📄 লিখিত প্রামাণ্য বর্ণনা
হাদিস ও ইতিহাস গ্রন্থসমূহ থেকে প্রমাণিত, যখনই রাসুল সা. কুরআনের কোন ওহি লাভ করতেন তিনি একজন কাতিব বা লেখককে ডাকতেন এবং তা লিখে নিতে বলতেন। একই সাথে কুরআনের কোন আয়াত কোন জায়গায় রাখতে হবে তাও সুনির্দিষ্টভাবে বলে দিতেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, তিনি লেখককে বলে দিতেন কোন সুরায় কোন আয়াতগুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে। অতঃপর তিনি সুরার হুবহু সেই স্থানটি বলে দিতেন যেখানে অবতীর্ণ আয়াতগুলি সন্নিবেশিত করতে হবে। যেমন : অমুক সুরার অমুক আয়াতের আগে বা পরে। লেখক তখন কুরআনের অবতীর্ণ আয়াতগুলি খেজুর গাছের ছাল কিংবা পশুর চামড়া বা উটের হাড্ডিতে লিখে নিতেন অতঃপর তিনি আয়াতগুলি রাসুল সা. কে পড়ে শুনাতেন এবং তাঁর লিখা ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিতেন। ঐতিহাসিকগণ ও হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থাবলি ৪০ জনেরও অধিক কুরআনের ওহি লেখকের নাম রেকর্ড করেছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ হলেন জায়েদ বিন साबित রা.।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের প্রসিদ্ধ ঘটনা আল কুরআন লিখিত আকারে সংরক্ষণ করার একটি সমুজ্জ্বল প্রমাণ, এ থেকে বুঝা যায় মক্কায় আংশিকভাবে লিখিত কুরআন ছিল সচরাচর, এমনকি যখন রাসুল সা. সবেমাত্র তাঁর মিশন শুরু করেছিলেন তখনও। বর্ণিত আছে, একদা উমর রা. রাসুল সা.- কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ক্রোধান্বিত অবস্থায় বের হন। রাসুলের সা. বাড়ি যাওয়ার পথিমধ্যে কারও সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এবং সে তাঁকে জানায় যে, তাঁর বোন এবং ভগ্নিপতি ইসলাম গ্রহণ করেছে। উমর রা. দ্রুতবেগে তাঁর বোনের বাড়িতে উপনীত হলেন এবং তাদেরকে কি যেন পড়তে দেখলেন। উমরের বোন তা লুকিয়ে ফেললেন। তখন উমরের সন্দেহ রইল না যে, তারা কুরআন তেলাওয়াত করছিল, তিনি তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন এবং উভয়কে প্রহার করতে লাগলেন। এরই মধ্যে তাঁর তাঁর বোন মাটিতে পড়ে যান এবং তাঁর দেহ থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। উমর রা. সম্বিৎ ফিরে পান এবং বুঝতে পারেন যে, তিনি তাঁর বোনকে আঘাত দিয়েছেন, তখন তিনি বোনকে অনুরোধ করলেন তারা যা পড়ছিল তা দেখাতে। বোন বললেন, তারা কুরআন তেলাওয়াত করছিলেন এবং অপবিত্র অবস্থায় তিনি তা স্পর্শ করতে পারেন না। তিনি তাঁকে বললেন গোসল করে নিজেকে পবিত্র করতে। উমর সম্মত হলেন এবং লিখিত কপিটি নিয়ে পাঠ করলেন। তাতে সুরা ‘ত্বা-হা’র কিছু আয়াত লিখিত ছিল। উমর তা পড়ে এত গভীরভাবে আলোড়িত হলেন যে, দ্রুত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাড়ির দিকে ছুটে গেলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। ইতিহাস ও হাদিসের গ্রন্থসমূহে সুলিখিত প্রামাণ্য এই ঘটনা থেকে বুঝা যায়, মক্কায় কুরআনের লিখিত কপি সুলভ ছিল, এমনকি যখন মুসলমানদের ধর্ম পালন ও ইসলাম প্রচারের স্বাধীনতা ছিল না তখনও।
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাদিস থেকে জানা যায়, মদিনাতেও কুরআন মাজিদের লিখিত কপি সহজলভ্য ছিল। তন্মধ্যে একটি হাদিসে এসেছে, ‘যখন লোকেরা মদিনায় আসত. তাদেরকে কুরআনের কপি সরবরাহ করা হত, যাতে তারা নিজে নিজে কুরআন মাজিদ পড়ে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে।’ (সূত্র: হাদিসের একটি প্রাচীন গ্রন্থ ‘সহিফায়ে হুমাম ইবনে মুনাব্বিহ’)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সা. ইরশাদ করেন— ‘সফরে তোমার সঙ্গে কুরআন নিয়ে যাবে না, পাছে তা আবার কোনো শত্রুর হাতে পড়ে যায় (যে তার অসম্মান করবে)।’ (মুসলিম)
হাদিস ও ইতিহাসের বেশ কিছু গ্রন্থ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিদায় হজ্জের বিস্তারিত বিবরণ উদ্ধৃত করেছে, যেখানে তিনি প্রায় এক লক্ষ চব্বিশ হাজার (১,২৪,০০০) মুসলমানের সমাবেশে ‘বিদায় ভাষণ’ প্রদান করেছিলেন। রাসুল সা. বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দু;টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা সেগুলি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর, তবে তোমরা কিছুতেই পথভ্রষ্ট হবে না। (তা হল) আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সা. সুন্নাহ বা জীবনাদর্শ।’ এই ভাষ্য পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পূর্বে কুরআন মাজিদ একটি কিতাব বা গ্রন্থের আকারে সাহাবায়ে কেরামের কাছে সুলভ ছিল। নয়তো তিনি এটিকে একটি গ্রন্থ বলে উল্লেখ করতেন না।
বস্তুত কুরআন মাজিদও একথার সাক্ষ্য দেয় যে, তা সব সময় একটি গ্রন্থের আকারে সুলভ ছিল। ‘নিশ্চয় এটি সম্মানিত কুরআন, যা আছে এক সুরক্ষিত গ্রন্থে। যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেহ একে স্পর্শ করে না। এটি জগতসমূহের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (ওয়াকিয়া, ৫৬ : ৭৭-৮০) এই আলোচনা থেকে যা পরিষ্কারভাবে সামনে আসছে তা হল, রাসুলুল্লাহ সা-এর জীবদ্দশাতেই কুরআন মাজিদ লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল। আর তা মক্কা ও মদিনায় মুসলিম-অমুসলিম সকলের কাছে সুলভ ছিল।
📄 প্রথম খলিফা আবু বকর রা.-এর শাসনামল (১০-১৩ হি. মোতাবেক ৬৩২-৬৩৫ খ্রি.) :
যখন রাসুল সা. চলে গেলেন, আবু বকর রা. প্রথম খলিফা মনোনীত হলেন। তাঁর খেলাফতকালে ৯ম হিজরি মোতাবেক ৬৩৩ ঈসায়ি) তে ইয়ামামার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমান সেই যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন, যাতে ৭০ (সত্তর) জন কুরআন মাজিদের হাফিজও ছিল। এসময় উমর রা. আবু বকর রা. কে পরামর্শ দিলেন এবং কুরআন মাজিদকে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থেররূপে দাপ্তরিকভাবে লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরলেন। উল্লেখ্য যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবদ্দশায় কুরআন মাজিদ একটি একক গ্রন্থে বই আকারে সংকলিত ছিল না, তার কারণ; রাসুল সা. জানতেন না, কখন কুরআন মাজিদের সর্বশেষ আয়াতগুলি অবতীর্ণ হবে এবং কুরআনের কোন স্থানে সেগুলিকে রাখা হবে। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনের পরিসমাপ্তির সঙ্গেই কুরআন অবতরনের ধারা সম্পূর্ণ হবে।
