📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-১৭: বিংশ শতাব্দীর একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার

📄 মু’জিজা-১৭: বিংশ শতাব্দীর একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার


কুরআন মাজিদ তিন প্রকারের সৃষ্টির কথা বারবার উল্লেখ করেছে : যেসব বিষয় বা বস্তু নভোমন্ডলে রয়েছে, যেসব বস্তু ভূমন্ডলে রয়েছে এবং যেসব বস্তু নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের মাঝখানে রয়েছে।
আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এবং এতদুভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে তা যথার্থভাবেই সৃষ্টি করেছি। (হিজর, ১৫ : ৮৫)
নভোমন্ডলে, ভূমন্ডলে, এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা আছে তা তাঁরই। (ত্বাহা, ২০ : ০৬)
নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মাঝে যা আছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। (আম্বিয়া, ২১ : ১৬)
কুরআন মাজিদের আরও কিছু আয়াত সেসব বস্তুর নির্দেশ করে যা আল্লাহ তাআলা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের মাঝখানে সৃষ্টি করেছেন। যেমন : ২৫:৫৯; ৩২:০৪; ৪৩:৮৫; ৪৪:০৭, ৩৮; ৪৬:০৩; ৫০:৩৮; এবং ৭৮:৩৭।
মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত আমাদের সাম্প্রতিক জ্ঞানের ভিত্তিতে আমরা বর্তমানে কুরআন মাজিদে বারংবার উল্লিখিত এসব বিষয়ের ব্যাখ্যার একটি পর্যায়ে রয়েছি। বৈজ্ঞানিকগণ সাম্প্রতিক সময়ে মহাশূন্যে ছায়াপথ বহির্ভূত বস্তুর উপস্থিতি আবিষ্কার করেছে। আমাদের মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন প্রক্রিয়ায় সংযুক্তি ও একীভূত হওয়ার পর বিভাজন ও বিক্ষেপণের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যেমনটি ইতঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, কুরআন মাজিদ মহাবিশ্বের গঠন প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়েছে সর্বাধিক উপযুক্ত আরবি শব্দ ‘ফাতাক্ব’ (বিভাজন) ও ‘রাতাক্ব’ (সংযুক্তি)- এর মাধ্যমে। ‘রাতাক্ব’ (সংযুক্তি)- এর প্রাথমিক প্রক্রিয়ার সময় কিছু টুকরো মহাশূন্যের বাইরে থেকে গিয়েছিল। এগুলিকেই বর্তমানে আন্তঃছায়াপথীয় বস্তু বলা হয়। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা অতি সম্প্রতি সেসসবের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পেরেছে। পক্ষান্তরে কুরআন মাজিদ এসব বিক্ষিপ্ত টুকরার উপস্থিতির স্বীকৃতি দিয়েছে বহু শতাব্দী পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-১৮: মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ

📄 মু’জিজা-১৮: মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ


আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে নভোমন্ডল বিনির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি (নিরন্তর) প্রসারণকারী। (যারিয়াত, ৫১ : ৪৭)

১৯৩৭ সালে রেডিও টেলিস্কোপের (দূরদর্শন যন্ত্রের) উন্নয়নের পরই মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ডাটা-উপাত্ত প্রত্যক্ষ করা গেছে এবং তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রত্যক্ষণের বাইরে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা উপস্থাপন করেছেন, যাকে বলে ‘Hubbel Control’ তত্ত্ব। যা সেই পরিমাণ সরবরাহ করে সম্প্রতি মহাবিশ্বের প্রসারণের মাত্রা অনুমানের জন্য যা ব্যবহৃত হয়েছে। এখন বিষয় এই নয় যে, মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ হচ্ছে কি না। বরং বিষয় হল, তা কি মাত্রায় সম্প্রসারিত হচ্ছে? মহাকাশ বিজ্ঞানীগণ এই ব্যাপ্তি‍কে বিশ বিলিয়ন আলোকবর্ষের একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের পরিভাষায় ব্যক্ত করেছেন। রেডিও টেলিস্কোপ সম্প্রতি এই প্রমাণ সরবরাহ করেছে যে, এই মহাশূন্য প্রায় আলোর গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ধরনের মহাকাশ বিজ্ঞানসংক্রান্ত সাম্প্রতিক জ্ঞান কিভাবে চৌদ্দশ বছর পূর্বেকার কুরআন মাজিদে বর্ণিত হতে পারে? তা এ কথাই প্রমাণ করে যে, কুরআন মাজিদ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত আসমানি গ্রন্থ।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-১৯: সপ্তস্তর বিশিষ্ট আসমান

📄 মু’জিজা-১৯: সপ্তস্তর বিশিষ্ট আসমান


তিনিই সে সত্তা (আল্লাহ) যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু রয়েছে জমিনে, তারপর তিনি মনসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুত তিনি তৈরি করেছেন সাত আসমান। আর তিনি সর্ববিষয়ে অবহিত। (বাকারা, ০২ : ২৯)
আর আমি তোমাদের ওপর সৃষ্টি করেছি সপ্তপথ। (মুমিনূন, ২৩ : ১৭)
আর আমি নির্মাণ করেছি তোমাদের ওপর মজবুত সপ্ত আকাশ। (নাবা, ৭৮ : ১২)

