📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪৮: যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন

📄 মু’জিজা নং- ৪৮: যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন


আর তিনিই (আল্লাহ) যুগল সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী। একটি (শুক্র) বিন্দু থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়। (নাজম, ৫৩ : ৪৫-৪৬)

সকল প্রাণীর মধ্যে যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজননের বিষয়টি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার আগে প্রাণীদের যৌনক্রিয়ার (Fertilization) প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণাই ছিল না। আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই তথ্য অবতীর্ণ করেন মানুষ তা আবিষ্কার করার বহু আগে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪৯: দুধের উৎস

📄 মু’জিজা নং- ৪৯: দুধের উৎস


আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাঁর পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে দুধ, যা খাঁটি ও স্বচ্ছन्दকর পানকারীর জন্য। (নাহল, ১৬ : ৬৬)

কুরআন এখানে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সেই জীববৃত্তীয় প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয় যা অন্ত্রপ্রাচীরের স্তরে গোবর ও রক্তের নির্যাসকে একত্রে নিয়ে আসে এবং দুধ তৈরি করে। এটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেম (হজম-প্রক্রিয়া) সম্পর্কিত শরীর বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। যখন কুরআন অবতীর্ণ হয় তখন মানুষ এ ধরনের সূক্ষ্ম ও যথার্থ জ্ঞান সম্পর্কে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫০: মধুর উৎস

📄 মু’জিজা নং- ৫০: মধুর উৎস


আর তোমার রব মৌমাছিকে ইঙ্গিতে জানিয়েছেন, ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও। অতঃপর তুমি প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর এবং তুমি তোমার রবের সহজ পথে চল।’ তার পেট থেকে এমন পানীয় বের হয় যার রং ভিন্ন, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য নিরাময়। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সেই কওমের জন্য যারা চিন্তা করে। (নাহল, ১৬ : ৬৮-৬৯)

লক্ষ্যণীয় যে, আরবি ভাষায় দুই প্রকার ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত হয়। এক প্রকার পুংলিঙ্গের জন্য, অন্য প্রকার স্ত্রীলিঙ্গের জন্য। এই আয়াতে কুরআন মাজিদ স্ত্রীবাচক ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেছে। এভাবে কুরআন মাজিদ এ কথা পরিষ্কারভাবে বিবৃত করে যে, খাদ্য সংগ্রহ ও মধু তৈরির সঙ্গে স্ত্রী মৌমাছিই জড়িত।

আরও উল্লেখ্য যে, পুরুষ মৌমাছি ও স্ত্রী মৌমাছির মধ্যে পার্থক্য এত সূক্ষ্ম, কেবল একজন অভিজ্ঞ লোকই তা পার্থক্য করতে পারে। বলাবাহুল্য, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন দক্ষ পতঙ্গ বিজ্ঞানী ছিলেন না। তিনি পুরুষ মৌমাছি ও স্ত্রী মৌমাছির পার্থক্য নির্ণয়েও সক্ষম ছিলেন না। বহু শতাব্দী পর্যন্ত মৌমাছি সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, স্ত্রী মৌমাছিরা ঘোরাফেরা করে তাদের বাসায় গিয়ে একটি ‘রাজা মৌমাছির’ কাছে কৈফিয়ত প্রদান করে। সাম্প্রতিক পতঙ্গ বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী মৌমাছিরা চারপাশে ঘোরাফেরা করে এসে বাসায় গিয়ে একটি ‘রানি মৌমাছির’ কাছে কৈফিয়ত প্রদান করে। যা হোক, কুরআন মাজিদে এই তথ্য বর্ণিত হয়েছে চৌদ্দশ বছরেরও অধিককাল আগে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫১: শূকরের মাংসের বিপত্তি

📄 মু’জিজা নং- ৫১: শূকরের মাংসের বিপত্তি


তিনি (আল্লাহ) তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমান ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয় তার জন্য কোনো পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (বাকারা, ০২ : ১৭৩)

