📄 মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি জীবন্ত মু’জিজা
<article>
<header>
<h2>মুহাম্মদ (সা.)-এর এক জীবন্ত মু'জিজা: পবিত্র কুরআন</h2>
</header>
<section>
<h3>১. মু'জিজার সংজ্ঞা ও তাৎপর্য</h3>
<ul>
<li><strong>মু'জিজা:</strong> এমন একটি কাজ যা প্রকৃতির নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না, মানুষের ক্ষমতা ও সাধ্যের ঊর্ধ্বে, অথবা মানবিক কার্যকারণ ও যুক্তির মাধ্যমে যার ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।</li>
<li>মু'জিজা <strong>সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা'আলার প্রত্যক্ষ কাজ</strong> হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ তা মানুষের ক্ষমতার আয়ত্তের বাইরে।</li>
<li>এটি আল্লাহ তা'আলার <strong>সার্বভৌম ক্ষমতা ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের প্রতিফলন</strong> ঘটায় এবং মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ।</li>
<li>আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীদের সাফল্য ও মুক্তির পথ প্রদর্শনের জন্য প্রেরণ করেছেন। তারা যখন মু'জিজার দাবি পেতেন, তাদের উত্তর ছিল: "আমি আল্লাহ তা'আলার একজন বান্দা মাত্র, আমার কোনো অতিরিক্ত ক্ষমতা নেই।"</li>
<li>তবে, আল্লাহ তাঁর দয়ায় নবীদের <strong>বহু মু'জিজা</strong> দান করেছেন, যা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছে।</li>
<li>কিছু লোক মু'জিজাকে জাদু বা ভেলকিবাজি বলত, কিন্তু বিচক্ষণ লোকেরা একে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে মু'জিজা হিসেবে গ্রহণ করত।</li>
</ul>
</section>
<section>
<h3>২. অন্যান্য নবীদের মু'জিজা বনাম মুহাম্মদ (সা.)-এর মু'জিজা</h3>
<h4>পূর্ববর্তী নবীদের মু'জিজা:</h4>
<ul>
<li>প্রত্যেক নবীকে তাঁর সম্প্রদায় ও সময়ের জন্য বিশেষ মু'জিজা প্রদান করা হত।</li>
<li>এই মু'জিজাগুলি <strong>স্থান ও সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ</strong> ছিল এবং কেবল গল্প আকারে টিকে আছে।</li>
</ul>
<h4>মুহাম্মদ (সা.)-এর মু'জিজা:</h4>
<ul>
<li>মুহাম্মদ (সা.) <strong>সর্বশেষ রাসুল</strong> হিসেবে সমগ্র মানব জাতি ও আগত সকল সময়ের জন্য প্রেরিত হয়েছেন।</li>
<li>তাঁর একটি <strong>সার্বজনীন মু'জিজা</strong> থাকা প্রয়োজন যা স্থান-কাল নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।</li>
</ul>
</section>
<section>
<h3>৩. মুহাম্মদ (সা.)-এর সার্বজনীন মু'জিজা: পবিত্র কুরআন</h3>
<ul>
<li>আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মদ (সা.)-এর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁকে <strong>পবিত্র কুরআন মাজিদ</strong> দান করেছেন, যা তাঁর সার্বজনীন মু'জিজা।</li>
<li>বিগত চৌদ্দশ বছর ধরে, প্রত্যেক যুগ ও প্রজন্ম <strong>কুরআন মাজিদের নতুন নতুন বিস্ময় ও মু'জিজা</strong> আবিষ্কার করেছে।</li>
<li>এর জ্ঞান মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।</li>
<li>কুরআন মাজিদের বিষয়বস্তুতে <strong>কোনো অসঙ্গতি বা বিজ্ঞানের প্রামাণ্য সত্যের পরিপন্থী কিছু পাওয়া যায় নি</strong>।</li>
</ul>
</section>
<section>
<h3>৪. মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মকালীন পরিবেশ ও তাঁর সাধারণ জীবন</h3>
<ul>
<li>মুহাম্মদ (সা.) <strong>৫৭১ খ্রিস্টাব্দে</strong> মক্কার একটি ছোট শহরে জন্মগ্রহণ করেন।</li>
<li>তৎকালে এটি ছিল <strong>মানব ইতিহাসের 'অন্ধকার যুগ'</strong>, যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান ছিল অতি সীমিত।</li>
<li>সাধারণ মানুষ <strong>লেখা-পড়া ও মুদ্রণের কলা-কৌশল সম্পর্কে অজ্ঞ</strong> ছিল।</li>
<li><strong>আরব উপদ্বীপের জীবন ব্যবস্থা ছিল সেকেলে, রুঢ় ও দারিদ্র্যপূর্ণ</strong>। দেশটি ছিল প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।</li>
<li>লোকেরা <strong>যাযাবরের ন্যায় বসবাস করত</strong>, গোত্রে গোত্রে বিভক্ত ছিল এবং 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতি প্রচলিত ছিল।</li>
<li><strong>কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেওয়ার প্রচলন</strong> ছিল।</li>
