সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ হাঃ-৪৭৯৩

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যায়নাব বিনতে জাহ্শের সাথে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাসর যাপন উপলক্ষে কিছু গোশত ও রুটির ব্যবস্থা করা হল। তারপর খানা খাওয়ানোর জন্য আমাকে লোকদের ডেকে আনতে পাঠালেন। একদল লোক এসে খেয়ে চলে গেল। তারপর আর একদল এসে খেয়ে চলে গেল। এরপর আবার আমি ডাকতে গেলাম, কিন্তু কাউকে আর ডেকে পেলাম না। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আর কাউকে ডেকে পাচ্ছি না। তিনি বললেন, খানা উঠিয়ে নাও। তখন তিন ব্যক্তি ঘরে রয়ে গেল, তারা কথাবার্তা বলছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হয়ে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের দিকে গেলেন এবং বললেন, আস্সালামু ‘আলায়কুম ইয়া আহলাল বায়ত ওয়া রহমাতুল্লাহ্! ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ওয়া আলায়কাস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্। আল্লাহ্ আপনাকে বারাকাত দিন, আপনার স্ত্রীকে কেমন পেলেন? এভাবে তিনি পর্যায়ক্রমে সব স্ত্রীর ঘরে গেলেন এবং ‘আয়িশাহ্কে যেমন বলেছিলেন তাদেরও তেমনি বললেন। আর তাঁরা তাঁকে সে জবাবই দিয়েছিলেন, যেমন ‘আয়িশাহ (রাঃ) দিয়েছিলেন। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে এসে সে তিন ব্যক্তিকেই ঘরে কথাবার্তা বলতে দেখতে পেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব লাজুক ছিলেন। (লজ্জা পেয়ে) আবার ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের দিকে গেলেন। তখন, আমি স্মরণ করতে পারছি না, অন্য কেউ না আমি তঁ াকে লোকদের বের হয়ে যাওয়ার খবর দিলাম। তিনি ফিরে এসে দরজার চৌকাঠের ভিতরে এক পা ও বাইরে এক পা রেখে আমার ও তাঁর মধ্যে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন এবং আল্লাহ্ তা‘আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করলেন। [৪৭৯১] (আ.প্র. ৪৪২৮, ই.ফা. ৪৪৩০)


সহিহ মুসলিম অঃ->জান্নাত, জান্নাতের নি’আমাত ও জান্নাতবাসীদের বর্ণনা বাব->পাখীর হৃদয়ের ন্যায় হৃদয় বিশিষ্ট কতিপয় লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে হাঃ-৭০৫৫

হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা্‌ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো এ-ই যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আদাম (‘আঃ)-কে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তার দৈর্ঘ্য হলো ষাট হাত। সৃষ্টির পর তিনি তাকে বললেন, যাও এদেরকে সালাম করো। সেখানে একদল ফেরেশ্‌তারা বসা ছিলেন। সালামের জবাবে তারা কি বলে তা খুব মনোযোগ সহকারে শুনো। কেননা তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন হবে এ-ই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন ও বললেন, “আস্‌সালামু ‘আলাইকুম”। জবাবে তারা বললেন, “আস্‌সালামু ‘আলাইকা ওয়ারহমাতুল্লাহ্‌”। তাঁরা ওয়ারহমাতুল্লাহ্‌ বাড়িয়ে বলেছেনঃ । অবশেষে তিনি বললেন, যে লোক জান্নাতে যাবে সে আদাম (‘আঃ)-এর আকৃতি বিশিষ্ট হবে। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। [তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,] তারপর আদাম (‘আঃ)-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ ক্রমশই খাটো হয়ে আসছে। (ই.ফা. ৬৯০০, ই.সে. ৬৯৫৭)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->সালাম ফিরানো হাঃ-৯৯৬

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আস্সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহ্মাতুল্লাহ” বলে ডান দিকে এবং “আস্সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলে বাম দিকে সালাম ফিরাতেন। এ সময় তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেতো। সহীহঃ মুসলিম সংক্ষেপে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শু’বাহ (রহঃ) আবূ ইসহাক্বের বর্ণনাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।


সুনানে আবু দাউদ অঃ->শিষ্টাচার বাব->অনুমতি নিতে কতবার সালাম দিবে? হাঃ-৫১৮৬

আবদুল্লাহ ইবনু বুস্‌র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন কওমের দরবারে এলে সরাসরি দরজায় মুখ করে দাঁড়াতেন না, বরং দরজার বাম বা ডান পাশে সরে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ ‘ আস্‌সালামু ‘আলাইকুম, আস্‌সালামু ‘আলাইকুম ’। কারণ সে যুগে দরজায় পর্দা টানানো থাকতো না।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->সালাত আদায় করা ও তার নিয়ম কানুন বাব->সালাম ফিরানো। হাঃ-৯১৬

আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ডানে ও বামে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, তার দু' গালের শুভ্রতা দেখা যেত। (তিনি বলতেন) : "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহ্‌মাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া ,রহমাতুল্লাহ"। [৯১৫]


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->সালাত (নামায) বাব->নামাযের সালাম ফিরানো সম্পর্কে হাঃ-২৯৫

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেষে ডান দিকে তারপর বাম দিকে এ বলে সালাম ফিরাতেন, আস্‌সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৯১৪), মুসলিম।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->বিবাহ বাব->বিয়ের খুতবা প্রসঙ্গে হাঃ-১১০৫

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমাদেরকে নামাযের তাশাহহুদ এবং (বিয়ে ইত্যাদি) প্রয়োজনের তাশাহহদও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ নামাযের তাশাহহুদ হচ্ছে, “সমস্ত সম্মান, ইবাদাত ও পবিত্রতা আল্লাহ তা'আলার জন্য। হে নাৰী! আপনার উপর শান্তি বৰ্ধিত হোক এবং আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ ও প্রাচুর্যও । আমাদের ও আল্লাহ তা'আলার নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল"। আর প্রয়োজনের (হাজাতের) তাশাহহুদ হলঃ “সকল প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য। তাঁর নিকটই আমরা সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকটই ক্ষমা চাই। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের কু-প্রবৃত্তি ও আমাদের মন্দ কাজসমূহ হতে আশ্রয় চাই। যে লোককে তিনি হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি গুমরাহ করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল"। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আরো তিনটি আয়াত পাঠ করতেন। বর্ণনাকারী আবসার বলেন, এ তিনটি আয়াত সুফিয়ান সাওরী উল্লেখ করেছেনঃ ১. “হে ঈমানদারগণ! বাস্তবিকই তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং তোমরা মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত মুসলিম (অনুগত) না হয়ে মৃত্যু বরণ করে না" (সূরাঃ আলে-ইমরান-১০২)। ২. “হে জনগণ ! ভয় কর তোমাদের প্রভুকে। তিনি একটি প্রাণ হতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার জোড়াও তৈরী করেছেন তা হতেই। তিনি অসংখ্য পুরুষ ও স্ত্রীলোক তাদের উভয়ের মাধ্যমে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা ভয় কর আল্লাহ তা’আলাকে, তোমরা যার দোহাই দিয়ে নিজ নিজ অধিকার দাবি কর একে অপরের নিকট এবং বিরত থাক আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনষ্ট করা হতে। আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের কাজের পর্যবেক্ষণ করছেন" (সূরা নিসা-১)। ৩. “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং সত্য কথা ৰল। তোমাদের কাজ-কর্ম আল্লাহ সংশোধন করে দিবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন। যে লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে লোক বড় রকমের সাফল্য পেল" (সূরাঃ আহযাব- ৭০,৭১)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮৯২)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->অনুমতি প্রার্থনা বাব->প্রথমেই “আলাইকাস্ সালাম” বলা নিষেধ হাঃ-২৭২১

আবূ তামীমা আল-হুজাইমী (রা:) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে খোঁজ করে না পেয়ে বসে রইলাম। এরই মধ্যে আমি তাঁকে একদল লোকেরা মাঝে দেখতে পেলাম, কিন্তু আমি তাঁকে চিনতাম না। তাদের মাঝে তিনি মীমাংসা করেছিলেন। কাজ শেষে কয়েকজন তাঁর সাথে উঠে দাড়ালো এবং বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল ! আমি ইহা দেখে তাঁকে বললাম, ‘আলাইকাস্ সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ “আলাইকাস্ সালামু ” হল মৃত ব্যক্তির জন্য সালাম। এ কথাটি তিনি তিন বার বললেন। তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের সময় যেন বলে, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্মাতুল্লাহি”। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সালামের উত্তর দিলেনঃ ওয়া ‘আলাইকা ওয়া রাহ্মাতুল্লাহ, ওয়া ‘আলাইকা ওয়া ‘আলাইকা ওয়া রাহ্মাতুল্লাহ। সহীহঃ সহীহাহ্ (১৪০৩)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->[আদাম (‘আঃ)-এর বয়সের কিছু অংশ দাঊদ (‘আঃ)-কে প্রদান] হাঃ-৩৩৬৮

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা‘আলা আদম (‘আঃ)-কে সৃষ্টি করে তাঁর মাঝে রূহ (আত্মা) সঞ্চার করেন সে সময় তাঁর হাঁচি আসে এবং তিনি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলেন। তিনি আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি নিয়েই তাঁর প্রশংসা করেন। তারপর তাঁর উদ্দেশে আল্লাহ তা‘আলা “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (তোমার উপর আল্লাহ তা‘আলায় সদয় হোন) বলেন এবং আরো বলেনঃ হে আদম! তুমি ঐসব ফেরেশতার নিকট যাও যারা সমবেত অবস্থায় ওখানে বসে আছে। অতঃপর তিনি গিয়ে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বললেন। ফেরেশতাগণ জবাবে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বললেন। তারপর তিনি তাঁর প্রভুর নিকট এলে তিনি বললেনঃ এটাই তোমার ও তোমার সন্তানদের পারস্পরিক অভিবাদন। এবার আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দু’টি হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তাঁকে বললেনঃ দু’টি হাতের মাঝে যেটি ইচ্ছা বেছে নাও। তিনি বললেনঃ আমার রবের ডান হাত আমি বেছে নিলাম। আর আমার রবের প্রত্যেক হাতই ডান হাত এবং বারাকাতময়, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুষ্টিবদ্ধ হাত খুললে দেখা গেল যে, তাতে আদম (‘আঃ) এবং তাঁর সন্তানরা রয়েছে। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা! এরা কারা? আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ এরা তোমার বংশধর। তাদের সকলের দুই চক্ষুর মধ্যখানে তাদের আয়ুষ্কাল লেখা ছিল। তাদের মাঝে একজন অত্যুজ্জ্বল চেহারার ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! কে এই লোক? তিনি বলেনঃ সে তোমার সন্তান দাঊদ (‘আঃ)। আমি তার চল্লিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছি। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ! তার আয়ুষ্কাল আপনি আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ আমি তার আয়ুষ্কাল এটাই নির্ধারণ করেছি। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে প্রভু! আমার আয়ুষ্কাল হতে ষাট বছর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ এটা তার প্রতি তোমার বদান্যতা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যত দিন চাইলেন তিনি জান্নাতে থাকলেন, তারপর তাঁকে সেখান হতে (পৃথিবীতে) নামানো হল। আদম (‘আঃ) নিজের বয়সের গণনা করতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আদম (‘আঃ)-এর নিকট মালাকুল মাউত (মুত্যুদূত) এসে হাযির হলে তিনি তাকে বললেনঃ আমার জন্য ধার্যকৃত বয়স তো হাজার বছর, যথাসময়ের আগেই তুমি এসেছ। মৃত্যুদূত বললেন, হ্যাঁ, তবে আপনি আপনার বয়স হতে ষাট বছর আপনার বংশধর দাঊদ (‘আঃ)-কে দান করেছেন। আদম (‘আঃ) তা (ভুলে গিয়ে) অস্বীকার করলেন। এজন্য তার সন্তানরাও অস্বীকার করে থাকে। আর তিনি ভুলে গিয়েছিলেন তার তার সন্তানরাও ভুলে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সেদিন হতেই লিখে রাখা ও সাক্ষী রাখার হুকুম দেয়া হয়। হাসান সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ৪৬৬২), যিলালুল জান্নাহ (হাঃ ২০৪-২০৬)।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->[আদাম (‘আঃ)-এর বয়সের কিছু অংশ দাঊদ (‘আঃ)-কে প্রদান] হাঃ-৩৩৬৮

