📄 মু’জিজা নং- ৪৬: প্রাণীদের মধ্যে জাতি-গোষ্ঠীর অস্তিত্ব
আর জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী এবং দু’ডানা দিয়ে ওঠে এমন প্রতিটি পাখি তোমাদের মত এক একটি উম্মত (জাতি)। আমি কোনো কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে। (আনআম, ০৬ : ৩৮)
আমাদের মনে রাখা উচিত, আরব উপদ্বীপ, যা কি-না একটি মরুভূমি, তাতে নেই কোনো সমৃদ্ধ প্রাণী কিংবা পাখির আবাস। বলাবাহুল্য, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির জীবন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণের খুব সামান্য সুযোগ পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও কুরআন মাজিদ এমন একটি রহস্যের বর্ণনা দেয় যা সম্প্রতি প্রাণী ও পাখি বিজ্ঞানের গবেষণার ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা হল প্রতিটি প্রাণী ও পাখি স্বতন্ত্র সমাজ ও গোত্রে বসবাস করে। আবার বলছি, আমাদের উচিত এ ধরনের জ্ঞানের উৎস খুঁজে বের করা, যা কুরআন মাজিদে অবতীর্ণ হয়েছে আজ থেকে চৌদ্দশ বছরের অধিককাল পূর্বে। এটা অচিন্তনীয় যে, কোনো মানুষ এমন বিষয়ে ধারণা করতে পারে যা সে জীবনে পর্যবেক্ষণ করে নি। এবং তার সেই ধারণা হবে সম্পূর্ণরূপে সঠিক। এভাবে এ থেকে প্রতীয়মান হয়, আল্লাহ তাআলাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই জ্ঞানের উৎস।
📄 মু’জিজা নং- ৪৭: অজানা জগতে বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব
পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সব কিছু জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, জমিন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব থেকে যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)
কুরআন মাজিদ এই আয়াতে সব ধরনের জীবনের বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব ঘোষণা করে। এটি সেসব প্রজাতিসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে যা ছিল মানুষের অজানা। বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা ব্যাকটেরিয়া নামে পরিচিত একটি সামগ্রিক ক্ষুদ্র জীব-জগতের আবিষ্কার করেছে। এটি বিস্ময়কর ও লক্ষণীয় বিষয় যে, পুরো ব্যাকটেরিয়া জগত ‘গ্রাম পজিটিভ’ ও ‘গ্রাম নেগেটিভ’ (Gram positive and gram negative) নামে পরিচিত দু’টি বিপরীতধর্মী জোড়ায় বিভক্ত। অনুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope) আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা তা উদ্ঘাটন করার শত শত বছর আগে কুরআন মাজিদ এই তথ্য প্রদান করেছে।
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পল ডিরাক (Paul Dirac) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি দেখান প্রত্যেক বস্তুই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৩ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কুরআন মাজিদ এই আবিষ্কারের ওপর নোবেল পুরস্কার প্রদানের শত শত বছর পূর্বেই তাঁর বর্ণনা দিয়েছে।
📄 মু’জিজা নং- ৪৮: যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন
আর তিনিই (আল্লাহ) যুগল সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী। একটি (শুক্র) বিন্দু থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়। (নাজম, ৫৩ : ৪৫-৪৬)
সকল প্রাণীর মধ্যে যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজননের বিষয়টি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার আগে প্রাণীদের যৌনক্রিয়ার (Fertilization) প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণাই ছিল না। আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই তথ্য অবতীর্ণ করেন মানুষ তা আবিষ্কার করার বহু আগে।
📄 মু’জিজা নং- ৪৯: দুধের উৎস
আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাঁর পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে দুধ, যা খাঁটি ও স্বচ্ছन्दকর পানকারীর জন্য। (নাহল, ১৬ : ৬৬)
কুরআন এখানে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সেই জীববৃত্তীয় প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয় যা অন্ত্রপ্রাচীরের স্তরে গোবর ও রক্তের নির্যাসকে একত্রে নিয়ে আসে এবং দুধ তৈরি করে। এটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেম (হজম-প্রক্রিয়া) সম্পর্কিত শরীর বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। যখন কুরআন অবতীর্ণ হয় তখন মানুষ এ ধরনের সূক্ষ্ম ও যথার্থ জ্ঞান সম্পর্কে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত।