📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ২৯: চন্দ্র ও সূর্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতি

📄 মু’জিজা নং- ২৯: চন্দ্র ও সূর্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতি


তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি সূর্যকে বানিয়েছেন একটি জ্যোতিষ্ক এবং চন্দ্রকে আলোকরূপে। আর নির্ধারণ করেছেন তার জন্য মনজিলসমূহ। যাতে তোমরা জানতে পার বছরের গণনা ও (সময়ের) হিসাব। আল্লাহ তা সৃষ্টি করেন না, তবে যথার্থভাবে। তিনি (এভাবে) বিবৃত করেন (তাঁর) নিদর্শনসমূহ বিস্তারিতভাবে, সেসব লোকের জন্য যারা অনুধাবন করে। (ইউনুস, ১০ : ০৫)
শপথ, সূর্যের এবং তার কিরণের। শপথ, চন্দ্রের যখন তাকে প্রতিফলিত করে। (শামস, ৯১ : ১-২)

লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হল, বাইবেল চন্দ্র ও সূর্যকে সব সময় সমজাতীয় শব্দে উল্লেখ করেছে। যথা Light (বাতি)। এটি সূর্যের আগে greater (বৃহত্তর) বিশেষণ যোগ করে এবং চন্দ্রের আগে Lower (ক্ষুদ্রতর)। তাতে আছে, ‘বৃহত্তর বাতি দিন নিয়ে আসে এবং ক্ষুদ্রতর বাতি নিয়ে আসে রাত।’ (জেনেসিস, ১ : ১৭)
যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন মাজিদ বাইবেল থেকে নকল করতেন, যেমনটি কিছু খ্রিস্টান অপবাদ দিয়ে থাকে, তিনিও সূর্য ও চন্দ্রের জন্য একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করতেন। যাহোক, কুরআন মাজিদ এই সূর্য ও চন্দ্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেছে। একটিকে বলা হয়েছে, ‘নূর’ (আলো), যা চন্দ্রকে নির্দেশ করে। অন্যটিকে বলা হয়েছে ‘জিয়া’ (জ্যোতিষ্ক), যা নির্দেশ করে সূর্যকে। এভাবে কুরআন মাজিদ এ কথার স্বীকৃতি দিয়েছে যে, সূর্য হল আলোর উৎস এবং চন্দ্র কেবল তার আলোকেই প্রতিফলিত করে। বিজ্ঞানীরা এই সত্যকে আবিষ্কার করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের জ্ঞান-ভান্ডারের উৎকর্ষ সাধনের পর। অথচ কুরআন মাজিদ এই বর্ণনা প্রদান করেছে বহু শতাব্দী পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৩০: তাপের একমাত্র উৎসরূপে সূর্য

📄 মু’জিজা নং- ৩০: তাপের একমাত্র উৎসরূপে সূর্য


কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে সৃষ্টি করেছেন নক্ষত্রপুঞ্জ এবং তাতে স্থাপন করেছে সূর্য ও দীপ্তিমান চন্দ্র। (ফুরকান, ২৫ : ৬১)
তোমরা কি দেখতে পাও না কীভাবে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আসমান, একটির ওপর আরেকটি এবং তাতে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোকরূপে এবং সূর্যকে প্রদীপরূপে। (নূহ, ৭১ : ১৫-১৬)

কুরআন মাজিদের প্রতিটি শব্দেরই রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ। প্রয়োজন আমাদের সতর্ক মনোযোগ। সূর্য ও চন্দ্রের জন্য দু’টি ভিন্ন ভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করার পাশাপাশি-যেমনটি ইতঃপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে- কুরআন মাজিদে একটি বিশেষ পারিভাষিক শব্দ ‘মিসবাহ’ ও ব্যবহৃত হয়েছে, যার ভাষান্তর করা হয়েছে Lamp বা প্রদীপ শব্দের মাধ্যমে। জেনে রাখা উচিত, কুরআন মাজিদ শব্দটি ব্যবহার করেছে কেবল সূর্যের জন্য, চন্দ্রের জন্য নয়। আমাদের জানা মতে, একটি Lamp বা প্রদীপ, যার থাকে কিছু জ্বালানি, যা জ্বলে এবং আলোর পাশাপাশি তাপ প্রদান করে। কুরআন মাজিদ এভাবে বর্ণনা করে যে, সূর্য কেবল আলোরই উৎস নয়, বরং তাপেরও একটি উৎস। আরবি ভাষার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি মাত্রেই লক্ষ্য করবেন, সুরা বাকারার (২য় সুরা) ১৭ নং আয়াতে আগুন থেকে নির্গত আলোর বর্ণনা দেয়ার জন্য যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা হল ‘আযাআত’ (أَضَاءَتْ), তা ঠিক একই ধাতু বা ক্রিয়ামূল থেকে নির্গত হয়েছে, সূর্যের আলোর বর্ণনা দেয়ার জন্য যে ‘জিয়া’ (ضِيَاءً) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা যেখান থেকে উৎকলিত হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায়, সূর্য থেকে যে আলোক-রশ্মি বিচ্ছুরিত হয় তা আলো ও তাপ উভয়ই ধারণ করে। পক্ষান্তরে চন্দ্র থেকে যে রশ্মি (নূর) আসে তা কেবল আলোই ধারণ করে। কুরআন মাজিদের এই বিস্ময়কর শব্দ নির্বাচন দেখে যে কাউকেও পুনর্বার বিস্মিত হতে হবে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৩১: সূর্যের গতি

📄 মু’জিজা নং- ৩১: সূর্যের গতি


সূর্য তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৮)

নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের আবর্তন, যেমনটি উপরের আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে- বিষয়টি ব্যাখ্যার দাবি রাখে। আমাদের ছায়াপথ একটি থালার আকৃতিতে বহু সংখ্যক নক্ষত্রপুঞ্জ নিয়ে গঠিত। এই ছায়াপথে সেই থালার কেন্দ্র থেকে দূরে সূর্য একটি অবস্থান দখল করে আছে। ছায়াপথটি তার আপন অক্ষরেখার ওপর পরিক্রমণ করে, যা তার কেন্দ্র। ফলে তা সূর্যকে একই কেন্দ্রের চারপাশে একটি বৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তিত করে। ছায়াপথটি তার আপন অক্ষরেখায় তার আবর্তন শেষ করতে সময় নেয় ২৫০ মিলিয়ন বছর। সূর্য, এই আবর্তন সম্পন্ন করার প্রাক্কালে প্রতি সেকেন্ডে মোটামুটিভাবে ১৫০ মাইল বেগে পরিভ্রমণ করে। এটি সূর্যের নির্দিষ্ট গতিপথ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে- এতে কোনো সন্দেহ নেই যেমনটি কুরআন মাজিদের এই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। এটি সুনিশ্চিত যে, না মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর, আর না যারা তাঁর চারপাশে ছিলেন তাদের কাছে সূর্যের পরিভ্রমণের এই সুনির্দিষ্ট জ্ঞান ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হল, এই তথ্যটি কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে মানুষ তা আবিষ্কার করারও বহু পূর্বে। যা এ কথার অন্য একটি সাক্ষ্য যে, সর্বজ্ঞ আল্লাহ তাআলাই এই জ্ঞানের উৎস।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা নং- ৩২: সূর্যের ভিন্ন ভিন্ন উদয়াচল ও অস্তাচল

📄 মু’জিজা নং- ৩২: সূর্যের ভিন্ন ভিন্ন উদয়াচল ও অস্তাচল


তিনিই অধিপতি দু’টি উদয়াচল ও দু’টি অস্তাচলের। (রহমান, ৫৬ : ১৭)
নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক। আসমানসমূহ, পৃথিবী ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের। (সাফফাত, ৩৭ : ০৫)
আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের পালনকর্তার। (মাআরিজ, ৭০ : ৪০)

কুরআন মাজিদের উদ্ধৃত প্রথম আয়াত সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলি বলেন, দু’টি উদয়াচল হল সারা বছর সূর্য উদয়ের দু’টি প্রান্তসীমা। অনুরূপভাবে দু’টি অস্তাচল হল সূর্যাস্তের দু’টি চূড়ান্ত সীমা। কুরআন মাজিদের এই সুরায় উল্লিখিত দ্বৈত সংখ্যার সঙ্গে দ্বৈততার সাধারণ আবহ সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্য দুইটি আয়াত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ভিন্ন ভিন্ন স্থান নির্দেশ করে। বিষুবরেখা থেকে কোনো ব্যক্তি যতই দূরে বসবাস করবে তার কাছে সূর্যের উদয়াচল ও অস্তাচলগুলি ততই সুস্পষ্ট হবে। উল্লেখ্য যে, আরব উপদ্বীপ বিষুবরেখা থেকে ততদূরে অবস্থিত নয়, তাই এই বিভিন্নতার রহস্যটি সেখানে সহজে নির্ণয় করা যায় না। এ কথা বলাবাহুল্য যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদয়াচল ও অস্তাচলের এই বিভিন্নতা প্রত্যক্ষ করেন নি। তবে কুরআন মাজিদেই এই সার্বজনীন বিস্ময়ের সত্যতা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখে রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00