সহিহ বুখারী অঃ→‘ঈদের দিন বর্শা ও ঢালের খেলা। হাঃ-৯৪৯

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন তখন আমার নিকট দু’টি মেয়ে বু’আস যুদ্ধ সংক্রান্ত গান গাইছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে রাখলেন। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) এসে আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, শয়তানী বাদ্যযন্ত্র [১] (দফ্) বাজান হচ্ছে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট! তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তাদের ছেড়ে দাও। অতঃপর তিনি যখন অন্য দিকে ফিরলেন তখন আমি তাদের ইঙ্গিত করলাম আর তারা বেরিয়ে গেল।


সহিহ বুখারী অঃ→‘ঈদের দিন বর্শা ও ঢালের খেলা। হাঃ-৯৫০

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আর ‘ঈদের দিন সুদানীরা বর্শা ও ঢালের খেলা করত। আমি নিজে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে জিজ্ঞেস করেছিলাম অথবা তিনি নিজেই বলেছিলেন, তুমি কি তাদের খেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ, অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর পিছনে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে দিলেন যে, আমার গাল ছিল তাঁর গালের সাথে লাগান। তিনি তাদের বললেন, তোমরা যা করছিলে তা করতে থাক, হে বনূ আরফিদা। পরিশেষে আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, তোমার দেখা কি যথেষ্ট হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন, তা হলে চলে যাও।


সহিহ মুসলিম অঃ→ফাজরের সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়া এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া হাঃ-৮৯২

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিনদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেননি এবং তিনি তাদের দেখেননি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একদল সহাবাকে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। এ সময় আকাশমণ্ডলী থেকে তথ্য সংগ্রহকারী শাইতানদের জন্য আকাশমণ্ডলীর সংবাদ শোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং তাদের উপর উল্কা (জ্বলন্ত আগুনের টুকরা) নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। শয়তানেরা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলে তারা জিজ্ঞেস করল, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, ঊর্ধ্বলোকের তথ্য ও আমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের উপর উল্কা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের লোকেরা বলল, এর কারণ হচ্ছে- নিশ্চয়ই নতুন কিছু ঘটছে। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী বিচরণ করে দেখো তোমাদের মাঝে ও আসমানের খবরাদির মাঝে কোন জিনিস প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দলে দলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী ঘুরে এর কারণ উদঘাটন করার জন্য বেরিয়ে পড়ল। এদের মধ্যে একদল তিহামাহ্ প্রদেশের পথ ধরে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলো। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাখলাহ্ নামক স্থানে তাঁর সহাবাদের নিয়ে ফাজরের সলাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন পড়া শুনতে পেল, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। অতঃপর তারা বলল, আমাদের ও আসমানের খবরাদির মাঝেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল, ‘ হে আমাদের জাতির লোকেরা! “ আমরা এক অতীব আশ্চর্যজনক পাঠ (কুরআন) শুনেছি। তা কল্যাণের পথের দিকে হিদায়াত দান করে। এজন্য আমরা এর উপর ঈমান এনেছি। আমরা আর কখনো আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শারীক করব না”- (সূরাহ জিন ৭২ : ১-২)। এ ঘটনার পর আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেনঃ “ বলো আমাকে ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে …..”- (সূরাহ জিন্ ৭২:১) নাযিল করলেন। (ই.ফা. ৮৮৮, ই.সে. ৯০১)


সহিহ বুখারী অঃ→মুসলিমগণের জন্য উভয় ‘ঈদের রীতিনীতি। হাঃ-৯৫২

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, (একদিন আমার ঘরে) আবূ বকর (রাঃ) এলেন তখন আমার কাছে আনসারী দু’টি মেয়ে বু’আস যুদ্ধের দিন আনসারীগণ পরস্পর যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে গান গাইছিল। তিনি বলেন, তারা কোন পেশাদার গায়িকা ছিল না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ঘরে শয়তানী বাদ্যযন্ত্র। আর এটি ছিল ‘ঈদের দিন। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আবূ বক্‌র! প্রত্যেক জাতির জন্যই আনন্দ উৎসব রয়েছে আর এ হলো আমাদের আনন্দের দিন।


বিষয়ভিত্তিক হাদিস লোড হচ্ছে...

এ্যাডভান্স এনালাসিস লোড হচ্ছে...