📄 মু’জিজা নং- ৪৪: পানিতে জীবনের আদি উৎস
অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? (আম্বিয়া, ২১ : ৩০)
আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের কোনোটি পেটে ভর দিয়ে চলে, কোনোটি চলে দু’পায়ের ওপর, আবার কোনোটি চার পায়ের ওপর চলে। আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর শক্তিমান। অবশ্যই আমি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে সরল পথ দেখান। (আন নূর, ২৪ : ৪৫-৪৬)
আর তিনিই (আল্লাহ) পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তাকে বংশগতি ও বৈবাহিক সম্পর্কযুক্ত করেছেন। আর তোমার রব (প্রত্যেক বস্তুর ওপর) প্রভূত ক্ষমতাবান। (ফুরকান, ২৫ : ৫৪)
পানি থেকে জীবনের উদ্ভব হওয়ার তথ্যটি বর্তমানে এমন একটি মৌলিক সত্য বিষয় যা, আমরা নিঃসংকোচে মেনে স্বীকার করি। বিষয়টির অতি উজ্জ্বল্য দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ আয়াতগুলি সম্পর্কে আমাদের অনুভূতিকে হয়তো প্রাণিত করবে না, বরং তা স্বাভাবিক বলে মনে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মভূমি আরব উপদ্বীপ নিরেট মরুভূমি। এমনকি সেখানে নেই কোনো নদী বা হ্রদ। এসব আয়াত এমন একটি রহস্যের বর্ণনা দেয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময় থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত আরব উপদ্বীপে অবর্তমান। তবু তা আমাদের সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
📄 মু’জিজা নং- ৪৫: সূক্ষ্মাতিক্ষ্ম জীবনের অস্তিত্ব
আর চতুষ্পদ জন্তুগুলো তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাতে রয়েছে উষ্ণতার উপকরণ ও বিবিধ উপকার। আর তা থেকে তোমরা (গোস্ত) আহার কর। আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, তোমাদের আরোহণ ও শোভার জন্য এবং তিনি সৃষ্টি করেন (অন্য) এমন কিছু, যা তোমরা জান না। (নাহল, ১৬ : ৫-৮)
পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সকল জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, জমিন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব থেকে যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)
উপরোক্ত আয়াতদ্বয় এমন আকারের জীবনের অস্তিত্ব নির্দেশ করে কুরআন অবতরনের প্রাক্কালে যা ছিল মানুষের অজানা। মাইক্রোস্কোপ বা অনুবীক্ষণযন্ত্র আবিষ্কারের পর মানবচক্ষু নতুন আবিষ্কৃত জীবনের স্বরূপের রহস্য যেমন, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস অবলোকন করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ কুরআন মাজিদ তাদের অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করেছে মানুষ তাদের আবিষ্কার করার বহু পূর্বে।
📄 মু’জিজা নং- ৪৬: প্রাণীদের মধ্যে জাতি-গোষ্ঠীর অস্তিত্ব
আর জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী এবং দু’ডানা দিয়ে ওঠে এমন প্রতিটি পাখি তোমাদের মত এক একটি উম্মত (জাতি)। আমি কোনো কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে। (আনআম, ০৬ : ৩৮)
আমাদের মনে রাখা উচিত, আরব উপদ্বীপ, যা কি-না একটি মরুভূমি, তাতে নেই কোনো সমৃদ্ধ প্রাণী কিংবা পাখির আবাস। বলাবাহুল্য, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির জীবন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণের খুব সামান্য সুযোগ পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও কুরআন মাজিদ এমন একটি রহস্যের বর্ণনা দেয় যা সম্প্রতি প্রাণী ও পাখি বিজ্ঞানের গবেষণার ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা হল প্রতিটি প্রাণী ও পাখি স্বতন্ত্র সমাজ ও গোত্রে বসবাস করে। আবার বলছি, আমাদের উচিত এ ধরনের জ্ঞানের উৎস খুঁজে বের করা, যা কুরআন মাজিদে অবতীর্ণ হয়েছে আজ থেকে চৌদ্দশ বছরের অধিককাল পূর্বে। এটা অচিন্তনীয় যে, কোনো মানুষ এমন বিষয়ে ধারণা করতে পারে যা সে জীবনে পর্যবেক্ষণ করে নি। এবং তার সেই ধারণা হবে সম্পূর্ণরূপে সঠিক। এভাবে এ থেকে প্রতীয়মান হয়, আল্লাহ তাআলাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই জ্ঞানের উৎস।
📄 মু’জিজা নং- ৪৭: অজানা জগতে বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব
পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সব কিছু জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, জমিন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব থেকে যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)
কুরআন মাজিদ এই আয়াতে সব ধরনের জীবনের বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব ঘোষণা করে। এটি সেসব প্রজাতিসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে যা ছিল মানুষের অজানা। বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা ব্যাকটেরিয়া নামে পরিচিত একটি সামগ্রিক ক্ষুদ্র জীব-জগতের আবিষ্কার করেছে। এটি বিস্ময়কর ও লক্ষণীয় বিষয় যে, পুরো ব্যাকটেরিয়া জগত ‘গ্রাম পজিটিভ’ ও ‘গ্রাম নেগেটিভ’ (Gram positive and gram negative) নামে পরিচিত দু’টি বিপরীতধর্মী জোড়ায় বিভক্ত। অনুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope) আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা তা উদ্ঘাটন করার শত শত বছর আগে কুরআন মাজিদ এই তথ্য প্রদান করেছে।
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পল ডিরাক (Paul Dirac) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি দেখান প্রত্যেক বস্তুই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৩ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কুরআন মাজিদ এই আবিষ্কারের ওপর নোবেল পুরস্কার প্রদানের শত শত বছর পূর্বেই তাঁর বর্ণনা দিয়েছে।