এই আয়াতগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রহস্য হয়েই থেকে গেছে। এমনকি এই বিজ্ঞানের যুগের মানুষের কাছেও। সাম্প্রতিক সময়ে একজন তুর্কি মহাকাশ বিজ্ঞানী ডক্টর হালুক নূর বাকি মহাকাশ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণার ভিত্তিতে এই আয়াতগুলির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, যে মহাশূন্য আমাদের পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তা নিম্নলিখিত সাতটি সমকেন্দ্রিক চৌম্বক স্তরে গঠিত।
১. মহাশূন্যের যে ক্ষেত্র সৌরজগত দ্বারা গঠিত তা প্রথম আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে।
২. সম্প্রতি ‘মিল্কিওয়ে’ বা আকাশগঙ্গার চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। আমাদের ছায়াপথের এই বিস্তৃত ক্ষেত্রটি দ্বিতীয় আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে।
৩. ছায়াপথসমূহের `Local Cluster` মহাকাশীয় ক্ষেত্র তৃতীয় আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে।
৪. ছায়াপথসমূহের সমন্বয়ে গঠিত মহাবিশ্বের কেন্দ্রীয় চৌম্বক ক্ষেত্র চতুর্থ আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে।
৫. অতি দূর থেকে আগত আলোকতরঙ্গের উৎসসমূহের প্রতিনিধিত্বকারী মহাজাগতিক বলয় পঞ্চম আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে।
৬. মহাবিশ্বের প্রসারমাণ ক্ষেত্র ষষ্ঠ আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে।
৭. মহাবিশ্বের প্রান্তহীন অসীমত্বের নির্দেশক সর্ববহিঃস্থ ক্ষেত্র সপ্তম আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে।

আসমানের এই স্তরসমূহ অকল্পনীয় স্থান জুড়ে আছে। প্রথম আসমান স্তরের পুরুত্ব আনুমানিক ৬.৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। দ্বিতীয় স্তর তথা আমাদের ছায়াপথের ব্যাস হল ১৩০ হাজার আলোকবর্ষ। তৃতীয় স্তরের বিস্তার ২ মিলিয়ন আলোকবর্ষ। চতুর্থ স্তরের ব্যাস ১০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ। পঞ্চম স্তরটি ১ বিলিয়ন আলোকবর্ষের দূরত্বে। ষষ্ঠ স্তরটি অবস্থিত ২০ বিলিয়ন আলোকবর্ষের দূরত্বে। একথা বলা বাহুল্য যে, সপ্তম স্তরটি বিস্তৃত হয়ে আছে অসীম দূরত্ব পর্যন্ত। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সেই আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি এই সুবৃহৎ ও অসীম মহাবিশ্বের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। এই হল সেই সপ্তস্তর আসমান যার ঘোষণা দিয়েছে কুরআন মাজিদ আজ থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-২০: পৃথিবীর ক্রমবিকাশে চারটি ধাপ

📄 মু’জিজা-২০: পৃথিবীর ক্রমবিকাশে চারটি ধাপ


আর তিনি পৃথিবীর উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দান করেছেন এবং চারদিনের মধ্যে তাতে তাঁর খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন, তাদের জন্য (তথ্যস্বরূপ) যারা জিজ্ঞাসা করে। (ফুসসিলাত, ৪১ : ১০)

বর্তমান বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর ইতিহাসকে নিম্নবর্ণিত প্রধান চারটি ভাগে বিভক্ত করেন—
১. Pre-Cambrian যুগ : ৬০০ থেকে ৩৩০০ মিলিয়ন বছর। এই যুগে পৃথিবী তার আদি পিন্ড থেকে বিকশিত হয় এবং একটি স্বতন্ত্র গ্রহের রূপ ধারণ করে। জীবনের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্যের মাধ্যমে এ যুগের সমাপ্তি ঘটে।
২. Paleozoic যুগ : ২৩০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন বছর। এই যুগে সর্বপ্রথম ভূমিজ লতা-পাতা, উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ দৃষ্টিগোচর হয়। এটি হল প্রাচীন প্রাণ যুগ।
৩. Mesozoic যুগ : ৬৩ থেকে ২৩০ মিলিয়ন বছর। এটিকে মধ্যপ্রাণ যুগ বলে বিবেচনা করা হয়। মৌসুমী পরিবর্তনের সঙ্গে বৃক্ষ-লতা ভালভাবে খাপ খেয়ে গিয়েছিল। মেরুদন্ডী প্রাণী, স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিও এ যুগে গোড়াপত্তন হয়। আর ডাইনোসর ছিল প্রচুর।
৪. Conozoic যুগ : বর্তমান সময় থেকে ৬৩ মিলিয়ন বছর। এই যুগ জীবনের বর্তমান ধাপকে অন্তর্ভুক্ত করে।

পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসকে এই চার ভাগে বিভাজন অবিন্যস্ত কিংবা বিশৃঙ্খল নয়, বরং তা করা হয়েছে দৈহিক গঠন প্রক্রিয়ার ক্রম-বিকাশের সাপেক্ষের ওপর ভিত্তি করে। এই যুগগুলি বিশ্ব বিস্তৃত পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সার্বজনীনভাবে গৃহীত হয়েছে। এগুলি প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগতের ক্রমোন্নতি এবং মহাদেশগুলির গতিপ্রবাহ, মহাসাগর ও পর্বতমালার রূপ পরিবর্তনের রেকর্ডেরও প্রতিনিধিত্ব করে। এটিই সম্ভবত সেই চার যুগ যা কুরআন মাজিদ বর্ণনা করে—
‘এবং তিনি (আল্লাহ) পৃথিবীর উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন..........তাতে খাদ্যের সংস্থান করেছেন চারদিনের মধ্যে (চারটি সুষম সময়ের মধ্যে)।’

এখানে লক্ষণীয় যে, পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের এই চারটি সময়কাল আকাশ, পৃথিবী ও পুরো মহাবিশ্ব সৃষ্টির ছয় সময়কাল থেকে ভিন্ন। সেগুলি অতীত হয়ে গেছে পাঁচ বিলিয়ন বছরেরও অধিককাল পূর্বে যেখানে মহাবিশ্বের বয়স বর্তমানে ১০ বিলিয়ন বছরেরও অধিক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00