আবু বকর রা. কুরআন মাজিদের প্রধান লেখক জায়েদ ইবনে साबित রা. কে নির্দেশ দিলেন বিভিন্ন আয়াতের বিচ্ছিন্ন লিখিত কপিগুলো সংগ্রহ করে একটি একক গ্রন্থেররূপে বাঁধাই করতে। অতঃপর জায়েদ রা. ঘোষণা দিলেন, যাদের কাছে কুরআন মাজিদের কোনো লিখিত অংশ আছে তারা যেন সেগুলো তাঁর কাছে নিয়ে আসে। তিনি কুরআনের লিখিত কপিগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করলেন। যখন কেহ কুরআন মাজিদের কোনো বিশেষ অংশ নিয়ে আসত, তখন তিনি তা অন্যান্য লিখিত অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন। তারপর ঘোষণা দিতেন, কুরআনের এমন একটি লিখিত অংশ তাঁর কাছে নিয়ে আসা হয়েছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ- তিনি ঘোষণা করতেন, তিনি কুরআন মাজিদের ৬নং সুরার ১০-১৫নং আয়াতগুলির একটি লিখিত কপি হাতে পেয়েছেন। তখন তিনি অন্যদের বলতেন, এই আয়াতগুলি তাঁদের স্মৃতি থেকে তেলাওয়াত করতে। এভাবে কুরআনের লিখিত কপির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতেন। কমপক্ষে দু’জন ব্যক্তি তাদের হিফজের সঙ্গে মিলিয়ে নির্দিষ্ট লিখিত কপির সত্যতার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া ব্যতিরেকে তিনি তা গ্রহণ করতেন না। এভাবে তিনি কুরআনের সকল আয়াত একটি গ্রন্থাকারে সেই ক্রমানুসারে সন্নিবেশিত করলেন যেভাবে রাসুল সা. তা লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন। কুরআনের এই কপিটি তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী হাফসা রা.-এর কাছে সংরক্ষণ করা হয় যা লিখিত কুরআনের অফিসিয়াল কপি হিসেবে ব্যবহৃত হত।
📄 তৃতীয় খলিফা উসমান রা.-এর শাসনামল (২৪-৩৫ হি. মোতাবেক ৬৪৪-৬৫৫ খ্রি.) :
তৃতীয় খলিফা উসমান রা.-এর শাসনামলে ইসলাম দূর-দূরান্তে বিস্তার লাভ করে। নওমুসলিমরা বিভিন্ন আঞ্চলিক উচ্চারণে কুরআন মাজিদ পড়তে শুরু করে। তখন মুসলমানদের মধ্যে কুরআন মাজিদের বিশুদ্ধ তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে চরম বৈসাদৃশ্য দেখা দেয়। তখন উসমান রা. কুরআন মাজিদ তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে অভিন্নতা আনয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি জায়েদ বিন साबित রা. এবং আরও তিনজন সাহাবিকে কুরাইশের স্থানীয় ভাষায় কুরআন মাজিদ পুনর্লিখনের জন্য নিযুক্ত করলেন। এটি সেই গোত্রের ভাষা যেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন। জায়েদ রা. কুরআন মাজিদের সেই প্রথম কপিটি আনিয়ে নিলেন যা রাসুলুল্লাহ সা.-এর স্ত্রী হাফসা রা.-এর তত্ত্বাবধানে সুরক্ষিত ছিল।
কুরআনের এই কপির ওপর ভিত্তি করে কুরাইশের স্থানীয় ভাষায় তিনি সাতটি (নতুন) কপি লিপিবদ্ধ করলেন। পরে উসমান রা. এই কুরআনের একটি করে কপি ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন প্রাদেশিক রাজধানীতে প্রেরণ করেন। একটি কপি রাখেন মদিনায়। তিনি এই আদেশও জারি করেন যে, কুরআনের বাকি সকল কপি যেন নষ্ট করে ফেলা হয়। অধিকন্তু কুরআন মাজিদের প্রতিটি কপির সঙ্গে উসমান রা. একজন করে দক্ষ ক্বারিও প্রেরণ করেন যারা কুরাইশের স্থানীয় ভাষায় তেলাওয়াত করতে পারতেন। এটি কুরআনের পঠন ও লিখনের ক্ষেত্রে পুরো মুসলিম বিশ্বে একটি পরিপূর্ণ অভিন্নতা ও ঐক্য নিয়ে আসে। এই কপিসমূহের দু’টি এখনও বিদ্যমান রয়েছে। একটি রাশিয়ার তাসখন্দে এবং অপরটি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে। বাস্তবতা হল, বিগত চৌদ্দশ বছরে কুরআন মাজিদে কোনো ধরনের পরিবর্তনই আসে নি। যা বর্তমান বিশ্বে বিদ্যমান যে কোনো কপির সঙ্গে কুরআনের এই কপিগুলো মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে নিরূপণ করা যেতে পারে।
📄 তাবেঈদের শাসনামল (সাহাবায়ে কিরামের পরবর্তী যুগ) :
