📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪১: অতি পারমাণবিক কণিকার উপস্থিতি

📄 মু’জিজা নং- ৪১: অতি পারমাণবিক কণিকার উপস্থিতি


আর কাফিররা বলে, ‘কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না’। বলুন, ‘অবশ্যই আমার রবের কসম! যিনি অদৃশ্য সম্পর্কে অবগত, তা তোমাদের কাছে আসবেই। আসমানসমূহে ও জমিনে অণু পরিমাণ কিংবা তার চেয়ে ছোট অথবা বড় কিছুই তাঁর অগোচরে নেই। বরং সব কিছু সুস্পষ্ট কিতাবে (লিপিবদ্ধ) রয়েছে। (সাবা, ৩৪ : ০৩)

এই আয়াতে যে আরবি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল, ‘যাররাহ’ (ذَرَّةٍ)। আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলি ও মারমাডিউক পিকথাল ইংরেজিতে ‘যাররাহ’ শব্দের অনুবাদ করেছেন Atom (পরমাণু) শব্দ দ্বারা। যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় তখন ‘যাররাহ’ (পরমাণু) ছিল মানুষের জানা মতে সবচেয়ে ক্ষুদ্র কণিকা। এই আয়াতে কুরআন মাজিদ ‘যাররাহ’র চেয়েও ক্ষুদ্রতর কণিকার উপস্থিতির কথা বর্ণনা করে।

পদার্থ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, পরমাণুকে আরও ক্ষুদ্রতর এককে বিভাজিত করা যেতে পারে। কুরআন মাজিদ এই বিষয়টির স্বীকৃতি দিয়েছে পদার্থ বিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করার চৌদ্দশ’ বছরেরও অধিককাল পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪২: সমুদ্রের পানির মাঝখানে অন্তরায়

📄 মু’জিজা নং- ৪২: সমুদ্রের পানির মাঝখানে অন্তরায়


কে পৃথিবীকে করেছে আবাসযোগ্য এবং তার মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই সাগরের মাঝখানে সৃষ্টি করেছেন অন্তরায়। আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। (নামল, ২৭ : ৬১)
তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক আড়াল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। অতএব (হে মানব ও দানব) তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (রহমান, ৫৫ : ১৯-২১)

এই আয়াতগুলি পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে ছিল এক রহস্য। সামুদ্রিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক গবেষণা ও আবিষ্কারের ভিত্তিতে আমরা এখন এই আয়াতগুলির ব্যাখ্যা দিতে পারি। উষ্ণ পানির স্রোতধারা বিশ্বের শীতল সাগরগুলির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সাগরসমূহে এ ধরনের স্রোতের প্রবাহ সাধারণ। এ ধরনের স্রোত কেবল আরব উপদ্বীপের চারপাশেই সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, তা নয়; বরং ভারতীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলসমূহেও। এ ধরনের স্রোতধারা সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৪২ সালে। বর্তমানে সেগুলিকে অত্যন্ত সুভেদী কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে চিহ্নিত করা গেছে। এটিও কুরআন মাজিদের অনন্য মু’জিজা যে, তা এমন একটি রহস্যের বর্ণনা দিয়েছে, যা তৎকালে তথাকার কোনো আরব প্রত্যক্ষ করে নি, যেখানে বা যে সময়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেন।

কুরআন মাজিদের উপরে বর্ণিত আয়াতদ্বয় বলে, ‘আল্লাহ তাআলা দু’টি সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন এবং সেখানে দুই সাগরের মাঝখানে রয়েছে একটি আড়াল।’ বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন, পানির এই দুই স্রোতধারা তাদের লবণাক্ততা, ঘনত্ব ও উচ্চতার বিচারে ভিন্ন ভিন্ন। তারা এও আবিষ্কার করেছেন, যখন পানির বহিঃস্থ স্রোতধারা অন্তঃস্থ স্রোতধারার দিকে প্রবাহিত হয় কিংবা তার বিপরীত অবস্থা ঘটে, তখন তা তৎক্ষণাৎ অন্য স্রোতের পানি অনুসারে তার অবস্থা বদলে ফেলে। এভাবে সেখানে দুই ধরনের পানি স্বাধীনভাবে মিশে যায়, তথাপি উভয় প্রকৃতির পানি তাদের স্ব স্ব বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে চলে। কুরআন মাজিদ এমন একটি জটিল রহস্য শনাক্ত করেছে, বিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করার বহু শতাব্দী পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪৩: বিচার দিবসে মহাশূন্যের সবকিছুর পরিসমাপ্তি

📄 মু’জিজা নং- ৪৩: বিচার দিবসে মহাশূন্যের সবকিছুর পরিসমাপ্তি


আর (যখন) শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। আসমানসমূহে (মহাশূন্যে) যারা আছে এবং পৃথিবীতে যারা আছে সকলে বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ তাআলা যাদেরকে ইচ্ছে করেন। অতঃপর আবার যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে। (যুমার, ৩৯ : ৬৮)

যখন কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হয়েছিল তখন কেহ জানত না, মানুষ একদিন আকাশে উড়বে, এমনকি মহাকাশে স্টেশন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করবে। একজন নাস্তিক এ কথা বলে কুরআন মাজিদকে নিয়ে বিদ্রূপ করেছিল যে, যখন বিচার দিবস কায়েম হবে, পৃথিবীতে যারা আছে তারা মৃত্যু বরণ করবে; কিন্তু যারা মহাশূন্যে আছে তারা এই প্রলয় থেকে নিরাপদ থাকবে। কুরআন মাজিদ এই আয়াতে দু’টি বিষয়ের ভবিষ্যৎবাণী করেছে। প্রথমত, এমন একদিন আসবে যেদিন মানুষ আকাশে উড়বে এবং মহাশূন্যে বসবাস করবে। দ্বিতীয়ত, যখন বিচার দিবস কায়েম হবে, যারা মহাশূন্যে থাকবে তারা মৃত্যু বরণ করবে, যারা পৃথিবী-পৃষ্ঠে থাকবে তাদের মতই। আবারও আমরা কুরআন মাজিদের প্রতিটি শব্দে বিস্ময়কর জ্ঞানগভীরতা প্রত্যক্ষ করি।
অতিক্রান্ত পৃষ্ঠাগুলি প্রাকৃতিক রহস্যের বহু প্রত্যক্ষণ প্রদান করে। এই প্রত্যক্ষণগুলি মানব-জাতির পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে রহস্য বলে বিবেচিত হত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চৌদ্দশ বছরের অগ্রগতি ও উন্নতি এই প্রত্যক্ষণগুলিকে এখন প্রকৃতির রহস্য নয়, বরং বাস্তব সত্য হিসেবে প্রমাণিত করেছে। স্মর্তব্য, এই প্রত্যক্ষণগুলি মানবজাতির কাছে প্রদত্ত হয়েছে একজন নিরক্ষর মানুষ তথা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে, যিনি লিখতে পড়তে জানতেন না। নাস্তিকরা বলে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন মাজিদে এ সকল প্রত্যক্ষণ লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর তীব্র কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে। পক্ষান্তরে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা অভিযোগ করে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব বিষয় বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (Old testament) ও নতুন নিয়ম (New testament) থেকে নকল করেছেন।
তবে বাস্তবতা হল এই প্রত্যক্ষণগুলি, এমনকি সেই সময়ের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট নয়, যখন কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হয়েছিল। অধিকন্তু এই প্রত্যক্ষণগুলো না পুরাতন নিয়মে বিদ্যমান, আর না নতুন নিয়মে। অতএব কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই জ্ঞানের উৎস কি? তিনি কি এ সকল প্রত্যক্ষণ তাঁর তীব্র চিন্তা ও কল্পনা শক্তি ব্যবহার করে রচনা করেছিলেন, নাকি তা সর্বজ্ঞাতা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল? তার যথার্থ উত্তর হল, আল্লাহ তাআলা এসব সত্য মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন।
‘নিশ্চয় তোমাদের কাছে চাক্ষুষ নিদর্শনাবলি এসেছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। অতএব যে দেখবে (সত্য) তবে তা হবে তার নিজের (কল্যাণের) জন্যই। আর যে অন্ধ সাজবে তবে তা (তার অনিষ্টতা) তার ওপরই (বর্তাবে)। আর বলুন, (হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমি (এখানে) তোমাদের ওপর সংরক্ষক নই। (চাই তোমরা এই সত্যকে গ্রহণ কর কিংবা প্রত্যাখ্যান কর)।’ (আনআম, ০৬ : ১০৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00