটি হুবহু তা-ই যা এই আয়াত বর্ণনা দেয়- যে আগুন তোমরা প্রজ্বলিত কর তা উৎপন্ন হয় সবুজ বৃক্ষ থেকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00