📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৩৯: নক্ষত্রসমূহের প্রকৃতি

📄 মু’জিজা নং- ৩৯: নক্ষত্রসমূহের প্রকৃতি


আর আমি (আল্লাহ) নিকটবর্তী আসমানকে সুসজ্জিত করেছি ‘মাসাবিহ’ (প্রদীপমালা) দিয়ে। (ফুসসিলাত, ৪১ : ১২, মূলক, ৬৭ : ০৫)

কুরআন মাজিদ মানুষকে আল্লাহ তাআলার নিদর্শনসমূহে চিন্তা-ভাবনা করার দাওয়াত দেয়। উল্লিখিত আয়াতসমূহ নক্ষত্ররাজিকে একটি বিশেষ পারিভাষিক শব্দ ‘মাসাবিহ’-এর মাধ্যমে নির্দেশ করছে। যার অর্থ ‘প্রদীপসমূহ’। এ ক্ষেত্রে চিন্তা করে দেখা উচিত, এটা কি নক্ষত্ররাজি কেবল এক বাহ্যিক বর্ণনা নাকি কুরআন মাজিদ আমাদেরকে নক্ষত্রসমূহের আণবিক ও রাসায়নিক প্রকৃতির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে? মহাকাশ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক উন্নয়ন, বিশেষত বিগত দুই দশকের অগ্রগতি দেখিয়েছে যে, নক্ষত্রগুলিতে এক ধরনের জ্বালানি জ্বলে আলো ও তাপ বিকিরণ করে, যেমনটি হয়ে থাকে একটি প্রদীপে।
এটা এখন জ্ঞাত বিষয় যে, নক্ষত্রগুলো অসংখ্য অণুর সমন্বয়ে গঠিত। এই অণুর নিউক্লিয়াসের চারপাশে ইলেকট্রনগুলো আবর্তিত হয়। ফলে নক্ষত্রগুলির রয়েছে একটি নির্দিষ্ট Volume। আরও আছে বিচ্ছুরিত আলো ও শক্তি। একটি নক্ষত্রের মৃত্যু মানে তাঁর সেই আলোর শক্তি নিঃশেষিত হওয়া, যা তাঁর Volume নিয়ন্ত্রণ করে। মহাকাশে দুই ধরনের মহাকাশীয় অবস্থান রয়েছে। যাদের নাম ‘শুভ্র গহ্বর’ বা কাউসার এবং কৃষ্ণ গহ্বর। প্রথমটি অভাবনীয় পরিমাণ শক্তির উৎস। পরবর্তী অবস্থানটি হল সেই শূন্যস্থান যা নক্ষত্রের মৃত্যুর ফলে সৃষ্টি হয়। যখন কোনো নক্ষত্রের মৃত্যু হয় তখন তা তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। মৃত নক্ষত্রটি আয়তনে যত বড় হয়, তার মাধ্যাকর্ষণীয় সংকোচন ততই নিবিড় হয়, এমনকি তা তার নিউক্লিয় স্তরে গিয়েই ক্ষান্ত হয় না; বরং আরও সংকুচিত হয়ে এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়, যাকে বলা হয় Singularity। এটি একটি কৃষ্ণ গহ্বর তৈরি করে যা কোনোভাবেই দেখা যায় না। নক্ষত্রের আলো বিচ্ছুরণ এবং পতনের সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ভর করে তার শক্তির মাত্রা বা Energy level-এর ওপর। এটিকে সেই কারণ বলে ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে, যার ফলে কুরআন মাজিদ এগুলিকে ‘প্রদীপসমূহ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪০: বিপরীত বস্তুর উপস্থিতি

📄 মু’জিজা নং- ৪০: বিপরীত বস্তুর উপস্থিতি


পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সবকিছু জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবী যা উৎপন্ন করে তা থেকে, তাদের (মানুষের) নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব কিছু থেকেও যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)

বলার অপেক্ষা রাখে না, পৃথিবী বিভিন্ন খনিজ পদার্থ উৎপাদন করে। বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, প্রত্যেক খনিজ পদার্থই হয়ত ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক আধান (charge) বিশিষ্ট অতি পারমাণবিক কণিকা দ্বারা গঠিত। কুরআন মাজিদে এই সত্যটি অবতীর্ণ হয়েছে এই বলে, পৃথিবী থেকে উৎপাদিত সকল বস্তুই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে। খনিজ পদার্থের পাশাপাশি এমনকি পানিও যা পৃথিবী উৎপাদন করে, তাও বিপরীতধর্মী যৌগসমূহ দ্বারা গঠিত। পানি গঠিত হয় দু’টি বিপরীতধর্মী উপাদানা দ্বারা। একটি ধনাত্মক উপাদানবিশিষ্ট হাইড্রোজেন অণু এবং অপরটি ঋণাত্মক উপাদানবিশিষ্ট অক্সিজেন অণু।

অধিকন্তু পৃথিবী থেকে উৎপন্ন জোড়া জোড়া বস্তুসমূহ আরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে সেসব সমজাতীয় জোড়া, যা তাদের দৈহিক ও রাসায়নিক ধর্মের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন। যেমন- ধাতু ও অধাতু। অনুরূপ বিপরীতধর্মী উপাদানবিশিষ্ট জোড়া যেমন, ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উপাদানবিশিষ্ট আয়ন থেকে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক উপাদানসমূহ চৌম্বকীয় বিপরীতধর্মী জোড়া, যেমন- চুম্বকের উত্তরপ্রান্ত ও দক্ষিণপ্রান্ত, আকর্ষণ ও বিকর্ষণ শক্তি, তেমনিভাবে কেন্দ্রনির্গত শক্তির মাধ্যমে মাধ্যাকর্ষণ ভারসাম্য ইত্যাদি।

