📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-১৫: আদি পিণ্ড বিভাজন ও বিক্ষেপণে সময় উপাদান

📄 মু’জিজা-১৫: আদি পিণ্ড বিভাজন ও বিক্ষেপণে সময় উপাদান


নিশ্চয় আমি (আল্লাহ) প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি পরিমিতরূপে, আমার কাজ তো এক মুহূর্তে, চোখের পলকের মত। (ক্বামর, ৫৪ : ৪৯-৫০)

উপরোক্ত আয়াতের বর্ণনার অনুরূপ, বিজ্ঞানীরা মনে করে, আদি পিণ্ড বিভাজন ও বিক্ষেপণে সময় লেগেছিল ১/১০-৩২ সেকেন্ডেরও কম। এই আয়াত বলে আল্লাহ তাআলার আদেশ, চোখের পলকের মত। অন্যকথায় বলা যায়, আমাদের বর্তমান মহাবিশ্ব গঠনে সময় লেগেছিল শূন্য সেকেন্ডের একটি ক্ষুদ্রতম ভগ্নাংশ। ১৯৭৭ সালে বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল এই আবিষ্কারের জন্য। অথচ কুরআন মাজিদ রহস্যের জট উন্মোচন করেছে বহু শতাব্দী পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-১৬: একাধিক বিশ্বের উপস্থিতি

📄 মু’জিজা-১৬: একাধিক বিশ্বের উপস্থিতি


সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল বিশ্বের প্রতিপালক। (ফাতিহা, ০১ : ০১)

এটি কুরআন মাজিদের প্রথম সুরার প্রথম আয়াত। চৌদ্দশত বছর পূর্বে মানুষের মন, পৃথিবী, সৌর জগত কিংবা ছায়াপথসমূহ সম্পর্কে কোনো ধরনের স্বচ্ছ ধারণা করতে অক্ষম ছিল। এমতাবস্থায় কুরআন মাজিদের সর্বপ্রথম আয়াত বলে যে, আল্লাহ তাআলা সকল বিশ্বের অধিপতি, যা পৃথিবী ব্যতীত আরও একাধিক বিশ্বের উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। বস্তুত ‘সকল বিশ্বের অধিপতি’ কথাটি কুরআন মাজিদে সর্বমোট ৭৩ বার দেখা যায়। যেমন : সুরা ও আয়াত নং ২: ১৩১; ৬: ৪৫,৭১; ২৬: ১৬; ৩২: ০২; ৪১: ০৯; ৪৩: ৪৬; ৬৯: ৪৩ ইত্যাদি। বর্তমানে মানব সমাজ এ ব্যাপারে সম্যক অবহিত যে, পৃথিবী ছাড়া আরও গ্রহ রয়েছে। এই বিষয়টি জানা গেছে কেবল টেলিস্কোপ আবিষ্কার ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে। অথচ সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা তাঁর প্রিয়‍নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই জ্ঞান অবতীর্ণ করেছেন মানুষ টেলিস্কোপ ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের অনেক পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-১৭: বিংশ শতাব্দীর একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার

📄 মু’জিজা-১৭: বিংশ শতাব্দীর একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার


কুরআন মাজিদ তিন প্রকারের সৃষ্টির কথা বারবার উল্লেখ করেছে : যেসব বিষয় বা বস্তু নভোমন্ডলে রয়েছে, যেসব বস্তু ভূমন্ডলে রয়েছে এবং যেসব বস্তু নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের মাঝখানে রয়েছে।
আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এবং এতদুভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে তা যথার্থভাবেই সৃষ্টি করেছি। (হিজর, ১৫ : ৮৫)
নভোমন্ডলে, ভূমন্ডলে, এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা আছে তা তাঁরই। (ত্বাহা, ২০ : ০৬)
নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মাঝে যা আছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। (আম্বিয়া, ২১ : ১৬)
কুরআন মাজিদের আরও কিছু আয়াত সেসব বস্তুর নির্দেশ করে যা আল্লাহ তাআলা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের মাঝখানে সৃষ্টি করেছেন। যেমন : ২৫:৫৯; ৩২:০৪; ৪৩:৮৫; ৪৪:০৭, ৩৮; ৪৬:০৩; ৫০:৩৮; এবং ৭৮:৩৭।
মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত আমাদের সাম্প্রতিক জ্ঞানের ভিত্তিতে আমরা বর্তমানে কুরআন মাজিদে বারংবার উল্লিখিত এসব বিষয়ের ব্যাখ্যার একটি পর্যায়ে রয়েছি। বৈজ্ঞানিকগণ সাম্প্রতিক সময়ে মহাশূন্যে ছায়াপথ বহির্ভূত বস্তুর উপস্থিতি আবিষ্কার করেছে। আমাদের মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন প্রক্রিয়ায় সংযুক্তি ও একীভূত হওয়ার পর বিভাজন ও বিক্ষেপণের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যেমনটি ইতঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, কুরআন মাজিদ মহাবিশ্বের গঠন প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়েছে সর্বাধিক উপযুক্ত আরবি শব্দ ‘ফাতাক্ব’ (বিভাজন) ও ‘রাতাক্ব’ (সংযুক্তি)- এর মাধ্যমে। ‘রাতাক্ব’ (সংযুক্তি)- এর প্রাথমিক প্রক্রিয়ার সময় কিছু টুকরো মহাশূন্যের বাইরে থেকে গিয়েছিল। এগুলিকেই বর্তমানে আন্তঃছায়াপথীয় বস্তু বলা হয়। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা অতি সম্প্রতি সেসসবের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পেরেছে। পক্ষান্তরে কুরআন মাজিদ এসব বিক্ষিপ্ত টুকরার উপস্থিতির স্বীকৃতি দিয়েছে বহু শতাব্দী পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran > 📄 মু’জিজা-১৮: মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ

📄 মু’জিজা-১৮: মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ


আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে নভোমন্ডল বিনির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি (নিরন্তর) প্রসারণকারী। (যারিয়াত, ৫১ : ৪৭)

১৯৩৭ সালে রেডিও টেলিস্কোপের (দূরদর্শন যন্ত্রের) উন্নয়নের পরই মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ডাটা-উপাত্ত প্রত্যক্ষ করা গেছে এবং তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রত্যক্ষণের বাইরে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা উপস্থাপন করেছেন, যাকে বলে ‘Hubbel Control’ তত্ত্ব। যা সেই পরিমাণ সরবরাহ করে সম্প্রতি মহাবিশ্বের প্রসারণের মাত্রা অনুমানের জন্য যা ব্যবহৃত হয়েছে। এখন বিষয় এই নয় যে, মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ হচ্ছে কি না। বরং বিষয় হল, তা কি মাত্রায় সম্প্রসারিত হচ্ছে? মহাকাশ বিজ্ঞানীগণ এই ব্যাপ্তি‍কে বিশ বিলিয়ন আলোকবর্ষের একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের পরিভাষায় ব্যক্ত করেছেন। রেডিও টেলিস্কোপ সম্প্রতি এই প্রমাণ সরবরাহ করেছে যে, এই মহাশূন্য প্রায় আলোর গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ধরনের মহাকাশ বিজ্ঞানসংক্রান্ত সাম্প্রতিক জ্ঞান কিভাবে চৌদ্দশ বছর পূর্বেকার কুরআন মাজিদে বর্ণিত হতে পারে? তা এ কথাই প্রমাণ করে যে, কুরআন মাজিদ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত আসমানি গ্রন্থ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00