📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪৭: অজানা জগতে বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব

📄 মু’জিজা নং- ৪৭: অজানা জগতে বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব


পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সব কিছু জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, জমিন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব থেকে যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)

কুরআন মাজিদ এই আয়াতে সব ধরনের জীবনের বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব ঘোষণা করে। এটি সেসব প্রজাতিসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে যা ছিল মানুষের অজানা। বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা ব্যাকটেরিয়া নামে পরিচিত একটি সামগ্রিক ক্ষুদ্র জীব-জগতের আবিষ্কার করেছে। এটি বিস্ময়কর ও লক্ষণীয় বিষয় যে, পুরো ব্যাকটেরিয়া জগত ‘গ্রাম পজিটিভ’ ও ‘গ্রাম নেগেটিভ’ (Gram positive and gram negative) নামে পরিচিত দু’টি বিপরীতধর্মী জোড়ায় বিভক্ত। অনুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope) আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা তা উদ্‌ঘাটন করার শত শত বছর আগে কুরআন মাজিদ এই তথ্য প্রদান করেছে।
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পল ডিরাক (Paul Dirac) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি দেখান প্রত্যেক বস্তুই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৩ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কুরআন মাজিদ এই আবিষ্কারের ওপর নোবেল পুরস্কার প্রদানের শত শত বছর পূর্বেই তাঁর বর্ণনা দিয়েছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪৮: যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন

📄 মু’জিজা নং- ৪৮: যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন


আর তিনিই (আল্লাহ) যুগল সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী। একটি (শুক্র) বিন্দু থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়। (নাজম, ৫৩ : ৪৫-৪৬)

সকল প্রাণীর মধ্যে যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজননের বিষয়টি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার আগে প্রাণীদের যৌনক্রিয়ার (Fertilization) প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণাই ছিল না। আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই তথ্য অবতীর্ণ করেন মানুষ তা আবিষ্কার করার বহু আগে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪৯: দুধের উৎস

📄 মু’জিজা নং- ৪৯: দুধের উৎস


আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাঁর পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে দুধ, যা খাঁটি ও স্বচ্ছन्दকর পানকারীর জন্য। (নাহল, ১৬ : ৬৬)

কুরআন এখানে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সেই জীববৃত্তীয় প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয় যা অন্ত্রপ্রাচীরের স্তরে গোবর ও রক্তের নির্যাসকে একত্রে নিয়ে আসে এবং দুধ তৈরি করে। এটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেম (হজম-প্রক্রিয়া) সম্পর্কিত শরীর বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। যখন কুরআন অবতীর্ণ হয় তখন মানুষ এ ধরনের সূক্ষ্ম ও যথার্থ জ্ঞান সম্পর্কে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৫০: মধুর উৎস

📄 মু’জিজা নং- ৫০: মধুর উৎস


আর তোমার রব মৌমাছিকে ইঙ্গিতে জানিয়েছেন, ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও। অতঃপর তুমি প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর এবং তুমি তোমার রবের সহজ পথে চল।’ তার পেট থেকে এমন পানীয় বের হয় যার রং ভিন্ন, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য নিরাময়। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সেই কওমের জন্য যারা চিন্তা করে। (নাহল, ১৬ : ৬৮-৬৯)

লক্ষ্যণীয় যে, আরবি ভাষায় দুই প্রকার ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত হয়। এক প্রকার পুংলিঙ্গের জন্য, অন্য প্রকার স্ত্রীলিঙ্গের জন্য। এই আয়াতে কুরআন মাজিদ স্ত্রীবাচক ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেছে। এভাবে কুরআন মাজিদ এ কথা পরিষ্কারভাবে বিবৃত করে যে, খাদ্য সংগ্রহ ও মধু তৈরির সঙ্গে স্ত্রী মৌমাছিই জড়িত।

আরও উল্লেখ্য যে, পুরুষ মৌমাছি ও স্ত্রী মৌমাছির মধ্যে পার্থক্য এত সূক্ষ্ম, কেবল একজন অভিজ্ঞ লোকই তা পার্থক্য করতে পারে। বলাবাহুল্য, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন দক্ষ পতঙ্গ বিজ্ঞানী ছিলেন না। তিনি পুরুষ মৌমাছি ও স্ত্রী মৌমাছির পার্থক্য নির্ণয়েও সক্ষম ছিলেন না। বহু শতাব্দী পর্যন্ত মৌমাছি সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, স্ত্রী মৌমাছিরা ঘোরাফেরা করে তাদের বাসায় গিয়ে একটি ‘রাজা মৌমাছির’ কাছে কৈফিয়ত প্রদান করে। সাম্প্রতিক পতঙ্গ বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী মৌমাছিরা চারপাশে ঘোরাফেরা করে এসে বাসায় গিয়ে একটি ‘রানি মৌমাছির’ কাছে কৈফিয়ত প্রদান করে। যা হোক, কুরআন মাজিদে এই তথ্য বর্ণিত হয়েছে চৌদ্দশ বছরেরও অধিককাল আগে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00