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা‘আলা আদম (‘আঃ)-কে সৃষ্টি করে তাঁর মাঝে রূহ (আত্মা) সঞ্চার করেন সে সময় তাঁর হাঁচি আসে এবং তিনি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলেন। তিনি আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি নিয়েই তাঁর প্রশংসা করেন। তারপর তাঁর উদ্দেশে আল্লাহ তা‘আলা “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (তোমার উপর আল্লাহ তা‘আলায় সদয় হোন) বলেন এবং আরো বলেনঃ হে আদম! তুমি ঐসব ফেরেশতার নিকট যাও যারা সমবেত অবস্থায় ওখানে বসে আছে। অতঃপর তিনি গিয়ে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বললেন। ফেরেশতাগণ জবাবে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বললেন। তারপর তিনি তাঁর প্রভুর নিকট এলে তিনি বললেনঃ এটাই তোমার ও তোমার সন্তানদের পারস্পরিক অভিবাদন। এবার আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দু’টি হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তাঁকে বললেনঃ দু’টি হাতের মাঝে যেটি ইচ্ছা বেছে নাও। তিনি বললেনঃ আমার রবের ডান হাত আমি বেছে নিলাম। আর আমার রবের প্রত্যেক হাতই ডান হাত এবং বারাকাতময়, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুষ্টিবদ্ধ হাত খুললে দেখা গেল যে, তাতে আদম (‘আঃ) এবং তাঁর সন্তানরা রয়েছে। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা! এরা কারা? আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ এরা তোমার বংশধর। তাদের সকলের দুই চক্ষুর মধ্যখানে তাদের আয়ুষ্কাল লেখা ছিল। তাদের মাঝে একজন অত্যুজ্জ্বল চেহারার ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! কে এই লোক? তিনি বলেনঃ সে তোমার সন্তান দাঊদ (‘আঃ)। আমি তার চল্লিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছি। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ! তার আয়ুষ্কাল আপনি আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ আমি তার আয়ুষ্কাল এটাই নির্ধারণ করেছি। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে প্রভু! আমার আয়ুষ্কাল হতে ষাট বছর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ এটা তার প্রতি তোমার বদান্যতা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যত দিন চাইলেন তিনি জান্নাতে থাকলেন, তারপর তাঁকে সেখান হতে (পৃথিবীতে) নামানো হল। আদম (‘আঃ) নিজের বয়সের গণনা করতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আদম (‘আঃ)-এর নিকট মালাকুল মাউত (মুত্যুদূত) এসে হাযির হলে তিনি তাকে বললেনঃ আমার জন্য ধার্যকৃত বয়স তো হাজার বছর, যথাসময়ের আগেই তুমি এসেছ। মৃত্যুদূত বললেন, হ্যাঁ, তবে আপনি আপনার বয়স হতে ষাট বছর আপনার বংশধর দাঊদ (‘আঃ)-কে দান করেছেন। আদম (‘আঃ) তা (ভুলে গিয়ে) অস্বীকার করলেন। এজন্য তার সন্তানরাও অস্বীকার করে থাকে। আর তিনি ভুলে গিয়েছিলেন তার তার সন্তানরাও ভুলে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সেদিন হতেই লিখে রাখা ও সাক্ষী রাখার হুকুম দেয়া হয়। হাসান সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ৪৬৬২), যিলালুল জান্নাহ (হাঃ ২০৪-২০৬)।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->[আদাম (‘আঃ)-এর বয়সের কিছু অংশ দাঊদ (‘আঃ)-কে প্রদান] হাঃ-৩৩৬৮