মানবিক জোড়ার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে- পুরুষ ও মহিলার লিঙ্গভেদ, পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব প্রকাশক গুণ, যেমন- নিষ্ঠুরতা ও পরদুঃখ কাতরতা, সাহস ও ভয়, উদারতা ও কৃপণতা ইত্যাদি। অতঃপর যে কেহ সহজে উপসংহারে আসতে পারে যে, জোড়ার রহস্য পুরুষ ও মহিলা কিংবা বিপরীত বৈদ্যুতিক উপাদান ও বিপরীতধর্মী গুণ মানব জাতিসহ সব ধরনের প্রাকৃতিক বিষয় ও শক্তিসমূহের মধ্যে বিদ্যমান। এ কথা উপরোক্ত কুরআনি আয়াতে পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে। এখন আমরা নিজেদেরকে আরও একবার প্রশ্ন করি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মত একজন মানুষ যিনি না লিখতে পারতেন, না পড়তে। এমনকি যিনি নিজের নামটি পর্যন্ত স্বাক্ষর করতে পারতেন না, তিনি কি কুরআন মাজিদের গ্রন্থকার হতে পারেন? না তা এমন একটি গ্রন্থ যা সর্বজ্ঞ ও জ্ঞানময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে?

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪১: অতি পারমাণবিক কণিকার উপস্থিতি

📄 মু’জিজা নং- ৪১: অতি পারমাণবিক কণিকার উপস্থিতি


আর কাফিররা বলে, ‘কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না’। বলুন, ‘অবশ্যই আমার রবের কসম! যিনি অদৃশ্য সম্পর্কে অবগত, তা তোমাদের কাছে আসবেই। আসমানসমূহে ও জমিনে অণু পরিমাণ কিংবা তার চেয়ে ছোট অথবা বড় কিছুই তাঁর অগোচরে নেই। বরং সব কিছু সুস্পষ্ট কিতাবে (লিপিবদ্ধ) রয়েছে। (সাবা, ৩৪ : ০৩)

এই আয়াতে যে আরবি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল, ‘যাররাহ’ (ذَرَّةٍ)। আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলি ও মারমাডিউক পিকথাল ইংরেজিতে ‘যাররাহ’ শব্দের অনুবাদ করেছেন Atom (পরমাণু) শব্দ দ্বারা। যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় তখন ‘যাররাহ’ (পরমাণু) ছিল মানুষের জানা মতে সবচেয়ে ক্ষুদ্র কণিকা। এই আয়াতে কুরআন মাজিদ ‘যাররাহ’র চেয়েও ক্ষুদ্রতর কণিকার উপস্থিতির কথা বর্ণনা করে।

পদার্থ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, পরমাণুকে আরও ক্ষুদ্রতর এককে বিভাজিত করা যেতে পারে। কুরআন মাজিদ এই বিষয়টির স্বীকৃতি দিয়েছে পদার্থ বিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করার চৌদ্দশ’ বছরেরও অধিককাল পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৪২: সমুদ্রের পানির মাঝখানে অন্তরায়

📄 মু’জিজা নং- ৪২: সমুদ্রের পানির মাঝখানে অন্তরায়


কে পৃথিবীকে করেছে আবাসযোগ্য এবং তার মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই সাগরের মাঝখানে সৃষ্টি করেছেন অন্তরায়। আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। (নামল, ২৭ : ৬১)
তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক আড়াল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। অতএব (হে মানব ও দানব) তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (রহমান, ৫৫ : ১৯-২১)

এই আয়াতগুলি পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে ছিল এক রহস্য। সামুদ্রিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক গবেষণা ও আবিষ্কারের ভিত্তিতে আমরা এখন এই আয়াতগুলির ব্যাখ্যা দিতে পারি। উষ্ণ পানির স্রোতধারা বিশ্বের শীতল সাগরগুলির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সাগরসমূহে এ ধরনের স্রোতের প্রবাহ সাধারণ। এ ধরনের স্রোত কেবল আরব উপদ্বীপের চারপাশেই সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, তা নয়; বরং ভারতীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলসমূহেও। এ ধরনের স্রোতধারা সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৪২ সালে। বর্তমানে সেগুলিকে অত্যন্ত সুভেদী কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে চিহ্নিত করা গেছে। এটিও কুরআন মাজিদের অনন্য মু’জিজা যে, তা এমন একটি রহস্যের বর্ণনা দিয়েছে, যা তৎকালে তথাকার কোনো আরব প্রত্যক্ষ করে নি, যেখানে বা যে সময়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেন।

কুরআন মাজিদের উপরে বর্ণিত আয়াতদ্বয় বলে, ‘আল্লাহ তাআলা দু’টি সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন এবং সেখানে দুই সাগরের মাঝখানে রয়েছে একটি আড়াল।’ বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন, পানির এই দুই স্রোতধারা তাদের লবণাক্ততা, ঘনত্ব ও উচ্চতার বিচারে ভিন্ন ভিন্ন। তারা এও আবিষ্কার করেছেন, যখন পানির বহিঃস্থ স্রোতধারা অন্তঃস্থ স্রোতধারার দিকে প্রবাহিত হয় কিংবা তার বিপরীত অবস্থা ঘটে, তখন তা তৎক্ষণাৎ অন্য স্রোতের পানি অনুসারে তার অবস্থা বদলে ফেলে। এভাবে সেখানে দুই ধরনের পানি স্বাধীনভাবে মিশে যায়, তথাপি উভয় প্রকৃতির পানি তাদের স্ব স্ব বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে চলে। কুরআন মাজিদ এমন একটি জটিল রহস্য শনাক্ত করেছে, বিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করার বহু শতাব্দী পূর্বে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00