কুরআন মাজিদ কেন শূকরের মাংস ব্যবহার নিষেধ করে তা বহু শতাব্দী পর্যন্ত একটি রহস্য হয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে, শূকরের মাংস মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিছুদিন পূর্বেও মনে করা হত শূকরের মাংসে Trichina Parasite (একপ্রকার পরজীবী জীবাণু)-ই মানুষের শরীরের জন্য একমাত্র বিপত্তি। বৈজ্ঞানিকরা বর্তমানে শূকরের মাংসের আরও অনেক ক্ষতিকর দিক আবিষ্কার করেছেন। সেসব গবেষণার কিছু নিম্নে তুলে ধরা হল :
১) শূকরের মাংসে `Sutoxin’ নামে একটি স্বতন্ত্র প্রোটিন রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের এলার্জি সৃষ্টি করে। যেমন, হাঁপানি, খোস পাঁচড়া ও একজিমা ইত্যাদি।
২) শূকরের মাংসে প্রচুর পরিমাণে Muco polysaccharides (একপ্রকার শ্লেষ্মা জাতীয় পদার্থ) রয়েছে। এগুলি সালফারে সমৃদ্ধ এবং গিঁটসমূহে ও শরীরের জোড়াগুলিতে ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি করে।
৩) শূকরের মাংস রক্তের প্রবাহে চর্বিজাতীয় পদার্থের অনুপাত বাড়িয়ে দেয়। প্রাণী মাংসে দু’ধরনের চর্বি থাকে। একটি হল বাহ্যিক যা মাংসকে ঢেকে রাখে। অপরটি হল অভ্যন্তরীণ, যা থাকে মাংসপেশীর তন্তুসমূহে। নিম্নে সাধারণ মাংসের অভ্যন্তরীণ পেশীতে চর্বির পরিমাণ দেখানো হল :
বাছুরের মাংস— ১০%, ভেড়া— ২০% মেষশাবক— ২৩% শূকরের মাংস— ৩৫%।
রক্তে চর্বির উচ্চমাত্রা কতিপয় স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সৃষ্টি করে। যেমন, বার্ধক্য, জরাগ্রস্ততা, প্যারালাইসিস ও হৃদযন্ত্র সম্বন্ধীয় বিভিন্ন রোগ। শূকরের মাংসের উচ্চমাত্রার চর্বি মানব স্বাস্থ্যের জন্য সর্বাধিক বিপজ্জনক।
৪) শূকরের মাংসের উচ্চমাত্রার চর্বির আরেকটি ক্ষতিকর দিক হল, তা ভিটামিন ‘বি’র অতিরিক্ত ক্ষয়সাধন করে। ভিটামিন ‘বি’র এই ক্ষয়সাধন বা ঘাটতি পরিণামে ভিটামিন ‘এ’র ক্ষয় সাধন করে। এভাবে শূকরের মাংস শরীরের ভিটামিন ‘বি’ ও ‘এ’র ক্ষয় সাধনের মাধ্যমে শরীরবৃত্তীয় কাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
৫) এও দেখা গেছে যে, শূকর নোংরা ও ঘৃণিত বস্তু ভোগ ও আহার করে থাকে। এজন্য তার Lympatic system (লসিকা প্রণালী) সর্বদা সক্রিয় অবস্থায় থাকে। এটি albumens সহ বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণমূলক বস্তুতে পূর্ণ থাকে। শূকরের শরীরের এক অংশে albumens-এর উপস্থিতি শরীরের অন্য অংশে Immune response সৃষ্টি করে। শূকরের মাংস ভক্ষণের ফলে এভাবে বিভিন্ন প্রকার এলার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া ও মানব দেহে লসিকা প্রণালীতে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
৬) শূকরের মাংসের কারণে অন্য একটি প্রাণঘাতি ব্যাধি জন্ম নেয়, যা সঞ্চারিত হয় 'Trichina' নামক জীবাণুর মাধ্যমে। যদিও পশ্চিমাদের সাম্প্রতিক উৎকর্ষের ফলে এই জীবাণু দূর করা যেতে পারে তথাপি ধারণা করা হয় পৃথিবীতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন এই 'Trichina victims' রয়েছে।
৭) অনেক মুসলিম কর্মী চিহ্নিত করেছে, শূকরই একমাত্র প্রাণী যে তার স্ত্রী সঙ্গীর সম্ভ্রমহানির ব্যাপারে সজাগ নয় এবং তার জন্যে লড়াই করে না। এ এক অদ্ভুত সাদৃশ্য যে যেসব জাতি শূকরের মাংস ভক্ষণ করে তারাও একই ধরনের যৌনসংক্রান্ত মানসিকতা প্রদর্শন করে। এ থেকে বুঝা যায়, মানুষের ওপর শূকরের মাংসের একটি বিশেষ নৈতিক নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে।
বলাবাহুল্য, যখন কুরআন শূকরের মাংসকে হারাম ঘোষণা করে তখন এসব তথ্য মানুষের জানা ছিল না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00