আবূ মূসা (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্নিতঃ
যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরুপ দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পশ্চাদবর্তী করেন এবং আপনিই সব বিষয়োপরি সর্বশক্তিমান।[৬৩৯৯; মুসলিম ৪৮/১৮, হাঃ ২৭১৯, আহমাদ ১৯৭৫৯] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৩)
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! ইবনু জুদ’আন জাহিলী যুগে আত্মীয়-স্বজনের হাক্ আদায় করত এবং দরিদ্রদের আহার দিত। (আখিরাতে) এসব কর্ম তার উপকারে আসবে কি? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কোন উপকারে আসবে না। সে তো কোন দিন এ কথা বলেনি যে, হে আমার রব! কিয়ামাতের দিন আমার অপরাধ ক্ষমা করে দিও। (ই.ফা. ৪১১; ই.সে. ৪২৫)
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গত রাতে এক দুষ্ট জিন আমার সলাত নষ্ট করার জন্য আমার উপর আক্রমন করতে শুরু করল। তবে আল্লাহ তা’আলা আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছে হলো তাকে মাসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি যাতে সকাল বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হল আমার ভাই নবী সুলায়মানের দু’আর কথা। তিনি (‘আঃ) দু’আ করেছিলেনঃ (আরবি) “হে প্রভু; তুমি আমাকে এমন রাজত্ব দান করো যা আমার পরে আর কার জন্য যেন না হয়”- (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ৩৫)। (অর্থাৎ- জিন, বাতাস ও পশু-পাখির ওপর রাজত্ব করার ক্ষমতা। তাই আমি তাকে বেঁধে রাখা থেকে বিরত থাকলাম।) অতঃপর আল্লাহ তা’আলা জিনটিকে (আমার হাতে) লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিলেন। ইবনু মানসূর, শু’বাহ্, মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১০৯০,ই.সে. ১০৯৮)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের সলাতে দু’সাজদাহ্র মাঝখানে (বসে) বলতেনঃ "রাব্বিগফির লী ওয়ারহামনী ওয়াজবুরনী ওয়ারযুকনী ওয়ারফা'নী (হে প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, আমায় দয়া করুন, আমার বিপদ দূর করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন)। [৮৯৬]
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা গণনা করে দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই মজলিশে শতবার বলতেন, “রব্বিগফির লী ওয়াতুব আলাইয়্যা ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহীম” (প্রভু! আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার তওবা কবুল কর। কেননা তুমিই তওবা কবুলকারী ও করুণাময়)। [৩১৪৬]
'উবাদাহ্ ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রাতে জাগ্রত হয়ে যে লোক বলে, "আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শারীক নেই, সার্বভৌমত্ব তাঁর, সকল প্রশংসা তাঁর জন্য এবং সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তা’আলা সম্পূর্ণ পবিত্র, আল্লাহ তা'আলাই সকল প্রশংসার অধিকারী। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ আ'আলা সুমহান। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ ছাড়া অন্যায় হতে বিরত থাকার কিংবা ন্যায় কাজ করার শক্তি কারো নেই।" অতঃপর সে বলবে, "হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দাও।" কিংবা তিনি বলেছেনঃ সে দু'আ করলে তা ক্ববূল করা হয়। আর যদি সে সাহস করে উযূ করে নামায় আদায় করে তবে তার নামাযও ক্ববূল করা হয়। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৭৮)।
ইবনু 'উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, প্রতিটি মাজলিসে হিসাব করে দেখা গেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত মাজলিস হতে উঠে যাওয়ার আগে এক শতবার বলতেন: "হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার তাওবা গ্রহণ কর। কারন তুমিই তাওবাহ কবুলকারী, ক্ষমাকারী"। সহীহ: ইবনু মাজাহ (হা: ৩৮১৪)।
আলী ইবনু রাবীআহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) এর কাছে আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার নিকট আরোহণের জন্য একটি জন্তু আনা হল। তিনি পা দানীতে তার পা রেখে বললেন, “ বিসমিল্লাহ্ “। তারপর তিনি তার পিঠের উপর ঠিকমত বসার পর বললেন ,” আলহামদু লিল্লাহ্ “। তারপর বললেন , “ পবিত্র ও মহান তিনি যিনি একে আমাদের নিয়ন্ত্রনাধীন করেছেন , তা না হলে আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাব “ –(সূরা আয-যুখরুখ ১৩—১৪)। এরপর তিনি “ আলহামদু লিল্লাহ “তিনবার ও “ আল্লাহু আকবর “ তিনবার বললেন এবং আরো বললেনঃ তুমি অত্যন্তঃ পবিত্র সত্তা , আমার উপর আমি অত্যাচার করেছি। অতএব তুমি আমাকে মাফ কর , কেননা তুমি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।“ তারপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম , হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি কি কারনে হাসলেন? তিনি বললেন, রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আমি তা-ই করতে দেখেছি যা আমি করলাম। তারপর তিনি হেসেছিলেন। আমি প্রশ্ন করেছিলাম , হে আল্লাহর রাসুল ! আপনি কি কারনে হাসলেন? তিনি বললেনঃ যখন বান্দা বলে , “হে আল্লাহ ! আমার অপরাধসমুহ ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ অপরাধ ক্ষমা করতে পারে না” , সে সময় আল্লাহ তা’আলা তার এ কথায় খুশি হন। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (১৭২/১২৬) , সহীহ আবু দাউদ (হাঃ ২৩৪২)।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে না পেয়ে মনে করলাম তিনি হয়তো তাঁর কোন দাসীর নিকট গিয়ে থাকবেন। তাঁকে খুঁজে দেখলাম, তিনি সিজদারত অবস্থায় বলছেন- (এইখানে একটি দোয়া আছে)