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা‘আলা আদম (‘আঃ)-কে সৃষ্টি করে তাঁর মাঝে রূহ (আত্মা) সঞ্চার করেন সে সময় তাঁর হাঁচি আসে এবং তিনি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলেন। তিনি আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি নিয়েই তাঁর প্রশংসা করেন। তারপর তাঁর উদ্দেশে আল্লাহ তা‘আলা “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (তোমার উপর আল্লাহ তা‘আলায় সদয় হোন) বলেন এবং আরো বলেনঃ হে আদম! তুমি ঐসব ফেরেশতার নিকট যাও যারা সমবেত অবস্থায় ওখানে বসে আছে। অতঃপর তিনি গিয়ে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বললেন। ফেরেশতাগণ জবাবে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বললেন। তারপর তিনি তাঁর প্রভুর নিকট এলে তিনি বললেনঃ এটাই তোমার ও তোমার সন্তানদের পারস্পরিক অভিবাদন। এবার আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দু’টি হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তাঁকে বললেনঃ দু’টি হাতের মাঝে যেটি ইচ্ছা বেছে নাও। তিনি বললেনঃ আমার রবের ডান হাত আমি বেছে নিলাম। আর আমার রবের প্রত্যেক হাতই ডান হাত এবং বারাকাতময়, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুষ্টিবদ্ধ হাত খুললে দেখা গেল যে, তাতে আদম (‘আঃ) এবং তাঁর সন্তানরা রয়েছে। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা! এরা কারা? আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ এরা তোমার বংশধর। তাদের সকলের দুই চক্ষুর মধ্যখানে তাদের আয়ুষ্কাল লেখা ছিল। তাদের মাঝে একজন অত্যুজ্জ্বল চেহারার ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! কে এই লোক? তিনি বলেনঃ সে তোমার সন্তান দাঊদ (‘আঃ)। আমি তার চল্লিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছি। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ! তার আয়ুষ্কাল আপনি আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ আমি তার আয়ুষ্কাল এটাই নির্ধারণ করেছি। আদম (‘আঃ) বললেনঃ হে প্রভু! আমার আয়ুষ্কাল হতে ষাট বছর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ এটা তার প্রতি তোমার বদান্যতা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যত দিন চাইলেন তিনি জান্নাতে থাকলেন, তারপর তাঁকে সেখান হতে (পৃথিবীতে) নামানো হল। আদম (‘আঃ) নিজের বয়সের গণনা করতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আদম (‘আঃ)-এর নিকট মালাকুল মাউত (মুত্যুদূত) এসে হাযির হলে তিনি তাকে বললেনঃ আমার জন্য ধার্যকৃত বয়স তো হাজার বছর, যথাসময়ের আগেই তুমি এসেছ। মৃত্যুদূত বললেন, হ্যাঁ, তবে আপনি আপনার বয়স হতে ষাট বছর আপনার বংশধর দাঊদ (‘আঃ)-কে দান করেছেন। আদম (‘আঃ) তা (ভুলে গিয়ে) অস্বীকার করলেন। এজন্য তার সন্তানরাও অস্বীকার করে থাকে। আর তিনি ভুলে গিয়েছিলেন তার তার সন্তানরাও ভুলে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সেদিন হতেই লিখে রাখা ও সাক্ষী রাখার হুকুম দেয়া হয়। হাসান সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ৪৬৬২), যিলালুল জান্নাহ (হাঃ ২০৪-২০৬)।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর হাঃ-১১৪২

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি (সালাতের মধ্যে) প্রত্যেক নীচু হওয়ার সময় এবং মাথা উত্তোলনের সময় আর প্রত্যেক দাঁড়ানোর এবং বসার সময় তাকবীর বলতেন এবং তিনি ডান ও বাম দিকে আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম করতেন। তখন তাঁর চেহারায় শুভ্রতা দেখা যেত। রাবী বলেন, আর আমি আবু বকর (রাঃ) এবং উমর (রা)-কেও এরুপ করতে দেখেছি।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->ডান দিকে কিভাবে সালাম ফিরাবে? হাঃ-১৩১৯

আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি প্রত্যেক নীচু হওয়ার সময় এবং উপরে উঠার সময় তাকবীর বলতেন ,আর দাঁড়াবার সময় এবং বসার সময়েও তাকবীর বলতেন। আর তিনি তাঁর ডান দিকে এবং বাম দিকে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ” বলে সালাম ফিরাতেন, তখন তাঁর গণ্ডদেশের শুভ্রতা দেখা যেত। আর আমি আবূ বক্‌র(রাঃ) এবং উমর (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি।”


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->ডান দিকে কিভাবে সালাম ফিরাবে? হাঃ-১৩২০

ওয়াসি ইব্‌ন হাব্বান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি প্রত্যেক বার যখন মাথা নিচু করতেন তখন এবং যখন মাথা উঠাতেন তখন আল্লাহু আকবার বলতেন তারপর তাঁর ডান দিকে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ এবং তাঁর বাম দিকে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->বাম দিকে কিভাবে সালাম ফিরাবে? হাঃ-১৩২৪

আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর ডান দিকে এবং বাম দিকে সালাম ফিরাতেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’ ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’ বলে তখন তাঁর চেহারার শুভ্রতা দেখা যেত, এদিক থেকে এবং ওদিক থেকে।