সপ্তম শতাব্দীতে আরবি যে পান্ডুলিপি ব্যবহৃত হত, উদাহরণ স্বরূপ- রাসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে তা ছিল নিতান্ত মৌলিক প্রতীক সর্বস্ব। যা কেবল শব্দের ব্যঞ্জনবর্ণীয় রূপেই ব্যক্ত হত। কিন্তু তাতে শব্দের পরিষ্কার উচ্চারণ নির্দেশক চিহ্নগুলো ছিল না। ফলে তা কেবল একজন আরবি ভাষায় পারঙ্গম ব্যক্তিই পড়তে পারত। তাবেঈদের সময়ে দুপ্রকার গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নের শুরু হয় যা কুরআন মাজিদের অভিন্ন উচ্চারণকে আরও নিশ্চিত করে। পারিভাষিকভাবে এ লোকে ‘নুকতা’ ও ‘হরকত’ বলা হয়। ‘হরকত’ বলা হয় এমন কিছু বিশেষ চিহ্নকে যা স্বরবর্ণকে নির্দেশ করে। আরবিতে এগুলিকে ‘ফাতহা’, ‘কাসরা’ ও ‘যাম্মা’ বলে এবং বাংলায় যের, যবর ও পেশ বলে। ইসলামের প্রাথমিক যুগের লিখন পদ্ধতিতে এগুলি ব্যবহৃত হত না। তাবেঈগণই উসমান রা. কর্তৃক সংকলিত কুরআন মাজিদে এই চিহ্নগুলি সংযুক্ত করে। এভাবে প্রত্যেকটি শব্দ সুস্পষ্টভাবে পড়া যেতে পারে। যেমন, ‘বা’ কে ‘বা’ ‘বি’ ‘বু’ রূপে পড়া যায়। ‘নুকতা’ হল, প্রত্যেক শব্দের সঙ্গে যথোপযুক্ত বিন্দু বা বিন্দুসমূহ সন্নিবেশিত করা। যেমন : ‘বা’ এর নিচে একটি বিন্দু দেয়া হত, এবং ‘ইয়া’-এর নিচে দু’টি বিন্দু দেয়া হত। অনুরূপভাবে ‘তা’ ও ‘ছা’ এর উপরে পর্যায়ক্রমে দু’টি ও তিনটি বিন্দু দেয়া হত। এই স্মরণীয় কাজ সম্পাদিত হয় উমাইয়া যুগের পঞ্চম খলিফা আব্দুল মালিকের আমলে (৬৬-৮৬ হি. মোতাবেক ৬৮৫-৭০৫)। বর্ণিত আছে, কুফার গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আরবি ভাষায় সুপন্ডিত দু’জন ব্যক্তি- যাদের নাম ইয়াহইয়া বিন আমের এবং নাসর বিন আসেম- কে এই কাজ সম্পন্ন করার আদেশ দেন। ‘হরকত’ ও ‘নুকতা’র সংযোজন কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে একটি পরিপূর্ণ সমতা ও অভিন্নতা নিশ্চিত করে। এমনকি যাদের মাতৃভাষা আরবি নয় তাদের ক্ষেত্রেও। उपरोक्त আলোচনায় থেকে এ কথা প্রতীয়মান হল যে, কুরআন মাজিদ মুমিনদের মাঝে দু’টি ভিন্ন ও স্বতন্ত্র কৌশল ও পদ্ধতিতে বিশ্বস্ততার সঙ্গে সংরক্ষিত ও বর্ণিত হয়ে এসেছে। যথা : বাচনিক ও লিখিত পদ্ধতি। কুরআনের বাচনিক বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে নি, তবে তার লিখিত বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছু উন্নতি বিধান করা হয়েছে। এই উন্নতি বিধান কেবল তার বিষয়বস্তু সংহত করে নি; বরং কুরআন মাজিদের তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও শাশ্বত ঐক্য ও অভিন্নতা নিয়ে এসেছে। বাস্তবতা হল, বিগত চৌদ্দশ বছরের মধ্যে তার এই বর্ণনার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্রও পরিবর্তন সাধিত হয় নি- যা বর্তমান পৃথিবীতে বিদ্যমান মূল ও আদিগ্রন্থ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে। একই সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের কতিপয় হাফেজ থেকে কুরআনের তেলাওয়াত শোনার মাধ্যমেও তা নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে। এভাবে কুরআন মাজিদ দু’টি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যতার অভিধা লাভ করেছে। যথা : লিখার মাধ্যমে গ্রন্থরূপে এবং মুখস্থ করার মাধ্যমে বাচনিকভাবে। বস্তুত কুরআন মাজিদই একমাত্র খোদায়ি গ্রন্থ যা নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ডে পরিপূর্ণভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।