ওয়াহাব ইব্ন কায়সান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্ন যুবায়র (রাঃ)-এর যুগে একবার ঈদ এবং জুমুআ একত্রিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত ঈদের সালাত আদায় করার জন্য বের হতে বিলম্ব করলেন। অতঃপর বের হলেন এবং খুৎবা দিলেন এবং খুৎবাকে দীর্ঘ করলেন, তারপর নীচে অবতরণ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। আর সেদিন লোকদের নিয়ে জুমুআর সালাত আদায় করলেন না। এ ঘটনা ইব্ন আব্বাস (রাঃ)-এর সমীপে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, তিনি সুন্নাত মতই করেছেন।
ইয়াস ইব্ন আবূ রমলা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি মু’আবিয়া (রাঃ)-কে যায়দ ইব্ন আরকাম (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, “আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ঈদ এবং জুমুআর সালাতে শরীক ছিলেন?” তিনি বললেন, হ্যাঁ; তিনি ঈদের সালাত দিনের শুরুতে আদায় করে ফেলেছিলেন। অতঃপর (গ্রামের অধিবাসীদেরকে) জুমুআর সালাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।
ইয়াস বিন আবূ রামলা আশ-শামী (মাজহুল বা অপরিচিত) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে যায়দ বিন আকরাম (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছি : একই দিনে দু’ ঈদে আপনি কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হাঁ। সে বললো, তিনি কিভাবে কী করতেন? যায়দ (রাঃ) বলেন, তিনি ঈদের সালাত পড়ার পর জুমুআর সলাতের ব্যাপারে অবকাশ দিতেন। অতঃপর যার ইচ্ছে হত সে জুমুআর সালাত আদায় করতো। [১৩১০]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের আজকের এই দিন দু’ ঈদ একত্র হয়েছে। অতএব যার ইচ্ছা জুমুআর সালাত ছেড়ে দিতে পারে। ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই জুমুআর সালাত পড়বো। ২/১৩১১ (১). আবু হুরায়রা (রাঃ), রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের আজকের এই দিন দু’ ঈদ একত্র হয়েছে। অতএব যার ইচ্ছা সে জুমুআর সালাত ছেড়ে দিতে পারে। ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই জুমু’আহর সালাত আদায় করবো। [১৩১১] তাহকীক আলবানী : সহীহ।
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভুলবশত দ্বিতীয় রাকআতে সালাম ফিরালে যুল-ইয়াদাইন (রাঃ) নামক এক ব্যক্তি তাঁকে বলেন,হে আল্লাহর রসূল! সলাত কি কমানো হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? তিনি বলেন, কমানোও হয়নি এবং আমি ভুলেও যাইনি। তিনি (যুল-ইয়াদাইন) বলেন, তাহলে আপনি দু’ রাকআত পড়েছেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ যুল-ইয়াদায়ন যা বলেছে ঘটনা কি তাই? সাহাবীগণ বলেন, হাঁ। অতএব তিনি অগ্রসর হয়ে দু’ রাকআত সলাত পড়ে সালাম ফিরালেন, অতঃপর দু’টি সাহু সাজদাহ করলেন। [১২১৩]
আবূ ‘উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ ‘উবায়দ বলেনঃ এরপর আমি ‘উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ)’র সময়ও হাযির হয়েছি। সেদিন ছিল জুমু’আর দিন। তিনি খুতবা দানের আগে সলাত আদায় করলেন। এরপর তিনি খুতবাহ দিতে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোক সকল ! এটি এমন দিন, যে দিন তোমাদের জন্য দু’টি ঈদ একত্রে হয়ে গেছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে আওয়ালী (মদীনার চার মাইল পূর্বে অবস্থিত) এলাকার যে ব্যক্তি জুমু’আর সলাতের অপেক্ষা করতে চায়, সে যেন অপেক্ষা করে। আর যে ফিরে যেতে চায়, তার জন্য আমি অনুমতি প্রদান করলাম। [১](আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬০)
এ্যাডভান্স এনালাসিস লোড হচ্ছে...