</ul>
</section>
<section>
<h3>৫. মুহাম্মদ (সা.)-এর শৈশব ও শিক্ষা</h3>
<ul>
<li>জন্মের পূর্বে পিতা, ছয় বছর বয়সে মাতা এবং আট বছর বয়সে পিতামহকে হারান।</li>
<li>অতঃপর এক <strong>দরিদ্র চাচার গৃহে আশ্রয়</strong> গ্রহণ করেন।</li>
<li>চাচা তাঁর <strong>জ্ঞান অর্জন বা মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সক্ষম ছিলেন না</strong>।</li>
<li>তিনি <strong>গবাদি পশু চরিয়ে</strong> চাচার সহযোগিতা করতেন।</li>
<li>তাঁর বাল্যজীবন ছিল <strong>অত্যন্ত কঠিন ও অভাবের</strong>।</li>
<li>ঐতিহাসিকরা বলেন, মুহাম্মদ (সা.) <strong>লিখতে বা পড়তে জানতেন না</strong>, এমনকি নিজের নামও স্বাক্ষর করতে পারতেন না।</li>
<li>তৎকালে মক্কায় সুলভ <strong>ন্যূনতম জ্ঞান বা শিক্ষা অর্জনের সুযোগও তাঁর ছিল না</strong>।</li>
<li>জীবনের দু'টি দীর্ঘ সফর (সিরিয়ার অভিমুখে) তাঁকে <strong>কোনো বিশেষ জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করেনি</strong>।</li>
<li>তিনি <strong>খুব সহজ সরল ও সাধাসিধে জীবন যাপন করতেন</strong>, কোনো বিতর্ক, ঝগড়া-বিবাদ বা যুদ্ধে জড়াতেন না।</li>
<li>মক্কার লোকেরা তাঁর <strong>সততা ও সদাচারের জন্য 'আল-আমিন' (বিশ্বাসী) ও 'আস-সাদিক' (সত্যবাদী)</strong> উপাধিতে ভূষিত করেছিল।</li>
</ul>
</section>
<section>
<h3>৬. চল্লিশ বছর বয়সে দ্বীনী দায়িত্ব গ্রহণ এবং বহুমুখী ভূমিকা</h3>
<ul>
<li>চল্লিশ বছর বয়সে তিনি <strong>আল্লাহ তা'আলার সর্বশেষ রাসুল</strong> হিসেবে মনোনীত হওয়ার ঘোষণা দেন।</li>
<li>তাঁর ব্যক্তিত্বে <strong>হঠাৎ পরিবর্তন আসে</strong> এবং তিনি নানা ভূমিকা পালন করেন:
<ul>
<li>ধর্মপ্রচারক</li>
<li>রাষ্ট্রনায়ক</li>
<li>বক্তা</li>
<li>সৈনিক</li>
<li>সেনানায়ক</li>
<li>নেতা</li>
<li>আইন প্রণেতা</li>
<li>বিচারক</li>
<li>চুক্তিসম্পাদনকারী</li>
<li>ব্যবসায়ী</li>
<li>শিক্ষক</li>
<li>স্বামী, পিতা</li>
</ul>
</li>
<li>সকল ক্ষেত্রে তাঁর <strong>সাফল্য ছিল অসামান্য</strong>, যা তাকে মানবজাতির সেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় শীর্ষে স্থান দিয়েছে।</li>
</ul>
</section>
<section>
<h3>৭. কুরআনের অসামান্যতা ও তার প্রমাণ</h3>
<ul>
<li>কুরআন মাজিদ মুহাম্মদ (সা.)-এর <strong>সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান</strong> এবং মানব ইতিহাসে এর <strong>কোনো তুলনা নেই</strong>।</li>
<li>এটি কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর <strong>জীবন্ত মু'জিজা</strong> হিসেবে বিদ্যমান থাকবে।</li>
<li>কুরআন মাজিদ এমন অসংখ্য তথ্য ধারণ করে যা অবতীর্ণ হওয়ার সময় মানুষের জানা ছিল না এবং যা <strong>বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বর্তমানে প্রমাণিত সত্য</strong>।</li>
<li>মুহাম্মদ (সা.)-এর মত একজন <strong>নিরক্ষর মানুষের পক্ষে কুরআন রচনা বা তার চিত্রকল্প তৈরি করা অসম্ভব</strong>।</li>
<li>এটি প্রমাণ করে যে, <strong>কুরআন মাজিদ সর্বজ্ঞাতা ও মহামহিম আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে প্রেরিত একটি আসমানি মু'জিজা</strong>।</li>
</ul>
<blockquote>
<p>"তুমি তো এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করতে না। আর না তুমি তোমার দক্ষিণ হাত দ্বারা তা লিখতে পারতে। এমনটি হলে, অবশ্যই মিথ্যাবাদীরা (কুরআন সম্বন্ধে) সন্দেহ পোষণ করত।" (আনকাবুত, ২৯ : ৪৮)</p>
<p>"আর এই কুরআন এমন নয় যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেহ তা বানিয়ে নেবে। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী কালামের সত্যায়ন করে এবং সে কিতাবের বিশ্লেষণ করে যাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বজাহানের পালনকর্তার পক্ষ থেকে। নাকি তারা বলে, তিনি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা বানিয়ে এনেছেন? তুমি বলে দাও, ‘তাহলে তোমরা নিয়ে আস এর মত একটি সুরা এবং আহবান কর (সাহায্যের জন্য) যাদেরকে তোমরা সক্ষম হও, আল্লাহ ব্যতীত। যদি তোমরা (তাতে) সত্যবাদী হয়ে থাক।’" (ইউনুস, ১০ : ৩৭-৩৮)</p>
</blockquote>
</section>
</article>